ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
নির্বাচনের আগে টুপি পরে মসজিদে যান, পরে ইসলামবিরোধী আইন করেন: মুফতি আলী হাসান উসামা

নির্বাচনের আগে টুপি পরে মসজিদে যান, পরে ইসলামবিরোধী আইন করেন: মুফতি আলী হাসান উসামা

ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, নির্বাচনের আগে অনেকেই টুপি পরেন, মসজিদে যান এবং আলেমদের সঙ্গে সময় কাটান। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে গিয়ে ইসলামবিরোধী আইন বাস্তবায়ন করেন। তাঁদের কথা ও কাজের মধ্যে এ ধরনের অসামঞ্জস্য গ্রহণযোগ্য নয়।মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অনেকেই টুপি পরেন, মসজিদে যান, আলেমদের সঙ্গে থাকেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে সংসদে গিয়ে ইসলামবিরোধী আইন বাস্তবায়ন করেন। তারা আসলে কথার বরখেলাফ করেন। আপনাদের এই আইন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মেনে নেবে না।’তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাই সীরাতুন্নবী (সা.) থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।মুফতি আলী হাসান উসামা আরও বলেন, মানুষের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। শুধু মানুষের কাছে ভালো সাজা বা নির্বাচনের সময় ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানো যথেষ্ট নয়। ক্ষমতা ও দায়িত্ব পাওয়ার পরও ন্যায়নীতি, সততা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকতে হবে।সুনামগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুস সাত্তার মু. মামুনের সভাপতিত্বে মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান।মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মো. শামছউদ্দিন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কলাউড়া ফাজিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুছ ছাত্তার এবং বাংলাদেশ মাজলিসুল মোফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার। মাহফিলে জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণের দাবি আদায়ের জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি।জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের আমির।তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে।জনগণের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, গ্যাস নেই, পানি নেই, ইলেকট্রিসিটি নেই, কিন্তু গ্যাসের বিল যথারীতি আছে। বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আছে। এ ধরনের হয়রানি থেকে জনগণকে রেহাই দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।শনিবার রাতে নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।একটি পুরো পরিবারকে এভাবে হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।ঢাকায় এক চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি ও তাঁকে হামলার ঘটনা এবং ময়মনসিংহে এক পশুচিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাহিনীর নির্লিপ্ততা সাধারণ মানুষকে শঙ্কিত করে তুলেছে। রংপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন না- এতে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশবাসীর নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার ‘ফ্যাসিবাদের তৈরি পুরোনো পথে’ হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেছেন, সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নেওয়া হলে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরালো করতে বাধ্য হবে।শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সবুজবাগ-মুগদা জোনের রুকন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী গত ছয় মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে দলীয়করণ করেছে, তা পতিত আওয়ামী লীগ সরকারকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যে দলীয়করণ করেছে, বিএনপি ছয় মাসে তার চেয়ে কম করেনি।তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও ক্ষমতা গ্রহণের পর ‘সবার আগে বিএনপি’ নীতিতে চলছে। রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ-মাদ্রাসার মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানেও দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে, যদি সরকার সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নেয়।শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গণভোটে জনগণের দেওয়া গণরায় মেনে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এর সমাধান রাজপথেই হবে।তিনি বলেন, এজন্য যা যা করণীয়, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তা করবে। জনগণের অধিকার আদায়ে অতীতের মতো জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা রাখবে।এ জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।জামায়াতে ইসলামীর সবুজবাগ-মুগদা জোনের পরিচালক ড. মোবারক হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিচালক মনির বিন আনোয়ারের সঞ্চালনায় রুকন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে দেখছে সরকার: জামায়াত নেতা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিরোধী দলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর টেকে না। এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য হলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।তিনি বলেন, ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছিল সরকারের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। একই সঙ্গে এটি গণতান্ত্রিক চর্চার একটি নতুন উদ্যোগ।হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা বিরোধী দল আগে থেকেই জানত। এরপরও জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করার জন্য তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।তাঁর মতে, এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে নতুন করে উপলব্ধি তৈরি হয়েছে যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করতে সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।তিনি আরও বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে দেখছে সরকার: জামায়াত নেতা

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পর এখন প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বাস্তব ফলাফল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণের কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের সময় এসেছে। তাঁর দাবি, এই সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা ও বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি দেখা গেছে।জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেইগণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেটের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি।তাঁর দাবি, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি।জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোর কোনোটি গত ছয় মাসে বাস্তবায়িত হয়নি।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটজ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে পড়ছে।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানায় প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে এবং প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সরকারি তথ্য উদ্বেগ তৈরি করছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য উল্লেখ করে তিনি মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে।দ্রব্যমূল্য ও ব্যাংকিং খাতদ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছে জামায়াত। দলটির হিসাবে, জুন ২০২৬-এ দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো বেশি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়ছে এবং প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট ও আমানতকারীদের আস্থাহীনতা কাটাতে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।পররাষ্ট্রনীতি ও রোহিঙ্গা সংকটপররাষ্ট্রনীতিতেও সরকারের কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন ঘোষণা করা হলেও ছয় মাসে এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।সরকারের প্রতি জামায়াতের আট দফাসংবাদ সম্মেলনে সরকারকে আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, অস্বাভাবিক মুনাফা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা এবং দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী সময়ে সরকার দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন জানাবে জামায়াত

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব পালনের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হবে।জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেবেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত ভেন্যুতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে দলের মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে।সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানও তুলে ধরা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন জানাবে জামায়াত

আরও বেশি নারীকে ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে

সমাজের আরও বেশি সংখ্যক নারীকে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা।শুক্রবার দিনাজপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা শাখার মহিলা বিভাগের আয়োজনে ‘মহিলা দায়িত্বশীলা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়তে নারীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক জনশক্তিকে তাকওয়াবান হতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের আরও বেশি নারীকে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, আদর্শ জাতি গঠনে মায়েদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নারীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে। সমাজ গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা, ইসলামী সংস্কৃতি ও ইসলামী অর্থনীতি নিয়ে ব্যাপক অধ্যয়ন ও গবেষণায় নারীদের মনোযোগী হতে হবে।দিনাজপুর জেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি মোস্তাকিমা বেগমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের মহিলা বিভাগের পরিচালিকা রোজিনা রোজি এবং সহকারী পরিচালিকা আফরোজা বেগম।সম্মেলনে অঞ্চলের টিম সদস্য এবং দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজকেরা জানান, ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নারীদের মধ্যে দ্বীনি সচেতনতা বাড়ানো এবং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নারীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে সম্মেলনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়।দিনাজপুর জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের মহিলা দায়িত্বশীলরা সম্মেলনে অংশ নেন।

আরও বেশি নারীকে ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে

জামায়াতের জুলাই প্রদর্শনীতে ছাত্রদল নেতা আবিদের সেই আহ্বান

রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবন ‘লাল বাড়ি’তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ‘জুলাই এখনও শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী চলছে। প্রদর্শনীতে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান আবিদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চাঁনখারপুলে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আবিদুল ইসলাম খান আবিদ বলেছিলেন, ‘প্লিজ কেউ কাউকে ছেড়ে যাইয়েন না।’ তাঁর এই আহ্বান সে সময় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের উত্তাল সময়ে বাক্যটি পরিচিত হয়ে ওঠে একটি আবেগঘন স্লোগান ও আকুতি হিসেবে।জামায়াত আমিরের সরকারি বাসভবন ‘লাল বাড়ি’তে আয়োজিত প্রদর্শনীতে আবিদের সেই সময়কার ভিডিওও দেখানো হচ্ছে। এতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা ও আন্দোলনকারীদের ভূমিকার পাশাপাশি আবিদের ওই আহ্বানও তুলে ধরা হয়েছে।জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নএদিকে প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেলেও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমানের ভূমিকার উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে।শনিবার প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এর ব্যাখ্যা দেন।তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে মূলত কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা এবং এর বিরুদ্ধে মানুষের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচনা না করায় তাঁর ভাষণ বা ভূমিকা প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তা স্বীকার করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। প্রদর্শনীতে ইতিহাসকে নির্মোহ ও বাস্তবভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

জামায়াতের জুলাই প্রদর্শনীতে ছাত্রদল নেতা আবিদের সেই আহ্বান

গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান, সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সমালোচনায় গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি ‘জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে’ এবং দলটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করছে না। তিনি অভিযোগ করেন, ৩৬ জুলাই উপলক্ষে বিএনপির দলীয় কোনো কর্মসূচি ছিল না এবং ক্ষমতায় আসার পর দলটি জুলাইয়ের চেতনাকে অস্বীকার করেছে।সোমবার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁর দাবি, সংস্কার ইস্যুতে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা বিএনপিকেই সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, সংসদে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হলে গণভোটের পক্ষে থাকা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১১-দলীয় ঐক্য রাজপথে কর্মসূচি দেবে।বিএনপির একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সংস্কারের প্রতি সমর্থন ছিল কেবল নির্বাচন আয়োজনের উদ্দেশ্যে। তাঁর ভাষ্য, জনগণ রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছে, শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়। তাই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রয়োজন।জনসভায় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির মহাসচিবের একটি বক্তব্য উল্লেখ করে সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি সরকারের প্রতি গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। একই ধরনের বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। তিনি বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, ড. মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাসহ জুলাইয়ে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।জনসভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।

গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান, সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সমালোচনায় গোলাম পরওয়ার