ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শ্রীমঙ্গলে বাড়ির ভেতর মিলল বিষধর শঙ্খিনী সাপ

শ্রীমঙ্গলে বাড়ির ভেতর মিলল বিষধর শঙ্খিনী সাপ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাড়ির ভেতর থেকে অত্যন্ত বিষধর শঙ্খিনী বা শাঁখামুটি (Banded Krait) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শহরের পূর্বাসা আবাসিক এলাকার গোপাল গোস্বামীর বাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাড়ির ভেতরে সাপটি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে নাহিদ নামের এক ব্যক্তি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানান।খবর পেয়ে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে সাপটি উদ্ধার করেন।বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, উদ্ধার করা সাপটি শঙ্খিনী বা শাঁখামুটি। এটি অত্যন্ত বিষধর। তাই স্থানীয়দের সাপটি ধরার বা হত্যার চেষ্টা না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, লোকালয়ে বন্যপ্রাণী দেখা গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে মেরে ফেলেন। অথচ বন্যপ্রাণী প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাড়ি বা লোকালয়ে সাপ দেখা গেলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী বা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।উদ্ধারের পর সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে সাপটিকে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

৯ টাকা ৩৭ পয়সা মজুরি বৃদ্ধি প্রত্যাখ্যান করে ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল এবং দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চা-শ্রমিকেরা।শুক্রবার চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মুরইছড়া চা-বাগানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে চা-শ্রমিকেরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।মুরইছড়া চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়কৃষানের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদ, শ্রমিকনেতা ভাগ্য, রাজু উরাং, মনি নায়েক ও মালতি রায় বক্তব্য দেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য সত্যজিৎ উরাং।বক্তারা বলেন, চা-শ্রমিকেরা দেশের সবচেয়ে অবহেলিত ও বঞ্চিত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর একটি। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁরা মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।তাঁরা আরও বলেন, প্রায় ১৮৫ বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বসবাস করলেও চা-শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এখনো ভূমিহীন। দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের তুলনায় তাঁরা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন তাঁরা।সমাবেশ থেকে ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল করে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।সমাবেশ শেষে চা-শ্রমিকেরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি মুরইছড়া চা-বাগানের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

মৌলভীবাজারে তীব্র ওষুধসংকট, জনবল ঘাটতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। ফলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১১ লাখ মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের ৭ উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৮৬ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ক্লিনিকে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার কথা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি)। এ ছাড়া তিন দিন স্বাস্থ্য সহকারী এবং বাকি তিন দিন পরিবার কল্যাণ সহকারীর কাজ করার কথা। ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিকে বড়জোর প্যারাসিটামল, মেট্রিল আর স্যালাইন পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিক কার্যত ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলা পতনঊষার শ্রীসূর্য্য কমিউনিটি ক্লিনিকে দেখা যায়, সিএইচসিপি বসে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুপুর পর্যন্ত কোনো রোগী আসেননি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লাইয়ারকুল কমিউিনিটি ক্লিনিক, উপজেলার কাকিয়াছড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাইটুলা ক্লিনিক, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের সালন কমিউনিটি ক্লিনিক দুপুরের মধ্যেই বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিক খোলা হয়। ক্লিনিকের লোকজন বেলা ২টার মধ্যেই চলে যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিকে সিএইচসিপি ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। সেবাগ্রহীতা কেউ আসলে ওষুধ সংকটের কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কমলগঞ্জের সাবিনা আক্তার বলেন, ‘এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে আগের মতো ওষুধ পাই না। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। এ জন্য এখন অনেকেই ক্লিনিকে যাওয়া বাদ দিয়ে দিতাছে।’ রাজনগরের নিদনপুর গ্রামের ফাতিহা বেগম বলেন, ‘আমি আলসারের রোগী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। ৪ মাস ধরে ক্লিনিকে এসে কোনো ওষুধ পাইনি।’ স্থানীয় ইমাম আব্দুন নুর বলেন, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে তারা। এভাবে চলতে থাকলে গরিব মানুষ চরম বিপদে পড়বে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা কমিউনিটি ক্লিনিক সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের এখানে ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছেন। মৌলভীবাজার জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের বলা হচ্ছে, শিগগির ওষুধসংকট নিরসন হবে।’ শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় আগে তিন কার্টন ওষুধ আসত, এখন এক কার্টন আসে।’ মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করে। আগের চেয়ে ওষুধ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনবলের সংকট রয়েছে।

ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা