ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
পদোন্নতি, নিয়োগ ও সম্পদ অর্জন সহ নানা অভিযোগ সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে

পদোন্নতি, নিয়োগ ও সম্পদ অর্জন সহ নানা অভিযোগ সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই সাবেক আমলাকে ঘিরে এখন তাঁর পদোন্নতির প্রক্রিয়া, কথিত প্রভাবশালী বলয়ের কার্যক্রম, সম্পদ অর্জন এবং রাজধানীর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে ওঠে। এই বলয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার, বদলি ও পদায়নে সুবিধা আদায়, আত্মীয়স্বজনকে প্রশাসনিক সুযোগ পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে কথিত এই বলয়ের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, সরকারি নথি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।এক দিনে চার পদোন্নতি, কীভাবে সচিবঅভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে বিসিএস ক্যাডারে যোগ দেন। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনিক উত্থান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।অভিযোগকারীদের দাবি, নিজেকে বৈষম্যের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে পদোন্নতির সুযোগ নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে সভা ও মিলনমেলার আয়োজন করতেন।পদোন্নতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট আদেশের তারিখ, পদ, গ্রেড, পদোন্নতির ভিত্তি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই দিনে চারটি পদোন্নতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ তোফায়েলকে ঘিরে অভিযোগনজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরেও অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, তোফায়েলকে নজরুল ইসলামের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এবং সিন্ডিকেটের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।অভিযোগকারীদের দাবি, আর্টসের শিক্ষার্থী হয়েও তোফায়েল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানকে নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বুড়িচং উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে নিজ গ্রাম যদুপুরে রাতের বেলায় মদ ও গাঁজার আসর বসাতেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জামায়াত-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এ ছাড়া তোফায়েল ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং পরে মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে—এমন অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।শিক্ষা ভবনের কর্মচারী কবিরের পদায়ন নিয়ে প্রশ্নশিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনের সময়ে ঘুষের বিনিময়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত তাঁর ভগ্নিপতি ইকবালের সহায়তায় কবির আহমেদ সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হন।এ ছাড়া নজরুল ইসলামের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদকে নিজ উপজেলা বুড়িচংয়ে পদায়নের জন্য মান্নান নামের আরেক কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কবির আহমেদের আত্মীয়স্বজনদেরও বিভিন্ন সুবিধাজনক পদে পদায়ন করানোর অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।এসব অভিযোগ যাচাই করতে নিয়োগ ও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ, চাকরির যোগ্যতা, পদ সৃষ্টির অনুমোদন এবং বদলি-পদায়নের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।তুষারধারায় ২৪ কাঠা জমিতে ভবনরাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে ২৪ কাঠা জমির ওপর নজরুল ইসলামের একটি বহুতল ভবন রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সেটব্যাকসহ প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমোদনের শর্ত পূরণ এবং অকুপেন্সি সনদ গ্রহণের আগেই ভবনটিতে বসবাস শুরু করার অভিযোগও রয়েছে।ভবনটির মালিকানা, অনুমোদিত ও সংশোধিত নকশা, নির্মাণকাজ পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদ যাচাই ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারে রাজউকের অভিযানের পরও নির্মাণের অভিযোগতুষারধারা আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সেক্টরে বায়তুশ শরীয়ত মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২ সালে রাজউক ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে কিছু অংশ ভেঙে দেয় এবং মুচলেকা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজ আবার সম্পন্ন করা হয় এবং অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই সেখানে বসবাস শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে রাজউকের অভিযানসংক্রান্ত নথি, মুচলেকা, নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ, পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ভবনটির বর্তমান অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্টে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান-ফ্ল্যাটতুষারধারা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সেক্টরের ‘মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট’ নিয়েও মালিকানা বিরোধ ও নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর আবু সেলিম ও মো. শাহাজাহান ২০১৭ সাল থেকে ভবনটির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্মাণ অনিয়ম নিয়ে রাজউক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়ে আসছেন।তাঁদের অভিযোগ, ২০১৯ ও ২০২২ সালে দুদকে করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা ও মুচলেকা আদায় করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া একটি ফ্ল্যাট বিক্রির পর কাগজপত্র পরিবর্তনের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুদকের অভিযোগের মূল কপি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন, জরিমানা ও মুচলেকার নথি, অনুমোদিত নকশা এবং ফ্ল্যাটের দলিল পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দনজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বুড়িচংয়ের যদুপুর গ্রামের ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।অভিযোগ অনুযায়ী, ওমর ফারুক পলিটেকনিক্যালের কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট একটি পদে কর্মরত। তাঁকে বরাদ্দ দেওয়া আবাসনটি নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদ, চাকরির ধরন, যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে আবেদন, বরাদ্দপত্র এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।সম্পদ অর্জন ও নিয়োগ নিয়ে আরও অভিযোগঅভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যদুপুর গ্রামের রফিক, তোফায়েল, মুমিন ও হাবিবকে নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁদের দাবি, প্রায় চার দশক আগে নোয়াখালী থেকে আসা এই পরিবারটি পরবর্তী সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। তবে সম্পদের পরিমাণ ও অর্জনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে জমির দলিল, আয়কর নথি, কোম্পানির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।অভিযোগে বলা হয়েছে, মুমিন ঘুষের বিনিময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের পদ পেয়েছেন। অল্প সময়ে আদাবর, উত্তরা, বসুন্ধরা, কুমিল্লা, দৌলতপুর ও বুড়িচংয়ে প্লটের পাশাপাশি স্কুল ও হাসপাতালের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া মুমিনের আত্মীয় দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে সোহেল রানাকে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সিস্টেম অ্যানালিস্ট শাহিনের মাধ্যমে নিয়োগ-সংক্রান্ত জালিয়াতি করা হয়। এসব অভিযোগের পক্ষে নিয়োগ নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে কর্মরত কাজী মামনের বিরুদ্ধেও একাধিক ভবনের ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ দখল, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজের তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। এসব দাবি যাচাই করতে তাঁর সম্পদ অর্জনের উৎস, ফ্ল্যাটের দলিল, চাকরি থেকে প্রাপ্ত আয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক পরীক্ষা করা প্রয়োজন।ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিঅভিযোগকারীরা নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন। তালিকায় রয়েছে কনটেক ডেভেলপার, ওয়নল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যার।অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি ভবন নির্মাণ, সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তুষারধারা আবাসিক এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন আড়ালে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তবে সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলা যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, প্রকৃত মালিকানা, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ভবনের অনুমোদন আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিঅভিযোগকারীরা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা ভবনগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।তাঁদের দাবি, সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের পদোন্নতি-সংক্রান্ত আদেশ, তুষারধারার ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা, অকুপেন্সি সনদ, রাজউকের অভিযানসংক্রান্ত নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদায়নের বৈধতা এবং সম্পদ অর্জনের উৎস যাচাই করা হোক।একজন সরকারি কর্মকর্তার পদোন্নতি, সম্পদ অর্জন কিংবা কোনো ভবনের মালিক হওয়া নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ নয়। তবে সরকারি পদে থেকে প্রভাব খাটানো, বিধিবহির্ভূত নির্মাণে সহায়তা, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা নিয়োগ ও বদলি-পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পর্যালোচনা, অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সমমর্যাদার উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে। মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন যুক্ত হওয়া এবং একজনের বিদায়ের পর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে। এর আগে শেখ হাসিনার সরকারের এক পর্যায়ে এ সংখ্যা ছিল ৭০ জন।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ। কেউ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, আবার কেউ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বসে দায়িত্ব পালন করছেন।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।কারা কোন দায়িত্বেবর্তমান সরকারে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও জহির উদ্দিন স্বপন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম, ড. মাহদী আমিন, রেহান আসিফ আসাদ ও ডা. জাহেদ-উর রহমান।এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিজন কান্তি সরকার, ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও তানভীর গনি। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্বে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।সচিব পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে রয়েছেন রাশেদ খান, সাইমুম পারভেজ, শাকিরুল ইসলাম খান ও গিয়াস উদ্দিন রিমন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় যুববিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ।মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্বে উপদেষ্টারাপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্বে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে কার্যালয়ে যেতে না পারলেও তাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে দপ্তর ও প্রয়োজনীয় লোকবল রয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়াদি দেখভালের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় তদারক করছেন। সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তাঁর দপ্তর প্রস্তুতের কাজ চলছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বের পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দপ্তর বরাদ্দ রয়েছে।সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত বিষয়াদি তদারক করছেন। তিনি সচিবালয়ের নতুন ১ নম্বর ভবনে অফিস করেন। অন্যদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দপ্তরে কাজ করছেন।সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছেন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ড. মাহদী আমিন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করছেন।রেহান আসিফ আসাদ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আর ডা. জাহেদ-উর রহমান পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।বিশেষ সহকারীদের দায়িত্ব কীপ্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিজন কান্তি সরকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভাল করছেন। তানভীর গনি সরকারের বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিষয় তদারক করছেন।ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. শাকিরুল ইসলাম খান এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দায়িত্বে রয়েছেন ড. সাইমুম পারভেজ।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে কাজ করছেন রাশেদ খান। যুব কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ। সর্বশেষ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত দায়িত্ব পেয়েছেন গিয়াস উদ্দিন রিমন।মন্ত্রিসভার আকার ৫১ জনসরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হয়েছে। সম্প্রতি চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমান প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির।এই পরিবর্তনের পর মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাইরে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।অতীতের সরকারের চিত্র২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। সেই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা ছিল ৬৪ জন।২০০৯ সালে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার আকার বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে মন্ত্রিসভার আকার ৬১ জনে পৌঁছায়। পরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসে। ওই সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা এক পর্যায়ে ৭০ জন হয়েছিল।বর্তমান সরকারের ৭১ জনের সংখ্যা সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের ক্ষমতা কতটুকুসংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ৩বি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও বিশেষায়িত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন এবং তাঁর নির্দেশে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নিতে পারেন। বিশেষ সহকারীরা প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে সহায়তা, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং কার্যক্রম তদারক করেন।তবে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা সাধারণভাবে সরকারি ফাইল অনুমোদনের ক্ষমতা রাখেন না। তাঁরা মূলত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করেন।সরকারের দাবি, বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোই এসব নিয়োগের উদ্দেশ্য। তবে এতসংখ্যক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব বণ্টন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং তাঁদের কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

প্রশাসনে গতি নেই, দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে

নির্বাচিত সরকারের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও জনপ্রশাসনে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়হীনতা, কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে অনীহা এবং ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চললেও মধ্যম ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে স্থবিরতা রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাব এবং সরকারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে প্রশাসনের এই পরিস্থিতির পেছনে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পদায়ন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।প্রশাসন সাজানো নিয়ে প্রশ্নজনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত প্রশাসনের সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, আগের সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক কর্মকর্তা এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বহাল রয়েছেন। ফলে প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই প্রশাসন পুনর্গঠনে বিতর্কের মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ধারার কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের মধ্যে সরকারের প্রতি প্রত্যাশিত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়নি। ফলে অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছেন।অন্যদিকে, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পদোন্নতি ও পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখনো প্রত্যাশিত সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কানিজ মওলাসহ কয়েকজন সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার ঘটনাও এ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দাবি, এতে প্রশাসনে দক্ষতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।নিয়োগে বিতর্ক, মাঠ প্রশাসনেও অসন্তোষসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হলেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে ৬১ জেলার প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী বাদ পড়েন। বাদ পড়া প্রার্থীদের কারও কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সরকারের নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, এ ধরনের প্রতিবেদন সরকারের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক কয়েকজন আমলা। তাঁদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার সুযোগে আগের প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে গেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে বদলায়নি পরিস্থিতিসরকার পরিবর্তনের পরও সরকারি দপ্তরে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানি কমেনি বলে অভিযোগ করছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের ভাষ্য, ফাইল আটকে রেখে অর্থ দাবি এবং সেবা নিতে গিয়ে বাড়তি টাকা দেওয়ার অভিযোগ এখনো রয়েছে। সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস, বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিসের মতো জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের ভোগান্তির কথা বেশি শোনা যাচ্ছে।দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ তথ্য তুলে ধরেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের সঙ্গে আমলাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।এদিকে, শাহেদ শরীফ আহমেদের চালু করা ‘ঘুষ ডট সাইটে’ গত বুধবার পর্যন্ত ১৯ হাজার ২৫৮টি ঘুষের অভিযোগ জমা পড়েছে। ওয়েবসাইটটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি করা ঘুষের মোট পরিমাণ ৫৫২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সবগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ মিয়ার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি ভঙ্গুর প্রশাসন পেয়েছিল। সেই প্রশাসন পুনর্গঠনে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ঘাটতি ছিল। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি ও অবসরে পাঠালেও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আগের সরকারের সময়কার অনেক কর্মকর্তা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্নপ্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি একযোগে ১২টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদেও সরকারদলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব নিয়োগ প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সরকারেরপ্রশাসনের শৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি বলেছেন, পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা সহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সংশোধনের সুযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন।জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানিয়েছেন, বিগত সরকারের শাসন দীর্ঘায়িত করতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনের ঘটনা নজরে এলে সাময়িক বরখাস্তসহ যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা করা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে (এসিআর) সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য বিবেচনা করা হবে। সরকারের সামনে এখন প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সরকারি সেবায় ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ কমানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন না এলে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও জনসেবার মান উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হতে পারে।

প্রশাসনে গতি নেই, দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে

২৭৭ কর্মকর্তা উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন

সিনিয়র সহকারী সচিব ও সমপদমর্যাদার ২৭৭ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। সোমবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সরকারের উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপসচিব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতির আদেশে উল্লেখ করা কর্মস্থলের পরিবর্তন হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বর্তমানে যে দপ্তর বা কর্মস্থলে কর্মরত আছেন, তার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দিতে হবে।কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে বিরূপ বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী পদোন্নতির আদেশ সংশোধন বা বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে সরাসরি অথবা অনলাইনে sa1@mopa.gov.bd ঠিকানায় পাঠাতে পারবেন।জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

২৭৭ কর্মকর্তা উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব মো. সেলিম খান

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মো. সেলিম খান। বুধবার তিনি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যোগদান করেন।এর আগে ১১ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সেলিম খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়।সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মো. সেলিম খান বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা।দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মাঠ প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন দায়িত্বে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব মো. সেলিম খান

গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ঢাকা, ৪ আগস্ট: গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথির বরাতে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে বদলি, পদায়ন ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। পাশাপাশি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, তিনি আত্মীয়স্বজনের নামে বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থ গড়ে তুলেছেন।অভিযোগে হবিগঞ্জ, ভোলা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সাভারে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সরকারি নির্মাণ প্রকল্প ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে, তার পৃথক থাকা স্ত্রীর নামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যেও তার ব্যক্তিগত আচরণ ও সম্পদের মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ