ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজির বাজারে চড়া দাম। আগাম ফলন ও উৎপাদন বাড়ানোর আশায় অতিরিক্ত কীটনাশক ও ফল বর্ধনশীল ভিটামিন প্রয়োগ, টানা বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে।জেলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, করলা ও বরবটিসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ১৮০ টাকা, বাঁধাকপি ১২০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায়।কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি ও শিমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।যেসব এলাকায় বেশি সবজি চাষপঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা ও রতনীবাড়ী; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মাড়েয়া ও বড়শশী; আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়াখোয়া ও সর্দারপাড়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ী ও কালীগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়।এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। পরে এসব সবজির একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার বাজারে পাঠানো হয়। তবে এবার আগাম সবজির উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদেরবোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজিচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর সবজি চাষ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করেন। এবার তিনি শিম, করলা, ঝিঙা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতি চাষ করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজির আবাদ ভালো হয়নি।সফিকুল ইসলাম বলেন, সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়ার আশাজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সবজি চাষে কৃষকদের কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এ কারণে বাজারে আগাম সবজির সরবরাহ কম রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টিপাত কমে এলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব মো. সেলিম খান

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মো. সেলিম খান। বুধবার তিনি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যোগদান করেন।এর আগে ১১ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সেলিম খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়।সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মো. সেলিম খান বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা।দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মাঠ প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন দায়িত্বে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব মো. সেলিম খান

প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র কেনার পরিকল্পনা ভারতের উত্তর প্রদেশে

ভারতের উত্তর প্রদেশে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের জন্য পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। বুলন্দশহর জেলার ১৫টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে।বর্তমানে এসব গ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সংগ্রহের সুবিধার জন্য গ্রামগুলোতে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্কও স্থাপন করা হয়েছে।সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান এবং দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া গরুর রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করাও প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য।প্রকল্পের সঙ্গে প্রায় ৩০০ নারী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের কৃষক উৎপাদক সংগঠন বা এফপিওর (FPO) শেয়ারহোল্ডার করা হয়েছে। গোমূত্র সংগ্রহে সহযোগিতা করা নারীরা প্রতি লিটারে ২ রুপি করে কমিশন পাচ্ছেন।সংগৃহীত গোমূত্র কৃষিকাজের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে রাসায়নিক সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের বিকল্প তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে পুরো উত্তর প্রদেশে কার্যক্রমটি সম্প্রসারণের জন্য পৃথক নীতি প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) উদ্যোগটিকে ‘কেলেঙ্কারি’ আখ্যা দিয়েছে। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে।অবশ্য এসপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির দাবি, সরকার যেসব উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করে, এসপি সেগুলোর বিরোধিতা করে আসছে। সূত্র: এনডিটিভি

প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র কেনার পরিকল্পনা ভারতের উত্তর প্রদেশে

খামারিদের জন্য আসছে দেশীয় ভ্যাকসিন

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিএলআরআই উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন এবং খামারি পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।প্রাণিসম্পদ খাতকে দেশের কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতে রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ পোলট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দেশীয়ভাবে কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মন্ত্রী বলেন, “আজকের আয়োজন শুধু একটি ভ্যাকসিন হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং গবেষণাগারে অর্জিত জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ের খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”তিনি আরও বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত এসব ভ্যাকসিন প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতের রোগ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার করে এসব ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন। গবেষণাগারে কোনো উদ্ভাবন সম্পন্ন হওয়ার পর তা সাধারণ মানুষের কাজে না এলে সেই গবেষণার পূর্ণ সুফল পাওয়া যায় না। তাই গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং খামারি পর্যায়ে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষির উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। কৃষক ও কৃষিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ও স্বাদ ধরে রাখতে নদী পুনঃখনন, পানির প্রবাহ বাড়ানো, জাটকা নিধন বন্ধ এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধে সরকার জোর দিচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে জেলেদের শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।তিনি বলেন, ওষুধ ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে যত বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাবে, উৎপাদন ব্যয় তত কমবে। এর প্রভাব খাদ্য ও প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের দামের ওপরও পড়বে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, বিজ্ঞানী ও গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চিকিৎসক, শিল্প উদ্যোক্তা, খামারি প্রতিনিধি এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

খামারিদের জন্য আসছে দেশীয় ভ্যাকসিন

দেশি গরু-ছাগল-মুরগির উৎপাদন বাড়াতে পৃথক পরিকল্পনার আহ্বান: বাকৃবি উপাচার্য

বাণিজ্যিক খামারের জন্য উচ্চ উৎপাদনশীল জাত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত দেশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।তিনি বলেছেন, দেশের আবহাওয়া ও গ্রামীণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশি জাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে প্রাণিসম্পদ খাতে টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব। এ জন্য উচ্চ উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খামার ব্যবস্থার উন্নয়নেও পৃথক পরিকল্পনা প্রয়োজন।শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দেশি গরুর দুধ ১.৫ থেকে ৪ লিটার করা সম্ভবঅধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রায় ৪২ বছর ধরে তিনি একাডেমিক ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। ব্রিডিং খাতে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, উচ্চ উৎপাদনশীল ব্যবস্থায় বেশি দুধ ও মাংস উৎপাদনে সক্ষম গরু, ছাগল ও ভেড়ার জাত উন্নয়ন জরুরি।তবে গ্রামবাংলার প্রচলিত খামার ব্যবস্থায় দেশি জাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।উপাচার্য বলেন, বর্তমানে একটি দেশি গরু গড়ে দেড় লিটার দুধ দিলেও তা চার লিটারে উন্নীত করা সম্ভব। দেশি ছাগলের গড় দুধ উৎপাদন ৩০০ গ্রাম থেকে এক লিটার এবং মুরগির ডিম উৎপাদন বছরে ৫৩টি থেকে অন্তত ১৫০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে।দেশি প্রাণীর বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের আবহাওয়া ও সাধারণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এসব প্রাণীর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো তুলনামূলকভাবে বেশি টেকসই হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।দেশেই গবাদিপশুর টিকা তৈরির আহ্বানসরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাকৃবি উপাচার্য বলেন, উচ্চ উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক খামারের জন্য উন্নত ব্রিডিং ব্যাকআপ ও হাইব্রিড লাইন তৈরি করতে হবে। এতে খামারিরা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।অন্যদিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাবিহীন গ্রামীণ খামার ব্যবস্থায় দেশি গরু, ছাগল ও মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপযোগী পরিকল্পনা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।গবাদিপশুর টিকা দেশেই উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় জীবাণু ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবাদিপশুর টিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।কৃষি নীতিতে বাকৃবির প্রতিনিধিত্ব চান উপাচার্যবাকৃবির অবদান তুলে ধরে অধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ৬৫ বছরের পথচলায় দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় অবদান রাখছেন।কৃষি খাতের নীতিনির্ধারণে বাকৃবির শিক্ষক ও গবেষকদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, ঢাকাকেন্দ্রিকতার কারণে দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নীতিনির্ধারণের বাইরে রাখা সমীচীন নয়।তিনি বলেন, কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়াতে গবেষকেরা প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানো গেলে প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ও টেকসই উন্নয়ন আরও বাড়ানো সম্ভব।সম্মেলনে সাড়ে ৬০০ গবেষক-শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান।‘ট্রান্সলেটিং ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনটু সাসটেইনেবল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় সাড়ে ৬০০ গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভেটেরিনারিয়ান অংশগ্রহণ করছেন।

দেশি গরু-ছাগল-মুরগির উৎপাদন বাড়াতে পৃথক পরিকল্পনার আহ্বান: বাকৃবি উপাচার্য

ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ, নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে কৃষক কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কৃষক কার্ড–সংক্রান্ত এক সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছবি ও কিউআর কোডসংবলিত কৃষক কার্ডে কৃষকের পরিচয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বাজারসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে কৃষক কার্ড প্রস্তুতের নির্দেশ দেন তিনি।সভায় জানানো হয়, কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হলে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি খাতে দেওয়া ভর্তুকি, সহজ শর্তের ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা দ্রুত ও সরাসরি প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতেই কৃষক কার্ড চালু করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষক এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় দুই কোটি কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও সভায় জানানো হয়।সভায় কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস এম আমীর হামজা শাতিলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর