ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এ আমন্ত্রণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে। এ জন্য দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। পাকিস্তান থেকে তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আগামী অক্টোবরে ঢাকায় একটি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে। একই ধরনের বাণিজ্য মেলা পাকিস্তানেও বাংলাদেশের তৈরি পণ্য নিয়ে আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের আগ্রহের কথাও জানান হাইকমিশনার।ঢাকা ও করাচির মধ্যে চলতি বছর সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি তুলে ধরে ইমরান হায়দার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচলের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এবং ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন।পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তাঁর দেশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ ও জোরদারের কথাও বলেন তিনি।সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশে তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁকে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাচ্ছেন না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশকে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে ঢাকা সন্তুষ্ট নয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের অষ্টাদশতম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত।গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। আনন্দবাজার পত্রিকা যাই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থের কথা ভাবব।’ বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেওয়ার মতো কিছু নেই।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাচ্ছেন না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।শনিবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে ‘টুয়ার্ডস অ্যা স্ট্রংগার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পার্টনারশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর গুরুত্বসরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করছেন।দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান।মন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে পরিণত করা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রীর সফরকে গুরুত্ব দিলেন হাইকমিশনারঅনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহুদা ওথম্যান দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মো. ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি।রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে আলোচনাবৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি এবং দেশটিতে থাকা অনিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিবন্ধনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।এ ছাড়া বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়েও আলোচনা হয়। আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়ার আগ্রহের কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়।এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বাড়বে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতাবৈঠকে জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।এ ছাড়া খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদন, ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ খাত এবং হালাল ফুড খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে সন্তোষবৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তোলেন দেশটির হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান। সফরটি সফল হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।পরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী।বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

ইছামতীর তীরে দুই শত বছরের ইতিহাসের সাক্ষী ঝিটকা পোদ্দারবাড়ি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা। ইছামতী নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই জনপদের রয়েছে দীর্ঘ বাণিজ্যিক ও সামাজিক ইতিহাস। ব্রিটিশ আমল থেকেই নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য পরিচিত ছিল ঝিটকা। কৃষিপণ্য ও মসলার কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হাট-বাজার একসময় এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়।এই বাণিজ্যিক জনপদের ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো ঝিটকা পোদ্দারবাড়ি। প্রাসাদসদৃশ ভবন, কাঠের ঘর, বড় পুকুর, শানবাঁধানো ঘাট, বাংলো ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নিয়ে একসময় গড়ে উঠেছিল পোদ্দার পরিবারের বিশাল আবাসিক পরিসর। শুধু স্থাপত্য নয়, দেশভাগ, সরকারি অধিগ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতির নানা স্মৃতিও ধারণ করে আছে এই বাড়ি।ইছামতী ঘিরে ঝিটকার বাণিজ্যঝিটকার ইতিহাসের সঙ্গে ইছামতী নদীর সম্পর্ক গভীর। একসময় এই নদীপথে কৃষিপণ্য ও মসলা পরিবহন করা হতো। ধনে, পেঁয়াজ ও রসুনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নৌপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হতো। কলকাতার সঙ্গেও ছিল বাণিজ্যিক যোগাযোগ।এই নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ভর করেই ঝিটকা হাট ও বাজারের প্রসার ঘটে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয় স্থানীয় ব্যবসায়ী পরিবারগুলোর উত্থানের। সেই সময়ের সমৃদ্ধ ব্যবসায়ী পরিবারগুলোর অন্যতম ছিল পোদ্দার পরিবার।ধনের ব্যবসা থেকে প্রাসাদ নির্মাণপ্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে পোদ্দার পরিবারের সদস্যরা ধনের ব্যবসায় বড় পরিসরে যুক্ত হন। যোগেশ্বর মোহন পোদ্দার ও রায়চরণ মোহন পোদ্দারকে এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত দুই সহোদর হিসেবে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা নৌপথে ধনে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতেন।ব্যবসায়িক সাফল্যের ফলে পরিবারটি স্থানীয়ভাবে সম্পদশালী ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে স্থানীয় ঝিকুটিয়া মৌজায় প্রায় সাত একর জমি কেনা হয়। এর মধ্যে ইছামতী নদীর পাশে প্রায় ২ দশমিক ৭৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে মূল প্রাসাদসদৃশ বাড়ি।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির পূর্ব অংশে যোগেশ্বর মোহন পোদ্দার এবং পশ্চিম অংশে রায়চরণ মোহন পোদ্দার পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। সময়ের সঙ্গে পুরো স্থাপনাটি মানুষের কাছে ‘ঝিটকা পোদ্দারবাড়ি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।বংশপরিচয়ে কিছুটা ভিন্নতাপোদ্দার পরিবারের বংশপরিচয় নিয়ে স্থানীয় ও প্রকাশিত সূত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় মহারাজ পোদ্দারকে পরিবারের মূল কর্ণধার হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সন্তান রাম মোহন ও আনন্দ মোহনের কথা বলা হয়েছে। আবার ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আনন্দ মোহন পোদ্দারের দুই সন্তান হিসেবে যোগেশ্বর মোহন ও রায়চরণ মোহনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।দেশভাগের পর পরিবারের কোন শাখা ভারতে চলে যায় এবং কোন শাখা ঝিটকায় থেকে যায়, এ নিয়েও প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য দলিল ছাড়া একটি নির্দিষ্ট বংশতালিকা তৈরি করা কঠিন। তবে বিভিন্ন সূত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট—দেশভাগের পর পোদ্দার পরিবারের একটি অংশ ভারতে চলে যায় এবং অন্য একটি অংশের সঙ্গে ঝিটকার সম্পর্ক বজায় থাকে।পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে রথীন্দ্রনাথ পোদ্দারের নামও পাওয়া যায়। একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে রায়চরণ পোদ্দারের নাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।সাত একরের বিস্তৃত আবাসিক পরিসরঝিটকা পোদ্দারবাড়ি মূলত একটি ভবনের নাম নয়। প্রায় সাত একর জমির ওপর গড়ে ওঠা পুরো আবাসিক পরিসরটিতে ছিল একাধিক স্থাপনা। বড় পুকুর, শানবাঁধানো ঘাট, কৃষিজমি, কাঠের ঘর, আধাপাকা ভবন, বাংলো ও প্রাসাদসদৃশ একাধিক ভবন মিলে এটি ছিল একটি বিস্তৃত পারিবারিক কমপ্লেক্স।বাড়ির দক্ষিণ ও উত্তর পাশে বড় পুকুর ছিল বলে বিভিন্ন স্থানীয় বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। দক্ষিণ দিকের পুকুরের পাড়ে ছিল শানবাঁধানো ঘাট। পূর্ব পাশে ছিল কৃষিজমি। পুরোনো গাছপালা, পুকুর ও স্থাপনাগুলো মিলিয়ে একসময় পুরো এলাকাটি ছিল সবুজ ও নান্দনিক।কাঠের ঘরে বসত বিচার–সালিসপোদ্দারবাড়ির অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থাপনা একটি বড় চৌচালা কাঠের ঘর। পুকুরের ঘাটের কাছে অবস্থিত এই ঘরের ছাউনি টিনের হলেও চারপাশের দেয়াল কাঠের। রয়েছে কাঠের বারান্দাও।স্থানীয় বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এই ঘরে বিচার–সালিস ও সামাজিক বৈঠক বসত। অর্থাৎ পোদ্দারবাড়ি শুধু একটি পরিবারের আবাসস্থল ছিল না; স্থানীয় সামাজিক জীবনেও এর ভূমিকা ছিল।পরবর্তীকালে ঐতিহাসিক এই ঘরটি সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এখানে বাল্লা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।তিন প্রাসাদ ও পুরোনো স্থাপত্যকাঠের ঘরের উত্তর দিকে ছিল একটি বড় আধাপাকা স্থাপনা। এর পেছনে ছিল দক্ষিণ, পশ্চিম ও পূর্বমুখী তিনটি কারুকার্যখচিত একতলা প্রাসাদ। প্রতিটি প্রাসাদে চার থেকে পাঁচটি বড় কক্ষ ছিল বলে স্থানীয় বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।সময় ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব ভবনের অনেকটাই এখন জরাজীর্ণ। দেয়াল ও কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নষ্ট হয়েছে পুরোনো কারুকাজ। ফলে একসময়কার জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপত্য এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিও জড়িয়ে আছেঝিটকা পোদ্দারবাড়ির ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে এই বাড়িতে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। আগস্ট থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে ক্যাম্প পরিচালিত হয় বলে স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।ফলে বাড়িটির গুরুত্ব শুধু পুরোনো স্থাপত্য বা একটি ব্যবসায়ী পরিবারের ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।ঘুড়ি উৎসব ও মেলার স্মৃতিএকসময় পোদ্দারবাড়ি ছিল লোকজ সংস্কৃতিরও একটি কেন্দ্র। ১৯৯৮ সাল থেকে রঞ্জন সাহার উদ্যোগে এখানে ঘুড়ি উৎসব ও মেলার আয়োজন করা হতো। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই আয়োজনে অংশ নিতে আসতেন।রঞ্জন সাহা ছিলেন রায়চরণ পোদ্দারের নাতিনের স্বামী। তাঁর উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে এই উৎসব চললেও ২০১৮ সালে তাঁর মৃত্যুর পর আয়োজনটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।দেশভাগ ও সরকারি অধিগ্রহণ১৯৪৭ সালের দেশভাগ পোদ্দার পরিবারের ইতিহাসেও পরিবর্তন আনে। পরিবারের একটি অংশ ভারতে চলে যাওয়ার পর ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ভারতে চলে যাওয়া/পরিত্যক্ত অংশের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে বলে প্রকাশিত স্থানীয় তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।১৯৬৭ সালে বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি ঘরে সার্কেল অফিস (রাজস্ব) চালু করা হয়। পরবর্তীকালে সরকারি ব্যবহারের ধারাবাহিকতায় সেখানে ভূমি অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে।একসময় যে স্থাপনা ছিল একটি পরিবারের আবাস ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র, তার একটি অংশ এভাবেই সরকারি প্রশাসনিক কাজে যুক্ত হয়ে যায়।অযত্নে হারাচ্ছে ঐতিহ্যবর্তমানে পোদ্দারবাড়ির সবচেয়ে বড় সংকট অযত্ন ও দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাব। পুরোনো ভবনগুলোর দেয়াল ও কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে কারুকাজ। অনেক স্থাপনা ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে।তবু বাড়িটির পুকুর, পুরোনো গাছপালা, কাঠের ঘর, প্রাসাদসদৃশ ভবন ও খোলা পরিবেশ এখনও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসেন। বিভিন্ন সময় বাড়িটিতে শুটিং ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও হয়েছে।সংরক্ষণে প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ঝিটকা পোদ্দারবাড়ি সংরক্ষণে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। প্রথম ধাপে পুরো স্থাপনার স্থাপত্যগত জরিপ ও নথিভুক্তকরণ করা যেতে পারে। এরপর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে পুরোনো ভবন, কাঠের ঘর, পুকুর ও ঘাট সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বাড়িটির সম্পর্ক, পোদ্দার পরিবারের ব্যবসায়িক ইতিহাস এবং ঘুড়ি উৎসবের মতো লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরে একটি তথ্যকেন্দ্র বা ছোট প্রদর্শনীকেন্দ্রও গড়ে তোলা যেতে পারে।স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়িটির পরিত্যক্ত ভবন সংস্কার এবং স্থাপনাটিকে ঘিরে পরিকল্পনার কথা বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে উন্নয়নের সম্ভাবনাও রয়েছে।তবে পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি মূল স্থাপনার ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।একটি বাড়িতে একটি জনপদের ইতিহাসঝিটকা পোদ্দারবাড়ি শুধু একটি পুরোনো বাড়ি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইছামতী নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য, ধনের ব্যবসা, কলকাতার সঙ্গে নৌ-বাণিজ্য, একটি ব্যবসায়ী পরিবারের উত্থান, দেশভাগ, সরকারি অধিগ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতির ইতিহাস।প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো এই স্থাপনার অনেক কিছুই আজ ক্ষয়প্রাপ্ত। কিন্তু এর পুকুর, কাঠের ঘর, প্রাসাদ, পুরোনো গাছ ও স্থাপত্য এখনও অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে।সময় থাকতে সংরক্ষণ করা গেলে ঝিটকা পোদ্দারবাড়ি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা হিসেবে নয়, মানিকগঞ্জের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে টিকে থাকতে পারে। লেখক: মোহাম্মাদ নাজমুল হক শামীম সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ

ইছামতীর তীরে দুই শত বছরের ইতিহাসের সাক্ষী ঝিটকা পোদ্দারবাড়ি

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে অগ্রগতির আশা

সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ দূর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আলোচনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)–এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সিআইআই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ভিসা সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারে দুই দেশের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান পারস্পরিক সহযোগিতার বড় সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতির আকার বড় হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।ভিসা জটিলতা নিয়েও আলোচনাবৈঠকে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ভিসা জটিলতার বিষয়টি উঠে আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য কয়েক মাস পরপর নতুন করে ভিসার আবেদন করা বাস্তবসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।দুটি যৌথ টাস্কফোর্সের প্রস্তাববাংলাদেশের অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই।প্রস্তাবিত একটি টাস্কফোর্স অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে। অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ ও ডাটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি দেখবে।সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, ভারতে গত বছর অবকাঠামো খাতে প্রায় ২৫ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগ হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে বেসরকারি খাত থেকে। ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।স্থানীয় শিল্প সক্ষমতা কাজে লাগানোর তাগিদবৈঠকে বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদনকারী শিল্পের সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিও বাড়বে।এনার্জিপ্যাকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে এক প্রতিনিধি বলেন, দেশে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা গেলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।এ ছাড়া দ্রুতগতির ভোগ্যপণ্য বা এফএমসিজি খাতেও বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে সিআইআই। ঢাকার আশপাশে সাবান, হোম কেয়ার ইনসেক্টিসাইড ও ফ্র্যাগরেন্সসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে একটি আধুনিক সমন্বিত কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে শুল্ক সমন্বয়ের আহ্বানশিল্প খাতে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে শুল্ক কাঠামো সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন সিআইআই প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, তাঁদের স্টিম-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করলে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও খাদ্যশিল্পে ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে শুল্ক বৈষম্যের কারণে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।বাংলাদেশের তরুণদের ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের তৃতীয় দেশে কাজের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা কমানোর বিষয়েও সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই।বৈঠকের শেষ দিকে দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, ব্যবসায়ী পর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে অগ্রগতির আশা

টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে বিটিএমএ-বিজিএমইএর সমঝোতা

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।সমঝোতা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি ইভেন্ট অর্গানাইজারের সহযোগিতায় বিশ্বমানের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা) আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রদর্শনীর পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিটিএমএ ও বিজিএমইএর পাঁচজন করে প্রতিনিধিকে নিয়ে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দুই সংগঠনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হবে। প্রথম বছর চেয়ারম্যান হবে বিটিএমএ এবং কো-চেয়ারম্যান হবে বিজিএমইএর প্রতিনিধি।বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বজুড়ে পোশাকশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও গ্রিন টেকনোলজির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রাখাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, টেক্সটাইল ও পোশাক খাত পরস্পরনির্ভরশীল। এই সমঝোতা শুধু একটি প্রদর্শনী আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।অনুষ্ঠানে উভয় সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে বিটিএমএ-বিজিএমইএর সমঝোতা