ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।জিএমটি সময় ভোর ৪টা ৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৬৮ ডলার কমে ১০৯ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪৩ ডলার কমে দাঁড়ায় ১০০ দশমিক ৬৯ ডলারে।এর আগে মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরও অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছিল।কূটনৈতিক অগ্রগতিতে কমেছে উদ্বেগযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে পরিস্থিতি নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দামে এর প্রভাব পড়েছে।তেলের দামে কারিগরি সংশোধনতেলের বাজারের সাম্প্রতিক দরপতনকে আংশিকভাবে কারিগরি সংশোধন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের পর আজ সকালে এর কিছুটা কারিগরি দরপতন দেখা যাচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক অগ্রগতির ক্ষীণ আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের কোনো সামরিক উত্তেজনা না ঘটায়, তেলের দামের ওপর থেকে আপাতত তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমেছে।’বিশ্লেষকদের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সামরিক উত্তেজনা না বাড়ার পরিস্থিতি আপাতত তেলের বাজারে স্বস্তি এনেছে।সূত্র: আলজাজিরা

মার্কিন নির্বাচনের আগে জাহাজে হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রাখতে এবং ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কৌশল পরিবর্তন করছে ইরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আশপাশের বিস্তৃত জলসীমায়ও হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান।বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ দিন আগে ইরান এমন কিছু জাহাজের বিরুদ্ধে হামলার ধরন ও গতি পরিবর্তন করেছে, যেগুলোকে তারা নিজেদের আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারী বলে মনে করে। এর ফলে ওই ধরনের জাহাজে হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।তাঁদের ভাষ্য, নতুন কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলা। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টায় বাধাইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বৈশ্বিক তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করাই লক্ষ্য।’অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তেলের দাম কমাতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘যখনই তারা ভাববে, দাম কমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তখনই আমরা তাদের সেই অবস্থান থেকে দূরে ঠেলে দেব। এটি দাবার খেলা।’ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এ বিষয়ে সমন্বয় রয়েছে।ছোট নৌকায় নজরদারি, লক্ষ্য চিহ্নিত করছে ইরানএক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রাডার সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হওয়ার পর দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে ছোট নৌকায় নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক ব্যবহার শুরু করেছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌযানসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শনাক্ত করে আইআরজিসিকে তথ্য দিচ্ছেন বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।গত সপ্তাহে এমনই একটি ঘটনায় ইরানি পর্যবেক্ষকেরা একটি ধৌ নৌযান থেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পাঠাচ্ছিলেন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী নির্ধারণ করে। পরে মার্কিন বাহিনী নৌযানটির মুখোমুখি হয়, আরোহীদের নৌযান ছেড়ে যেতে বলে এবং সেটি ধ্বংস করে। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিজেদের অবশিষ্ট দ্রুতগতির নৌযানগুলো ঝুঁকির মুখে ফেলতে না চাওয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না। বিশেষ করে মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।হরমুজের বাইরেও হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির বাইরেও অভিযান বিস্তৃত করতে চায় তেহরান। ওমান উপসাগর এবং আরও দূরের জলসীমাও এর আওতায় আসতে পারে।সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির বাইরেও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় হামলার তথ্যও রয়েছে।এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সাম্প্রতিক হামলার গতি বেড়েছে এবং তা পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে।গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে অন্তত পাঁচটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) কাছে জানানো তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে ড্রোন হামলাও রয়েছে।জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্যেও হামলার এই বৃদ্ধি প্রতিফলিত হয়েছে। গত ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের হামলার হারের সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির তুলনা করে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।‘শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ’ হতে পারে হরমুজহরমুজ প্রণালিতে নিজেদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারী কোনো জাহাজকে চলাচল করতে না দেওয়ার পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির দুই কর্মকর্তা। তাঁদের একজন বলেছেন, ‘শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।’যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান। চলাচলে বিধিনিষেধ ও জাহাজে হামলার কারণে প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করছে ওয়াশিংটন। সংঘাতের অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে চাপ দেওয়াই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বিবেচনা করছেন। তবে নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা চালাবেন না বলে তিনি জানিয়েছেন।জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তাইরান যুদ্ধ ও এর অর্থনৈতিক ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণায়ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ব্যয় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হামলার হুমকি, জাহাজ চলাচলের বাড়তি খরচ এবং বিমার উচ্চ ব্যয় স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) রোববারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকিকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছে। এটি তাদের ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর।সংস্থাটি জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নজরদারি, ড্রোনের উড্ডয়ন এবং ভিএইচএফ রেডিওতে যোগাযোগের মাধ্যমে হয়রানিসহ আইআরজিসির হামলা ও হামলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পেন্টাগন ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স

মার্কিন নির্বাচনের আগে জাহাজে হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

রিজভীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সকাল ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন তাঁরা।সাক্ষাতের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।বৈঠকে দুই দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সাক্ষাতে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন ও রাজনৈতিক অ্যাটাশে লিং শুয়ান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম এবং এপিএস জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

রিজভীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মোখায় ইয়েমেনি বাহিনীর দুর্বলতা স্পষ্ট, হুথিদের অগ্রযাত্রার আশঙ্কা

ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখল ঠেকাতে ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই অপ্রস্তুত ছিল। বাহিনীর তালিকায় বিপুলসংখ্যক এমন সেনার নাম ছিল, বাস্তবে যাঁদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।‘ঘোস্ট নেম’ বা ভুতুড়ে নামের এসব সেনার নামে নিয়মিত বেতনও দেওয়া হতো। ফলে কাগজে-কলমে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে প্রকৃত শক্তির তুলনায় অনেক বড় দেখাত। বাস্তবে বাহিনীর সদস্যসংখ্যা নথিতে উল্লেখ করা সংখ্যার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ছিল। মোখার পতনকে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ভুল হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কারণেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে।এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় ইয়েমেনি বাহিনীর ওপর চাপানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, গতকাল পুরো দিন সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বিমান হামলা হয়নি। অথচ মাটির পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের প্রতি মিনিটে তথ্য জানানো হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সৌদি বিমান সহায়তা আসেনি।তবে মোখা রক্ষায় ব্যর্থতার পেছনে ইয়েমেনের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিষয়টি হুথিবিরোধী জোটের আরও বড় একটি দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। ইয়েমেনে হুথিবিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে কার্যকর কোনো ঐক্যবদ্ধ সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও নেই।এ অবস্থায় হুথিরা আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের সেনা ও সামরিক সক্ষমতা আরও সংগঠিত করছে।

মোখায় ইয়েমেনি বাহিনীর দুর্বলতা স্পষ্ট, হুথিদের অগ্রযাত্রার আশঙ্কা

ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক: অস্ত্র ক্রেতা থেকে উৎপাদন সহযোগী

ভারত ও ইসরাইলের সম্পর্ক গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে দুই দেশের সহযোগিতা কূটনীতি ও প্রতিরক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে। দীর্ঘদিন ইসরাইলি অস্ত্রের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ভারত এখন দেশটির অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক তদন্তে বলা হয়েছে, যৌথ উদ্যোগ ও উৎপাদন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরাইলের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় কারখানা থেকে ইসরাইলি সামরিক সরবরাহকারীদের কাছে লাখ লাখ অস্ত্রের যন্ত্রাংশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, এসব সরবরাহের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ৫ লাখ ৬৫ হাজার বিস্ফোরক অস্ত্রের অংশ রয়েছে। এসব সরবরাহে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানও যুক্ত ছিল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা ও বিচ্ছিন্নতা বাড়লেও ভারতে এ সম্পর্ক নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ স্ট্যানলি জনির মতে, এর পেছনে হিন্দুত্ববাদ ও জায়নবাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আদর্শিক সাদৃশ্য ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ভারতের ডানপন্থি রাজনীতিতে ইসরাইলকে শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দেখার প্রবণতাও এ সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে বলে মনে করেন তিনি।অন্যদিকে, ইসরাইল থেকে ভারতের অস্ত্র কেনাও অব্যাহত রয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ২৯ শতাংশের গন্তব্য ছিল ভারত। এর ফলে দেশটি ইসরাইলের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ক্রেতায় পরিণত হয়।গাজা যুদ্ধের পর ইসরাইলে ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় শ্রমিকও পাঠানো হয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।তবে ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভারতের জন্য কিছু কৌশলগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক ভারতীয় প্রবাসীর স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।স্ট্যানলি জনির মতে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও ভারতের উচিত পশ্চিম এশিয়া নীতিতে আরও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং একই সঙ্গে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক: অস্ত্র ক্রেতা থেকে উৎপাদন সহযোগী

রাশিয়ার তেল কিনলে ভারত-চীনসহ পাঁচ দেশের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ: ট্রাম্প

রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তালিকায় ভারত ও চীন রয়েছে।ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা বিলটি সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে।প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম। সিনেটে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া বোন ডারলিন গ্রাহাম বলেন, বিলটি ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সঠিক জায়গায় আঘাত হানবে’।হাউজে উঠবে ৩১ আগস্টআগামী ৩১ আগস্ট মার্কিন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নতুন অধিবেশনে বিলটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।তবে যেসব দেশ তাদের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে আমদানি করে এবং আমদানি কমানোর জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতার বিধান রাখা হয়েছে।রাশিয়ার জ্বালানি খাতেও কঠোর নিষেধাজ্ঞাবিলটিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি প্রকল্পগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।এ ছাড়া রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি রাজস্বের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো যেসব পুরোনো ও নতুন পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার ব্যবহার করছে, সেগুলোকেও বর্ধিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।ইরান নিয়েও বিধানরাশিয়ার পাশাপাশি ইরানকে নিয়েও নতুন বিধান রাখা হয়েছে বিলে। এতে ১৯৯৬ সালের ‘ইরান স্যাংশনস অ্যাক্ট’-এর মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।এই আইনের আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

রাশিয়ার তেল কিনলে ভারত-চীনসহ পাঁচ দেশের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ: ট্রাম্প