ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সমমর্যাদার উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে। মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন যুক্ত হওয়া এবং একজনের বিদায়ের পর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে। এর আগে শেখ হাসিনার সরকারের এক পর্যায়ে এ সংখ্যা ছিল ৭০ জন।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ। কেউ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, আবার কেউ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বসে দায়িত্ব পালন করছেন।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।কারা কোন দায়িত্বেবর্তমান সরকারে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও জহির উদ্দিন স্বপন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম, ড. মাহদী আমিন, রেহান আসিফ আসাদ ও ডা. জাহেদ-উর রহমান।এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিজন কান্তি সরকার, ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও তানভীর গনি। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্বে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।সচিব পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে রয়েছেন রাশেদ খান, সাইমুম পারভেজ, শাকিরুল ইসলাম খান ও গিয়াস উদ্দিন রিমন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় যুববিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ।মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্বে উপদেষ্টারাপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্বে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে কার্যালয়ে যেতে না পারলেও তাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে দপ্তর ও প্রয়োজনীয় লোকবল রয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়াদি দেখভালের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় তদারক করছেন। সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তাঁর দপ্তর প্রস্তুতের কাজ চলছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বের পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দপ্তর বরাদ্দ রয়েছে।সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত বিষয়াদি তদারক করছেন। তিনি সচিবালয়ের নতুন ১ নম্বর ভবনে অফিস করেন। অন্যদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দপ্তরে কাজ করছেন।সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছেন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ড. মাহদী আমিন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করছেন।রেহান আসিফ আসাদ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আর ডা. জাহেদ-উর রহমান পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।বিশেষ সহকারীদের দায়িত্ব কীপ্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিজন কান্তি সরকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভাল করছেন। তানভীর গনি সরকারের বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিষয় তদারক করছেন।ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. শাকিরুল ইসলাম খান এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দায়িত্বে রয়েছেন ড. সাইমুম পারভেজ।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে কাজ করছেন রাশেদ খান। যুব কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ। সর্বশেষ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত দায়িত্ব পেয়েছেন গিয়াস উদ্দিন রিমন।মন্ত্রিসভার আকার ৫১ জনসরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হয়েছে। সম্প্রতি চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমান প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির।এই পরিবর্তনের পর মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাইরে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।অতীতের সরকারের চিত্র২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। সেই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা ছিল ৬৪ জন।২০০৯ সালে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার আকার বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে মন্ত্রিসভার আকার ৬১ জনে পৌঁছায়। পরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসে। ওই সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা এক পর্যায়ে ৭০ জন হয়েছিল।বর্তমান সরকারের ৭১ জনের সংখ্যা সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের ক্ষমতা কতটুকুসংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ৩বি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও বিশেষায়িত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন এবং তাঁর নির্দেশে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নিতে পারেন। বিশেষ সহকারীরা প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে সহায়তা, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং কার্যক্রম তদারক করেন।তবে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা সাধারণভাবে সরকারি ফাইল অনুমোদনের ক্ষমতা রাখেন না। তাঁরা মূলত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করেন।সরকারের দাবি, বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোই এসব নিয়োগের উদ্দেশ্য। তবে এতসংখ্যক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব বণ্টন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং তাঁদের কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

আবার একজোট হয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর ফুলগাজীতে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিতাড়িত স্বৈরাচারী শক্তি ও নেপথ্যে সক্রিয় থাকা গুপ্ত মহল আবারও একজোট হয়ে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া স্বৈরাচার ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর দাবি, সেই শক্তি ও নেপথ্যে থাকা গুপ্ত বাহিনী আবারও একত্র হয়েছে। ১৯৯১, ১৯৮৬ সালসহ বিগত বিভিন্ন নির্বাচনেও তারা গোপনে একসঙ্গে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে একটি মহল মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির মতো বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিরকের শামিল ও মুনাফেকি আচরণ। এখন ওই মহল তথাকথিত ‘এক দফা’র স্লোগান তুলে দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় গুরুদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচসুবিধা সম্প্রসারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল ও নদী খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জনসেবা সম্প্রসারণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আবার একজোট হয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ইসির ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পরিবর্তন হতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ট্রাটেজি ও তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। প্রয়োজনে ইসির ঘোষিত সময় পেছানো বা এগিয়ে দেওয়া হতে পারে।আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন দুটি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন। এর বাইরে অন্যান্য নির্বাচন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিশনকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন নিজেদের মতো করে সময় ঘোষণা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যকেই বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।আজ সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই। এর আগে নির্বাচন কমিশন নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এ নিয়ে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টিকে ‘গ্যাপ’ হিসেবে দেখার কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে থেকেই কাজ করবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার কবে নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে। একটা টাইমলাইন তো আপনাদের কাছে জানানো হয়েছে। এটাকে ফলো করে সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোলাবোরেট করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন তো করবেই, নির্বাচন তো হবেই এটা নিয়ে কোনো কনফিউশনের কিছু নেই।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়কে সরকারের সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট টাইমলাইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকার চাইলে ওই সময়ে নির্বাচন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবার আলোচনার মাধ্যমে সময় পেছানো বা এগিয়ে নেওয়াও হতে পারে। ফলে ইসি যে তারিখ ঘোষণা করেছে, ঠিক সেই তারিখেই নির্বাচন হবে এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে কি না, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন করে কোনো কোনো নির্বাচন সরকারের মাধ্যমে আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া সম্ভব। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দুটি নির্বাচন স্বতন্ত্রভাবে পায়, আর অন্যান্য নির্বাচন আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়।ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সময় উল্লেখ করে আইন ভঙ্গ করেছে কি না এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিষয়টিকে এভাবে বলতে চান না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়াই ভালো হবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে কি না জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার এই অবস্থানেই থাকবে। বিষয়টিকে সংঘাত হিসেবে দেখার চেষ্টা করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসির ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পরিবর্তন হতে পারে:  তথ্য উপদেষ্টা

গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী

সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি- দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়নযাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। এই সময়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, ঘটনা ও পরিসংখ্যান বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সব তথ্য একত্র করে সুগ্রন্থিতভাবে উপস্থাপন করায় এটি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং ভবিষ্যতে হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। দিন-রাত কাজ করার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিজেই পর্যবেক্ষণ করছেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলা কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—যেই হোক না কেন, দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে তিনি শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা ভালো কাজ করছেন, তাঁদের উৎসাহিত করছেন।সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, বইটিতে সরকারের কর্মকাণ্ডের তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে ভূমিকা রাখবে।বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন তত্ত্ব ও আবিষ্কারের তথ্য বই আকারে সংরক্ষিত হয়েছে বলেই পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলো পড়তে ও চর্চা করতে পেরেছে।রিজভী আরও বলেন, বই না পড়লে জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। বই মানুষের মনের জগতের অন্ধকার দূর করার পাশাপাশি বহির্বিশ্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে।আলোচনা সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদ আউয়াল।

গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী