ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে চলমান জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তির জন্য আরও বড় অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ইরান তার আচরণ পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েলের নেতৃত্বে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই এই কাজ করতে হবে, যা করতে তিনি আগ্রহী নন। একই পোস্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতানিয়াহু শক্ত, সাহসী ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।পোস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’ ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু কখনো আপনাদের হতাশ করবেন না।’নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে নেতানিয়াহুইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদমাধ্যম হারেৎজের আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫১। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোনো দল বা জোটই এখন পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অবস্থানে নেই।ট্রাম্পের এই সমর্থন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে টাইম সাময়িকী তাঁকে দুবার প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত কি না। দুইবারই সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনে নিজের জনপ্রিয়তা এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা বলেন।বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স তাঁকে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চায়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চায় আমি এতে জড়িত হই। হ্যাঁ, তারা তা-ই চায়।’ নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, দুই নেতার মধ্যে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।তবে নির্বাচনে এই সমর্থনের প্রভাব অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ভাকিল। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর বিদ্যমান সমর্থকদের আরও সংহত করতে পারে, কিন্তু তাঁর নেতৃত্বের অতীত রেকর্ড নিয়ে বড় প্রশ্নগুলোর সমাধান করবে না।লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ ট্রাম্পের ঘোষণাকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারে চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু এই সমর্থন থেকে সুবিধা পেতে পারেন। তবে এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পুরোপুরি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়।ক্রিগের ভাষ্য, ডানপন্থী দলগুলোর বিভক্তি, অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের হতাশা এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার উত্তরাধিকার নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের সমর্থন লিকুদ পার্টির অনাগ্রহী ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে এতে এক বা দুটি আসন বাড়তে পারে। কিন্তু যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহুর নেই, ট্রাম্প তা তৈরি করে দিতে পারবেন না।ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন হামলার জল্পনানেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এমন সময় এই অবস্থান সামনে এল, যখন কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে ইরানে আবার হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প।গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত স্থবির থাকলেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি।যুদ্ধ শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। একসময় বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। দুই পক্ষই নিজেদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়।গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনী ক্রমবর্ধমানসংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে এই প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আবার কমে যায়।এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়। শুক্রবার দাম সাময়িকভাবে ১১০ ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ। পরে সোমবার দাম কিছুটা কমে আসে।হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবগত মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি চালুর প্রস্তাবের সঙ্গে ইরান সাতটি শর্ত দেয়। এর মধ্যে ছিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তবে শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।রোববার ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। এরপরের দিন থেকেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।তবে একই দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে আবার হামলা চালাতে চান।আরাগচি লেখেন, ‘গতবার যখন আপনারা কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু নিজের কারাবাস এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। এর পরিণতি ইসরায়েলের জন্য কী হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য কী হবে, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন না।সামরিক চাপ, নাকি কূটনীতির পথ?কিংস কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।ক্রিগের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে যথেষ্ট চাপে ফেলছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় কোনো ছাড় দিতে না হলেও একপর্যায়ে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হবে।নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এই কৌশলের পেছনে থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করেছে। তবে কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন বলে মনে করেন ক্রিগ।তবে এই কৌশলে ঝুঁকিও রয়েছে। আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তেহরান সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে।চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই অবস্থান ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পক্ষ হিসেবে তুলে ধরা কঠিন করে তুলবে।ভাকিলের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে দুই নেতা ইরানে আরেকটি অভিযান চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রথমে কে সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও এখনো মীমাংসা হয়নি।তেহরানের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কার্যকর কোনো পার্থক্য নেই—এমন ধারণাকে আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করেন ভাকিল। তবে নেতানিয়াহু ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেতে ট্রাম্পের অনাগ্রহকে ওয়াশিংটনের আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার সীমিত আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করতে পারে ইরান।মার্কিন নির্বাচনের পর বাড়তে পারে ঝুঁকিট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। তবে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন।গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, দুই দেশের নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।তবে ইরান এমন কোনো হামলা না চালালে, যার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম বলে মনে করেন ক্রিগ।তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় শুরু হতে পারে ৩ নভেম্বরের পর, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বাধাগুলো আর থাকবে না। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ক্রিগের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে এই সমর্থন থেকেই দুই নেতা নতুন সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী হিসাব এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিই আগামী দিনে সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাইকে কটাক্ষ ট্রাম্পের

এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাইকে কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পিল্লাইকে জাতিসংঘে কাজ করা একজন উদারপন্থী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তাঁর নাম আগে কখনো শোনেননি। নাভি পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছিল।যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রিপাবলিকানদের এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত ওই সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আজ নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে, যার নাম আমি কখনো শুনিনি। কেউই তাঁকে চেনে না। বিষয়টি রহস্যজনক।’ তবে এরপরই তিনি যোগ করেন, ‘তবু তাঁকে অভিনন্দন।’আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি ট্রাম্পেরসমাবেশে আবারও আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটানোর দাবি করেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব যুদ্ধের যেকোনো একটির অবসান ঘটানোর জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া যেতে পারে।ট্রাম্প বলেন, ‘এই আটটি যুদ্ধের যেকোনো একটির জন্যই নোবেল পুরস্কার পাওয়া যায়। আমি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি। কোনো প্রেসিডেন্টই এমনটা করেননি।’নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। এবারও পুরস্কার কমিটির পাশাপাশি নরওয়ের সমালোচনা করেন তিনি।নরওয়েকে ভুলে যাবেন না, বললেন ট্রাম্পট্রাম্পের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রতিনিধিত্বে যুক্তরাষ্ট্রেরই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না হওয়াকে নরওয়ের জন্য ‘অমোচনীয় কলঙ্ক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।তাঁর ভাষায়, ‘গণতন্ত্রবিরোধী ও সভ্যতার শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত একদল উগ্র মতাদর্শীর কারণে পুরস্কারটি চিরতরে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নরওয়েকে ভুলব না।’ নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নরওয়ে ও অন্যান্য দেশের শোষণমূলক আচরণের আরেকটি নিদর্শন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভসমাবেশের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও নাভি পিল্লাইকে নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই নারী সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, অন্য কেউও জানে না! আমার জানামতে, ইসরাইলকে ঘৃণা করার বিষয়টি ছাড়া আর কেউ কখনো তাঁর নামও শোনেনি।’নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘নোবেল “শান্তি” পুরস্কারটি একদল উগ্র মতাদর্শীর কারণে চিরতরে কলঙ্কিত হয়েছে। তারা গণতন্ত্রবিরোধী এবং সভ্যতার শত্রু।’নাভি পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শেষে গণহত্যার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই পিল্লাইকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।সূত্র: আনাদোলু

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাইকে কটাক্ষ ট্রাম্পের

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকালেন মার্কিন দুই ডেমোক্র্যাট

ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। একই অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবিত অস্ত্র সরবরাহে বাধা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস।এর ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরের বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল ও সেমাফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে প্রায় ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় এক টন বা ২ হাজার পাউন্ড। গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এসব ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল।সিনেটর জিন শ্যাহিনের অভিযোগ, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বন্ধে এবং মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। সিরিয়ায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটি এবং প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ সদস্যরা অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বা ভেটো দিতে পারেন। অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সাধারণত পররাষ্ট্র দপ্তরকে সংশ্লিষ্ট কমিটির আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের বিষয়টি সমাধান করে সম্মতি নিতে হয়।প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকসও সম্প্রতি এক বিরল প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মার্কিন বিধি মেনে ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিন শ্যাহিন বলেন, ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং সিরিয়ায় যেভাবে বোমাবর্ষণ করছে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্যাহিন বলেন, নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে পরিষ্কার শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না।তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন এবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার এসব ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। নিহতদের বড় অংশ নারী ও শিশু।এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আবারও ভারী মারণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন উদ্যোগ ওয়াশিংটনেই কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের আপত্তির মুখে পড়েছে।

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকালেন মার্কিন দুই ডেমোক্র্যাট

ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা

ইসরায়েলের সামরিক খাতের সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নোভামিল সিস্টেমস লিমিটেডের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ এবং প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে ‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ নামের একটি ইসরায়েলবিরোধী হ্যাকার গোষ্ঠী।এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, সর্বশেষ অভিযানে নোভামিলের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে তারা।‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ গত বছর আত্মপ্রকাশ করে। গোষ্ঠীটির ঘোষিত লক্ষ্য ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।গোষ্ঠীটির দাবি, নোভামিল ইসরায়েলের যন্ত্রাংশ সংযোজন, সংবেদনশীল ও অত্যন্ত নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি এবং রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।নোভামিল যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার জন্য নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি করে। পাশাপাশি নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নাইট ভিশন, থার্মাল ক্যামেরা এবং লক্ষ্য নির্ধারণের প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন উন্নত সামরিক ব্যবস্থার বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক ও অপটিক্যাল-যান্ত্রিক যন্ত্রাংশ সংযোজনের কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।এক টেরাবাইট তথ্য সংগ্রহের দাবিসাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কয়েকটি দলের তৈরি নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নোভামিলের একটি কারখানার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা হয়।গোষ্ঠীটির ভাষ্য, অভিযানে নোভামিলের প্রায় এক টেরাবাইট সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নিখুঁত যন্ত্রপাতি বা সিএনসি এবং নেটওয়ার্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হয়েছে।এতে নোভামিলের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে তাদের দাবির বিষয়ে নোভামিল বা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্যের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়নি।কর্মীদের সতর্কবার্তা‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট নোভামিলের কর্মীদেরও সতর্ক করেছে।বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, নোভামিলের কর্মীদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে নোভামিলের সহযোগিতার বিষয়ে তারা যে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করেছে, প্রকাশ করা তথ্য তার সামান্য অংশ। তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করেনি তারা।আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলার দাবিএর আগে ইসরায়েলের সামরিক খাতের ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় হামলা চালানোর দাবি করেছিল সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিজেডএমটি, ইমকো, মায়া ও কার্সোমেটালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব হামলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার দাবিও করেছিল গোষ্ঠীটি।প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘সাইবার অবরোধ’ চালানোকে নিজেদের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করে আসছে সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট। নোভামিলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযানকে সেই কৌশলের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে গোষ্ঠীটি।

ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভারী গোলাবর্ষণ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ভোরে কয়েকটি শহর ও গ্রামের ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ)।এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-মানসুরি, বাইত আল-সাইয়াদের আশপাশের এলাকা এবং মাজদাল জৌনের উপকণ্ঠে ভারী কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। রাতভর এসব এলাকায় হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। সংস্থাটির ভাষ্য, কয়েকটি এলাকায় কোনো বাড়িই অক্ষত থাকেনি।এ ছাড়া হাদ্দাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবাল এলাকাতেও একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাছাকাছি উপত্যকাগুলোর দিকে মেশিনগানের গুলিও ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ।দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহির উচ্চভূমির আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের আকাশে ইসরায়েলি ড্রোনের নিয়মিত উড্ডয়নের খবর পাওয়া গেছে।তবে এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হামাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। একই সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।গাজা সিটির একটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় এক শিশুসহ সাত ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস এ অভিযোগ করে। হামাস ওই হামলাকে ‘গণহত্যা’ ও ‘পরিকল্পিত উত্তেজনা সৃষ্টির পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।হামাসের দাবি, গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করছেন।সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কায়রো আলোচনা এবং চলমান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার পর গাজায় ইসরায়েলি হামলা প্রমাণ করে যে নেতানিয়াহু আলোচনা নস্যাৎ করতে চান।চুক্তি বাস্তবায়নে চাপ দেওয়ার আহ্বানহামাস ইসরায়েল সরকারকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত মেনে চলা এবং হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুকে শারম এল-শেখ চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে মার্কিন প্রশাসন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং চুক্তির নিশ্চয়তাদানকারী পক্ষগুলোর প্রতি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।হামাস বলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।সূত্র: আল-জাজিরা

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হামাস