ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
তিন মাস পর শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা-পাথর আমদানি শুরু

তিন মাস পর শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা-পাথর আমদানি শুরু

তিন মাস বন্ধ থাকার পর সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে আবারও কয়লা ও পাথর আমদানি শুরু হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীরা। এতে দুই দেশের সীমান্তবাণিজ্য আবারও সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে শেওলা স্থলবন্দরের পোর্ট ভবনের সম্মেলনকক্ষে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের যৌথ মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কয়লা ও পাথর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু করা এবং সীমান্তবাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহার সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক আতিক হোসেন। এতে ভারতের করিমগঞ্জ এক্সপোর্টারস অ্যান্ড ইমপোর্টারস কো-অর্ডিনেশন টিম এবং বাংলাদেশের কয়লা ও পাথর আমদানিকারক গ্রুপের নেতারা অংশ নেন।সভায় দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনের অনুমোদিত বৈধ সদস্যদের তালিকা পারস্পরিকভাবে বিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি ওই তালিকাভুক্ত সদস্যদের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে কয়লা ও পাথর আমদানি-রপ্তানি না করার বিষয়ে একমত হন ব্যবসায়ী নেতারা।ব্যবসায়ীরা জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমদানি কার্যক্রম পুনরায় চালুর পাশাপাশি সীমান্তবাণিজ্য সচল রাখতে দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো যৌথভাবে কাজ করবে। সভায় ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে আবু সালেহ মো. ফখর উদ্দিন, অমরেশ রায়, সত্য রঞ্জন দে, শিবাজী চৌধুরী ও রুহুল কুদ্দুছ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মধ্যে ছিলেন সোহেল আহমদ, জাকারিয়া ইমতিয়াজ জাকির, মনিরুল হক, মো. শাহ আলম, জুয়েল আহমদ ও আবুল হাসেমসহ অনেকে।

ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

মৌলভীবাজারে তীব্র ওষুধসংকট, জনবল ঘাটতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। ফলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১১ লাখ মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের ৭ উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৮৬ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ক্লিনিকে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার কথা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি)। এ ছাড়া তিন দিন স্বাস্থ্য সহকারী এবং বাকি তিন দিন পরিবার কল্যাণ সহকারীর কাজ করার কথা। ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিকে বড়জোর প্যারাসিটামল, মেট্রিল আর স্যালাইন পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিক কার্যত ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলা পতনঊষার শ্রীসূর্য্য কমিউনিটি ক্লিনিকে দেখা যায়, সিএইচসিপি বসে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুপুর পর্যন্ত কোনো রোগী আসেননি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লাইয়ারকুল কমিউিনিটি ক্লিনিক, উপজেলার কাকিয়াছড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাইটুলা ক্লিনিক, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের সালন কমিউনিটি ক্লিনিক দুপুরের মধ্যেই বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিক খোলা হয়। ক্লিনিকের লোকজন বেলা ২টার মধ্যেই চলে যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিকে সিএইচসিপি ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না। সেবাগ্রহীতা কেউ আসলে ওষুধ সংকটের কথা বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কমলগঞ্জের সাবিনা আক্তার বলেন, ‘এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে আগের মতো ওষুধ পাই না। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। এ জন্য এখন অনেকেই ক্লিনিকে যাওয়া বাদ দিয়ে দিতাছে।’ রাজনগরের নিদনপুর গ্রামের ফাতিহা বেগম বলেন, ‘আমি আলসারের রোগী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। ৪ মাস ধরে ক্লিনিকে এসে কোনো ওষুধ পাইনি।’ স্থানীয় ইমাম আব্দুন নুর বলেন, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে তারা। এভাবে চলতে থাকলে গরিব মানুষ চরম বিপদে পড়বে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা কমিউনিটি ক্লিনিক সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের এখানে ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছেন। মৌলভীবাজার জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের বলা হচ্ছে, শিগগির ওষুধসংকট নিরসন হবে।’ শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় আগে তিন কার্টন ওষুধ আসত, এখন এক কার্টন আসে।’ মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করে। আগের চেয়ে ওষুধ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনবলের সংকট রয়েছে।

ওষুধের তীব্র সংকটব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা