ভোটার তালিকা সংশোধন স্থগিতের দাবিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পথে বিরোধীদের মিছিল
ভারতে
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেছেন
হাজারো বিরোধী নেতা-কর্মী ও
সমর্থক। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানী
নয়াদিল্লিতে এ কর্মসূচি পালিত
হয়। একই সঙ্গে প্রধান
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।সমালোচকদের
অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা
পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাচ্ছে। এ নিয়ে চলতি
মাসের শুরু থেকে প্রায়
প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মী এবং
‘ককরোচ’ যুব আন্দোলনের সমর্থকেরা।গত
বছর শুরু হওয়া এই
সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির
বেশি নাম বাদ দেওয়া
হয়েছে। এই সংখ্যা জাপানের
জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বাদ পড়া নামের
মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০
লাখ মৃত ব্যক্তি, ৬
কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র
চলে যাওয়া ব্যক্তি এবং ৩ কোটি
এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।সোমবারের
মিছিলটি নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার প্রায় সাত কিলোমিটার পথ
অতিক্রম করে সুপ্রিম কোর্টের
দিকে যায়। এ সময়
বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন দলের
পতাকা দেখা যায়। তাঁরা
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। কড়া নিরাপত্তার
মধ্যে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।এর
আগে সপ্তাহান্তে বড় ধরনের বিক্ষোভ
আয়োজনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে পুলিশ অভিযান
চালায়। এ সময় ককরোচ
জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাসহ হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায়ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সম্ভাবনাভোটার
তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের করা
আবেদনটি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে।
আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী।আবেদনে
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া
নামগুলোর নিরীক্ষা, আগাম নোটিশ ও
শুনানি ছাড়া ভোটারদের নাম
বাদ দেওয়া বন্ধে সুরক্ষাব্যবস্থা এবং দেশজুড়ে সংশোধন
কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে।তবে
নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলকে
সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ভুল করে যাঁদের
নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা
পুনরায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন।অন্যদিকে
বিজেপির অভিযোগ, বিরোধীরা বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া
নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে
দুর্বল করার চেষ্টা করছে।সোমবারের
মিছিলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের
পাশাপাশি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন। পিএইচডির
শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ সিয়াগ বলেন, ‘দেশের মৌলিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত আসছে,
প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বাধীনতা হারাচ্ছে। এই আঘাতের প্রতিবাদ
জানাতেই আমি এখানে এসেছি।’১১ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ছয়টি মেট্রো স্টেশনবিক্ষোভ
ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে দিল্লি পুলিশ।
সোমবার ছয়টি মেট্রো স্টেশন
১১ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা
হয়। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে
বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।এদিকে
দিল্লির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরকে আর আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থল
হিসেবে নির্ধারিত না রাখার ঘোষণা
দিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য নতুন তিনটি
স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।চলতি
বছরের শুরুর দিকে জন্তর মন্তরে
কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থান কর্মসূচি
পালন করেছিলেন সিজেপির সমর্থকেরা। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা ওই কর্মসূচি পালন
করেন।আলাদাভাবে
সিজেপির নেতারা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে শান্তিপূর্ণ
বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। ২৪
ঘণ্টার মধ্যে তারিখ জানানো না হলে নতুন
কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।বিরোধীদের আন্দোলনকে ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা বলছে বিজেপিবিজেপি
বলছে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ক্ষমতায়
ফেরার লক্ষ্যেই এই বিক্ষোভ করছে।ভারতের
কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সাংবাদিকদের
বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা, রাস্তায়
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং রাজনীতির নামে
মানুষকে আক্রমণ করার মাধ্যমে বিরোধীরা
ক্ষমতায় ফিরতে চায়।গত
১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদি ও তাঁর দলের
জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর
একটি হয়ে উঠেছে এই
যুব আন্দোলন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারি স্কুলের অবকাঠামো থেকে শুরু করে
কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করেছেন এর সমর্থকেরা।গত
মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা
হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল ব্যবস্থা
নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপপ্রধান অভ্যন্তরীণভাবে
একাধিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের
পর বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়।বিরোধী
দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ
দেওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু
জনগোষ্ঠীর মানুষ অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এসব জনগোষ্ঠীর ভোটারদের
ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে সমর্থন
করার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে নির্বাচন
কমিশন ও বিজেপি—উভয়
পক্ষই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
করেছে।সূত্র: রয়টার্স