ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি এনসিপির, একদলীয় কমিটি বাতিলের আহ্বান

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি এনসিপির, একদলীয় কমিটি বাতিলের আহ্বান

গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং সরকারের গঠিত একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে দলটি জানিয়েছে, সরকারের একতরফা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নেবে না। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়।দলটির দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ওই একদলীয় কমিটিতে এনসিপির অংশ না নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো।সংবাদ সম্মেলনে দলের বক্তব্য তুলে ধরে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য (এমপি) আখতার হোসেন বলেন, সংসদীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে সব দলের সম্মতিতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছিল।কিন্তু সরকার সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এটি গণভোটের রায়ের সঙ্গে চরম প্রতারণা এবং সংস্কার নস্যাৎ করার চক্রান্ত।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক।

নতুন গণভোট আয়োজনকে ‘জাতির সঙ্গে তামাশা’ বলল জাগপা

সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন করে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনাকে ‘স্বৈরতন্ত্রের আলামত’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দাবি ছিল সংবিধান ‘সংস্কারের’, নিছক ‘সংশোধনের’ নয়। সংবিধান সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে গণভোট হয়ে গেছে এবং দেশের জনগণ বিপুল ভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।রাশেদ প্রধান বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের’ নামে আবার গণভোট আয়োজন করা হলে তা জাতির সঙ্গে তামাশা হবে।বিএনপি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে জাগপা মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে আলাদা গণভোটের দাবি তোলা হলে বিএনপিই তখন বলেছিল, পৃথক গণভোট আয়োজন করলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট আয়োজন করলেই খরচ কম হবে—এমন যুক্তিও তখন দেওয়া হয়েছিল।তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এখন কি নতুন করে গণভোট করতে রাষ্ট্রের টাকা খরচ হবে না?’রাশেদ প্রধান আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন গণভোট আয়োজনের প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, ‘স্বৈরাচার হওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন গণভোটের প্রয়োজন নেই। সংবিধান সংস্কারের গণভোট হয়ে গেছে।’তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না হলে দেশ, জাতি ও জনগণের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ করার অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। জাগপা মুখপাত্রের এসব বক্তব্য তাঁর দলের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন গণভোট আয়োজনকে ‘জাতির সঙ্গে তামাশা’ বলল জাগপা

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করা ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জনগণ যেন নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও জানিয়েছেন তিনি।সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে কিছু জটিলতা থাকায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর তা সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান যতদিন বহাল থাকবে, ততদিন প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রস্তাব ও নাম এখনো পাওয়া যায়নি।তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা জুলাই সনদের পথ ধরেই এগিয়ে যেতে চাই।’আইনমন্ত্রী বলেন, অনেকে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে যা কিছুই করা হোক না কেন, বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই এগোতে হবে। কারণ এই সংবিধান এখনো কার্যকর রয়েছে।সংবিধান সংস্কারে বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলে তা গ্রহণ করা হবে। সংবিধান ও সংস্কারের বিষয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে হবে।

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

বিএনপি সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী: খেলাফত মজলিস

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী বলে মন্তব্য করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতারা বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাপ্তাহিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। আমীরে খেলাফত মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে নেতারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের সহায়তা অব্যাহত রাখা, প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ এবং কৃষিঋণ মওকুফের কিছু কর্মসূচি সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে তাঁদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার এখনো আশু নিশ্চয়তা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।খেলাফত মজলিসের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দলীয় ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, গত ছয় মাসে সরকারের ব্যর্থতার দিকই বেশি দৃশ্যমান হয়েছে।সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিবৈঠকে বিএনপির সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের গণরায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করতে চায়।খেলাফত মজলিসের নেতাদের মতে, জনগণ এমন সংবিধান সংস্কার চায়, যার মাধ্যমে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করা যায়। এ জন্য জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।তাঁরা বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে এ কাজ করা সম্ভব। এই পরিষদের সংবিধানের মৌলিক শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের গাঠনিক ক্ষমতা থাকা উচিত বলেও তাঁরা মত দেন।জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।একই সঙ্গে জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফেজ মাওলানা শায়খুল ইসলাম, যুববিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিনসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।

বিএনপি সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী: খেলাফত মজলিস