ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত আবদুল্লাহ

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত আবদুল্লাহ

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বিএনপির মুখে জুলাই থাকলেও অন্তরে রয়েছে আওয়ামী লীগ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলটির কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডের এই দ্বৈত অবস্থান দেশজুড়ে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।মঙ্গলবার বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপিতে দুটি ধারা দেখা যাচ্ছে। একটি ধারা গত দেড় থেকে দুই দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হয়েছে। অন্য ধারাটি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছে।হাসনাতের অভিযোগ, এই সুযোগসন্ধানী অংশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জুলাই অভ্যুত্থানের মামলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ‘মামলা বাণিজ্য’ চালাচ্ছে।মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে না জানিয়ে দুই থেকে আড়াই শ ব্যক্তিকে আসামি করে গণহারে মামলা করা হচ্ছে। পরে আসামিপক্ষের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত খুনি ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলাগুলোর কতটিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। হাসনাতের দাবি, অভিযোগপত্র দেওয়া হলে মামলা বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে—এ কারণেই মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখল এবং সারের ডিলারশিপের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে একটি পক্ষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তা না হলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আঁতাতের দায় বিএনপিকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।