ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মির্জাখীল দরবার শরীফে ওরস শুরু আজ, থাকছে নানা ধর্মীয় আয়োজন

মির্জাখীল দরবার শরীফে ওরস শুরু আজ, থাকছে নানা ধর্মীয় আয়োজন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফে হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (ক.)-এর প্রথম ওরস শরীফ ও ওফাত দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে।ওরস উপলক্ষে দরবার শরীফে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিল এবং তাঁর জীবন, আধ্যাত্মিক সাধনা ও ধর্মীয় অবদান নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশ-বিদেশ থেকে মুরিদান, ভক্ত ও আশেকানদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। সিলসিলাহ-ই-আলীয়াহ জাহাঁগীরিয়াহর অন্যতম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ও প্রধান মারকায হিসেবে পরিচিত মির্জাখীল দরবার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। দরবারটিতে নিয়মিত মাসিক ও দৈনিক ফাতেহা, খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, মিলাদ ও সামা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক শিক্ষায় আত্মশুদ্ধি, নৈতিক চরিত্র গঠন, পীর-মুর্শিদের নির্দেশনা অনুসরণ এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের আশা, তিন দিনব্যাপী ওরস শরীফের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবসেবার চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে।

ছিনতাই-মিছিলের ঘটনায় বেড়েছে নজরদারি, বদলি কোতোয়ালি থানার ওসি

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার পেছনে প্রকাশ্যে ছুরি দেখিয়ে ছিনতাই এবং ব্যস্ত সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই থানাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) বদলি করা হয়েছে।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সই করা আদেশে তাঁকে বদলি করা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় তাঁকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো হলো।আদেশে নাজমুন নূরসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে ছাড়পত্র নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র না নিলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁদের ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।থানার পেছনেই ছিনতাইগত শনিবার সকালে নগরের পাথরঘাটার সতীশ বাবু লেনে একটি রিকশা থামিয়ে এক যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ছিনতাইকারীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়।ঘটনাস্থল কোতোয়ালি থানার ঠিক পেছনে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ব্যস্ত সড়কে ঝটিকা মিছিলএর আগে লালখানবাজার-কাজীর দেউড়ি সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস্ত ও জনবহুল সড়কে প্রকাশ্যে এমন মিছিলের ঘটনায় পুলিশের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।পটিয়ায়ও হয়েছিল বিতর্ককোতোয়ালিতে দায়িত্ব নেওয়ার আগেও নাজমুন নূরকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত বছরের ১ জুলাই রাতে পটিয়া থানার ওসি থাকাকালে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে সোপর্দ করা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থানা-পুলিশের বিরোধ হয়।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, থানায় তাঁদের ওপর লাঠিপেটা করা হয় এবং এতে অন্তত ২৩ জন আহত হন। পুলিশের ভাষ্য ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছিল তারা। পরে আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও ডিআইজি কার্যালয় ঘেরাও করে প্রায় নয় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।এর পরদিন রাতে নাজমুন নূরকে পটিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে তিনি সন্দ্বীপ থানায় এবং সর্বশেষ গত জুনে কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ বদলি আদেশে নাজমুন নূরকে ডিএমপিতে পাঠানোর নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছিনতাই-মিছিলের ঘটনায় বেড়েছে নজরদারি, বদলি কোতোয়ালি থানার ওসি

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি চারা গাছ রোপণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রথম ধাপে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক ও সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন ও হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ আকতার ও শিক্ষক নুরুল আমিন।

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পুলিশের ওপর হামলা, ওসির গাড়ি ভাঙচুর: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম নগরের ওয়ারলেস এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, খুলশী থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর এবং একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।শনিবার রাতে খুলশী থানার পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে।মামলায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগাকে (৪২) প্রধান আসামি করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। তবে মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জড়িত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলা, ওসির গাড়ি ভাঙচুর: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

চট্টগ্রামে গত দেড় বছরে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম জড়িয়ে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, হত্যা, অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় নেতারা পরস্পরকে দায়ী করলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি অস্ত্রের মহড়া চলে এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ অস্ত্রধারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।এর দুদিন পর খুলশী ও পাহাড়তলী এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের পর গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।গত দেড় বছরে দলীয় কোন্দল ঘিরে চট্টগ্রামে অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাকলিয়ায় যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ, মীরসরাইয়ে হামলায় ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়, রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার ও মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ, চান্দগাঁওয়ে যুবদল নেতা ফজলুল আমিন এবং সর্বশেষ রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিম নিহত হয়েছেন।এ ছাড়া রাউজানে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা মো. ওসমান ও তাঁর মাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে।বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সংঘাত, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্য, দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীও জানিয়েছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

বন্যা পুনর্বাসনে সরকার একা নয়, অংশীদার হচ্ছে বেসরকারি খাত ও এনজিও: অর্থমন্ত্রী

বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।রোববার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের কার্যক্রমকে শুধু সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সক্ষমতাকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক মডেল তৈরি হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।ত্রাণ বিতরণে দক্ষতার ওপর গুরুত্বআমির খসরু বলেন, দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ও সঠিকভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশে ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অপচয় এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অনেক সময় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় না।সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে জরুরি সহায়তা দেওয়ার কাজ করলেও পুনর্বাসনের পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওকে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা এবং অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।ফ্যামিলি কার্ডে ত্রুটি ১.২ শতাংশফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই ত্রুটির হার খুবই কম বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা বা দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ রাখা হবে না।দুর্নীতি কমাতে বেসরকারি অংশীদারত্বঅর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে সব ধরনের সহায়তা কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা কঠিন। সেখানে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত থাকলে কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ে এবং অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ কমে।তিনি বলেন, বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত তাঁর জানা মতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমেও এ ধরনের কোনো অভিযোগ তিনি দেখেননি বলে জানান।৩ পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ব্যবস্থাকে সরকারের কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন আমির খসরু।তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থা একদিকে সহায়তা বিতরণের তদারকি করছে, অন্যদিকে সরকারের সম্পদের অপচয় ও দুর্নীতি রোধে ভূমিকা রাখছে।বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত না হলে কোনো সহায়তাকেই পূর্ণাঙ্গ সহায়তা বলা যায় না। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিরুল হক চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বন্যা পুনর্বাসনে সরকার একা নয়, অংশীদার হচ্ছে বেসরকারি খাত ও এনজিও: অর্থমন্ত্রী

১৫৫ বছরের পুরোনো চন্দনপুরা মসজিদ, স্থাপত্যের বৈচিত্র্যে আজও অনন্য

চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম এলাকার এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে ১৫৫ বছরের পুরোনো এক স্থাপত্যনিদর্শন-চন্দনপুরা মসজিদ। রঙের বৈচিত্র্য, সূক্ষ্ম কারুকাজ, লতা-পাতার নকশা এবং একাধিক গম্বুজের কারণে দূর থেকেই আলাদা করে চোখে পড়ে মসজিদটি। স্থানীয়ভাবে এটি চন্দনপুরা বড় মসজিদ কিংবা ‘তাজ মসজিদ’ নামেও পরিচিত।নগরীর চকবাজার ওয়ার্ডের সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কের পশ্চিম পাশে মোগল স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত এই মসজিদ। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৭০ সালে আব্দুল হামিদ মাস্টার মাটি ও চুন-সুরকির দেয়াল এবং টিনের ছাদ দিয়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকেই দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ছিল নানা ধরনের কারুকাজ।পরবর্তী সময়ে মসজিদটির বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেন আব্দুল হামিদ মাস্টারের বংশধর এবং ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার আবু সৈয়দ দোভাষ। ১৯৪৬ সালে তিনি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেন। মসজিদের কারিগর ও নির্মাণসামগ্রীর একটি বড় অংশ ভারত থেকে আনা হয়েছিল। ওই সময় এ কাজে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয় বলে জানা যায়।প্রায় ১৩ শতক জায়গার ওপর দোতলা মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। কলকাতা থেকে কারিগর এবং দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে নির্মাণসামগ্রী এনে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছিল। আবু সৈয়দ দোভাষ ১৯৫০ সালে মসজিদের পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করেন।আলো-বাতাসের বিশেষ ব্যবস্থামসজিদটির স্থাপত্যে রয়েছে আলো-বাতাস চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা। চারপাশের দেয়ালে তৈরি করা হয়েছে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা। দেয়ালের বিভিন্ন ফাঁক দিয়ে দিনের আলো ভেতরে প্রবেশ করে। একই সঙ্গে এসব ব্যবস্থা মসজিদের ভেতরে বাতাস চলাচলও স্বাভাবিক রাখে।মসজিদের বাইরের প্রতিটি অংশে ব্যবহার করা হয়েছে নানা রঙ। দেয়াল, গম্বুজ ও বিভিন্ন স্থাপত্য উপাদানে লতা-পাতার নকশা ও সূক্ষ্ম কারুকাজ রয়েছে। এসব নকশায় মোগল স্থাপত্যের প্রভাব স্পষ্ট।আছে ১৫টি গম্বুজ, দুটি উঁচু মিনারচন্দনপুরা মসজিদে ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে ১৫টি গম্বুজ। প্রতিটি গম্বুজে যাওয়ার জন্য রয়েছে সিঁড়ি। গম্বুজ ও সিঁড়ির বিভিন্ন অংশে মোগল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।গম্বুজগুলোর চারপাশে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির নাম লেখা রয়েছে।মসজিদটিতে রয়েছে দুটি উঁচু মিনার। মাইকের প্রচলন না থাকায় একসময় এসব মিনারের ওপর উঠে আজান দেওয়া হতো। মিনার দুটির উচ্চতা প্রায় চারতলা ভবনের সমান বলে জানা যায়। বর্তমানে সেগুলো মসজিদের স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে টিকে আছে।রুপা ও পিতলের বড় গম্বুজমসজিদের বড় গম্বুজটি একসময় প্রায় ১৩ মণ রুপা ও পিতল দিয়ে তৈরি ছিল বলে জানা যায়। তবে সময়ের সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া এবং সংস্কারকাজের কারণে এর অনেক কিছু নষ্ট হয়েছে বা হারিয়ে গেছে।বর্তমানে মসজিদটি প্রায় প্রতি পাঁচ বছর পরপর রঙ করা হয়। একবার রঙ করার কাজ শেষ করতে সময় লাগে প্রায় তিন থেকে চার মাস। পুরোনো স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কার করতে দক্ষ কারিগরের প্রয়োজন হলেও এ ধরনের কারিগর সহজে পাওয়া যায় না। ফলে মসজিদের কিছু পুরোনো স্থাপত্য উপাদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রচন্দনপুরা মসজিদ এখন শুধু মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের স্থান নয়, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায় চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে মসজিদটির ছবি ব্যবহার করা হয়। এসব প্রকাশনার মাধ্যমে মসজিদটির পরিচিতি বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকেরাও এটি দেখতে আসেন।প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন। আশপাশে সময়ের সঙ্গে অনেক নতুন মসজিদ গড়ে উঠলেও চন্দনপুরা মসজিদে মুসল্লির উপস্থিতি কমেনি। বরং নিয়মিতই বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।সাধারণ দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ মানুষ এখানে নামাজ আদায় করেন। শুক্রবারে মুসল্লির সংখ্যা প্রায় তিন হাজার ছাড়িয়ে যায়। তখন মসজিদের ভেতরে জায়গা সংকুলান না হলে আশপাশের সড়ক বন্ধ করে সেখানেও নামাজ আদায় করতে হয়।চট্টগ্রামের নগরজীবনের পরিবর্তনের মধ্যেও দেড় শতাব্দীর বেশি সময় ধরে টিকে থাকা চন্দনপুরা মসজিদ তাই ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নগরের ইতিহাস, স্থাপত্য ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।লেখক পরিচিতি মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ।

১৫৫ বছরের পুরোনো চন্দনপুরা মসজিদ, স্থাপত্যের বৈচিত্র্যে আজও অনন্য

চট্টগ্রামে নারীদের জন্য চালু হলো বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস

চট্টগ্রাম নগরে কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে পিংক রঙের বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। এই সার্ভিসের দুটি বাসের চালক ও হেলপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরা।মঙ্গলবার দুপুরে নগরের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এ বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এবং বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে দুটি পিংক বাস চালু করা হয়েছে। বাস দুটি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে ফ্রি পোর্ট হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে। নারী যাত্রীদের সুবিধার জন্য দীর্ঘ এই রুটে রাখা হয়েছে ১২টি নির্দিষ্ট স্টপেজ।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এরশাদ উল্লাহ বলেন, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, যা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস সার্ভিসটির পরিচালনা প্রক্রিয়ায় নারীদের সম্পৃক্ত করাকে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, এই বাস সার্ভিস চালুর ফলে নারীদের প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশেষ এই বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় চট্টগ্রামের নারীদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে উদ্যোগটিকে দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার বাস্তবায়ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা এ ধরনের পরিবহন চালু হওয়ায় গণপরিবহনে হয়রানি কমতে পারে। তবে নগরে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।নারী উদ্যোক্তা আয়শা আক্তার বলেন, এ ধরনের বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করায় সরকারকে ধন্যবাদ। তবে চট্টগ্রাম নগরের আয়তন ও কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বিবেচনায় বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।তিনি বলেন, যেসব নারীকে প্রতিদিন একা কর্মস্থলে যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহনের এই ব্যবস্থা স্বস্তি বয়ে আনবে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বিশেষ এই বাস সার্ভিসের মাধ্যমে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

চট্টগ্রামে নারীদের জন্য চালু হলো বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস

অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম

অতিবৃষ্টিতে আবারও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ নগরীর সাধারণ বাসিন্দারা।পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ইসমাইল ভূইয়া জানান, সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১০৯ মিলিমিটার।আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ দিনভর চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনকে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।সকালের বৃষ্টিতে নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। সকালে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে বের হওয়া মানুষকে পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশাচালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন নগরবাসী। এ ছাড়া কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির পানি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে পড়েছে।বহদ্দারহাটের খাজা রোডের বাসিন্দা হাবিব বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের নিচতলায় পানি উঠে যায়। আজ সকালে বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় খুব কষ্ট হয়েছে।’টানা বৃষ্টির কারণে নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ‘মিটিং’ থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ১৫

চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের একটি সভা থেকে সাংবাদিকসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের ভাষ্য, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মনসুরাবাদ এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনির পাশে হাজী ফজলুল করিম চৌধুরী ‘রয়েল টাচ’ অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।গ্রেপ্তার ১৫ জনের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জা এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শুভ আইচ।এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম রুপা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক সুজলা অন্তরা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন নিশু।পুলিশ আরও যাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, তাঁরা হলেন সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, সাংবাদিক যীশু রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান আবীর, আয়েশা হেভেন ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন।ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১২। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ‘মিটিং’ থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ১৫

শেখ হাসিনার প্রশংসা চসিক কর্মকর্তার

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিনের নামে একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৪৮ সেকেন্ডের ওই অডিওতে শেখ হাসিনার প্রশংসা এবং তাঁর কোনো বিকল্প নেই এমন বক্তব্য শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।তবে অডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছিল এবং কথোপকথনের অপর প্রান্তে কে ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অডিওটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ের। বিষয়টি নিয়ে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য অমূল্য সম্পদ। তার কোনো বিকল্প নেই...।’ ওই ব্যক্তিকে আশরাফুল আমিন বলে দাবি করা হলেও অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এদিকে আশরাফুল আমিনের কাছে অডিওটির বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে অডিওটি পাঠিয়ে লিখিত বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত এসএমএসে বলেন, ‘এটি শুনলেই বোঝা যায়, বক্তব্য আমার না।’এর আগে আশরাফুল আমিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। গত প্রায় ১০ মাস ধরে চসিকে স্থায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।চসিকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একসঙ্গে দায়িত্ব পালনের কারণে প্রশাসনে তাঁর প্রভাব বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল আমিনের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ ছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।চসিকে যোগ দেওয়ার আগে আশরাফুল আমিন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ‘এটুআই’ প্রকল্পে স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ভাইরাল অডিওটির উৎস, ধারণের সময় এবং এতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনার প্রশংসা চসিক কর্মকর্তার

ভাটিয়ারী শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, আহত ১০

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।শুক্রবার সকালে ভাটিয়ারী শিপইয়ার্ডে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।বিস্ফোরণের পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কীভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় শিপইয়ার্ড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের কারণ ও আহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।বিস্তারিত আসছে...

ভাটিয়ারী শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ, আহত ১০

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন এবং বহিরাগত মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।কোতোয়ালী থানায় করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট নগদ অর্থ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর সময় ওই ঘাটতি ধরা পড়ে। অভিযোগ করা হয়েছে, বড় নোটের বান্ডিলে ছোট নোট ঢুকিয়ে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম রাখা হতো। পরে ঘাটতির অর্থ হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকার ‘ইশরাত এগ্রো’ গরুর খামারে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।গ্রেপ্তার জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর দাবি, জাফরুল্লাহ ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন এবং তাঁর কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ডও নেই।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, দুই আসামির মোবাইল ফোন ও একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।এ ঘটনায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এত বড় অঙ্কের ঘাটতি ধরা পড়েনি কেন, প্রতিদিনের হিসাব ও ভল্ট কে যাচাই করতেন এবং একজন বহিরাগত কীভাবে ভল্টের অর্থের সঙ্গে যুক্ত হলেন-এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।গ্রাহকদের আমানতের অর্থ জড়িত থাকায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদারকি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব এবং শাখার নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও