ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হামাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হামাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। একই সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।গাজা সিটির একটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় এক শিশুসহ সাত ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস এ অভিযোগ করে। হামাস ওই হামলাকে ‘গণহত্যা’ ও ‘পরিকল্পিত উত্তেজনা সৃষ্টির পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।হামাসের দাবি, গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করছেন।সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কায়রো আলোচনা এবং চলমান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার পর গাজায় ইসরায়েলি হামলা প্রমাণ করে যে নেতানিয়াহু আলোচনা নস্যাৎ করতে চান।চুক্তি বাস্তবায়নে চাপ দেওয়ার আহ্বানহামাস ইসরায়েল সরকারকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত মেনে চলা এবং হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুকে শারম এল-শেখ চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে মার্কিন প্রশাসন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং চুক্তির নিশ্চয়তাদানকারী পক্ষগুলোর প্রতি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।হামাস বলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।সূত্র: আল-জাজিরা

আজ শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। তবে এর মেয়াদ বাড়ানো বা নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দেশের সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এতে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছিল।সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির পুনর্গঠনে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে থাকা মাইন অপসারণ এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সম্মতি জানায়।তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এতে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ তৈরির বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলাদা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তেহরান। তবে ইরানের অবস্থান হলো, এ ধরনের উদ্যোগের আগে একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে হবে।এ পরিস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আবারও কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা, জিও নিউজ

আজ শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পরও ৩০০ দিনে নিহত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ

গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও শিশুদের প্রাণহানি থামেনি। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ঘোষিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পর গত ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জন্য ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়ও যদি প্রতিদিন একটি করে শিশু নিহত হয়, তবে তা শিশুদের সুরক্ষায় ব্যর্থতারই প্রমাণ। তার ভাষায়, গাজার শিশুরা এখনও সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল।ইউনিসেফ জানায়, গাজার বাসিন্দারা এখন অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো অপুষ্টি, রোগব্যাধি, নিরাপদ পানির সংকট এবং ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো নানা দুর্ভোগের মুখে রয়েছে। ইনকিউবেটরের সংকটের কারণে একাধিক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইউনিসেফের হিসাবে, ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজন বা উভয়কেই হারিয়েছে। এছাড়া ১০ লাখের বেশি শিশুর সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন। সংস্থাটি এর আগে জানিয়েছিল, প্রায় ১৭ হাজার শিশু অভিভাবকহীন বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট পশ্চিম গাজা সিটিতে এক হামলায় এক গর্ভবতী নারী, তার স্বামী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান নিহত হন। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ওই নারীর গর্ভস্থ অনাগত সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ইউনিসেফের মতে, চলমান সংঘাত শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব কেড়ে নিয়েছে। খেলাধুলার বদলে অনেক শিশুকে পানি সংগ্রহ, খাবারের লাইনে দাঁড়ানো ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে সময় কাটাতে হচ্ছে। বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে খেলাধুলার সরঞ্জাম, কাগজ-কলম ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণেরও তীব্র সংকট রয়েছে।সংস্থাটির মে মাসের এক মূল্যায়নে বলা হয়, গাজায় ছোট শিশুদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পরিবেশ নেই। দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্কুলপড়ুয়া শিশুরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।ইউনিসেফের ফিলিস্তিনবিষয়ক যোগাযোগ প্রধান জোনাথন ক্রিক্স এর আগে বলেছিলেন, যুদ্ধ শিশুদের কাছ থেকে যা কেড়ে নিয়েছে, খেলাধুলা তার অনেকটাই ফিরিয়ে দিতে পারে। তাই খেলাধুলা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি মৌলিক প্রয়োজন।সাম্প্রতিক সংঘাত কমানোর উদ্যোগ ও ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে কি না, পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাবে কি না, হাসপাতালগুলো আবার চালু হবে কি না এবং নিরাপদ পানির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কি না।আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা। এ উপলক্ষে ইউনিসেফ চলতি সপ্তাহে ৬০০ প্যালেটের বেশি শিক্ষা উপকরণ ও সাবান গাজায় পাঠিয়েছে।

গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পরও ৩০০ দিনে নিহত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ