ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বাংলাদেশের ক্যাচ মিসে ড্র আবুধাবি টেস্ট

বাংলাদেশের ক্যাচ মিসে ড্র আবুধাবি টেস্ট

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাদেশকে। আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে লিড, দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ—সব মিলিয়ে জয়ের পথও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেদিকুল্লাহ অটলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানের লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ এবং শেষ দিকে বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে ড্র হয়েছে ম্যাচটি।আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করেছে আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় উইকেটের দেখা মেলেনি।ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান। জবাবে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে। ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য।অটলের প্রতিরোধে বেঁচে যায় আফগানিস্তানপঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয়েছিল আগের দিনের ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে। দিনের শুরু থেকেই দৃঢ়তার পরিচয় দেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। যদিও রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো পায়ে লাগায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। পরে অবশ্য আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন তিনি।অন্য প্রান্তে সেদিকুল্লাহ অটলকে ভালো সঙ্গ দেন ইকরাম আলিখিল। প্রথম সেশনের বেশির ভাগ সময় উইকেট ধরে রাখলেও মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে ইবাদত হোসেনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইকরাম। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান।এরপর ইসমাত আলমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অটল। একের পর এক বল ঠেকিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন ইসমাত। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৪ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ।মিরাজের আঘাতেই পরে বিদায় নেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। চা-বিরতির ঠিক আগে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তাঁর সংগ্রহ ৩৬ রান।ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি অটলেরএক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই কঠিন করে তুলছিলেন তিনি। চা-বিরতির আগেই তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।বিরতির পর অবশ্য তাঁর প্রতিরোধ থামান তাইজুল ইসলাম। শর্ট লেগে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৩২ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন এই আফগান ওপেনার।অটল ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরপর দুই বলে দুটি রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ ওভার ২ বল বাকি থাকতে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন কায়েস আহমেদ। তবে সহজ সেই সুযোগও নিতে পারেননি হাসান মাহমুদ।শেষ বলেও ছক্কা কায়েসেরক্যাচ মিসের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত আফগানিস্তানের হাতেই চলে যায়। যদিও শেষ পাঁচ ওভার বাকি থাকতে অষ্টম উইকেট হারায় তারা, তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি।বরং শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন কায়েস আহমেদ। ম্যাচের শেষ বলটি ছক্কায় পরিণত করে ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতেই নিশ্চিত হয় ড্র।প্রথম চার দিন জয়ের স্বপ্ন দেখানো বাংলাদেশ শেষ দিনে অটলের প্রতিরোধ ও নিজেদের সুযোগ হাতছাড়ার কারণে জয় থেকে দূরে সরে যায়। অন্যদিকে, কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান দেখিয়েছে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা।