ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে মাদক-অস্ত্র

সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে মাদক-অস্ত্র

ভারত সীমান্তঘেঁষা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় মাদক চোরাচালান কমেনি। বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কারবারিদের জায়গায় নতুন পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম পথ, নদীপথ ও কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে ঢুকছে। এসব চালান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। নারী ও শিশুদেরও বাহক হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রামে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ১২১ কেজি গাঁজা, ৬ হাজার ৮১১টি ইয়াবা, ১ হাজার ৬টি ফেনসিডিল, ২২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১৪ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তেও মাদক চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সরাইল ব্যাটালিয়নের অভিযানে ছয় কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে। কুমিল্লায় গত তিন বছরে বিজিবি প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সিসি ক্যামেরা, নদীপথ, যানবাহনের গোপন কুঠুরি এবং বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। কোথাও কোথাও উল্টো পুলিশের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে। ফলে ছোট কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-শেরপুর সীমান্তে চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক

ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের ভারতের মেঘালয়সংলগ্ন সীমান্তের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র, গবাদিপশু ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আনা-নেওয়া হচ্ছে।হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর বিভিন্ন সীমান্তপথে এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও বাংলাদেশের নিজস্ব কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এসব এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি কঠিন।অনুসন্ধানে ভারত থেকে অস্ত্র, মাদক, বিদেশি মদ, ওষুধ, গরু ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও মাছ, কৃষিপণ্য, খাদ্যসামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাই পণ্য বিক্রির জন্য বাজারও গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব বাজারে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসেন। ফলে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ বাণিজ্য একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চোরাচালান এখন শুধু রাজস্ব ক্ষতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, দেশীয় শিল্প, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়ও জড়িত। সীমান্তে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সীমান্তের দুর্গমতা ও সীমিত জনবলের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, নিয়মিত টহল, অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ চলছে। তবে জনবল ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানো গেলে এ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-শেরপুর সীমান্তে চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক