ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করা ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জনগণ যেন নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও জানিয়েছেন তিনি।সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে কিছু জটিলতা থাকায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর তা সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান যতদিন বহাল থাকবে, ততদিন প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রস্তাব ও নাম এখনো পাওয়া যায়নি।তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা জুলাই সনদের পথ ধরেই এগিয়ে যেতে চাই।’আইনমন্ত্রী বলেন, অনেকে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে যা কিছুই করা হোক না কেন, বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই এগোতে হবে। কারণ এই সংবিধান এখনো কার্যকর রয়েছে।সংবিধান সংস্কারে বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলে তা গ্রহণ করা হবে। সংবিধান ও সংস্কারের বিষয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার ‘ফ্যাসিবাদের তৈরি পুরোনো পথে’ হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেছেন, সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নেওয়া হলে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরালো করতে বাধ্য হবে।শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সবুজবাগ-মুগদা জোনের রুকন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী গত ছয় মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে দলীয়করণ করেছে, তা পতিত আওয়ামী লীগ সরকারকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যে দলীয়করণ করেছে, বিএনপি ছয় মাসে তার চেয়ে কম করেনি।তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও ক্ষমতা গ্রহণের পর ‘সবার আগে বিএনপি’ নীতিতে চলছে। রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ-মাদ্রাসার মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানেও দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে, যদি সরকার সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নেয়।শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গণভোটে জনগণের দেওয়া গণরায় মেনে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এর সমাধান রাজপথেই হবে।তিনি বলেন, এজন্য যা যা করণীয়, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তা করবে। জনগণের অধিকার আদায়ে অতীতের মতো জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা রাখবে।এ জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।জামায়াতে ইসলামীর সবুজবাগ-মুগদা জোনের পরিচালক ড. মোবারক হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিচালক মনির বিন আনোয়ারের সঞ্চালনায় রুকন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে

বিএনপি সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী: খেলাফত মজলিস

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী বলে মন্তব্য করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতারা বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাপ্তাহিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। আমীরে খেলাফত মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে নেতারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের সহায়তা অব্যাহত রাখা, প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ এবং কৃষিঋণ মওকুফের কিছু কর্মসূচি সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে তাঁদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার এখনো আশু নিশ্চয়তা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।খেলাফত মজলিসের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দলীয় ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, গত ছয় মাসে সরকারের ব্যর্থতার দিকই বেশি দৃশ্যমান হয়েছে।সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিবৈঠকে বিএনপির সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের গণরায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করতে চায়।খেলাফত মজলিসের নেতাদের মতে, জনগণ এমন সংবিধান সংস্কার চায়, যার মাধ্যমে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করা যায়। এ জন্য জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।তাঁরা বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে এ কাজ করা সম্ভব। এই পরিষদের সংবিধানের মৌলিক শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের গাঠনিক ক্ষমতা থাকা উচিত বলেও তাঁরা মত দেন।জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।একই সঙ্গে জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফেজ মাওলানা শায়খুল ইসলাম, যুববিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিনসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।

বিএনপি সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী: খেলাফত মজলিস

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনের

জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে হওয়া ঐকমত্য থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ অলংকারিক হলেও জাতীয় সংকট ও জাতীয় নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি জাতীয় ঐক্য ও আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিবের ভাষ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। এসব বিষয়ে বিএনপির কোনো নোট অব ডিসেন্টও ছিল না। জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেছিলেন। তা না হওয়ায় এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া সমীচীন মনে করছেন না তাঁরা।তিনি বলেন, জুলাই সনদের ১০ নম্বর ধারায় আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হয়েছিল। একইভাবে ২৮ নম্বর ধারায় অর্থ বিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়েও কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না।গাজী আতাউর রহমানের অভিযোগ, বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া ওই দুটি বিষয়ই মানা হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা আগে থেকেই নিশ্চিত। তাহলে এ ধরনের নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা কী—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান যাঁর নাম ঘোষণা করবেন, তাঁকেই বঙ্গভবনে নিয়ে গিয়ে দায়িত্ব দিলেই হতো। তাঁর মতে, বর্তমান প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন, সংসদ সদস্য ও সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এতে জনগণের অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়ে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান গাজী আতাউর রহমান।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনের

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পর এখন প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বাস্তব ফলাফল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণের কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের সময় এসেছে। তাঁর দাবি, এই সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা ও বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি দেখা গেছে।জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেইগণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেটের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি।তাঁর দাবি, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি।জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোর কোনোটি গত ছয় মাসে বাস্তবায়িত হয়নি।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটজ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে পড়ছে।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানায় প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে এবং প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সরকারি তথ্য উদ্বেগ তৈরি করছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য উল্লেখ করে তিনি মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে।দ্রব্যমূল্য ও ব্যাংকিং খাতদ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছে জামায়াত। দলটির হিসাবে, জুন ২০২৬-এ দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো বেশি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়ছে এবং প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট ও আমানতকারীদের আস্থাহীনতা কাটাতে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।পররাষ্ট্রনীতি ও রোহিঙ্গা সংকটপররাষ্ট্রনীতিতেও সরকারের কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন ঘোষণা করা হলেও ছয় মাসে এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।সরকারের প্রতি জামায়াতের আট দফাসংবাদ সম্মেলনে সরকারকে আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, অস্বাভাবিক মুনাফা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা এবং দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী সময়ে সরকার দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

১৮০ দিনেও আশাজাগানিয়া কিছু করতে পারেনি সরকার

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর বহু প্রত্যাশা নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া সরকার ১৮০ দিন পার হলেও আশাজাগানিয়া তেমন কিছু করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।তিনি বলেন, বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। একইভাবে উচ্চকক্ষ গঠনের বাধ্যতামূলক সময়সীমাও মানা হয়নি। এটি জনরায়ের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা ও অবজ্ঞা।শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ভাটারায় আস-সাঈদ মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের শূরা অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গাজী আতাউর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর বহু প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা ও দায় নিয়েই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। কিন্তু ১৮০ দিন অতিক্রান্ত হলেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি।তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা উপেক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়েও নির্ধারিত বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। তাঁর মতে, এসব ঘটনা জনরায়ের প্রতি সরকারের অবজ্ঞার প্রকাশ।শূরা অধিবেশনে যারা ছিলেনঢাকা মহানগর উত্তর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন।অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী এবং কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার।এ ছাড়া বক্তব্য দেন মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম, মুফতি অলিউল্লাহ, অ্যাডভোকেট মোস্তফা আল মামুন মনির, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, মুফতি মাছউদুর রহমান, শ্রমিক নেতা আলহাজ আমীরুল হক, মাহবুব ইসলাম, যুব নেতা হাফেজ ইকবাল, মুফতি নিজাম উদ্দিন, চিকিৎসক মো. মুজিবুর রহমান, মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) আলহাজ আমিনুল হক তালুকদার, আলহাজ আলাউদ্দিন, মুফতি মুস্তাকিম বিল্লাহ, রাকিবুল ইসলাম ও মুহাম্মদ নাজমুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

১৮০ দিনেও আশাজাগানিয়া কিছু করতে পারেনি সরকার