মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল: গোলাম পরওয়ার
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও
প্রতিশোধ নেওয়ার
জন্য
সরকারি
দলের
নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে বীর
মুক্তিযোদ্ধা ও
সাবেক
সংসদ
সদস্য
মেজর
(অব.)
আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা
হয়েছে
বলে
অভিযোগ
করেছেন
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া
গোলাম
পরওয়ার।রোববার বিকেলে
রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত
জরুরি
সংবাদ
সম্মেলনে তিনি
এ
অভিযোগ
করেন।গোলাম পরওয়ার
বলেন,
বিমানবন্দরের ঘটনাটি
আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের মূল
কারণ
নয়,
বরং
এটিকে
উপলক্ষ
হিসেবে
ব্যবহার করা
হয়েছে।
তাঁর
ভাষ্য,
বিমানবন্দরের ঘটনার
পরদিন
গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়
আলোচনা
করে
বিরোধী
দলের
নেতাকর্মীদের, বিশেষ
করে
জামায়াতে যোগ
দেওয়ায়
আখতারুজ্জামানের প্রতি
বিএনপির যে
আক্রোশ
ও
প্রতিশোধের আগুন
ছিল,
তা
বাস্তবায়নের সুযোগ
খোঁজা
হচ্ছিল। সেই
সুযোগ
পেয়ে
তাঁর
বিরুদ্ধে মামলা
করা
হয়েছে।‘জামিনযোগ্য ধারায়
গ্রেপ্তার, তবু
জামিন
হয়নি’জামায়াতের এই
নেতা
বলেন,
যে
ধারায়
আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা
হয়েছে,
সেটি
জামিনযোগ্য। কিন্তু
প্রথম
দিন
তাঁকে
জামিন
দেওয়া
হয়নি।
রোববার
রিমান্ড শেষে
আদালতে
হাজির
করে
জামিন
আবেদন
করা
হলেও
তা
নামঞ্জুর করা
হয়েছে।তিনি বলেন,
আখতারুজ্জামান ডিভিশন
পাওয়ার
যোগ্য।
আদালতে
ডিভিশনের আবেদন
করা
হলেও
এ
বিষয়ে
আদেশ
না
দিয়ে
কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে
বলা
হয়েছে।
এর
পেছনে
রাজনৈতিক অশুভ
হস্তক্ষেপ রয়েছে
বলে
দাবি
করেন
তিনি।‘আদালত
চত্বরে
মব
সৃষ্টি
ও
হামলা’গোলাম পরওয়ার
অভিযোগ
করেন,
রোববার
আদালতে
আখতারুজ্জামানকে নিয়ে
বিএনপির আইনজীবীরা মব
সৃষ্টি
ও
হাতাহাতি করেছেন। এ
সময়
আদালত
চত্বরে
জামায়াতের নেতাকর্মী ও
তাঁর
স্বজনদের ওপর
হামলা
করা
হয়েছে
বলেও
তিনি
অভিযোগ
করেন।তিনি বলেন,
‘আমরা
আওয়ামী
ফ্যাসিবাদের যুগের
ঘটনারই
পুনরাবৃত্তি দেখতে
পাচ্ছি।’আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে
দেশে
ও
প্রবাসীদের মধ্যে
তীব্র
প্রতিক্রিয়া হয়েছে
বলেও
দাবি
করেন
গোলাম
পরওয়ার। তাঁর
ভাষ্য,
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে
হুমকি
দিয়েছেন—তাঁকে
মুক্তি
না
দিলে
প্রয়োজনে আবারও
রেমিট্যান্স শাটডাউন করা
হবে।বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নগোলাম পরওয়ার
বলেন,
এজাহারে আখতারুজ্জামান কারও
গায়ে
হাত
তুলেছেন, মারপিট
করেছেন
বা
নাজেহাল করেছেন
বলে
যে
অভিযোগ
করা
হয়েছে,
তা
সত্য
নয়।
বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিষয়টি
প্রত্যক্ষ করেছেন
এবং
ভিডিওতেও এর
দৃশ্য
দেখা
গেছে
বলে
দাবি
করেন
তিনি।বিমানমন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে
আখতারুজ্জামান কাউকে
শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন
বলে
যে
বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে
‘শতভাগ
না,
হাজার
ভাগ
মিথ্যা’
বলে
মন্তব্য করেন
তিনি।
এ
জন্য
বিমানমন্ত্রীর জাতির
কাছে
ক্ষমা
চাওয়া
উচিত
বলেও
দাবি
করেন
গোলাম
পরওয়ার।তিনি বলেন,
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে যখন
সংসদ
সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন,
তখন
তিনি
দুঃখ
প্রকাশ
করেন,
অশ্রুসিক্ত হন
এবং
ক্ষমা
চান।
এরপরও
তাঁকেই
বাদী
করে
মামলা
করা
হয়েছে।
তাঁর
দাবি,
সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই এ
মামলা
করা
হয়েছে।অব্যবস্থাপনার জন্য
বেসামরিক বিমান
চলাচল
কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না
নিয়ে
চারজন
সদস্য
লিখিত
অভিযোগ
দেওয়ার
পর
দুজনকে
সাময়িক
বরখাস্ত করে
পরিস্থিতি সামাল
দেওয়ার
চেষ্টা
করা
হচ্ছে
বলেও
অভিযোগ
করেন
তিনি।আখতারুজ্জামান কি
খুনি-ডাকাত?মেজর (অব.)
আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর
হাতকড়া,
হেলমেট
ও
বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানোরও সমালোচনা করেন
গোলাম
পরওয়ার।তিনি বলেন,
কারাবিধিতে দুর্ধর্ষ আসামি,
খুনি-ডাকাত কিংবা পালিয়ে
যাওয়ার
আশঙ্কা
রয়েছে—এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এসব
ব্যবস্থার কথা
বলা
আছে।
‘মেজর
আখতারুজ্জামান কি
খুনি,
ডাকাত
বা
পালিয়ে
যাওয়ার
মতো
কোনো
আসামি?
তিনি
প্রথম
শ্রেণির নাগরিক,
বীর
মুক্তিযোদ্ধা ও
সাবেক
এমপি।
তাঁকে
প্রিজন
ভ্যানে
হেলমেট
পরানো
হয়েছে—আমরা এর তীব্র
নিন্দা
জানাই।’‘অবিলম্বে মুক্তি
দিতে
হবে’জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে
কমিটি
গঠন,
বিমানমন্ত্রীসহ দায়ী
কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং
৭৫
বছর
বয়সী
অসুস্থ
বীর
মুক্তিযোদ্ধা মেজর
(অব.)
আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি
জানান।একই সঙ্গে
তাঁকে
কারাগারে ডিভিশন
দেওয়ার
দাবিও
জানান
তিনি।
আদালতের বিধি
অনুযায়ী সময়মতো
জামিনের আবেদন
করা
হবে
এবং
আইনি
লড়াইয়ে
কোনো
কমতি
রাখা
হবে
না
বলেও
জানান
গোলাম
পরওয়ার।গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রতিবাদসংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম
বাড়ানোর প্রসঙ্গেও কথা
বলেন
জামায়াতের এই
নেতা।
তিনি
অভিযোগ
করেন,
সরকার
ছয়
মাসে
তিনবার
তেল,
বিদ্যুৎ ও
সিলিন্ডারের দাম
বাড়িয়েছে।গ্যাসের দাম
বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি
জানিয়ে
তিনি
বলেন,
রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও
মেগা
প্রকল্পের নামে
আয়ের
হাব
তৈরি
করা
হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও
উপস্থিত ছিলেন
জামায়াতের সহকারী
সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল
ইসলাম
খান
এমপি,
মাওলানা আব্দুল
হালিম,
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য
মোবারক
হোসাইন,
মহানগর
উত্তরের আমির
সেলিমউদ্দিন এবং
উত্তরের সহকারী
সেক্রেটারি ইয়াসিন
আরাফাত
প্রমুখ।