ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপি আঁতাত করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া উচিত সরকারের।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। সাত মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’বিএনপি নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করছে না বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, ৩১ দফার ৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সরকার সব ক্ষেত্রেই দলীয়করণ করছে।

ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো। তবে তাঁর অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে নেতিবাচক কিছু দেখছেন না তিনি।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মাদক সমাজ ও মানুষের শরীরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতের আমির বলেন, ‘তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই। তিনি হয়তো ভালো নিয়তেই করেছিলেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। তারা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করে।’তিনি আরও বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, নির্মূল করতে চায় জামায়াতমাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাঁদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁরা মাদক নির্মূল করতে চান।মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।বুধবার রাতে জেলা শহরের নগুয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী।সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু বিভাগের সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সভায় অংশ নেন সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি রতন কুমার দাস, হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, গৌর নিতাই আখড়ার সাধারণ সম্পাদক সুনীল মুদক, মৃদুল কান্তি চৌধুরী, নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বিশু কুমার গুপ্ত, রিপন চন্দ্র সূত্রধর ও পলাশ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সভায় উপস্থিত নেতারা।

দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠক

তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তুরস্কের পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সম্পর্কে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারকে অবহিত করেন।তিনি রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন ডা. শফিকুর রহমান।বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বানবৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সংসদীয়, শিক্ষাগত, প্রযুক্তিগত, শিল্প-সাহিত্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।

তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠক

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল: গোলাম পরওয়ার

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাটি আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের মূল কারণ নয়, বরং এটিকে উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিমানবন্দরের ঘটনার পরদিন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আলোচনা করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারুজ্জামানের প্রতি বিএনপির যে আক্রোশ ও প্রতিশোধের আগুন ছিল, তা বাস্তবায়নের সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল। সেই সুযোগ পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।‘জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার, তবু জামিন হয়নি’জামায়াতের এই নেতা বলেন, যে ধারায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য। কিন্তু প্রথম দিন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। রোববার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়েছে।তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। আদালতে ডিভিশনের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অশুভ হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।‘আদালত চত্বরে মব সৃষ্টি ও হামলা’গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, রোববার আদালতে আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা মব সৃষ্টি ও হাতাহাতি করেছেন। এ সময় আদালত চত্বরে জামায়াতের নেতাকর্মী ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের যুগের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।’আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশে ও প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়েছেন—তাঁকে মুক্তি না দিলে প্রয়োজনে আবারও রেমিট্যান্স শাটডাউন করা হবে।বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নগোলাম পরওয়ার বলেন, এজাহারে আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তুলেছেন, মারপিট করেছেন বা নাজেহাল করেছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ভিডিওতেও এর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।বিমানমন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে ‘শতভাগ না, হাজার ভাগ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য বিমানমন্ত্রীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে যখন সংসদ সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, অশ্রুসিক্ত হন এবং ক্ষমা চান। এরপরও তাঁকেই বাদী করে মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই এ মামলা করা হয়েছে।অব্যবস্থাপনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে চারজন সদস্য লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আখতারুজ্জামান কি খুনি-ডাকাত?মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানোরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, কারাবিধিতে দুর্ধর্ষ আসামি, খুনি-ডাকাত কিংবা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থার কথা বলা আছে। ‘মেজর আখতারুজ্জামান কি খুনি, ডাকাত বা পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো আসামি? তিনি প্রথম শ্রেণির নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে হেলমেট পরানো হয়েছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’‘অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে’জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিটি গঠন, বিমানমন্ত্রীসহ দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। আদালতের বিধি অনুযায়ী সময়মতো জামিনের আবেদন করা হবে এবং আইনি লড়াইয়ে কোনো কমতি রাখা হবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রতিবাদসংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ছয় মাসে তিনবার তেল, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে।গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও মেগা প্রকল্পের নামে আয়ের হাব তৈরি করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মহানগর উত্তরের আমির সেলিমউদ্দিন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল: গোলাম পরওয়ার

তুরস্ক-মালয়েশিয়ার নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে জামায়াতের মহিলা বিভাগের মতবিনিময়

তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার নারী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে মতবিনিময়, সেমিনার ও পরিচিতিমূলক সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত সভায় তুরস্কের প্রতিনিধিদল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।তুরস্কের প্রতিনিধিদলে ছিলেন এসরা সাইদওগলু ও ড. ফৌজিয়াহ বিনতি মোহাম্মদ হাসান। সভাটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবা জাহান।সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি। তিনি নারী বিভাগের কার্যক্রম, নারীর নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, তুরস্কের নারী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফর ও মতবিনিময় দুই দেশের নারীসমাজের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে।সভায় ইসলামী ছাত্রীসংস্থার পরিচিতি তুলে ধরেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা। এ সময় তুরস্কের প্রতিনিধিরা নারী নেতৃত্ব, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক কার্যক্রম, তরুণীদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত দেন।গ্লোবাল ইউনিটি অন মুসলিম সেমিনারএকই দিন বিকেলে রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে গ্লোবাল ইউনিটি অন মুসলিম শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সফররত প্রতিনিধিদলের সদস্য ও মানবতাবাদী কর্মী ড. ফৌজিয়াহ বিনতি মোহাম্মদ হাসান।সেমিনারে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম এমপি, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার এমপি, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ফেরদৌস আরা বকুল এবং ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা। মহিলা বিভাগের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলূ এমপি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তুরস্ক-মালয়েশিয়ার নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে জামায়াতের মহিলা বিভাগের মতবিনিময়

নির্বাচনের আগে টুপি পরে মসজিদে যান, পরে ইসলামবিরোধী আইন করেন: মুফতি আলী হাসান উসামা

ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, নির্বাচনের আগে অনেকেই টুপি পরেন, মসজিদে যান এবং আলেমদের সঙ্গে সময় কাটান। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে গিয়ে ইসলামবিরোধী আইন বাস্তবায়ন করেন। তাঁদের কথা ও কাজের মধ্যে এ ধরনের অসামঞ্জস্য গ্রহণযোগ্য নয়।মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অনেকেই টুপি পরেন, মসজিদে যান, আলেমদের সঙ্গে থাকেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে সংসদে গিয়ে ইসলামবিরোধী আইন বাস্তবায়ন করেন। তারা আসলে কথার বরখেলাফ করেন। আপনাদের এই আইন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মেনে নেবে না।’তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাই সীরাতুন্নবী (সা.) থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।মুফতি আলী হাসান উসামা আরও বলেন, মানুষের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। শুধু মানুষের কাছে ভালো সাজা বা নির্বাচনের সময় ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানো যথেষ্ট নয়। ক্ষমতা ও দায়িত্ব পাওয়ার পরও ন্যায়নীতি, সততা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকতে হবে।সুনামগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুস সাত্তার মু. মামুনের সভাপতিত্বে মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান।মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মো. শামছউদ্দিন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কলাউড়া ফাজিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুছ ছাত্তার এবং বাংলাদেশ মাজলিসুল মোফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার। মাহফিলে জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনের আগে টুপি পরে মসজিদে যান, পরে ইসলামবিরোধী আইন করেন: মুফতি আলী হাসান উসামা

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণের দাবি আদায়ের জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি।জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের আমির।তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে।জনগণের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, গ্যাস নেই, পানি নেই, ইলেকট্রিসিটি নেই, কিন্তু গ্যাসের বিল যথারীতি আছে। বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আছে। এ ধরনের হয়রানি থেকে জনগণকে রেহাই দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।শনিবার রাতে নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।একটি পুরো পরিবারকে এভাবে হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।ঢাকায় এক চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি ও তাঁকে হামলার ঘটনা এবং ময়মনসিংহে এক পশুচিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাহিনীর নির্লিপ্ততা সাধারণ মানুষকে শঙ্কিত করে তুলেছে। রংপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন না- এতে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশবাসীর নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার ‘ফ্যাসিবাদের তৈরি পুরোনো পথে’ হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেছেন, সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নেওয়া হলে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরালো করতে বাধ্য হবে।শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সবুজবাগ-মুগদা জোনের রুকন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী গত ছয় মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে দলীয়করণ করেছে, তা পতিত আওয়ামী লীগ সরকারকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যে দলীয়করণ করেছে, বিএনপি ছয় মাসে তার চেয়ে কম করেনি।তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও ক্ষমতা গ্রহণের পর ‘সবার আগে বিএনপি’ নীতিতে চলছে। রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ-মাদ্রাসার মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানেও দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে, যদি সরকার সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নেয়।শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গণভোটে জনগণের দেওয়া গণরায় মেনে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এর সমাধান রাজপথেই হবে।তিনি বলেন, এজন্য যা যা করণীয়, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তা করবে। জনগণের অধিকার আদায়ে অতীতের মতো জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা রাখবে।এ জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।জামায়াতে ইসলামীর সবুজবাগ-মুগদা জোনের পরিচালক ড. মোবারক হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিচালক মনির বিন আনোয়ারের সঞ্চালনায় রুকন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে দেখছে সরকার: জামায়াত নেতা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিরোধী দলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর টেকে না। এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য হলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।তিনি বলেন, ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছিল সরকারের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। একই সঙ্গে এটি গণতান্ত্রিক চর্চার একটি নতুন উদ্যোগ।হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা বিরোধী দল আগে থেকেই জানত। এরপরও জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করার জন্য তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।তাঁর মতে, এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে নতুন করে উপলব্ধি তৈরি হয়েছে যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করতে সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।তিনি আরও বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে দেখছে সরকার: জামায়াত নেতা

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পর এখন প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বাস্তব ফলাফল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণের কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের সময় এসেছে। তাঁর দাবি, এই সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা ও বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি দেখা গেছে।জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেইগণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেটের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি।তাঁর দাবি, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি।জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোর কোনোটি গত ছয় মাসে বাস্তবায়িত হয়নি।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটজ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে পড়ছে।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানায় প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে এবং প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সরকারি তথ্য উদ্বেগ তৈরি করছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য উল্লেখ করে তিনি মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে।দ্রব্যমূল্য ও ব্যাংকিং খাতদ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছে জামায়াত। দলটির হিসাবে, জুন ২০২৬-এ দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো বেশি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়ছে এবং প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট ও আমানতকারীদের আস্থাহীনতা কাটাতে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।পররাষ্ট্রনীতি ও রোহিঙ্গা সংকটপররাষ্ট্রনীতিতেও সরকারের কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন ঘোষণা করা হলেও ছয় মাসে এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।সরকারের প্রতি জামায়াতের আট দফাসংবাদ সম্মেলনে সরকারকে আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, অস্বাভাবিক মুনাফা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা এবং দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী সময়ে সরকার দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন জানাবে জামায়াত

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব পালনের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হবে।জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেবেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত ভেন্যুতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে দলের মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে।সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানও তুলে ধরা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন জানাবে জামায়াত

আরও বেশি নারীকে ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে

সমাজের আরও বেশি সংখ্যক নারীকে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা।শুক্রবার দিনাজপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা শাখার মহিলা বিভাগের আয়োজনে ‘মহিলা দায়িত্বশীলা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়তে নারীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক জনশক্তিকে তাকওয়াবান হতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের আরও বেশি নারীকে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, আদর্শ জাতি গঠনে মায়েদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নারীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে। সমাজ গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা, ইসলামী সংস্কৃতি ও ইসলামী অর্থনীতি নিয়ে ব্যাপক অধ্যয়ন ও গবেষণায় নারীদের মনোযোগী হতে হবে।দিনাজপুর জেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি মোস্তাকিমা বেগমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের মহিলা বিভাগের পরিচালিকা রোজিনা রোজি এবং সহকারী পরিচালিকা আফরোজা বেগম।সম্মেলনে অঞ্চলের টিম সদস্য এবং দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজকেরা জানান, ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নারীদের মধ্যে দ্বীনি সচেতনতা বাড়ানো এবং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নারীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে সম্মেলনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়।দিনাজপুর জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের মহিলা দায়িত্বশীলরা সম্মেলনে অংশ নেন।

আরও বেশি নারীকে ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে

জামায়াতের জুলাই প্রদর্শনীতে ছাত্রদল নেতা আবিদের সেই আহ্বান

রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবন ‘লাল বাড়ি’তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ‘জুলাই এখনও শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী চলছে। প্রদর্শনীতে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান আবিদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চাঁনখারপুলে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আবিদুল ইসলাম খান আবিদ বলেছিলেন, ‘প্লিজ কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না।’ তাঁর এই আহ্বান সে সময় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের উত্তাল সময়ে বাক্যটি পরিচিত হয়ে ওঠে একটি আবেগঘন স্লোগান ও আকুতি হিসেবে।জামায়াত আমিরের সরকারি বাসভবন ‘লাল বাড়ি’তে আয়োজিত প্রদর্শনীতে আবিদের সেই সময়কার ভিডিওও দেখানো হচ্ছে। এতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা ও আন্দোলনকারীদের ভূমিকার পাশাপাশি আবিদের ওই আহ্বানও তুলে ধরা হয়েছে।জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নএদিকে প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেলেও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমানের ভূমিকার উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে।শনিবার প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এর ব্যাখ্যা দেন।তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে মূলত কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা এবং এর বিরুদ্ধে মানুষের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচনা না করায় তাঁর ভাষণ বা ভূমিকা প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তা স্বীকার করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। প্রদর্শনীতে ইতিহাসকে নির্মোহ ও বাস্তবভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

জামায়াতের জুলাই প্রদর্শনীতে ছাত্রদল নেতা আবিদের সেই আহ্বান