রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনের
জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
নিয়ে হওয়া ঐকমত্য থেকে
সরে আসার অভিযোগ তুলে
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে
ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির
মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।গাজী আতাউর রহমান
বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ অলংকারিক হলেও
জাতীয় সংকট ও জাতীয়
নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রয়েছে। তিনি জাতীয় ঐক্য
ও আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিবের ভাষ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু
বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। এসব বিষয়ে বিএনপির
কোনো নোট অব ডিসেন্টও
ছিল না। জুলাই সনদের
সেই ঐকমত্য অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে তাঁরা
প্রত্যাশা করেছিলেন। তা না হওয়ায়
এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া সমীচীন
মনে করছেন না তাঁরা।তিনি বলেন, জুলাই
সনদের ১০ নম্বর ধারায়
আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্যদের
গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের
কথা বলা হয়েছে। এ
বিষয়ে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হয়েছিল।
একইভাবে ২৮ নম্বর ধারায়
অর্থ বিল ও আস্থাভোট
ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে
সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার কথা
বলা হয়েছে। এ বিষয়েও কোনো
নোট অব ডিসেন্ট ছিল
না।গাজী আতাউর রহমানের
অভিযোগ, বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া
ওই দুটি বিষয়ই মানা
হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়,
এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে
‘গাদ্দারি’।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে
তিনি বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল
থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন,
তা আগে থেকেই নিশ্চিত।
তাহলে এ ধরনের নির্বাচনের
প্রয়োজনীয়তা কী—সে প্রশ্নও
তোলেন তিনি।ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান যাঁর নাম ঘোষণা
করবেন, তাঁকেই বঙ্গভবনে নিয়ে গিয়ে দায়িত্ব
দিলেই হতো। তাঁর মতে,
বর্তমান প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন, সংসদ সদস্য ও
সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে
এবং এতে জনগণের অর্থ
ব্যয়ের পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়ে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন
করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান গাজী আতাউর রহমান।