ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

এআই দিয়ে ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ, বললেন মেহজাবীন


ফরিদুল আলম ফরিদ
ফরিদুল আলম ফরিদ বিনোদন রিপোর্টার

এআই দিয়ে ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ, বললেন মেহজাবীন
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: সংগ্রহ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি এবং তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একই সঙ্গে এসব কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন এই অভিনেত্রী।

পোস্টে মেহজাবীন লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, বরং অপরাধ। একই কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজারো মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি আর শুধু একজনের অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। এ পরিস্থিতিতে সমাজ হিসেবে আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য তাঁকে নিজের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন—এমন প্রশ্নও তুলেছেন মেহজাবীন। তিনি লেখেন, এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদে ‘এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত’—এ কথা বলতেও তাঁর আর ইচ্ছা করে না। কারণ, একজন মানুষকে সম্মান করার জন্য তাঁর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার প্রয়োজন কেন?

অপমান করে আয়, প্রশ্ন মেহজাবীনের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ের মাধ্যমে আয় করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মেহজাবীন।

তিনি লেখেন, কিছু ভিউ, লাইক ও শেয়ার পাওয়া, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা কিংবা সেখান থেকে কয়েক ডলার আয়—এসবের জন্য অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মানকে কীভাবে উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে নেওয়া হচ্ছে, সেটি ভাবার বিষয়।

মেহজাবীন বলেন, মানুষের জীবনে নানা ধরনের সংগ্রাম রয়েছে। অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি এখন জীবিকা নির্বাহের একটি উপায়। তিনি সেই বাস্তবতা অস্বীকার করেন না। তবে প্রশ্ন হলো, কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মান মানুষের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?

শিকার হতে পারেন যে কেউ

এ ধরনের ঘটনা শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন মেহজাবীন। তাঁর মতে, ভিউ, এনগেজমেন্ট ও ট্রেন্ডিংয়ের প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখা ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন, আবার এর শিকারও হতে পারেন যে কেউ।

মেহজাবীন লেখেন, তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু সেই ব্যক্তি নন, যিনি এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছেন; বরং সেই অসংখ্য মানুষও, যাঁরা স্বেচ্ছায় সেগুলো শেয়ার করছেন, আলোচনা করছেন এবং আরও হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

বিষয় : বিনোদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মেহজাবীন চৌধুরী

দৈনিক নবকাল

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


এআই দিয়ে ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ, বললেন মেহজাবীন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি এবং তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একই সঙ্গে এসব কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন এই অভিনেত্রী।

পোস্টে মেহজাবীন লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, বরং অপরাধ। একই কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজারো মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি আর শুধু একজনের অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। এ পরিস্থিতিতে সমাজ হিসেবে আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য তাঁকে নিজের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন—এমন প্রশ্নও তুলেছেন মেহজাবীন। তিনি লেখেন, এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদে ‘এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত’—এ কথা বলতেও তাঁর আর ইচ্ছা করে না। কারণ, একজন মানুষকে সম্মান করার জন্য তাঁর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার প্রয়োজন কেন?

অপমান করে আয়, প্রশ্ন মেহজাবীনের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ের মাধ্যমে আয় করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মেহজাবীন।

তিনি লেখেন, কিছু ভিউ, লাইক ও শেয়ার পাওয়া, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা কিংবা সেখান থেকে কয়েক ডলার আয়—এসবের জন্য অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মানকে কীভাবে উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে নেওয়া হচ্ছে, সেটি ভাবার বিষয়।

মেহজাবীন বলেন, মানুষের জীবনে নানা ধরনের সংগ্রাম রয়েছে। অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি এখন জীবিকা নির্বাহের একটি উপায়। তিনি সেই বাস্তবতা অস্বীকার করেন না। তবে প্রশ্ন হলো, কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মান মানুষের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?

শিকার হতে পারেন যে কেউ

এ ধরনের ঘটনা শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন মেহজাবীন। তাঁর মতে, ভিউ, এনগেজমেন্ট ও ট্রেন্ডিংয়ের প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখা ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন, আবার এর শিকারও হতে পারেন যে কেউ।

মেহজাবীন লেখেন, তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু সেই ব্যক্তি নন, যিনি এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছেন; বরং সেই অসংখ্য মানুষও, যাঁরা স্বেচ্ছায় সেগুলো শেয়ার করছেন, আলোচনা করছেন এবং আরও হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
এআই দিয়ে ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ, বললেন মেহজাবীন
0:00 0:00
1.0x