গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি
বেতন
বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে
চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন
শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা
দেখা দিয়েছে। সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
আসে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার
বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি
পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে
কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার
সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া,
কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ
এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক
অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ
ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সড়ক
থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ
সময় কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের
খবর পাওয়া যায়নি।গাজীপুর
শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ
সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ
দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি
এলাকায় তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের সরিয়ে
দেয়।তিনি
আরও জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর
পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি
কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা
হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা
পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।এর
আগে সকাল ৮টার কিছু
আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে
দেন। এ ছাড়া জেলার
অন্য কোথাও বড় ধরনের সড়ক
অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে
জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে
শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে
প্রশাসন। গত সোমবার জেলায়
১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার তা
বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা
হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে
২৫ জন করা হয়েছে।
তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল ও দায়িত্ব
পালন করছেন।জেলা
প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল)
মো. আরিফ হোসাঈন এ
তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা
কয়েকটি পোশাক কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় চালু হয়েছে বলে
জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তবে কতটি কারখানা
খুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট
তথ্য দিতে পারেননি তিনি।