ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান ট্রাম্পের

যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান ট্রাম্পের

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম এমন একজন নেতার প্রয়োজন ইউক্রেনের।শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, এসব হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ছে। দেশটিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন।ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পরামর্শ দেব, তারা যেন এমন একজন নতুন নেতা বেছে নেয়, যিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন।’ জেলেনস্কির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কোনো এক কারণে জেলেনস্কি কখনোই তা করেন না।’ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, জেলেনস্কির নেতৃত্বে দেশটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং ৩০ শতাংশ ভূখণ্ড হারিয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন মিলিয়ে এ যুদ্ধে ২০ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, যুদ্ধটি কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না। এখন ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।জেলেনস্কির পক্ষে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্রতা এড়িয়েও জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি বলেন, জেলেনস্কির প্রতি ইউক্রেনের জনগণের সমর্থন রয়েছে। দেশটির নেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইউক্রেনের জনগণের।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিবিহা বলেন, বিদেশ থেকে আসা এ ধরনের বক্তব্য বরং প্রমাণ করে, জেলেনস্কি তাঁর দায়িত্ব ঠিকভাবেই পালন করছেন। তাঁর সমর্থন পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণা ট্রাম্পেরশুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। এর অল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলেনস্কিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্যও তিনি ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন।তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সেই প্রভাবের চেয়ে ইউক্রেনের হামলার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।শনিবার ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুই হতো না। তাঁর দাবি, অযোগ্যতার কারণে এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং যুদ্ধটি শুরু হওয়ার কোনো কারণ ছিল না।জাপোরিঝঝিয়ায় হামলায় নিহত অন্তত ২০ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন।ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। মস্কোর পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পরও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দূরপাল্লার বিমান হামলা অব্যাহত থাকলেও স্থলযুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় ধরনের অগ্রগতি নেই।রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলেনস্কি। শনিবার জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে হামলার পর এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে জাপোরিঝঝিয়ায় আবাসিক ভবনে পাঁচটি গ্লাইড বোমা ফেলে।’জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানো হলে মস্কো সেটিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং ইউক্রেনের শহরগুলোতে বোমা হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ হিসেবে দেখবে।তিনি বলেন, জ্বালানি রপ্তানি থেকে রাশিয়ার আয় বাড়লে সেই অর্থ অস্ত্রের যন্ত্রাংশ কেনা, ড্রোনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং ভাড়াটে যোদ্ধা নিয়োগে ব্যয় করা হবে। রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা কমানো না গেলে মস্কো যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে তৎপরতারাশিয়ার বাড়তি আয় মোকাবিলায় ইউক্রেন বিভিন্ন পদক্ষেপ সমন্বয় করছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আগামী কয়েক দিনে আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গোলাবারুদ পাবে ইউক্রেন।এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তিতে ইউরোপের মিত্ররা হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতে তারা অটল রয়েছে।ট্রাম্পের এ ঘোষণা তাঁর আগের নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। গত মাসেই তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে মস্কো তেল ও গ্যাস থেকে যে আয় করে, তা কমানোই ছিল ওই আইনের লক্ষ্য।যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহতশুক্রবার ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার মিয়ামিতে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।একই দিনে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার উদ্যোগ এবং জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনা সব মিলিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।