ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইউপি নির্বাচনে ব্যয় বাড়ছে ২৪৩ শতাংশ, মোট খরচ হতে পারে ৩ হাজার কোটি

ইউপি নির্বাচনে ব্যয় বাড়ছে ২৪৩ শতাংশ, মোট খরচ হতে পারে ৩ হাজার কোটি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৫৭টি খাতে ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও এবার একই খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে এ খাতে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ২৪৩ শতাংশ।এর বাইরে ১২টি কোডভিত্তিক খাতে পরিচালন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৪৪ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সব মিলিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ব্যয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।৩,৯৮১ ইউপিতে ভোটদেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৮১টির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হলে অক্টোবরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন হতে পারে।ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংলাপ না হলে চলতি মাসেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গত সোমবার বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে এবং যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।এক ধাপে প্রায় ১,২০০ ইউপিআগের ইউপি নির্বাচন সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে বিশেষ ধাপসহ মোট ৪ হাজার ১১৪টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল ১৯৬ দিন।এবার প্রথম ধাপে প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউপির তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধানও আগের তুলনায় বাড়ানোর কথা ভাবছে ইসি। এতে মনোনয়ন, বাছাই, আপিল, প্রতীক বরাদ্দ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।বাড়ছে বিভিন্ন খাতের ব্যয়নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন খাতেও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ প্রস্তুত, মেরামত ও অস্থায়ী কেন্দ্র নির্মাণে ২০২১ সালে ১৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এবার এ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য চার কোটি ৪০ লাখ টাকা, সম্মানী ভাতা ৪৪৬ কোটি ৯৪ লাখ, যাতায়াত ভাতা ৯৬ কোটি, আপ্যায়ন ৯৬ কোটি ৭৪ লাখ, মুদ্রণ ও বাঁধাই ৫০ কোটি এবং জ্বালানি বাবদ ৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।সব মিলিয়ে কোডভিত্তিক পরিচালন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৮৪৪ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।আইন ও ভোটার তালিকার প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়েইউপি নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ও সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি সংস্কারের কাজও এগিয়েছে। পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পৃথক আচরণবিধির খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর এবং তা নিষ্পত্তির সময় ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান মন্ত্রী

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।সোমবার সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি।’ বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।সাক্ষাতের শুরুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।বৈঠকে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সরকার খাতেও নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। আগামী দিনে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান মন্ত্রী

দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: মঈন খান

কোনো ধরনের দুর্নীতিকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের প্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন মঈন খান।তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।মঈন খান বলেন, বিএনপিকে ‘ক্যান্টনমেন্টের দল’ বলা হয়। অথচ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তা পুনরুদ্ধার করেছেন।বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই তিনি নিজের ইচ্ছায় কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে পারেন না।তিনি বলেন, আমি আজ যদি বলে দিই, অমুক দিন নির্বাচন হবে, এই কথার কোনো অর্থ থাকবে না। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দেবে বলে জানান তিনি।

দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: মঈন খান