চীনে এআই চিপের বাজারে এনভিডিয়ার আধিপত্য কমছে, এগোচ্ছে হুয়াওয়ে
চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার অংশীদারত্ব কমেছে। বিপরীতে, চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের বাজার হিস্যা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং দেশীয় প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে বেইজিংয়ের নীতির কারণে বাজারে এই পরিবর্তন ঘটছে
বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইডিসি (IDC)।রয়টার্সের দেখা আইডিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে
চীনের ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত এআই চিপের বাজারে এনভিডিয়ার অংশীদারত্ব কমে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি চীনে ৬ লাখ
৭৮ হাজার এআই অ্যাকসেলারেটর চিপ সরবরাহ করেছে, যা আগের
বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ
কম।এআই অ্যাকসেলারেটর হলো বিশেষ ধরনের চিপ, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল
প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়।অন্যদিকে, একই সময়ে হুয়াওয়ে ৫ লাখ
৭২ হাজার এআই অ্যাকসেলারেটর সরবরাহ করেছে। আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ ছিল ৩ লাখের
বেশি। এর ফলে চীনের এআই চিপের বাজারে হুয়াওয়ের অংশীদারত্ব বেড়ে ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় চাপে এনভিডিয়াবিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে এনভিডিয়ার উন্নত এআই চিপ বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ রয়েছে। ওয়াশিংটনের এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনে কোন ধরনের চিপ সরবরাহ করা যাবে, তা সীমিত
হয়ে পড়েছে।অন্যদিকে, চীনের সরকার দেশীয় প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমদানির উপযোগী এনভিডিয়া চিপ কেনার ক্ষেত্রেও অনুমোদন নিতে হচ্ছে।এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণনীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এ নীতির
কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান চীনের ৫ হাজার
কোটি ডলারের এআই চিপের বাজার হুয়াওয়ের কাছে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।তবে চীনের বাজারে এনভিডিয়ার ৩৪ শতাংশ
অংশীদারত্বের মধ্যে কোন কোন পণ্যের হিসাব রয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি
আইডিসি। চীনে রপ্তানি নিষিদ্ধ বি২০০ ও বি৩০০-এর মতো উন্নত চিপের হিসাব এতে রয়েছে কি না,
তা-ও জানা যায়নি। এসব চিপ চোরাচালানের মাধ্যমে চীনে প্রবেশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ বিষয়ে
মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও এনভিডিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।চীনা চিপ নির্মাতাদের বাজার সম্প্রসারণএনভিডিয়া ও হুয়াওয়ের বাইরে
চীনের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এআই চিপের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, আলিবাবার চিপ নকশা বিভাগ টি-হেডের
বাজার অংশীদারত্ব ৭ শতাংশ। এরপর
ক্যামব্রিকনের ৫ শতাংশ, বাইদুর কুনলুনশিনের ৪ শতাংশ
এবং হাইগনের ৩ শতাংশ।আইডিসির পর্যবেক্ষণে থাকা চীনের ১১টি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টির সরবরাহ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে
চীনে মোট এআই অ্যাকসেলারেটর সরবরাহ হয়েছে ২০ লাখ
৮ হাজার ইউনিট।এ সময়ে
এআই মডেল প্রশিক্ষণে বহুল ব্যবহৃত গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) সরবরাহ ২৬ শতাংশ
কমে ৯ লাখ ৯১ হাজার
ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। মূল ভূখণ্ড চীনে বিক্রির অনুমতি রয়েছে—এমন চিপের সরবরাহ সীমিত থাকায় জিপিইউয়ের বাজারে এই পতন
হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিসি।অন্যদিকে, নির্দিষ্ট এআই কাজের জন্য তৈরি অন্যান্য অ্যাকসেলারেটর চিপের সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ
বেড়ে ১০ লাখ ১৬ হাজার
ইউনিটে পৌঁছেছে। ফলে প্রথমবারের মতো সরবরাহের সংখ্যায় জিপিইউকে ছাড়িয়ে গেছে এই শ্রেণির চিপ।চিপের পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থার সক্ষমতায় গুরুত্বআইডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিপিইউ ছাড়া অন্যান্য এআই চিপের বাজারের ৯৫ শতাংশ
নিয়ন্ত্রণ করছে হুয়াওয়ে, টি-হেড,
কুনলুনশিন ও ক্যামব্রিকন। সরকারি সংস্থা, ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং টেলিযোগাযোগ সেবাদাতাদের মধ্যে এসব চিপের ব্যবহার বাড়ছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই চিপের বাজারে প্রতিযোগিতার ধরনও বদলাচ্ছে। এখন শুধু একটি চিপের কর্মক্ষমতা নয়, বরং
একাধিক চিপ একসঙ্গে যুক্ত করে বড় কম্পিউটিং ব্যবস্থা পরিচালনার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে
উঠছে।এ প্রবণতা চীনের
এআই অবকাঠামো নির্মাণে দেশীয় চিপের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণনীতি বিশ্বের অন্যতম বড় এআই
বাজারে এনভিডিয়ার অবস্থানকে চাপে ফেলছে।সূত্র: রয়টার্স