ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ছয় সপ্তাহে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে ড্রোন হামলার ঘাঁটি গড়ল রাশিয়া

ছয় সপ্তাহে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে ড্রোন হামলার ঘাঁটি গড়ল রাশিয়া

মাত্র ছয় সপ্তাহে ইউক্রেনের কাছাকাছি একটি বড় ড্রোন হামলার ঘাঁটি নির্মাণ প্রায় শেষ করেছে রাশিয়া। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের মিলেরোভোর কাছে নির্মাণাধীন ঘাঁটিটি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ছিল ফাঁকা মাঠ। বুধবারের স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে প্রায় ১২৬টি ফুটবল মাঠের সমান আয়তনের একটি বড় স্থাপনা দেখা গেছে। প্ল্যানেট ল্যাবস ও এয়ারবাসের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে রয়টার্স।ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই ঘাঁটিকে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের ওপর জেটচালিত আক্রমণকারী ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে মস্কো। এসব ড্রোন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। তুলনামূলক বেশি গতির কারণে ড্রোনগুলোকে প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন।পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর মধ্যে আসন্ন শীতকালে রাশিয়া জেটচালিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কিয়েভ।প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মনিক বলেন, অল্প সময়ে ঘাঁটি নির্মাণের এই গতি দেখাচ্ছে, রাশিয়া এখন প্রতিষ্ঠিত আক্রমণ সক্ষমতা দ্রুত কাজে লাগাতে পারছে। তাঁর মূল্যায়ন, স্থাপনাটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, এমনকি তারও আগে এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে।ন্যাটোর জন্যও বাড়ছে উদ্বেগরাশিয়ার নতুন ঘাঁটি নির্মাণের সময়েই দেশটির সঙ্গে ন্যাটো সামরিক জোটের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটছে।ইউরোপের বিভিন্ন সরকার মস্কোর বিরুদ্ধে নাশকতা, ড্রোন অনুপ্রবেশ ও সাইবার হামলা বাড়ানোর অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, গত মাসে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, ন্যাটো তাদের কালিনিনগ্রাদ ছিটমহল বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।মনিকের মতে, জেটচালিত ড্রোনের শিল্পভিত্তিক উৎপাদন, এসব অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং ন্যাটোভুক্ত অনেক দেশে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থার ঘাটতি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।সূত্র: রয়টার্স

নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে একমত পাকিস্তান ও রাশিয়া

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ। বুধবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাসদরে তাঁদের বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, চার দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে রয়েছেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরের অংশ হিসেবে বুধবার তিনি সেনাসদরে গিয়ে আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। এ সময় দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সমন্বয় উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম মুনির। বিশেষ করে নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।অন্যদিকে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব ও আত্মত্যাগের কথাও স্বীকার করেন তিনি।এদিকে, সংগঠিত অপরাধ দমনে সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও পাকিস্তান। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ এবং বন্দি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ দুটি।বুধবার ইসলামাবাদে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে। সূত্র: ডন, আনাদোলু এজেন্সি

নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে একমত পাকিস্তান ও রাশিয়া

বিভাজন ও মতপার্থক্যে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সম্মেলন

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক বিরোধ ও সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বে ২০২৬ সালের সম্মেলন সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি এক মতামত নিবন্ধে এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসই আইডিয়াসের সহযোগী অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড।জি-২০-এর এবারের আয়োজন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার, দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক এবং রাশিয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর ভূমিকা১৯৯৮ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের পর ১৯৯৯ সালে জি-২০ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো ছিল এই ফোরাম গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় জি-২০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০০৯ সালের এপ্রিলে লন্ডন সম্মেলনে চাহিদা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজে সম্মত হন বিশ্বনেতারা। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ওই সমঝোতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।সেই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছিল, বড় অর্থনীতিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব কমানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন করে তুলছে।দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে বিরোধযুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ আয়োজন নিয়ে বিতর্কের অন্যতম বিষয় দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ কার্যক্রম বর্জন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে হত্যা ও জমি কেড়ে নেওয়ার শিকার হিসেবে তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অভিযোগ করেছিলেন, তা এই বিরোধের পটভূমির অংশ। তবে তাঁর এসব অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।এবার যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে জি-২০-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে পোল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইউরোপের কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণ হয়েছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের উদ্বেগ, জি-২০-এর পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে আয়োজনের বাইরে রাখলে ফোরামটির অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র প্রশ্নের মুখে পড়বে।এ বিরোধ কেবল দুটি দেশের সম্পর্কের বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক ফোরামে সদস্যদের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ, আয়োজক দেশের দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক আলোচনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও এটি প্রশ্ন তুলেছে।‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডায় জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগমার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বর্ণিত ‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডা নিয়েও সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এজেন্ডায় জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, অভিবাসন, নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিবিধান কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ অগ্রাধিকার ডিসেম্বরের যৌথ ঘোষণার খসড়াতেও প্রভাব ফেলছে।ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তবে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। যৌথ ঘোষণায় কোন বিষয়গুলো স্থান পাবে, তা নিয়ে দর-কষাকষি এবারের সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।রাশিয়ার অভিযোগ, যৌথ বিবৃতি ছাড়াই বৈঠকজি-২০-এর আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে রাশিয়াও অসন্তোষ জানিয়েছে। জি-২০ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মারাত বেরদিয়েভের অভিযোগ, ভিসা প্রত্যাখ্যান ও স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত আর্থিক বৈঠকগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে পারেননি।এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সেখানে সংবাদ সম্মেলনও হয়নি।রাশিয়ার অভিযোগগুলো মস্কোর বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের সত্যতা ও পরিসর নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ, প্রতিনিধিদের স্বীকৃতি এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বহুপক্ষীয় কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।জি-২০-এর কার্যকারিতা শুধু বৈঠক আয়োজনের ওপর নির্ভর করে না। সদস্যদের মধ্যে আলোচনা, মতবিনিময় ও গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর সক্ষমতাও এ ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।ভূরাজনৈতিক বিভাজনে দুর্বল বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকোভিড-১৯ মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা, রাশিয়াকে ঘিরে বিরোধ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে কূটনৈতিক সংঘাত জি-২০-এর কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে।এ পরিস্থিতিতে এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। জি-২০ ও জি-৭-এর মতো বহুপক্ষীয় ফোরাম ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর জি-৭-এরও আয়োজন করবে। ফলে এবারের জি-২০ সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, আলোচনার পদ্ধতি এবং যৌথ অবস্থান তৈরির অভিজ্ঞতা পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোর জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।বৈশ্বিক সংকটে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেইমহামারি, আর্থিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো সমস্যা কোনো একক দেশের পক্ষে পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময়, অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয়, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।জি-২০-এর মতো ফোরাম এসব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সদস্যদেশগুলোর মতপার্থক্যের কারণে সব সময় অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, তবু সহযোগিতার কাঠামো সচল রাখা জরুরি।যুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ সভাপতিত্ব তাই ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ হওয়ার পাশাপাশি বহুপক্ষীয় কূটনীতির কার্যকারিতা ধরে রাখার পরীক্ষাও। সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মতপার্থক্য গ্রহণযোগ্যভাবে সামাল দেওয়া এবং যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জি-২০ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিভাজন ও মতপার্থক্যে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সম্মেলন

রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে পাস হয়েছে। সিনেটে অনুমোদনের পর গতকাল ২৬২-১৫৯ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদেও বিলটি পাস হয়। এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটিতে রাশিয়ার কর্মকর্তা, দেশটির জ্বালানি খাত এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।বিলের একটি সংশোধনীতে ভারত, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ ১০টি দেশের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশের পণ্যে এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ করলেই এমন শুল্ক আরোপ করা সম্ভব হবে।সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি বেড়েছে। ফলে নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা ভারতের অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর শুল্ক এবং এ–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।নতুন আইনে দেওয়া ক্ষমতা ট্রাম্প প্রয়োগ করলে ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কের চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে বিলটি আইনে পরিণত হয় কি না এবং আইনটি কার্যকর হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করেন কি না, তার ওপর। সূত্র: এনডিটিভি

রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানি করা ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়েছে। মঙ্গলবার ২১৪-২১১ ভোটে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বিলটি পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়।বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার দায়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণের সুযোগও থাকবে।এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিলটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। এসব দেশের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে।তবে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেবে এই বিল।প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার তেল বাণিজ্য অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে এমন অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন, বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।ঢাকার রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে পাঠানো এক অভিনন্দনবার্তায় পুতিন আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের কল্যাণে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সাফল্য কামনা করেন।রুশ প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দনবার্তাকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন, বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা

রুশ বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করলে পাল্টা ব্যবস্থা: পুতিন

রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর তেলবাহী জাহাজ আটকের বিষয়ে ইউরোপের পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।পুতিন বলেন, রুশ জাহাজ জব্দের ঘটনা ‘জলদস্যুতা ও দস্যুবৃত্তি’। এর জবাবে রাশিয়াকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে বিশ্বের যেকোনো স্থানে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।ইউরোপ রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত তেলবাহী জাহাজ আটক এবং এসব জাহাজ থেকে জব্দ করা পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।এদিকে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে শস্য পরিবহনের সন্দেহে আটক একটি রুশ জাহাজ ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং রুশ পণ্য পরিবহন নিয়ে ইউরোপ ও মস্কোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। সূত্র: ইউরোনিউজ

রুশ বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করলে পাল্টা ব্যবস্থা: পুতিন