ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আজ ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আজ ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট দেবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম।সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। স্পিকারের দায়িত্বে থাকা জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন।শপথের পরপরই রেওয়াজ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ননির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ভোটের সময় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না।ভোট দেওয়ার সময় কোনো তাৎক্ষণিক সমস্যা দেখা দিলে চিফ হুইপ ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।যেভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরানির্বাচনের দিন সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নিজ নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নাম ও বিভক্তি নম্বরসংবলিত ব্যালট পেপার সংগ্রহ করবেন ভোটাররা।ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে। কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ব্যালট বাক্সে দেওয়ার আগে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর নির্বাচন কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।বিকেল ৫টায় ভোট গণনাবিকেল পাঁচটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচন কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।সিইসি এএমএম নাসিরউদ্দিন বলেন, ঐতিহাসিক এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি পদে এ ধরনের ভোট গ্রহণ হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ও কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র বৈধ

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এএমএম নাসিরুদ্দিন।এদিন বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রও যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৯ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ২০ আগস্ট ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মির্জা ফখরুল ও কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র বৈধ

মির্জা ফখরুল এখনো বিএনপির মহাসচিব

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো দলের মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পরও মির্জা ফখরুল দলীয় মহাসচিব বা স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।শুক্রবার রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীকে প্রথমে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই করে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত পদত্যাগের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো মহাসচিব। তিনি এখনো মন্ত্রী, এখনো স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।’‘২০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন’মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর ও গুঞ্জন প্রসঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান ডা. জাহিদ।তিনি বলেন, ‘অহেতুক গুঞ্জন না ছড়িয়ে একটু ধৈর্য ধরুন। যেমন আপনারা ধৈর্য ধরেছিলেন কে বিএনপির প্রার্থী হবেন। আলহামদুলিল্লাহ, গতকাল প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে নিয়ে ঘোষণা করেছেন আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপি এবং আমাদের সংসদীয় গ্রুপ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ২০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ভোট হোক, শপথের আগে পদত্যাগ আসবে। শপথের আগ পর্যন্ত পদত্যাগ করার কোনো সাংবিধানিক এবং নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা নেই।’মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন প্রসঙ্গে যা বললেনমির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য পদত্যাগের পর মন্ত্রিসভা বা দলের দায়িত্বে পরিবর্তন আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্বে পরিবর্তন আনতে পারেন। জনগণের জন্য আরও ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী যখন যাকে প্রয়োজন মনে করবেন, তখন পরিবর্তন আনতে পারেন। সংবিধান ও সংসদ প্রধানমন্ত্রীকে এ ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছে।আগের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্যমির্জা ফখরুলের পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এর আগে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছিল।গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।এর একদিন পর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সেই পদত্যাগের খবরকে ‘গুঞ্জন’ হিসেবে উল্লেখ করলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট ও শপথের আগে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।

মির্জা ফখরুল এখনো বিএনপির মহাসচিব

মন্ত্রিসভায় রদবদল, আলোচনায় একাধিক মন্ত্রী

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণার পর সচিবালয়ে এ আলোচনা আরও বেড়েছে।আগামী ১৬ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হবে। এর আগে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সরকারের ভাবমূর্তিতে তাঁদের ভূমিকা মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।সূত্রগুলোর দাবি, এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে কয়েকজনের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, কয়েকজনকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া এবং নতুন কয়েকজনকে যুক্ত করার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায়ও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার আলোচনা চলছে।কে পাচ্ছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়?মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর সচিবালয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিয়ে।সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির হাতে দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে নতুন কোনো দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।তবে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ অন্য সূত্রগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সালাহউদ্দিন আহমদ আপাতত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই থাকছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এখনই পরিবর্তন আনতে প্রধানমন্ত্রী ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী থাকায় মন্ত্রী পরিবর্তনের বিষয়টিও জটিল হয়ে উঠেছে। সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে তাঁর মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী না রাখার অনুরোধ রয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে সরানোর সম্ভাবনা আপাতত কম বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।এ পরিস্থিতিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অথবা ড. আব্দুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে বহাল রাখা সম্ভব হতে পারে।নতুন মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সেলিমা রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে।১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সামনেসরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ছয় মাস পর কাজের মূল্যায়ন করা হবে বলেও তখন জানানো হয়েছিল।সেই ১৮০ দিনের সময়সীমা সামনে রেখে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে এখন বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে।বিশেষ সূত্রের দাবি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, জনঅভিযোগ নিষ্পত্তি, সংসদে উপস্থিতি ও জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।কর্মদক্ষতাই মূল বিবেচনাসরকারি সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য রদবদলে রাজনৈতিক বিবেচনার পাশাপাশি মন্ত্রণালয় পরিচালনায় বাস্তব কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও মান, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সংসদে জবাবদিহির বিষয়গুলো মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হতে পারে।সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে- এমন বিতর্কও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ না থাকলে তাঁকে সরাসরি বাদ না দিয়ে সতর্ক করে আরও সময় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ভাগ হতে পারেমন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক ব্যক্তির হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকা।সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একসঙ্গে দুই বা তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে সব মন্ত্রণালয়ে কাঙ্ক্ষিত গতি নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের দায়িত্বে রয়েছে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।শেখ রবিউল আলমের হাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। আমিন উর রশিদ ইয়াছিন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।এ ছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।এসব অতিরিক্ত দায়িত্বের কিছু অংশ ভাগ করে নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মন্ত্রিসভার আকার খুব বেশি না বাড়িয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।আলোচনায় আরও কয়েকজনসম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নামও আলোচনায় রয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও কৃষি খাতের কয়েকটি কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।এ কারণে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নিয়েও পরিবর্তনের আলোচনা রয়েছে।টেকনোক্র্যাট কোটায়ও নতুন মুখ?বিশেষ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার আলোচনা রয়েছে।সরকারের শরিক ও সমমনা দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। আলোচনায় রয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর নামও।সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে কে দায়িত্ব পাবেন, সে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনই কোনো নাম চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।

মন্ত্রিসভায় রদবদল, আলোচনায় একাধিক মন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান রিজভী।আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।এরই মধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর পক্ষে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।ইসির তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে।১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

আজ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ ১৩ আগস্ট। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি।এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় আসে। তবে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

আজ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি