ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইরানের তেল কিনলে কঠোর ব্যবস্থা, চীনের দিকে ওয়াশিংটনের নজর

ইরানের তেল কিনলে কঠোর ব্যবস্থা, চীনের দিকে ওয়াশিংটনের নজর

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার চাপ তৈরি করা। তবে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য চীন।ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে। এই তেল বিক্রি থেকে ইরান প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। দেশটির সরকারি ব্যয় ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আকস্মিক বড় ধরনের চাপ তৈরি না করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের নীতি পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, এই সুযোগের সময় সীমাহীন নয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।ওয়াশিংটনের হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না; বরং এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা আরও বাড়াবে।তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনে ইরানি তেলের আমদানি কমেছে। চলমান সংঘাত এবং কিছু তেল শোধনাগারের কার্যক্রম কমে যাওয়ার কারণে দেশটিতে ইরানি তেলের আমদানি আগে দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল থাকলেও তা কমে প্রায় ৭ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, চীনের পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকায় ইরান থেকে আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম।ইরানি তেলের অন্যতম পুরোনো ক্রেতা ছিল ভারতও। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার চাপের মধ্যে সীমিত পরিসরে ইরানি তেল কেনার প্রবণতা দেখা গেছে।এদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানি তেল পরিবহনে বিভিন্ন ছায়াবহর বা গোপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব জাহাজের মালিকানা, অবস্থান ও গন্তব্য গোপন রাখার নানা কৌশলের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের প্রকৃত তেল রপ্তানির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়ছে এবং পেট্রল পাম্পে জ্বালানির দাম বাড়ার চাপ তৈরি হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল বাণিজ্য বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ সফল হলে তেহরানের রাজস্ব আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে চীনের মতো বড় ক্রেতাকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

রাশিয়ার তেল কিনলে ভারত-চীনসহ পাঁচ দেশের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ: ট্রাম্প

রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তালিকায় ভারত ও চীন রয়েছে।ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা বিলটি সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে।প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম। সিনেটে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া বোন ডারলিন গ্রাহাম বলেন, বিলটি ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সঠিক জায়গায় আঘাত হানবে’।হাউজে উঠবে ৩১ আগস্টআগামী ৩১ আগস্ট মার্কিন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নতুন অধিবেশনে বিলটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।তবে যেসব দেশ তাদের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে আমদানি করে এবং আমদানি কমানোর জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতার বিধান রাখা হয়েছে।রাশিয়ার জ্বালানি খাতেও কঠোর নিষেধাজ্ঞাবিলটিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি প্রকল্পগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।এ ছাড়া রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি রাজস্বের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো যেসব পুরোনো ও নতুন পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার ব্যবহার করছে, সেগুলোকেও বর্ধিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।ইরান নিয়েও বিধানরাশিয়ার পাশাপাশি ইরানকে নিয়েও নতুন বিধান রাখা হয়েছে বিলে। এতে ১৯৯৬ সালের ‘ইরান স্যাংশনস অ্যাক্ট’-এর মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।এই আইনের আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

রাশিয়ার তেল কিনলে ভারত-চীনসহ পাঁচ দেশের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ: ট্রাম্প