ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে লোডশেডিং অনেকটা কমে আসবে: জাহেদ উর রহমান

খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে লোডশেডিং অনেকটা কমে আসবে: জাহেদ উর রহমান

দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তৈরি হওয়া লোডশেডিংয়ের চাপ এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।জাহেদ উর রহমান বলেন, লোডশেডিং নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বর্তমানে যে পরিমাণ লোডশেডিং হচ্ছে, তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে আগের তুলনায় বেশি লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সংকটের চাপ সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তিনি বলেন, বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি নীতিগত অগ্রাধিকার থাকে। এর কারণ, এসব এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি। তবে শুধু ক্ষমতাবান মানুষের বসবাসের কারণে শহরে বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে এমন নীতি সরকার নেয়নি। সংকটের সময়ে এর কষ্ট সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে।জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লোডশেডিংয়ের চাপ সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে ঢাকাতেও বর্তমানে লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে।আগের আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, সে সময় প্রকৃতপক্ষে কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে এসব তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। এ বিষয়ে কাজ চলছে। তখন ওই সময়ে কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল, তারও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। তাঁর দাবি, অতীতে লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই নীতি থেকে সরে এসেছে।বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণ সম্পর্কে জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল।চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এড়াতে ঢাকায় ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে সার্বিকভাবে লোডশেডিংয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে। জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এ সংকটের কষ্টটা আমাদের সবাইকে কমবেশি নিতে হবে। এ কষ্ট খুব দীর্ঘ সময় থাকবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।

গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় লোডশেডিং কমছে: রিজভী

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিংও কমে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।রোববার সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রিজভী।চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালেও ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেটি এরই মধ্যে মেরামত করা হয়েছে।রিজভী বলেন, এলএনজিবাহী একটি কার্গো ইতিমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। এতে গ্যাস সরবরাহের চাপও বেড়েছে। ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং লোডশেডিংও কমে এসেছে।বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যেসব সংগঠনের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো ভেঙে নতুন কমিটি করা হবে। এসব সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আসবে। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় লোডশেডিং কমছে: রিজভী

গ্যাসের সংকটে চুলা জ্বলছে না, বাড়ছে লোডশেডিং

গ্যাসের সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারা দেশে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। একই সময়ে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কোথাও চুলা জ্বলছে না, কোথাও আবার মাটির চুলা বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা ও সার উৎপাদনেও। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হলেও তা চাহিদার তুলনায় ৬০ শতাংশ কম। গ্যাসের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অর্ধেকের বেশি বর্তমানে উৎপাদনে নেই। সার কারখানাগুলোতে চাহিদার মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতিদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করেও এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর আগে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল।জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, লোডশেডিং কমাতে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। এরপরও বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।উৎপাদন কমেছে শিল্পকারখানায়গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে অনেক কারখানায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে।গাজীপুরের একটি নিট কারখানায় আগে দিনে ২৬ টন কাপড় উৎপাদিত হলেও গ্যাসের সংকটে তা কমে ১১ থেকে ১২ টনে নেমে এসেছে।বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সংগঠনের সদস্যভুক্ত প্রায় ৭০ শতাংশ কারখানা থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আগে মূলত গ্যাস সংকটের কথা জানানো হলেও গত কয়েক দিনে বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগও বেড়েছে।সার কারখানায়ও সংকটগ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)।উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এতে প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।দেশের অন্যান্য সার কারখানাতেও চাহিদার তুলনায় মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস নেই, মাটির চুলায় রান্নাগ্যাস উৎপাদনে দেশের অন্যতম প্রধান জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাস সংকটে ভুগছেন। গত দুদিন ধরে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের চুলা না জ্বলায় বাসাবাড়িতে মাটির চুলায় রান্না করছেন অনেকে। কেউ কেউ সিলিন্ডার গ্যাস কিনে ব্যবহার করছেন।টেংকের পাড় এলাকার বাসিন্দা রুনা দাস বলেন, বেলা ১১টার পর গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর গ্যাস আসেনি। বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে হয়েছে।কাজীপাড়ার বাসিন্দা ইয়াদে রিবা পাপিয়া বলেন, এমনিতেই তাঁদের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকে। গত দুদিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। তাই সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্না করতে হচ্ছে।যানবাহনচালকেরাও গ্যাস সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস নিতে পারছেন না।কুমিল্লায় ৩১ ঘণ্টা ধরে গ্যাস নেইটানা দুদিন ধরে গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকার জনজীবন। কোথাও গ্যাস একেবারেই নেই, কোথাও আবার মিলছে খুব কম চাপে। ফলে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির খরচ।বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন জানান, তাঁদের বাসায় ৩১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অনেক হোটেলেও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।রেসকোর্স এলাকার গৃহবধূ খালেদা আক্তার বলেন, বুধবার ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করেছিলেন। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎও না থাকায় বাড়ির পাশে অস্থায়ী চুলা তৈরি করে রান্না করতে হয়েছে।কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ নেইগ্যাসের পাশাপাশি তীব্র বিদ্যুৎ সংকটেও ভুগছে সুনামগঞ্জের মানুষ। শহরে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও জেলার বিভিন্ন গ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ছাতকের জাউয়াবাজার এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে এলাকাবাসী মিছিলও করেছেন।তাহিরপুরের বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, রাতে ১২টার পর বিদ্যুৎ আসে, আবার ৩টার দিকে চলে যায়। সকালে থাকে না। দুপুরে আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না বললেই চলে।অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জকে দায়ী মন্ত্রীদেশের বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জন্য পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের লুটপাট এবং ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার বিস্তারকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।মন্ত্রী বলেন, অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি রাতে চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত উপায় নেই। দেশে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানো এবং আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ- দুই ক্ষেত্রেই এখন সমস্যা রয়েছে।তিনি জানান, এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি টার্মিনালের জন্য ১০ থেকে ১২ দিন আগে অর্ডার দেওয়া হয়েছে। মোংলা-হিরণ পয়েন্ট এলাকাতেও আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালগুলো মেরামতের কাজও চলছে।মন্ত্রীর আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে। ততদিন দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গ্যাসের সংকটে চুলা জ্বলছে না, বাড়ছে লোডশেডিং

বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি,

জ্বালানি সংকট ও তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনরোষ থেকে হামলার আশঙ্কায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।বুধবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে সরবরাহও কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এতে এসব স্থানে কর্মরত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমবাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান। মোট গ্রাহকের হিসাবে এটি প্রায় ৮০ শতাংশ।উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী তারা গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে।অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ছিল প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট।ফলে কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, আবার কোথাও ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধচিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এর জেরে কোথাও কোথাও পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।এ অবস্থায় প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।

বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি,