ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার

ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির কোনোটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে কোনো চুক্তি বা ব্যবস্থা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে দেওয়া হবে না।তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় পাওয়া গেলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ তুলে চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একই সময়ে বন্দরে এলে বন্ধুদেশের জাহাজ আগে খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এ ধরনের অনেক চুক্তি থেকে বর্তমান সরকার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।সংবাদ সম্মেলনে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নুরুল ইসলাম মনি। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষের কথাও জানান তিনি। চিফ হুইপ বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থকে ভিত্তি করেই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে।

শেখ হাসিনাকে ধরে আনতে চাই, তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে: জাহেদ উর রহমান

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় নেই, তাঁকে ধরে আনতে চায় সরকার। তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকেরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান জানতে চান।জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে কোনো শর্ত যুক্ত করা হলে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলছি, শেখ হাসিনা আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি পলাতক আসামি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার এখন আপিল করারও সুযোগ নেই। তিনি এসে আপিল করে রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না। তাঁর ভাষায়, ‘তার মানে ব্যাপারটা টেকনিক্যালি এখন এরকম যে, তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’সম্প্রতি শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করেছেন উল্লেখ করে ডা. জাহেদ বলেন, এ বিষয়ে সরকার ‘খুব স্ট্রংলি’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এখন ভারতের প্রতিষ্ঠিত কিছু গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এক্সপেক্ট করবো ভারত সরকার এই ব্যাপারে তাকে একটা বার (বাধা) দেবে। তিনি ওখানে পালিয়ে আত্মগোপন হয়ে আছেন। সেখানে তিনি এই রাইটগুলো ভোগ করতে পারেন কিনা, এগুলোরও ক্লারিফিকেশন নাই।’ভারতের এ অবস্থানকে সঠিক মনে করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের দাবি জোরালো এবং এর মধ্যে কোনো কৌশল নেই। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ডা. জাহেদ বলেন, সম্পর্ক যে জায়গায় খারাপ হয়েছিল, তা উন্নত করার জন্য ভারত সরকার অন্তত একটি পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে নিতে পারত। সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা। তিনি প্রশ্ন করেন, ভারত সরকার কেন সেটি করছে না।ভারতের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের হাইকমিশনার একজন পলিটিক্যাল পারসন। আমরা তাকে পজিটিভলি দেখেছি।’ শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশের সংবেদনশীলতার বিষয়টি ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ডা. জাহেদ বলেন, শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়, সেটি ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত। এ বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনারের কাছে জানতে চাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একদিকে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পর্ককে নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের দেওয়া প্রতিবাদপত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ‘আস্থার পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় সরকারকে বোঝাতে হবে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায় এমন আস্থাও তৈরি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে ধরে আনতে চাই, তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে: জাহেদ উর রহমান

বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ অনুরোধ জানান।বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।সাক্ষাতের শুরুতে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উপদেষ্টাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তাঁরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।ইসমাইল জবিউল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। সাক্ষাৎকালে দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের অভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের ব্যাপক চাহিদার কথাও উল্লেখ করেন।বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণে পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের জনপ্রশাসনের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।দুই দেশের জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ভবিষ্যতে আবারও সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেন তিনি। সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব ভারতীয় হাইকমিশনারের

ট্রানজিটের আড়ালে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারে ভারতের বিস্তৃত সুযোগ

বাংলাদেশের বন্দর, নৌপথ ও স্থলপথ ব্যবহার করে ভারতের পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি করা তিনটি চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা এসব চুক্তির মাধ্যমে ভারত চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও পানগাঁও বন্দরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নৌ ও স্থলপথ ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছে। তবে এর বিপরীতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুবিধা, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।চুক্তিগুলো হলো অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউস অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্টস ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া (এসিএমপি), কোস্টাল শিপিং অ্যাগ্রিমেন্ট (সিএসএ) এবং প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি)। পিআইডব্লিউটিটি পুরোনো চুক্তির নবায়ন হলেও এসিএমপি ও সিএসএ নতুন চুক্তি।বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনটি চুক্তিকে আলাদাভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগের পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থও জড়িত।চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ২০১৫ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ ও ভারত চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে। পরে ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর এসিএমপি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক আন্তঃসরকারি কাঠামো তৈরি হয়। ২০১৯ সালে কাস্টমস, পণ্য, যানবাহন, জাহাজ, রুট, নিরাপত্তা ও নথিপত্রসহ বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়। ২০২০ সালে কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আগরতলায় পরীক্ষামূলক কনটেইনার চালান যায়।এসিএমপির আওতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করতে পারে। চুক্তিতে চারটি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বা মোংলা থেকে আগরতলা, ডাউকি, সুতারকান্দি ও শ্রীমন্তপুরের রুট রয়েছে।চুক্তির বিভিন্ন ধারায় ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজকে বাংলাদেশের বন্দরে সুবিধা ও অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় পরিবহন করা পণ্য নিয়মিত ফিজিক্যাল কাস্টমস পরিদর্শনের বাইরে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এম শাহজাহানের দাবি, চুক্তি করার সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দরকষাকষির সুযোগ সীমিত ছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার চাপের কারণে ভারতের চাহিদা অনুযায়ী চুক্তি করা হয়।চার বন্দরকে কোস্টাল পোর্ট করার প্রশ্নকোস্টাল শিপিং অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও পানগাঁওকে উপকূলীয় বন্দর হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। চুক্তির একটি ধারায় পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে চলাচলকারী জাহাজের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও ড্রাফট নির্ধারণ করা হয়েছে।চুক্তির এসওপিতে ৫০:৫০ কার্গো শেয়ারের কথা থাকলেও কোন পণ্যে, কীভাবে এবং কোন সময়ের ভিত্তিতে এই হিসাব হবে, তার স্পষ্ট কাঠামো নেই বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। পণ্য পরিবহনের সক্ষমতার দিক থেকে ভারত এগিয়ে থাকায় বাস্তবে দেশটি বেশি সুবিধা পেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।আরেকটি বিষয় হলো, চুক্তির আওতায় চলাচলকারী জাহাজে পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল বা পিএসসি কার্যকর না হওয়ার বিধান। সাধারণত বিদেশি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে নিরাপত্তা, সনদপত্র, সমুদ্রযাত্রার সক্ষমতা ও দূষণ প্রতিরোধব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়। সমালোচকদের মতে, ভারতীয় জাহাজের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।এ ছাড়া চুক্তির আওতায় চলাচলকারী জাহাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়ার বিধান রয়েছে। এতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে জাহাজজট এবং টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বাড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশের নদীপথ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়পিআইডব্লিউটিটি চুক্তির আওতায় ভারত-বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। ১৯৭২ সালের মূল চুক্তিতে ২০১৫ সালে নতুন ধারা-উপধারা যুক্ত করা হয় এবং পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয় নবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর ফলে ২০২০ ও ২০২৫ সালে নতুন করে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি নবায়ন হয়েছে।চুক্তি অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকার নদীপথ জাহাজ চলাচলের উপযোগী রাখার দায়িত্ব দুই দেশের। এ কাজে ভারত বাংলাদেশকে এককালীন ১০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও বাকি ব্যয় বাংলাদেশকে বহন করবে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।সিরাজগঞ্জ-দাইকাওয়া ও শেরপুর-জকিগঞ্জ রুট ভারতীয় ট্রানজিট ট্রাফিকের জন্য রক্ষণাবেক্ষণের কথাও চুক্তিতে রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের নদী অবকাঠামোর অর্থ ও সক্ষমতা ভারতের ট্রানজিটের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে সমতা কতটা?চুক্তিগুলোর মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের সড়ক, নৌপথ ও বন্দর ব্যবহার করে সহজে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহন করতে পারছে। কিন্তু বাংলাদেশ ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠাতে চাইলে ভারতের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ আহবাবুল ইউসুফ খান মনে করেন, এসব চুক্তির অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। বিশেষ করে ৫০:৫০ কার্গো শেয়ারের ক্ষেত্রে ‘as far as practicable’ এবং ‘expeditious transportation’-এর মতো অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে শর্ত প্রয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।চুক্তি নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্নচুক্তিগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে না থাকা এবং অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা সহজলভ্য না হওয়াকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দুই দেশের মধ্যে সুবিধা, ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও কৌশলগত ভারসাম্য কতটা বজায় রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক সালেহ শাহরিয়ার এসব ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের কৌশলগত নির্ভরশীলতা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ভারতীয় পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের বন্দর ও নিরাপত্তা কাঠামোকে বিশেষ সুবিধা দিতে হলে দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থও সমান গুরুত্বে বিবেচনা করা প্রয়োজন।পতনের পরও চুক্তিগুলো বহালআওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পরও চুক্তিগুলো বহাল রয়েছে। ফাইলে থাকা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতীয় কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে থাকলেও পরে আবার এসব চুক্তির ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়েছে।রাজনীতি বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরীর মতে, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে করা চুক্তিগুলো নিয়ে নির্বাচিত সরকারের উচিত সংসদে আলোচনা করা এবং দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা। তার বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পরও চুক্তিগুলো নিয়ে প্রকাশ্য পর্যালোচনার উদ্যোগ দেখা যায়নি।সব মিলিয়ে, ভারতকে বাংলাদেশের বন্দর, নৌপথ ও স্থলপথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া তিনটি চুক্তি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও বাংলাদেশের আর্থিক আয়, নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত ব্যয় এবং কৌশলগত সুবিধা কতটা নিশ্চিত হয়েছে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। চুক্তিগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ, সংসদীয় আলোচনা এবং জাতীয় স্বার্থের আলোকে পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রানজিটের আড়ালে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারে ভারতের বিস্তৃত সুযোগ

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলোচনা ও সম্মানজনক আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে।গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাড়াহুড়ো করতে চায় না। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক থাকবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা এবং নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে ভারতকে যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে। সম্মানজনক পরিবেশ ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের সফরের প্রয়োজন নেই।ভারতকে নিয়ে অসন্তোষবাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত ও পলাতক ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপতৎপরতার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিহুমায়ুন কবির বলেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চলছে।তিনি জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও নতুন রপ্তানি বাজার তৈরিতে কাজ করছে সরকার।রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে অগ্রগতির আশা

সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ দূর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আলোচনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)–এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সিআইআই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ভিসা সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারে দুই দেশের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান পারস্পরিক সহযোগিতার বড় সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতির আকার বড় হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।ভিসা জটিলতা নিয়েও আলোচনাবৈঠকে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ভিসা জটিলতার বিষয়টি উঠে আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য কয়েক মাস পরপর নতুন করে ভিসার আবেদন করা বাস্তবসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।দুটি যৌথ টাস্কফোর্সের প্রস্তাববাংলাদেশের অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই।প্রস্তাবিত একটি টাস্কফোর্স অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে। অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ ও ডাটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি দেখবে।সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, ভারতে গত বছর অবকাঠামো খাতে প্রায় ২৫ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগ হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে বেসরকারি খাত থেকে। ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।স্থানীয় শিল্প সক্ষমতা কাজে লাগানোর তাগিদবৈঠকে বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদনকারী শিল্পের সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিও বাড়বে।এনার্জিপ্যাকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে এক প্রতিনিধি বলেন, দেশে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা গেলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।এ ছাড়া দ্রুতগতির ভোগ্যপণ্য বা এফএমসিজি খাতেও বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে সিআইআই। ঢাকার আশপাশে সাবান, হোম কেয়ার ইনসেক্টিসাইড ও ফ্র্যাগরেন্সসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে একটি আধুনিক সমন্বিত কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে শুল্ক সমন্বয়ের আহ্বানশিল্প খাতে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে শুল্ক কাঠামো সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন সিআইআই প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, তাঁদের স্টিম-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করলে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও খাদ্যশিল্পে ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে শুল্ক বৈষম্যের কারণে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।বাংলাদেশের তরুণদের ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের তৃতীয় দেশে কাজের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা কমানোর বিষয়েও সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই।বৈঠকের শেষ দিকে দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, ব্যবসায়ী পর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে অগ্রগতির আশা

দুই বছরে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব বেড়েছে ১৫ শতাংশ

ভারত সম্পর্কে বাংলাদেশিদের দৃষ্টিভঙ্গিতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশে ভারতকে অপছন্দ করেন- এমন মানুষের হার ১৫ শতাংশ বেড়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।৩৬টি দেশের ওপর পরিচালিত জরিপটি চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ভারতকে অপছন্দ করার গড় হার ৫৫ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ভারতকে অপছন্দ করার হারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে।দুই বছর আগে বাংলাদেশে ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব ছিল ৩৬ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ শতাংশে। একই সময়ে ভারত সম্পর্কে কোনো মতামত না দেওয়া মানুষের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ২৪ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে কমে ৭ শতাংশ হয়েছে।ভারতকে নেতিবাচকভাবে দেখার হারে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে শুধু পাকিস্তান। দেশটিতে ৯১ শতাংশ মানুষ ভারতের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।শ্রীলঙ্কায় ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশিদক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের প্রতি সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে শ্রীলঙ্কায়। দেশটির ৭৯ শতাংশ মানুষ ভারতের বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন।এ ছাড়া কেনিয়া ও যুক্তরাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ভারতকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। জার্মানিতে এ হার ৬৩ শতাংশ, ইসরাইলে ৬০ শতাংশ, ইতালিতে ৫৬ শতাংশ এবং সুইডেন, জাপান ও থাইল্যান্ডে ৫৫ শতাংশ।যুক্তরাষ্ট্রেও কমেছে ইতিবাচক মনোভাবযুক্তরাষ্ট্রে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও কিছুটা কমেছে। ২০২৬ সালের জরিপে দেশটির ৪৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। ২০২৩ সালে এ হার ছিল ৫১ শতাংশ।রাজনৈতিক মতাদর্শের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে পার্থক্য দেখা গেছে। দেশটির ডেমোক্র্যাট ও উদারপন্থীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান ও রক্ষণশীলদের মধ্যে এ হার ৪০ শতাংশ।সূত্র: পিউ রিসার্চ সেন্টার

দুই বছরে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব বেড়েছে ১৫ শতাংশ

তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে দুই ভারতীয় গণমাধ্যমে দুই দাবি

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাঁর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।শুক্রবার ভারতের দ্য ট্রিবিউন–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় এক বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে এমন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টির ওপর তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ—দুটিই অনেকটা ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ’ অবস্থায় রয়েছে।তবে ওই বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের আলোচনায় সমাধান করা সম্ভব নয়—এমন কোনো সমস্যা নেই।এনডিটিভির দাবি, সফরের প্রস্তুতি চলছেঅন্যদিকে ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতি চলছে।সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর কিংবা সফর না করার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।১২-১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনআগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে উদীয়মান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের বিশেষ আমন্ত্রণে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে টানাপোড়েন২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে রায় হওয়ার পর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরাতে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় ঢাকা।ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের দুই ধরনের প্রতিবেদনের মধ্যেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান পাওয়া যায়নি।

তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে দুই ভারতীয় গণমাধ্যমে দুই দাবি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, আলোচনার বিষয় জানানো হয়নি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তবে বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।এর আগে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার। এর এক সপ্তাহ আগে, গত ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছিলেন তিনি।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননিসোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার সচিবালয়ের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কোনো ব্রিফ না করেই চলে যান। পরে সাংবাদিকদের জানানো হয়, তিনি এ মুহূর্তে কোনো বক্তব্য দেবেন না।এর এক দিন আগে রোববার রাজধানীর কুড়িলে ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) শিশুদের জন্য নির্মিত একটি খেলাঘর উদ্বোধন করেন দীনেশ ত্রিবেদী।সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দুই সরকারপ্রধান একসঙ্গে বসলে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীই অত্যন্ত জনবান্ধব। ফলে বিদ্যমান সংকটগুলোর ইতিবাচক সমাধানের বিষয়ে তাঁর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে।দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এখানে কোনো নেতিবাচকতা নেই; বরং সবকিছু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে এগোচ্ছে।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, আলোচনার বিষয় জানানো হয়নি

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।শনিবার বেলা ১১টার পর জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে সীমান্ত হত্যার একটি সেগমেন্ট ছিল। সীমান্তে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেসবের স্মৃতি এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’জাদুঘরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদ ছিল, তার সঙ্গে ভারত জড়িত ছিল। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি হয়তো ভারতকে ভয় পাচ্ছে এবং সরকার মনে করছে, এভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখা সম্ভব।ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো বা খারাপের বিষয় নয়। সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ।’গণভবন প্রসঙ্গে নাহিদজুলাই স্মৃতি জাদুঘর যে ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই গণভবন সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই গণভবন থেকেই শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী সব সিদ্ধান্ত নিতেন। মানুষকে লুটপাট, অর্থ লুটপাটসহ সব সিদ্ধান্ত এখান থেকেই নেওয়া হতো।’তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছিল। জাদুঘরটি খুলে দেওয়ার জন্য তারা সংসদে ও সংসদের বাইরে অনেক কথা বলেছেন। এর আগেও তিনি জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছিলেন। নির্বাচনের পর সরকার জাদুঘরে কিছু পরিবর্তন করেছে বলেও জানান তিনি।‘জুলাইয়ের ইতিহাস আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে’জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিগুলো জাদুঘরে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, সময়ের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অবদানও জাদুঘরে তুলে ধরা প্রয়োজন।জাদুঘরে কেন্দ্রীয় ও পরিচিত ব্যক্তিদের বারবার তুলে ধরা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি জাদুঘরের দায়িত্বশীলদের জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংসদে বলেছিলাম, এটি স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘর হওয়া উচিত।’জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেন- এমন ব্যক্তিদের দিয়ে জাদুঘর পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর যেন দলীয় ইতিহাস চর্চার জায়গা না হয়, জাতীয় ইতিহাস চর্চার জায়গা হয়। প্রকৃত সত্যটাই যেন এখানে আসে এবং সবাই যেন সেটি ধারণ করতে পারে।’এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বাদ