ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
৩৮ বছর পর মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ, পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী

৩৮ বছর পর মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ, পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী

লালমনিরহাটের দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি।রোববার মোগলহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে এ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী বন্দরটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু করা গেলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।তিনি জানান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে মোগলহাট স্থলবন্দরের অবকাঠামো ও সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তাঁদের পরিদর্শনের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদনও প্রস্তুত করা হয়েছে।বাংলাদেশ প্রস্তুত, প্রয়োজন ভারতের সম্মতিপ্রতিমন্ত্রী বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। তবে কিছু অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। নদীর ওপারে একটি সেতু, সড়ক, একটি ছোট স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় জনবল প্রয়োজন হবে। এসব ব্যবস্থা করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।তবে বন্দরটি পুরোপুরি চালু করতে ভারতের সহযোগিতা ও একটি সমঝোতা চুক্তি প্রয়োজন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ভারতের অংশে কার্যক্রম শুরু না হলে বাংলাদেশের পক্ষেও বন্দরটি চালু করা সম্ভব হবে না।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলসেতু, এরপরই স্থবিরতাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ধরলা নদীর ওপর থাকা রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মোগলহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।বন্দরটি পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও কানেক্টিভিটি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে।সরকার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।