ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার ও দুর্দিন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রিজভী বলেন, একসময় বিএনপির লাখো নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং রক্তের হোলি খেলেছে।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর পরিবারের অপেক্ষার এখনো শেষ হয়নি। বিএনপি গণতন্ত্র ও অসহায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে। দলটি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।স্মরণসভায় ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ।ঘরের চাবি পেয়ে হারুনুর রশিদের স্ত্রী জোহরা বেগম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তাঁর পরিবারের দুঃখ ঘুচেছে।স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ।সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার।স্মরণসভা শেষে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের কবর জিয়ারত করেন রুহুল কবির রিজভী।  

গণতন্ত্র অর্জনে ডিআরইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) বাংলাদেশের গণতন্ত্র অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকার কোথাও নিশ্চিন্ত মনে বসার সুযোগ না থাকলেও ডিআরইউতে এসে তিনি নিশ্চিন্তে চা খেতে পারতেন। নিজের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমি সর্বশেষ গ্রেপ্তার হয়েছিলাম প্রেসক্লাব থেকে। আমি শুনেছি, প্রেসক্লাবের নেতৃত্বের কাছ থেকেই আমাকে গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছিল।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হতো, তারা যদি আরো বেশি দিন থাকতে পারত, তাহলে কী হতো জানি না। মিডিয়া, টেলিভিশন, পত্রিকা ও টকশো সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেখানে কেবল মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকেরা ধুঁকে ধুঁকে গণতন্ত্রের পক্ষে আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।তিনি বলেন, জুলাইয়ের আগে হত্যা, খুন ও গুমের ঘটনা ঘটলেও সেগুলো গণমাধ্যমে প্রচার করা হতো না। গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আদালত ও সিভিল সোসাইটির পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও ভূমিকা পালন করতে হয়।গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। একই সঙ্গে গণমাধ্যম যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কমিটির নেতৃবৃন্দ, সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণতন্ত্র অর্জনে ডিআরইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা: রিজভী

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট-সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপি।রিজভী বলেন, দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকেন্দ্রিক সংঘাত, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার বসে নেই। অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সংগ্রহের জন্য মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে জানিয়ে রিজভী বলেন, একদিকে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও সমুদ্রপথে এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।রাজপথে কর্মসূচির প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের সমালোচনা করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা উচিত। রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।রিজভী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সরকারের সমালোচনা করা নয়, সংকট সমাধানের পথও দেখানো। একই সঙ্গে সরকারকেও তার উদ্যোগ আরও কার্যকর করতে হবে।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। জনগণের কোষাগার থেকে এসব কেন্দ্রের মালিকদের বিপুল অর্থ দেওয়া হয়েছে।এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানার সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য, জনগণের অর্থ ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল।ব্যাংক খাতের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকেও জনগণের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিতে ইনডেমনিটি আইন করা হয়েছিল, যাতে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সহজে মামলা করা না যায়।রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারেন। উচ্চ আদালত, গণমাধ্যম, পুলিশ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হবে।গণমাধ্যম প্রসঙ্গে রিজভী অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্য, আত্মীয়তা ও ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এর মাধ্যমে দুঃশাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। শিশু, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে, পাশাপাশি নাগরিকদেরও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চিত্রনায়ক হেলাল খান। বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, জাসাসের সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন, বিএনপির সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদ সোহরাব, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু এবং গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামিমুর রহমান শামিমসহ অন্যরা।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা: রিজভী

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আপসহীনভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে তিনি কারও সঙ্গে আপস করেননি এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শেষ পর্যন্ত দৃঢ় ছিলেন।রিজভী বলেন, বিএনপি ওয়াদা রক্ষাকারী ও জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষার দল।মঙ্গলবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, নানা ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন, অত্যাচার ও নৈরাজ্যের মধ্যেও খালেদা জিয়া দেশ ও বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তি এবং নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হলেও তিনি তাঁর অবস্থান থেকে সরে যাননি।তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার সামনে রেখে খালেদা জিয়া তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করেছেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের আন্দোলন একপর্যায়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়।রিজভীর ভাষ্য, রাজপথের সেই আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। মানুষের হৃদয়ে তিনি ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটানোর যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য।খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তাঁর আদর্শ, সাহস, বীরত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনা সামনে রেখে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ তারেক রহমানের হাতে অর্পিত হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে সারা দেশে বিএনপি সংগঠিত হচ্ছে এবং জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন: রিজভী

নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন: রিজভী

জীবনভর অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন যুগান্তরের কবি এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেকোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন নজরুল। যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি প্রধান অনুপ্রেরণা।তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-  নজরুলই ছিলেন মূল অনুপ্রেরণা। আজও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করলে নজরুলের বাণী আমাদের রুখে দাঁড়াতে শেখায়।৫০ বছরেও প্রাসঙ্গিক নজরুলদ্রোহ, মানবতা ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা তৎকালীন পিজি হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল, মৃত্যুবরণ করেন তিনি।মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নজরুলের কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সৃষ্টিকর্ম এখনো অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষকে প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করে।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। দারিদ্র্যের কাছে হার না মেনে নিজের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবস্থান তৈরি করেন।কবিতা ও গানের পাশাপাশি হামদ, নাত, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীতসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি অবদান রাখেন।মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনকাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীল সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। এই স্বল্প সময়ে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি।তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মধ্যে নবজাগরণের চেতনা তৈরি করেছিল। শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জাগিয়েছিল তাঁর লেখা।সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মানবমুক্তির প্রত্যাশায় সংগ্রামেও যুক্ত ছিলেন নজরুল। তাঁর সৃষ্টিতে দ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বারবার উঠে এসেছে।নজরুলের সেই চেতনারই প্রতীক হয়ে আছে তাঁর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য।

নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন: রিজভী

দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।সোমবার দুপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই নেতাকর্মীদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত থেকে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।বিএনপির জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া জনকল্যাণে কাজ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের আর্থিক উন্নয়নে তাঁদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নতুন কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, যেগুলো জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।রিজভীর দাবি, ‘এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশের মতো রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি- ৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ।’তিনি বলেন, জনগণের পক্ষে, জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের জন্য কাজ করলে সেই দলের সরকার কখনো ব্যর্থ হবে না। সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না বলেও জানান তিনি।রিজভী বলেন, দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পাশে থাকবেন এবং একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবেন।

দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার সংগ্রামের ‘মূর্ত প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।সারা দেশে দোয়া মাহফিলবেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিশেষ দোয়া মাহফিল আয়োজনের কথা জানান রিজভী।তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে একযোগে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।এ ছাড়া শনিবার সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়েও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক

গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী

সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি- দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়নযাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। এই সময়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, ঘটনা ও পরিসংখ্যান বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সব তথ্য একত্র করে সুগ্রন্থিতভাবে উপস্থাপন করায় এটি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং ভবিষ্যতে হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। দিন-রাত কাজ করার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিজেই পর্যবেক্ষণ করছেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলা কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—যেই হোক না কেন, দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে তিনি শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা ভালো কাজ করছেন, তাঁদের উৎসাহিত করছেন।সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, বইটিতে সরকারের কর্মকাণ্ডের তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে ভূমিকা রাখবে।বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন তত্ত্ব ও আবিষ্কারের তথ্য বই আকারে সংরক্ষিত হয়েছে বলেই পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলো পড়তে ও চর্চা করতে পেরেছে।রিজভী আরও বলেন, বই না পড়লে জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। বই মানুষের মনের জগতের অন্ধকার দূর করার পাশাপাশি বহির্বিশ্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে।আলোচনা সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদ আউয়াল।

গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী