চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার পেছনে প্রকাশ্যে ছুরি দেখিয়ে ছিনতাই এবং ব্যস্ত সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই থানাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (২১
সেপ্টেম্বর) পুলিশ
সদর
দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ
কে
এম
আওলাদ
হোসেনের সই
করা
আদেশে
তাঁকে
বদলি
করা
হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার
মাত্র
তিন
মাসের
মাথায়
তাঁকে
চট্টগ্রাম থেকে
ঢাকায়
পাঠানো
হলো।
আদেশে নাজমুন
নূরসহ
পাঁচ
পুলিশ
সদস্যকে ২২
সেপ্টেম্বরের মধ্যে
নতুন
কর্মস্থলে যোগ
দিতে
ছাড়পত্র নিতে
বলা
হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের
মধ্যে
ছাড়পত্র না
নিলে
২৩
সেপ্টেম্বর থেকে
তাঁদের
‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ (স্ট্যান্ড রিলিজ)
হিসেবে
গণ্য
করা
হবে।
থানার পেছনেই ছিনতাই
গত শনিবার
সকালে
নগরের
পাথরঘাটার সতীশ
বাবু
লেনে
একটি
রিকশা
থামিয়ে
এক
যাত্রীকে ছুরি
দেখিয়ে
টাকা
ও
মুঠোফোন ছিনিয়ে
নেওয়ার
ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে
পড়ে।
পরে
ছিনতাইকারীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে
পালিয়ে
যায়।
ঘটনাস্থল কোতোয়ালি থানার
ঠিক
পেছনে
হওয়ায়
বিষয়টি
নিয়ে
ব্যাপক
আলোচনা
শুরু
হয়।
পরে
পুলিশ
স্বপ্রণোদিত হয়ে
অভিযান
চালিয়ে
মনির
হোসেন
নামের
একজনকে
গ্রেপ্তার করে।
ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও জব্দ
করা
হয়েছে।
অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান
চলছে
বলে
জানিয়েছে পুলিশ।
ব্যস্ত সড়কে ঝটিকা
মিছিল
এর আগে
লালখানবাজার-কাজীর
দেউড়ি
সড়কে
নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ছবি
ও
ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে
পড়ে।
ব্যস্ত
ও
জনবহুল
সড়কে
প্রকাশ্যে এমন
মিছিলের ঘটনায়
পুলিশের নজরদারি নিয়েও
প্রশ্ন
ওঠে।
পটিয়ায়ও হয়েছিল বিতর্ক
কোতোয়ালিতে দায়িত্ব নেওয়ার
আগেও
নাজমুন
নূরকে
ঘিরে
বিতর্ক
তৈরি
হয়েছিল। গত
বছরের
১
জুলাই
রাতে
পটিয়া
থানার
ওসি
থাকাকালে রাঙামাটি জেলা
ছাত্রলীগের এক
নেতাকে
সোপর্দ
করা
নিয়ে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থানা-পুলিশের বিরোধ
হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ
ছিল,
থানায়
তাঁদের
ওপর
লাঠিপেটা করা
হয়
এবং
এতে
অন্তত
২৩
জন
আহত
হন।
পুলিশের ভাষ্য
ছিল,
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ করতে
বাধ্য
হয়েছিল
তারা।
পরে
আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক
ও
ডিআইজি
কার্যালয় ঘেরাও
করে
প্রায়
নয়
ঘণ্টা
অবরোধ
করে
রাখেন।
এর পরদিন
রাতে
নাজমুন
নূরকে
পটিয়া
থানা
থেকে
প্রত্যাহার করে
ডিআইজি
কার্যালয়ে সংযুক্ত করা
হয়।
পরে
তিনি
সন্দ্বীপ থানায়
এবং
সর্বশেষ গত
জুনে
কোতোয়ালি থানার
ওসি
হিসেবে
দায়িত্ব পান।
পুলিশ সদর
দপ্তরের সর্বশেষ বদলি
আদেশে
নাজমুন
নূরকে
ডিএমপিতে পাঠানোর নির্দিষ্ট কারণ
উল্লেখ
করা
হয়নি।
পুলিশের পক্ষ
থেকে
এটিকে
নিয়মিত
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে
দেখা
হচ্ছে।