সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ দূর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আলোচনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে
সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব
ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)–এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে
বৈঠকে
বাণিজ্যমন্ত্রী এসব
কথা
বলেন।
বৈঠকে
দুই
দেশের
বাণিজ্য ও
বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা
এবং
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক
নিয়ে
আলোচনা
হয়।
সিআইআই
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন
সংগঠনটির ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,
ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে
লাগিয়ে
বাংলাদেশ ও
ভারতের
মধ্যে
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও
শিল্প
সহযোগিতা আরও
বাড়ানো
সম্ভব।
এ
জন্য
বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর
করে
স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ
ফিরিয়ে
আনা,
ভিসা
সহজ
করা
এবং
বেসরকারি খাতকে
আরও
সম্পৃক্ত করে
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে
তোলা
প্রয়োজন।
আয়তন, জনসংখ্যা ও
অর্থনীতির আকারে
দুই
দেশের
মধ্যে
পার্থক্য থাকলেও
ভৌগোলিক অবস্থান পারস্পরিক সহযোগিতার বড়
সুযোগ
তৈরি
করেছে
বলে
উল্লেখ
করেন
বাণিজ্যমন্ত্রী। বিশেষ
করে
বাংলাদেশের অবস্থান এবং
ভারতের
উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও
বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ
রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার
দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতির আকার
বড়
হলেও
আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিমাণ
তুলনামূলক কম
উল্লেখ
করে
তিনি
বলেন,
অর্থনৈতিক সংযোগ
বাড়ানো
গেলে
শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও
কর্মসংস্থানের নতুন
সুযোগ
তৈরি
হতে
পারে।
ভিসা জটিলতা নিয়েও
আলোচনা
বৈঠকে ব্যবসায়ী ও
পেশাজীবীদের ভিসা
জটিলতার বিষয়টি
উঠে
আসে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,
চিকিৎসা, ব্যবসা
ও
অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত
যাতায়াতকারীদের জন্য
কয়েক
মাস
পরপর
নতুন
করে
ভিসার
আবেদন
করা
বাস্তবসম্মত নয়।
এ
ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা
ব্যবস্থার বিষয়ে
দুই
দেশের
মধ্যে
সহযোগিতা প্রয়োজন।
দুটি যৌথ টাস্কফোর্সের প্রস্তাব
বাংলাদেশের অবকাঠামো ও
উচ্চপ্রযুক্তি খাতে
সহযোগিতা বাড়াতে
দুটি
যৌথ
টাস্কফোর্স গঠনের
প্রস্তাব দিয়েছে
সিআইআই।
প্রস্তাবিত একটি
টাস্কফোর্স অবকাঠামো খাতে
বেসরকারি বিনিয়োগ ও
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) বাড়ানোর বিষয়ে
কাজ
করবে।
অন্যটি
সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন
হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ ও
ডাটা
সেন্টারের মতো
ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে
সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি
দেখবে।
সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান,
ভারতে
গত
বছর
অবকাঠামো খাতে
প্রায়
২৫
লাখ
কোটি
রুপি
বিনিয়োগ হয়েছে।
এর
উল্লেখযোগ্য অংশ
এসেছে
বেসরকারি খাত
থেকে।
ভারতের
অভিজ্ঞতা কাজে
লাগিয়ে
বাংলাদেশেও দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ
রয়েছে
বলে
তাঁরা
মনে
করেন।
স্থানীয় শিল্প সক্ষমতা কাজে
লাগানোর তাগিদ
বৈঠকে বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদনকারী শিল্পের সক্ষমতা কাজে
লাগানোর বিষয়েও
আলোচনা
হয়।
ভারতীয়
ব্যবসায়ীরা বলেন,
অনেক
স্থানীয় প্রতিষ্ঠান উৎপাদন
সক্ষমতা থাকা
সত্ত্বেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে
দুর্বল
হয়ে
পড়ছে।
স্থানীয় উৎপাদন
বাড়ানো
গেলে
আমদানিনির্ভরতা কমার
পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিও
বাড়বে।
এনার্জিপ্যাকের সঙ্গে
যৌথ
উদ্যোগের উদাহরণ
তুলে
ধরে
এক
প্রতিনিধি বলেন,
দেশে
উৎপাদনের সুযোগ
থাকা
সত্ত্বেও অনেক
পণ্য
আমদানি
করতে
হচ্ছে।
স্থলবন্দর দিয়ে
পণ্য
আমদানিতে ৪০
থেকে
৪৫
দিন
পর্যন্ত সময়
লাগছে।
স্থানীয় শিল্প
পুনরুজ্জীবিত করা
গেলে
এ
ধরনের
সমস্যা
অনেকটাই কমানো
সম্ভব।
এ ছাড়া
দ্রুতগতির ভোগ্যপণ্য বা
এফএমসিজি খাতেও
বিনিয়োগের আগ্রহের কথা
জানিয়েছে সিআইআই। ঢাকার
আশপাশে
সাবান,
হোম
কেয়ার
ইনসেক্টিসাইড ও
ফ্র্যাগরেন্সসহ বিভিন্ন পণ্য
উৎপাদনে একটি
আধুনিক
সমন্বিত কারখানা স্থাপনের আগ্রহ
প্রকাশ
করা
হয়।
একই
সঙ্গে
অনিবন্ধিত পণ্যের
মান
নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো
গড়ে
তোলার
প্রয়োজনীয়তার কথা
জানানো
হয়।
জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে শুল্ক সমন্বয়ের আহ্বান
শিল্প খাতে
জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে
শুল্ক
কাঠামো
সমন্বয়ের আহ্বান
জানিয়েছেন সিআইআই
প্রতিনিধিরা। তাঁরা
বলেন,
তাঁদের
স্টিম-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করলে টেক্সটাইল, তৈরি
পোশাক
ও
খাদ্যশিল্পে ১০
থেকে
৩৫
শতাংশ
পর্যন্ত গ্যাস
সাশ্রয়
করা
সম্ভব।
তবে
শুল্ক
বৈষম্যের কারণে
এসব
প্রযুক্তির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশের তরুণদের ভারতীয়
প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ
এবং
বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের তৃতীয়
দেশে
কাজের
ক্ষেত্রে ভিসা
জটিলতা
কমানোর
বিষয়েও
সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে
সিআইআই।
বৈঠকের শেষ দিকে দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, ব্যবসায়ী পর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্ব দেয়।