রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তালিকায় ভারত ও চীন রয়েছে।
ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা
বিলটি সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে
অনুমোদিত হয়েছে।
প্রায় চার বছর ধরে
চলা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর
নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন
লিন্ডসে গ্রাহাম। সিনেটে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া
বোন ডারলিন গ্রাহাম বলেন, বিলটি ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির
পুতিনকে সঠিক জায়গায় আঘাত
হানবে’।
হাউজে উঠবে ৩১ আগস্ট
আগামী ৩১ আগস্ট মার্কিন
হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নতুন অধিবেশনে
বিলটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে
রাশিয়া থেকে তেল বা
প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ
দেশের ওপর শুল্ক আরোপের
একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে
রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের
শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের
তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি
ও স্লোভাকিয়া।
তবে যেসব দেশ
তাদের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম
রাশিয়া থেকে আমদানি করে
এবং আমদানি কমানোর জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ
নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতার বিধান
রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা
বিলটিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির
পুতিন, দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা,
আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি প্রকল্পগুলোর
ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের
প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার
তেল ও জ্বালানি রাজস্বের
ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো যেসব পুরোনো ও
নতুন পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার ব্যবহার করছে, সেগুলোকেও বর্ধিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব করা
হয়েছে।
ইরান নিয়েও বিধান
রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানকে নিয়েও নতুন বিধান রাখা
হয়েছে বিলে। এতে ১৯৯৬ সালের
‘ইরান স্যাংশনস অ্যাক্ট’-এর মেয়াদ ২০৩১
সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই আইনের আওতায়
ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর
ওপর জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি