ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনের

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনের

জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে হওয়া ঐকমত্য থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ অলংকারিক হলেও জাতীয় সংকট ও জাতীয় নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি জাতীয় ঐক্য ও আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিবের ভাষ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। এসব বিষয়ে বিএনপির কোনো নোট অব ডিসেন্টও ছিল না। জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেছিলেন। তা না হওয়ায় এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া সমীচীন মনে করছেন না তাঁরা।তিনি বলেন, জুলাই সনদের ১০ নম্বর ধারায় আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হয়েছিল। একইভাবে ২৮ নম্বর ধারায় অর্থ বিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়েও কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না।গাজী আতাউর রহমানের অভিযোগ, বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া ওই দুটি বিষয়ই মানা হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা আগে থেকেই নিশ্চিত। তাহলে এ ধরনের নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা কী—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান যাঁর নাম ঘোষণা করবেন, তাঁকেই বঙ্গভবনে নিয়ে গিয়ে দায়িত্ব দিলেই হতো। তাঁর মতে, বর্তমান প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন, সংসদ সদস্য ও সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এতে জনগণের অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়ে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান গাজী আতাউর রহমান।

১৮০ দিনেও আশাজাগানিয়া কিছু করতে পারেনি সরকার

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর বহু প্রত্যাশা নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া সরকার ১৮০ দিন পার হলেও আশাজাগানিয়া তেমন কিছু করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।তিনি বলেন, বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। একইভাবে উচ্চকক্ষ গঠনের বাধ্যতামূলক সময়সীমাও মানা হয়নি। এটি জনরায়ের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা ও অবজ্ঞা।শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ভাটারায় আস-সাঈদ মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের শূরা অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গাজী আতাউর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর বহু প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা ও দায় নিয়েই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। কিন্তু ১৮০ দিন অতিক্রান্ত হলেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি।তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা উপেক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়েও নির্ধারিত বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। তাঁর মতে, এসব ঘটনা জনরায়ের প্রতি সরকারের অবজ্ঞার প্রকাশ।শূরা অধিবেশনে যারা ছিলেনঢাকা মহানগর উত্তর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন।অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী এবং কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার।এ ছাড়া বক্তব্য দেন মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম, মুফতি অলিউল্লাহ, অ্যাডভোকেট মোস্তফা আল মামুন মনির, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, মুফতি মাছউদুর রহমান, শ্রমিক নেতা আলহাজ আমীরুল হক, মাহবুব ইসলাম, যুব নেতা হাফেজ ইকবাল, মুফতি নিজাম উদ্দিন, চিকিৎসক মো. মুজিবুর রহমান, মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) আলহাজ আমিনুল হক তালুকদার, আলহাজ আলাউদ্দিন, মুফতি মুস্তাকিম বিল্লাহ, রাকিবুল ইসলাম ও মুহাম্মদ নাজমুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

১৮০ দিনেও আশাজাগানিয়া কিছু করতে পারেনি সরকার

মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়: রেজাউল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা মানবরচিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে ইসলামই একমাত্র সমাধান।বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর আয়োজিত সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ‘আমরা বারবার জীবন দিয়েছি, পঙ্গুত্ব বরণ করেছি, আমাদের সন্তানরা এতিম হয়েছে, নারীরা বিধবা হয়েছে। এগুলো জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা ত্যাগ করেছি, তা পূরণ হয়নি।’তিনি বলেন, ‘আমরা শৃগালের হাতে মুরগি তুলে দেওয়ার মতো ভুল করেছি। মানব রচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করা বোকামি। এর জন্য ইসলামই একমাত্র সমাধান।’বৈষম্য দূর করা, নারীর নিরাপত্তা এবং সংখ্যালঘুদের শান্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ইসলামকে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন যে সুযোগ তৈরি করেছিল, তা কাজে লাগাতে তাঁরা ইসলামের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা করেছিলেন। তবে সেই সমঝোতা সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠার পর স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতার লোভে আদর্শ থেকে সরে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছে। এতে বাংলাদেশে ইসলামের সম্ভাবনার পাশাপাশি দেশ ও জুলাইয়ের প্রত্যাশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে ‘স্পষ্ট গাদ্দারি’। তাঁর দাবি, অতীতে গুমের ঘটনায় পুলিশের সদস্যদের সম্পৃক্ততা বেশি ছিল।তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কিন্তু সমঝোতার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা নষ্ট করেছে।সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা এখন শীর্ষে রয়েছে। নগরবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।তিনি বলেন, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়ী হলে ঢাকাকে পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।নগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আইএবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, নগর দক্ষিণের সহসভাপতি জি এম রুহুল আমীন ও আলহাজ্ব এম এইচ মোস্তফা।এ ছাড়া নগর উত্তরের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়: রেজাউল করীম