ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার ‘ফ্যাসিবাদের তৈরি পুরোনো পথে’ হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেছেন, সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নেওয়া হলে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরালো করতে বাধ্য হবে।শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সবুজবাগ-মুগদা জোনের রুকন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী গত ছয় মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে দলীয়করণ করেছে, তা পতিত আওয়ামী লীগ সরকারকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যে দলীয়করণ করেছে, বিএনপি ছয় মাসে তার চেয়ে কম করেনি।তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও ক্ষমতা গ্রহণের পর ‘সবার আগে বিএনপি’ নীতিতে চলছে। রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ-মাদ্রাসার মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানেও দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে, যদি সরকার সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নেয়।শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গণভোটে জনগণের দেওয়া গণরায় মেনে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এর সমাধান রাজপথেই হবে।তিনি বলেন, এজন্য যা যা করণীয়, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তা করবে। জনগণের অধিকার আদায়ে অতীতের মতো জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা রাখবে।এ জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।জামায়াতে ইসলামীর সবুজবাগ-মুগদা জোনের পরিচালক ড. মোবারক হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিচালক মনির বিন আনোয়ারের সঞ্চালনায় রুকন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন, নতুন সদস্যদের ছয়টি গাড়ি প্রস্তুত

সরকারের কার্যক্রমে গতি ফেরাতে মন্ত্রিসভায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।নতুন সদস্যদের শপথের জন্য ইতোমধ্যে ছয়টি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর। সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ওই কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ছয়টি গাড়ি চাওয়া হয়েছিল। চাহিদা অনুযায়ী গাড়িগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কয়টি গাড়ি ব্যবহার করা হবে, তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগই নিশ্চিত করতে পারবে।এদিকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে যাওয়া অন্তত চারজন নতুন সদস্যের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।নতুন কয়েকজন সদস্য যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই মন্ত্রিসভাতেই পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন, নতুন সদস্যদের ছয়টি গাড়ি প্রস্তুত

বিএনপি সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী: খেলাফত মজলিস

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী বলে মন্তব্য করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতারা বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাপ্তাহিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। আমীরে খেলাফত মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে নেতারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের সহায়তা অব্যাহত রাখা, প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ এবং কৃষিঋণ মওকুফের কিছু কর্মসূচি সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে তাঁদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার এখনো আশু নিশ্চয়তা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।খেলাফত মজলিসের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দলীয় ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, গত ছয় মাসে সরকারের ব্যর্থতার দিকই বেশি দৃশ্যমান হয়েছে।সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিবৈঠকে বিএনপির সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের গণরায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করতে চায়।খেলাফত মজলিসের নেতাদের মতে, জনগণ এমন সংবিধান সংস্কার চায়, যার মাধ্যমে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করা যায়। এ জন্য জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।তাঁরা বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে এ কাজ করা সম্ভব। এই পরিষদের সংবিধানের মৌলিক শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের গাঠনিক ক্ষমতা থাকা উচিত বলেও তাঁরা মত দেন।জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।একই সঙ্গে জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফেজ মাওলানা শায়খুল ইসলাম, যুববিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিনসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।

বিএনপি সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী: খেলাফত মজলিস

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পর এখন প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বাস্তব ফলাফল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণের কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের সময় এসেছে। তাঁর দাবি, এই সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা ও বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি দেখা গেছে।জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেইগণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেটের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি।তাঁর দাবি, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি।জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোর কোনোটি গত ছয় মাসে বাস্তবায়িত হয়নি।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটজ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে পড়ছে।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানায় প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে এবং প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সরকারি তথ্য উদ্বেগ তৈরি করছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য উল্লেখ করে তিনি মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে।দ্রব্যমূল্য ও ব্যাংকিং খাতদ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছে জামায়াত। দলটির হিসাবে, জুন ২০২৬-এ দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো বেশি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়ছে এবং প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট ও আমানতকারীদের আস্থাহীনতা কাটাতে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।পররাষ্ট্রনীতি ও রোহিঙ্গা সংকটপররাষ্ট্রনীতিতেও সরকারের কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন ঘোষণা করা হলেও ছয় মাসে এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।সরকারের প্রতি জামায়াতের আট দফাসংবাদ সম্মেলনে সরকারকে আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, অস্বাভাবিক মুনাফা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা এবং দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী সময়ে সরকার দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিএনপি সরকারের ৬ মাসে দৃশ্যমান সাফল্য নেই: জামায়াত

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন জানাবে জামায়াত

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব পালনের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হবে।জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেবেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত ভেন্যুতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে দলের মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে।সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানও তুলে ধরা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন জানাবে জামায়াত

মন্ত্রিসভায় রদবদল, আলোচনায় একাধিক মন্ত্রী

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণার পর সচিবালয়ে এ আলোচনা আরও বেড়েছে।আগামী ১৬ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হবে। এর আগে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সরকারের ভাবমূর্তিতে তাঁদের ভূমিকা মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।সূত্রগুলোর দাবি, এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে কয়েকজনের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, কয়েকজনকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া এবং নতুন কয়েকজনকে যুক্ত করার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায়ও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার আলোচনা চলছে।কে পাচ্ছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়?মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর সচিবালয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিয়ে।সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির হাতে দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে নতুন কোনো দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।তবে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ অন্য সূত্রগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সালাহউদ্দিন আহমদ আপাতত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই থাকছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এখনই পরিবর্তন আনতে প্রধানমন্ত্রী ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী থাকায় মন্ত্রী পরিবর্তনের বিষয়টিও জটিল হয়ে উঠেছে। সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে তাঁর মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী না রাখার অনুরোধ রয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে সরানোর সম্ভাবনা আপাতত কম বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।এ পরিস্থিতিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অথবা ড. আব্দুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে বহাল রাখা সম্ভব হতে পারে।নতুন মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সেলিমা রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে।১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সামনেসরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ছয় মাস পর কাজের মূল্যায়ন করা হবে বলেও তখন জানানো হয়েছিল।সেই ১৮০ দিনের সময়সীমা সামনে রেখে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে এখন বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে।বিশেষ সূত্রের দাবি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, জনঅভিযোগ নিষ্পত্তি, সংসদে উপস্থিতি ও জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।কর্মদক্ষতাই মূল বিবেচনাসরকারি সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য রদবদলে রাজনৈতিক বিবেচনার পাশাপাশি মন্ত্রণালয় পরিচালনায় বাস্তব কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও মান, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সংসদে জবাবদিহির বিষয়গুলো মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হতে পারে।সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে- এমন বিতর্কও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ না থাকলে তাঁকে সরাসরি বাদ না দিয়ে সতর্ক করে আরও সময় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ভাগ হতে পারেমন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক ব্যক্তির হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকা।সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একসঙ্গে দুই বা তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে সব মন্ত্রণালয়ে কাঙ্ক্ষিত গতি নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের দায়িত্বে রয়েছে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।শেখ রবিউল আলমের হাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। আমিন উর রশিদ ইয়াছিন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।এ ছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।এসব অতিরিক্ত দায়িত্বের কিছু অংশ ভাগ করে নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মন্ত্রিসভার আকার খুব বেশি না বাড়িয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।আলোচনায় আরও কয়েকজনসম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নামও আলোচনায় রয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও কৃষি খাতের কয়েকটি কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।এ কারণে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নিয়েও পরিবর্তনের আলোচনা রয়েছে।টেকনোক্র্যাট কোটায়ও নতুন মুখ?বিশেষ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার আলোচনা রয়েছে।সরকারের শরিক ও সমমনা দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। আলোচনায় রয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর নামও।সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে কে দায়িত্ব পাবেন, সে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনই কোনো নাম চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।

মন্ত্রিসভায় রদবদল, আলোচনায় একাধিক মন্ত্রী