ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা



ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা
ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারে তীব্র ওষুধসংকট, জনবল ঘাটতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। ফলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১১ লাখ মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের ৭ উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৮৬ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ক্লিনিকে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার কথা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি)। এ ছাড়া তিন দিন স্বাস্থ্য সহকারী এবং বাকি তিন দিন পরিবার কল্যাণ সহকারীর কাজ করার কথা। ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিকে বড়জোর প্যারাসিটামল, মেট্রিল আর স্যালাইন পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিক কার্যত ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া তীব্র জনবল সংকট রয়েছে।

সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলা পতনঊষার শ্রীসূর্য্য কমিউনিটি ক্লিনিকে দেখা যায়, সিএইচসিপি বসে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুপুর পর্যন্ত কোনো রোগী আসেননি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লাইয়ারকুল কমিউিনিটি ক্লিনিক, উপজেলার কাকিয়াছড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাইটুলা ক্লিনিক, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের সালন কমিউনিটি ক্লিনিক দুপুরের মধ্যেই বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিক খোলা হয়। ক্লিনিকের লোকজন বেলা ২টার মধ্যেই চলে যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিকে সিএইচসিপি ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। সেবাগ্রহীতা কেউ আসলে ওষুধ সংকটের কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

কমলগঞ্জের সাবিনা আক্তার বলেন, ‘এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে আগের মতো ওষুধ পাই না। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। এ জন্য এখন অনেকেই ক্লিনিকে যাওয়া বাদ দিয়ে দিতাছে।’

রাজনগরের নিদনপুর গ্রামের ফাতিহা বেগম বলেন, ‘আমি আলসারের রোগী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। ৪ মাস ধরে ক্লিনিকে এসে কোনো ওষুধ পাইনি।’

স্থানীয় ইমাম আব্দুন নুর বলেন, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে তারা। এভাবে চলতে থাকলে গরিব মানুষ চরম বিপদে পড়বে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা কমিউনিটি ক্লিনিক সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের এখানে ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছেন।

মৌলভীবাজার জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের বলা হচ্ছে, শিগগির ওষুধসংকট নিরসন হবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় আগে তিন কার্টন ওষুধ আসত, এখন এক কার্টন আসে।’

মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করে। আগের চেয়ে ওষুধ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনবলের সংকট রয়েছে।

বিষয় : ছাপা সংস্করণ কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার ওষুধ সিলেট বিভাগ সংকট কমিউনিটি ক্লিনিক

দৈনিক নবকাল

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারে তীব্র ওষুধসংকট, জনবল ঘাটতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। ফলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১১ লাখ মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের ৭ উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৮৬ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ক্লিনিকে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার কথা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি)। এ ছাড়া তিন দিন স্বাস্থ্য সহকারী এবং বাকি তিন দিন পরিবার কল্যাণ সহকারীর কাজ করার কথা। ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিকে বড়জোর প্যারাসিটামল, মেট্রিল আর স্যালাইন পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিক কার্যত ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া তীব্র জনবল সংকট রয়েছে।

সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলা পতনঊষার শ্রীসূর্য্য কমিউনিটি ক্লিনিকে দেখা যায়, সিএইচসিপি বসে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুপুর পর্যন্ত কোনো রোগী আসেননি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লাইয়ারকুল কমিউিনিটি ক্লিনিক, উপজেলার কাকিয়াছড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাইটুলা ক্লিনিক, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের সালন কমিউনিটি ক্লিনিক দুপুরের মধ্যেই বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিক খোলা হয়। ক্লিনিকের লোকজন বেলা ২টার মধ্যেই চলে যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিকে সিএইচসিপি ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। সেবাগ্রহীতা কেউ আসলে ওষুধ সংকটের কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

কমলগঞ্জের সাবিনা আক্তার বলেন, ‘এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে আগের মতো ওষুধ পাই না। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। এ জন্য এখন অনেকেই ক্লিনিকে যাওয়া বাদ দিয়ে দিতাছে।’

রাজনগরের নিদনপুর গ্রামের ফাতিহা বেগম বলেন, ‘আমি আলসারের রোগী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। ৪ মাস ধরে ক্লিনিকে এসে কোনো ওষুধ পাইনি।’

স্থানীয় ইমাম আব্দুন নুর বলেন, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে তারা। এভাবে চলতে থাকলে গরিব মানুষ চরম বিপদে পড়বে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা কমিউনিটি ক্লিনিক সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের এখানে ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছেন।

মৌলভীবাজার জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের বলা হচ্ছে, শিগগির ওষুধসংকট নিরসন হবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় আগে তিন কার্টন ওষুধ আসত, এখন এক কার্টন আসে।’

মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করে। আগের চেয়ে ওষুধ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনবলের সংকট রয়েছে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা
0:00 0:00
1.0x