ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
১১ দলীয় জোটের এমপিদের জেলায় সার নিয়ে সমস্যা, অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর

১১ দলীয় জোটের এমপিদের জেলায় সার নিয়ে সমস্যা, অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর

কিছু জেলায় সার নিয়ে সংকট তৈরি করে সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, যেসব জেলায় সার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেসব জেলার সংসদ সদস্যরা ১১ দলীয় জোটের। তবে যেসব জেলায় বিএনপির সংসদ সদস্য রয়েছেন, সেখানে সার নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।বুধবার দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের গড়াইঘাটে গড়াই নদীর ওপর শহীদ আবরার ফাহাদ সেতুর প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে যেসব সারের ডিলার পেয়েছে, তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আগের স্বৈরাচারী সরকারের আমলে। তাঁদের অসহযোগিতার কারণে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সার নিয়ে যেসব জেলায় সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেখানে সরকারকে বিভ্রান্ত করতে বিরোধী জোটের লোকজন এ সংকট তৈরি করে থাকতে পারেন।ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবেবর্তমান সরকারের সময়ে সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকেরা। বিরোধী দল কোনো অভিযোগ করে থাকলে তারা কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তা তাঁর জানা নেই।দ্রুত সেতু নির্মাণের আশ্বাসশহীদ আবরার ফাহাদের বাবা গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ওই সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি মসজিদ নির্মাণ এবং গড়াই নদীর ওপর শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের দাবি জানান।মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি প্রকৌশলীদের নিয়ে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে এসেছেন।তিনি বলেন, ‘আমাদের একটু সময় দিতে হবে। আমরা এখানকার সয়েল টেস্ট করব, স্টাডি করব—তারপর কাজ শুরু করব। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলতে পারি, দ্রুত সময়ের মধ্যে গড়াই নদীর ওপর শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু বাস্তবায়ন হবে, ইনশা আল্লাহ।’পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন যাঁরাএ সময় কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী আহমেদ রুমি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন ও তদন্ত ইউনিট) মো. এবাদত আলী, খোকসা উপজেলায় গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণাগার তৈরি হয়নি, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৮৬ জন

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’ (আইইউপিএইচপিএসপি)–এ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত তিনজন বিশেষজ্ঞের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের অসংগতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।অভিযোগ অনুযায়ী, অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন করে সংশোধিত টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) তৈরি করা হয়। নিয়োগ পাওয়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অন্তত তিনজন ওই টিওআর প্রণয়ন, মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং বাছাইপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পাওয়ার আগেই তাঁদের প্রকল্প কার্যালয়ে কাজ করার তথ্যও সামনে এসেছে।শুধু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ নয়, ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার আউটসোর্সিং চুক্তির মাধ্যমে ২৪০ জন কর্মী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৬ জনকে একটি প্রস্তাবিত ডেঙ্গু গবেষণাগারের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার নির্মাণকাজের কার্যাদেশ এখনো দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া তিনটি সিটি করপোরেশন ও দুটি পৌরসভার জন্য ৫৪ জন মশা ও বাহক নিয়ন্ত্রণকর্মী নিয়োগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা এ ধরনের জনবল চাননি।বিশেষজ্ঞ নিয়োগে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নপ্রকল্পের শীর্ষ পর্যায়ের চারটি পদে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. বিল্লাল হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মহঃ শের আলী এবং হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করা এনামুল হক। তাঁদের পদ যথাক্রমে মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট, এনভায়রনমেন্ট স্পেশালিস্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ও বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট।প্রকল্পের ডিপিপি, সংশোধিত টিওআর, শিক্ষাগত সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে অন্তত তিনজনের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তাঁরা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নিয়োগ পেয়েছেন।টিওআর অনুযায়ী, মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট পদে সমাজবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, গণিত, ব্যবসায় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন ১৫ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা এবং উন্নয়ন সহযোগী বা সরকার-অর্থায়িত সরকারি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে সাত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে এমকম ডিগ্রিধারী আমিনুল ইসলামের জমা দেওয়া নথিতে মনিটরিং ও ইভালুয়েশন বিষয়ে কাজের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এর আগে পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট, সিনিয়র পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল স্পেশালিস্ট এবং সিনিয়র লোকাল গভর্নমেন্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করেছেন।প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট পদের জন্য ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, ব্যবসায় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি প্রশাসন, সমন্বয়, পরিবীক্ষণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার খাতে তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পদে নিয়োগ পাওয়া শের আলী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ করেছেন।পরিবেশ ও আচরণ পরিবর্তনবিষয়ক পদেও অসংগতিএনভায়রনমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুমোদিত ডিপিপিতে চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিবেশগত দিক নিয়ে অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার কথা ছিল। এর মধ্যে পরিবেশগত কর্মপরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানোর কাজে অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির টিওআরে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ১৫ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা এবং উন্নয়ন সহযোগী বা সরকার-সহায়তাপুষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পে ছয় বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. বিল্লাল হোসেন।বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন (বিসিসি) স্পেশালিস্ট পদেও শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। মূল ডিপিপিতে নৃবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, জনসংযোগ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগ্যতা এবং জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিসিসি ব্যবস্থাপনায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা সংশ্লিষ্ট গবেষণায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতার শর্তও ছিল।অন্যদিকে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির টিওআরে সমাজবিজ্ঞান, জনসংযোগ, মনোবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান অথবা অন্য যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সুযোগ রাখা হয়।এ পদে নিয়োগ পাওয়া এনামুল হক ঢাকা সিটি কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে বিকম এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে এমকম পাস করেছেন। তাঁর জীবনবৃত্তান্তে হিসাবরক্ষক, অর্থ ও প্রশাসন সমন্বয়কারী, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং স্পেশালিস্ট, ফিন্যান্স ম্যানেজার, আঞ্চলিক অর্থ সমন্বয়কারী এবং ফিন্যান্স অ্যাসোসিয়েট (অডিট) হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতার উল্লেখ রয়েছে। তবে বিসিসি ব্যবস্থাপনা বা সংশ্লিষ্ট গবেষণায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত ২৯ জুন তাঁকে প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞের দায়িত্বও দেওয়া হয়।নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার অভিযোগপ্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। ১২ জন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাঁরা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পে যোগ দেন।অভিযোগ রয়েছে, আমিনুল ইসলাম, এনামুল হক ও শের আলী টিওআরের খসড়া তৈরি, মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং বিশেষজ্ঞ বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক নিয়োগের আগেই তাঁরা প্রকল্প কার্যালয়ে বসে কাজ করতেন এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথি তৈরিতে সহায়তা করেন।প্রকল্পের শুরুর দিকের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে এনামুল হক আমার দেশ-কে বলেন, শের আলী অতিরিক্ত সচিব থাকার সময় তাঁকে একটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের কথা জানান। পরে পরিকল্পনা বিভাগ থেকে প্রকল্পের ফাইল এনে কাজ করতে বলেন। এনামুলের ভাষ্য, তাঁরা দুজন মিলে টিওআর তৈরি, কমিটি গঠনসহ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।শের আলীও প্রকল্পটি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আমার দেশ-কে তিনি বলেন, প্রকল্পের ঋণ নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচক দলের সদস্য ছিলেন তিনি। তবে বড় কোনো প্রকল্প পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর নেই বলেও জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থাকাকালে তিনি প্রকল্পটির দেখভাল করেছেন এবং বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়েছেন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।প্রত্যেকের বেতন ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকাপ্রকল্পের চার বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, শের আলী ও এনামুল হকের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। প্রকল্পে তাঁদের জন্য নির্ধারিত প্রাক্কলিত মাসিক ব্যয় ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা।শীর্ষ ১২ কর্মকর্তার মধ্যে আরও দুজন একই বেতন পান। তাঁরা হলেন ফিন্যান্সিয়াল স্পেশালিস্ট এস এম আব্দুল মোত্তালিব এবং পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট ড. শারমিন মিজান।অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন ও শের আলী আমার দেশ-এর কাছে দাবি করেন, তাঁদের নিয়োগে কোনো সমস্যা নেই। নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন। এনামুল হকও একই ধরনের দাবি করেন।নিয়োগের সময় দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজন বিবেচনায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং তাদের অনুমোদন নিয়ে টিওআর পরিবর্তন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে তৈরি করা টিওআর প্রকল্পের প্রত্যাশিত চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না।বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা এখনো অসম্পূর্ণপ্রকল্পের প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক জীবনবৃত্তান্ত পরীক্ষা করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করেছে। তবে বাকি ১১ জন বিশেষজ্ঞের নিয়োগ নিরীক্ষার কথা প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ইমেইলে জানানো হলেও সেই নিরীক্ষা এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের চুক্তি ও কেনাকাটার বিষয়েও পরবর্তী পর্যালোচনা করা হয়নি।এ বিষয়ে প্রকল্পটির বিশ্বব্যাংক টাস্ক টিম লিডার ইফফাত মাহমুদ ইমেইলে জানান, প্রকল্পের জনবল নিয়োগের দায়িত্ব বাস্তবায়নকারী সংস্থার। নিয়োগ অবশ্যই সরকারি বিধিবিধান এবং প্রকল্পের সম্মত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করে করতে হবে।তিনি আরও জানান, বড় অঙ্কের চুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের তদারকির আওতায় পূর্বানুমোদনভিত্তিক পর্যালোচনা এবং নমুনাভিত্তিক পরবর্তী পর্যালোচনার ব্যবস্থা রয়েছে। জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়ম বা অসদাচরণ সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা বিশ্বব্যাংকের ইন্টেগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সিতে জানানো যায়। সংস্থাটি স্বাধীনভাবে ও গোপনীয়তার সঙ্গে এসব অভিযোগ তদন্ত করে।গবেষণাগার নির্মাণের আগেই ১৮৬ জন নিয়োগপ্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য ডেঙ্গুর বাহক মশা নিয়ে গবেষণা করা। এ জন্য ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার আউটসোর্সিং চুক্তির মাধ্যমে ২৪০ জন কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রেড ৬ থেকে ২০ পর্যন্ত এসব কর্মী সরবরাহের জন্য গত বছরের ২২ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, নিয়োগের জন্য নির্ধারিত ২৪০টি পদের মধ্যে ১৮৬টি প্রস্তাবিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’র জন্য। বাকি ৫৪ জনের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় মশা ও বাহক নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত থাকার কথা।এর মধ্যে ১৫৮ জন গত জুলাইয়ে যোগ দিয়েছেন এবং বাকি ৮২ জনের শিগগিরই যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষায়িত কয়েকটি পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের অনেকের মশা নিয়ন্ত্রণ বা বাহক ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।গবেষণাগার নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট দরপত্র প্রকাশ করা হয় এবং ২৭ সেপ্টেম্বর তা খোলা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনার জন্যও কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।অথচ নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের দুই বছরের জন্য প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বণ্টন করা হয়েছে। গবেষণাগার চালু হওয়ার আগেই তাঁদের চাকরির মেয়াদের বড় অংশ, এমনকি কারও কারও পুরো মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের জুনে।চাহিদা ছাড়াই ৫৪ জন নিয়োগ?মশা ও বাহক নিয়ন্ত্রণের কাজে ৫৪ জন নিয়োগের বিষয়ে একাধিক সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই জনবল তাঁদের প্রয়োজন ছিল না। তাঁদের ভাষ্য, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞতার অভাবও কর্মীদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।২৪০ জন কর্মী নিয়োগের দরপত্র আহ্বান ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান। বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, টিএমসিও ভবনের উল্লম্ব সম্প্রসারণের জন্য সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) তৈরি এবং নতুন করে ব্যয় প্রাক্কলন করতে সময় লেগেছে। ভবনের কাঠামোগত নথি সংগ্রহ, বিশ্বব্যাংকের আপত্তির পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রকল্পের শতাধিক ইকোনমিক কোডে ভুল থাকায় পুরো ডিপিপি সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছিল।হাফিজুল্লাহ খানের দাবি, গবেষণাগারের কর্মীরা বর্তমানে আইসিটি দলের সঙ্গে যন্ত্রপাতি প্রস্তুতের কাজ করছেন। ভবন নির্মাণের দরপত্র খোলার কাজ শেষ হয়েছে; মূল নির্মাণকাজ শুরু হলে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ২৪০ জন কর্মীকে সবাইকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়নি; তাঁদের একটি অংশকে তিনটি সিটি করপোরেশন ও দুটি পৌরসভায় পদায়ন করা হয়েছে। শতাধিক কর্মীর একটি অংশকে প্রশিক্ষণ শেষে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।বিশেষজ্ঞ নিয়োগের যোগ্যতা, টিওআর পরিবর্তন, বাছাইপ্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং গবেষণাগার চালুর আগেই বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটির পরিকল্পনা, ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে জবাবদিহির প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নথির স্বচ্ছ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকল্পটির নিয়োগ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

গবেষণাগার তৈরি হয়নি, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৮৬ জন

স্থানীয় সরকারকে সক্ষম করতে ইউএনডিপির সঙ্গে কাজ করতে চায় সরকার

দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্ষম ও কার্যকর করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ইউএনডিপির সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসে।মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির কারিগরি অভিজ্ঞতা সরকারের জন্য সহায়ক হতে পারে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করার সঙ্গে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও এসডিজি বাস্তবায়নের বিষয়টি সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ খাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। ইউএনডিপির সঙ্গে যৌথভাবে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা গেলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার আসাদুজ্জামান ও আনোয়ারুল হক, আন্তর্জাতিক প্রকল্প ব্যবস্থাপক যুগেশ প্রধানাং এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকারকে সক্ষম করতে ইউএনডিপির সঙ্গে কাজ করতে চায় সরকার

ইউপি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়নি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই নির্বাচন কমিশন সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার কথা। কিন্তু এবার তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সরকারকে কিছুই জানানো হয়নি।স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, তফসিল নিয়ে সরকার কিছুই জানে না। পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবেও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, আজকে আমি এতটুকুই বললাম, প্রশ্ন নেব না। প্রশ্ন নিলে প্যাচ লাগে। তিনি সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো আলোচনা হয়নি এ বিষয়টিই স্পষ্ট করেন।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়নি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

ইউপি নির্বাচনে ব্যয় বাড়ছে ২৪৩ শতাংশ, মোট খরচ হতে পারে ৩ হাজার কোটি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৫৭টি খাতে ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও এবার একই খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে এ খাতে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ২৪৩ শতাংশ।এর বাইরে ১২টি কোডভিত্তিক খাতে পরিচালন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৪৪ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সব মিলিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ব্যয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।৩,৯৮১ ইউপিতে ভোটদেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৮১টির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হলে অক্টোবরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন হতে পারে।ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংলাপ না হলে চলতি মাসেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গত সোমবার বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে এবং যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।এক ধাপে প্রায় ১,২০০ ইউপিআগের ইউপি নির্বাচন সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে বিশেষ ধাপসহ মোট ৪ হাজার ১১৪টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল ১৯৬ দিন।এবার প্রথম ধাপে প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউপির তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধানও আগের তুলনায় বাড়ানোর কথা ভাবছে ইসি। এতে মনোনয়ন, বাছাই, আপিল, প্রতীক বরাদ্দ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।বাড়ছে বিভিন্ন খাতের ব্যয়নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন খাতেও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ প্রস্তুত, মেরামত ও অস্থায়ী কেন্দ্র নির্মাণে ২০২১ সালে ১৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এবার এ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য চার কোটি ৪০ লাখ টাকা, সম্মানী ভাতা ৪৪৬ কোটি ৯৪ লাখ, যাতায়াত ভাতা ৯৬ কোটি, আপ্যায়ন ৯৬ কোটি ৭৪ লাখ, মুদ্রণ ও বাঁধাই ৫০ কোটি এবং জ্বালানি বাবদ ৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।সব মিলিয়ে কোডভিত্তিক পরিচালন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৮৪৪ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।আইন ও ভোটার তালিকার প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়েইউপি নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ও সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি সংস্কারের কাজও এগিয়েছে। পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পৃথক আচরণবিধির খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর এবং তা নিষ্পত্তির সময় ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।

ইউপি নির্বাচনে ব্যয় বাড়ছে ২৪৩ শতাংশ, মোট খরচ হতে পারে ৩ হাজার কোটি

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান মন্ত্রী

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।সোমবার সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি।’ বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।সাক্ষাতের শুরুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।বৈঠকে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সরকার খাতেও নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। আগামী দিনে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান মন্ত্রী

দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: মঈন খান

কোনো ধরনের দুর্নীতিকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের প্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন মঈন খান।তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।মঈন খান বলেন, বিএনপিকে ‘ক্যান্টনমেন্টের দল’ বলা হয়। অথচ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তা পুনরুদ্ধার করেছেন।বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই তিনি নিজের ইচ্ছায় কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে পারেন না।তিনি বলেন, আমি আজ যদি বলে দিই, অমুক দিন নির্বাচন হবে, এই কথার কোনো অর্থ থাকবে না। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দেবে বলে জানান তিনি।

দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: মঈন খান