ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
পাঁচ বছরে ২ কোটি মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য

পাঁচ বছরে ২ কোটি মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য

অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২ কোটি মানুষকে উন্নত প্রাথমিক চক্ষুসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়া, ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশন এবং ৮০ শতাংশ চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এসব পরিকল্পনার কথা জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক চক্ষুসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে সারা দেশে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থী এবং পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের মানুষের কাছে এ সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের কর্মক্ষমতা, কাজের দক্ষতা এবং আয় বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।গড়ে তোলা হবে রেফারেল নেটওয়ার্কচক্ষুসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে একটি সুনির্দিষ্ট রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা জানান ডা. এম এ মুহিত। এ জন্য প্রয়োজনীয় রেফারেল হাসপাতালগুলো চিহ্নিত করা হবে।তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং ও রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে যেসব রোগী শনাক্ত হবেন, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্কুলপড়ুয়া শিশুসহ ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশন এবং ৮০ শতাংশ চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।এ কর্মসূচিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে একটি ‘জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কৌশলগত পরিকল্পনা’ প্রণয়নের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।‘লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়’আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সামিট ফর আই হেলথ’-এ সরকারের এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হবে বলে জানান ডা. এম এ মুহিত।তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনা, ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়া এবং ১০ লাখ ছানি অপারেশন করা সহজ কাজ নয়। তবে এ খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের উদ্দীপনা, ঐক্য, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রমাণভিত্তিক কর্মপদ্ধতি লক্ষ্যগুলো অর্জনে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।‘আইএনজিও ফোরাম ইন আই হেলথ’-এর সহায়তায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওএসবি) যৌথভাবে আলোচনা সভাটির আয়োজন করে।সভায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মাহবুবুল কাদির, আইএপিবির কান্ট্রি চেয়ার (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবির সভাপতি ডা. মো. তৌহিদুর রহমান ও মহাসচিব অধ্যাপক মো. নিনু রেইন (নিউটন), আইএনজিও ফোরামের চেয়ার ও সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও এবং ভিশনস্প্রিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন বক্তব্য দেন।‘সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে’ডা. মুনির আহমেদ বলেন, দেশে চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে এ খাতের সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করে, চক্ষু স্বাস্থ্যসেবাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য ব্লাইন্ড’-কে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে।চক্ষুসেবা খাতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. মুনির আহমেদ বলেন, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের কাঠামো ছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বেলাব বিএনপির আহসান হাবিব বিপ্লব

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বেলাব উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আহসান হাবিব বিপ্লব।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।আহসান হাবিব বিপ্লব বেলাব উপজেলা বিএনপির একজন পরীক্ষিত ও লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।বেলাব উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বিপ্লব স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে পুরো উপজেলা জুড়েই তার জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার কারণে আহসান হাবিব বিপ্লব তৃণমূল বিএনপিতে একজন আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে আহসান হাবিব বিপ্লব মন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি বেলাবসহ বৃহত্তর এলাকার মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বেলাব বিএনপির আহসান হাবিব বিপ্লব

হামের টিকাদানে চার বছরের বিলম্বে প্রাণহানি, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

হামের টিকাদান কর্মসূচিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘ চার বছর গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে বহু শিশুর প্রাণহানি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে দেশজুড়ে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।শনিবার বনানীর কড়াইল টিএনটি খেলার মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় ধাপে হামের টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।তিনি জানান, দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সরকারকে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছরে একবার ব্যাপক পরিসরে এসব রোগের বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি চালুর দায়িত্ব সরকারের ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ কর্মসূচি বন্ধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি টিকা কেনার পরিবর্তে আগের সরকার ওপেন টেন্ডার পদ্ধতিতে যেতে চেয়েছিল। বিদেশি সংস্থাগুলো একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এতে টিকা সংগ্রহে সময়ক্ষেপণ হয় এবং চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকারকে তার খেসারত দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতিতে দেশের অনেক মাকে কষ্ট পেতে হয়েছে, অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু মারা গেছে বলেও তিনি জানান। তাঁর মতে, একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক এবং একটি মায়ের সন্তান হারানোর কষ্ট অত্যন্ত গভীর।তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্ধারিত তিনটি ধাপে ১৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকা ও আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। এরপর ৪ মে থেকে কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও তা এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, এরই মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া আরও ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য চলমান এ ক্যাম্পেইন আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য ১০ লাখ টিকা সংরক্ষিত রয়েছে এবং স্বাভাবিক টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গেও এসব টিকা দেওয়া অব্যাহত থাকবে। হামের পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টির ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকদের মতে, হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি। অনেক শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকায় হাম হলে দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় তাদের ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হামের টিকাদানে চার বছরের বিলম্বে প্রাণহানি, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

হাম-রুবেলা টিকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল, টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ শিশু

চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশু টিকা নিয়েছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ১০৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সরকার দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এর প্রথম ধাপে ৫ এপ্রিল দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই চার সিটি করপোরেশনে টিকাদান শুরু করা হয়। সর্বশেষ ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, যা এখনো চলমান।তবে দেশে এখনো হামের প্রাদুর্ভাব থাকায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাম প্রতিরোধে সরকার নতুন করে ব্যাপক টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুরুতে সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে টিকাদানের হার।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়া। কিন্তু ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টিকা নিয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশু।বিভাগভিত্তিক টিকাদানস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-রুবেলা টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে ১১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৯১৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ লাখ ১৩ হাজার ১৯৭ জন, রংপুর বিভাগে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৫ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে।সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে বরিশালে ৪৪ হাজার ১১৯ জন, চট্টগ্রামে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭০ জন, কুমিল্লায় ৪৮ হাজার ৬৪৩ জন, ঢাকা উত্তরে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৮ জন, ঢাকা দক্ষিণে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৭২ জন, গাজীপুরে ২ লাখ ৬ হাজার ৯২৭ জন, নারায়ণগঞ্জে ৮৩ হাজার ৬৯৭ জন, খুলনায় ৯৬ হাজার ৭৯২ জন, ময়মনসিংহে ৬২ হাজার ৩০৫ জন, রাজশাহীতে ৬৩ হাজার ৫৯ জন, রংপুরে ৮২ হাজার ২৫৩ জন এবং সিলেটে ৭২ হাজার ৩৪৯ জন শিশু টিকা নিয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, শিশুদের টিকাদান একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে ব্যাপকভাবে শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেটি সরকারের বাড়তি তৎপরতার অংশ।তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, যাতে কোনো শিশু টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।

হাম-রুবেলা টিকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল, টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ শিশু