ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ভোট চোর, গদি ছোড় স্লোগানে উত্তাল ভারত, চাপে মোদি সরকার

ভোট চোর, গদি ছোড় স্লোগানে উত্তাল ভারত, চাপে মোদি সরকার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশটিতে রাজনৈতিক অসন্তোষ ও আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে বিভিন্ন অভিযোগে দাবি করা হচ্ছে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বড় শহরগুলোতে ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’, ‘মোদি হটাও, ভারত বাঁচাও’ এবং ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’ এ ধরনের স্লোগানকে কেন্দ্র করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন, শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয়করণ, বেকারত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক।দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে ছাত্র-তরুণদের পাশাপাশি কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও বামপন্থী দলগুলোসহ বিরোধী জোটের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কআন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয় ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু মুসলমান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বিরোধী দলগুলোর সমর্থকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।এ ঘটনায় ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও সামনে এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। তবে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার সংখ্যা, তার কারণ এবং রাজনৈতিকভাবে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের ইসিআই-নেট (ECINET) নামের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যবস্থার কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের কারণে বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী গত ১০ মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪টি লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা গেলে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের সময় নির্বাচন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার যে উদাহরণ তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।ছাত্র-তরুণদের ক্ষোভের কারণআন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত অসন্তোষ। মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা এনইইটি (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, সিবিএসইর মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির বিরোধিতা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং তরুণদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ। আন্দোলনকারীদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা না হলে তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থেকে যাবে।বামপন্থী ছাত্রসংগঠন এবং কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন এনএসইউআইয়ের মতো সংগঠনগুলো আন্দোলনে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক পরিচয়ও আলোচনায় এসেছে। তরুণদের এই উদ্যোগকে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন আন্দোলনের সমর্থকেরা।বিরোধী জোটের সক্রিয়তাছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, শারদ পাওয়ারসহ বিরোধী নেতাদের নাম আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে।‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ব্যানারে বিরোধী দলগুলো গণতন্ত্র রক্ষা, নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে একসঙ্গে কাজ করছে বলে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে। ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই দাবিগুলো সামনে আনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।রাহুল গান্ধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে সমর্থকেরা মনে করছেন। তবে আন্দোলনের ব্যাপ্তি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রকৃত ভূমিকা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।দমন-পীড়নের অভিযোগ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নআন্দোলন দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান, বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধের মতো পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। কিছু বর্ণনায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ও প্রায় সাত হাজার মানুষকে গ্রেপ্তারের দাবিও করা হয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করা জরুরি।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিরোধী মতের প্রতি কঠোর অবস্থান গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ সংকুচিত করতে পারে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপের যৌক্তিকতা মূল্যায়নেও ঘটনার নিরপেক্ষ তথ্য প্রয়োজন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে’ ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে তুলে ধরেছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে বিরোধী রাজনীতিক ও আন্দোলনের সমর্থকেরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সঙ্গে এ বক্তব্যের তুলনা করছেন।বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে তুলনাভারতের তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের তুলনাও টানা হচ্ছে। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন যেভাবে ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে গিয়েছিল, ভারতের আন্দোলনকারীদের মধ্যেও তেমন প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করছেন।তবে দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের কারণ ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট এক নয়। ফলে দুই আন্দোলনের মধ্যে মিল থাকলেও সেগুলোকে সরাসরি এক করে দেখার সুযোগ নেই।মোদি সরকারের সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জদীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমান আন্দোলনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো সত্য হলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি নির্ভর করে শুধু নিয়মিত নির্বাচন আয়োজনের ওপর নয়; বরং ভোটাধিকার রক্ষা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মুক্ত গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও। তাই ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের জবাব দেওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা বিতর্কের পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করবে আন্দোলনের বাস্তব ব্যাপ্তি, বিরোধী দলগুলোর ঐক্য, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের ওপর।

জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি, প্রস্তাব আনছে কেরলম

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিধানসভায় প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে কেরলমের কংগ্রেস সরকার। সোমবার (১২ অক্টোবর) মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন প্রস্তাবটি পেশ করতে পারেন। দেশটির কোনো রাজ্য বিধানসভায় জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে এমন প্রস্তাব আনার ঘটনা এটিই প্রথম।আনন্দবাজার ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবে তিনটি দাবি রয়েছে—জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণে কেন্দ্রের কাছে আবেদন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন সংশোধন।নিয়োগ আইন সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী ও লোকসভার বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ প্যানেলে রাখার দাবি জানানো হবে। ২০২৩ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই প্যানেল থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব বেশি।১৪০ আসনের কেরলম বিধানসভায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের ১০২, বামজোট এলডিএফের ৩৫ এবং বিজেপির তিনজন বিধায়ক রয়েছেন। প্রস্তাবে বামজোটের সমর্থন পাওয়ার আশা করছে কংগ্রেস সরকার।এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসআইআরের বিরুদ্ধে কেরলের তৎকালীন বাম সরকার বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করেছিল। সে সময় কংগ্রেসও প্রস্তাবটিকে সমর্থন দিয়েছিল।সূত্র: আনন্দবাজার 

জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি, প্রস্তাব আনছে কেরলম

দিল্লি বিক্ষোভে মমতা-কেজরিওয়ালসহ ৪ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার দিনভর চলা অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ বিরোধী দলের বহু নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার।ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও স্থগিত করা হয়।বিমানবন্দর থেকেই আটক সিজেপির নেতারাসিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করা হয়।বিমান থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকেকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছেন। অথচ তাঁদের অপরাধীর মতো আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এর আগে সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়। দলটির অভিযোগ, রাস্তায় গাড়ির ভেতর থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।মমতা-কেজরিওয়ালসহ বিরোধী নেতারা আটকদুপুরে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।একই দিন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আটক করা হয়। তিনি দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন রয়েছেন।পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থী নেতারাও আটকবিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ একাধিক বামপন্থী নেতা আটক হন। তাঁদের মধ্যে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বাম নেত্রী বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন ও পি কে শ্রীমতীর নামও রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের কয়েকজনকে দীর্ঘ সময় দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর আবার অন্যত্র নেওয়া হয়। তবে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। আটকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের যেখানে বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।গুরুদোয়ারা থেকে মিছিলে বাধা, লাঠিচার্জের অভিযোগগত রাত থেকে দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদোয়ারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েক শ বিক্ষোভকারী। শনিবার সকালে তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে।বিক্ষোভকারীদের দাবি, গুরুদোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ জন জমায়েত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।হায়দরাবাদের সফটওয়্যার প্রকৌশলী অজয় জিঙ্গাদের অভিযোগ, সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিপুলসংখ্যক পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। পরে লাঠিচার্জ করে অনেককে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।দিল্লির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া যায়। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হন। সিজেপি নেতা আজিঙ্ক্যা শিন্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানান, যেখানে আন্দোলনকারীদের থামানো হবে, সেখানেই যেন তাঁরা প্রতিবাদ চালিয়ে যান।সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আটকের অভিযোগবিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রতিবাদ করা কয়েকজন আইনজীবীকে আটকের খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়।সিজেপির অভিযোগ, দলটির কয়েকজন সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার তথ্যভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের স্থানান্তর, ৩ কোটি মানুষের খোঁজ না পাওয়া এবং ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যুর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।কমিশনের বক্তব্য, যাচাইয়ে চিহ্নিত নামগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো যোগ্য ভোটারের নাম ভুল করে বাদ পড়লে তিনি পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়নি। বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নির্বাচনে তাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।শনিবারের ধরপাকড় ও বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা এবং বিরোধীদের প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।সূত্র: বিবিসি

দিল্লি বিক্ষোভে মমতা-কেজরিওয়ালসহ ৪ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক

ইউপি নির্বাচনে ব্যয় বাড়ছে ২৪৩ শতাংশ, মোট খরচ হতে পারে ৩ হাজার কোটি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৫৭টি খাতে ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও এবার একই খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে এ খাতে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ২৪৩ শতাংশ।এর বাইরে ১২টি কোডভিত্তিক খাতে পরিচালন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৪৪ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সব মিলিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ব্যয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।৩,৯৮১ ইউপিতে ভোটদেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৮১টির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হলে অক্টোবরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন হতে পারে।ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংলাপ না হলে চলতি মাসেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গত সোমবার বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে এবং যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।এক ধাপে প্রায় ১,২০০ ইউপিআগের ইউপি নির্বাচন সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে বিশেষ ধাপসহ মোট ৪ হাজার ১১৪টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল ১৯৬ দিন।এবার প্রথম ধাপে প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউপির তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধানও আগের তুলনায় বাড়ানোর কথা ভাবছে ইসি। এতে মনোনয়ন, বাছাই, আপিল, প্রতীক বরাদ্দ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।বাড়ছে বিভিন্ন খাতের ব্যয়নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন খাতেও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ প্রস্তুত, মেরামত ও অস্থায়ী কেন্দ্র নির্মাণে ২০২১ সালে ১৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এবার এ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য চার কোটি ৪০ লাখ টাকা, সম্মানী ভাতা ৪৪৬ কোটি ৯৪ লাখ, যাতায়াত ভাতা ৯৬ কোটি, আপ্যায়ন ৯৬ কোটি ৭৪ লাখ, মুদ্রণ ও বাঁধাই ৫০ কোটি এবং জ্বালানি বাবদ ৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।সব মিলিয়ে কোডভিত্তিক পরিচালন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৮৪৪ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।আইন ও ভোটার তালিকার প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়েইউপি নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ও সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি সংস্কারের কাজও এগিয়েছে। পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পৃথক আচরণবিধির খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর এবং তা নিষ্পত্তির সময় ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।

ইউপি নির্বাচনে ব্যয় বাড়ছে ২৪৩ শতাংশ, মোট খরচ হতে পারে ৩ হাজার কোটি

আজ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে ইসি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আজ সোমবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল রোববার ইসি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।এর আগে গত ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদে নতুন করে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন।হালনাগাদ শেষে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন।ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি পেছানো হলে নতুন ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধিত নতুন ভোটারদের সম্পূরক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।ইসির সর্বশেষ চূড়ান্ত হালনাগাদ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।

আজ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে ইসি