ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে চলমান জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তির জন্য আরও বড় অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ইরান তার আচরণ পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েলের নেতৃত্বে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই এই কাজ করতে হবে, যা করতে তিনি আগ্রহী নন। একই পোস্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতানিয়াহু শক্ত, সাহসী ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।পোস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’ ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু কখনো আপনাদের হতাশ করবেন না।’নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে নেতানিয়াহুইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদমাধ্যম হারেৎজের আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫১। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোনো দল বা জোটই এখন পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অবস্থানে নেই।ট্রাম্পের এই সমর্থন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে টাইম সাময়িকী তাঁকে দুবার প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত কি না। দুইবারই সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনে নিজের জনপ্রিয়তা এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা বলেন।বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স তাঁকে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চায়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চায় আমি এতে জড়িত হই। হ্যাঁ, তারা তা-ই চায়।’ নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, দুই নেতার মধ্যে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।তবে নির্বাচনে এই সমর্থনের প্রভাব অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ভাকিল। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর বিদ্যমান সমর্থকদের আরও সংহত করতে পারে, কিন্তু তাঁর নেতৃত্বের অতীত রেকর্ড নিয়ে বড় প্রশ্নগুলোর সমাধান করবে না।লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ ট্রাম্পের ঘোষণাকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারে চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু এই সমর্থন থেকে সুবিধা পেতে পারেন। তবে এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পুরোপুরি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়।ক্রিগের ভাষ্য, ডানপন্থী দলগুলোর বিভক্তি, অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের হতাশা এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার উত্তরাধিকার নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের সমর্থন লিকুদ পার্টির অনাগ্রহী ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে এতে এক বা দুটি আসন বাড়তে পারে। কিন্তু যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহুর নেই, ট্রাম্প তা তৈরি করে দিতে পারবেন না।ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন হামলার জল্পনানেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এমন সময় এই অবস্থান সামনে এল, যখন কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে ইরানে আবার হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প।গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত স্থবির থাকলেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি।যুদ্ধ শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। একসময় বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। দুই পক্ষই নিজেদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়।গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনী ক্রমবর্ধমানসংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে এই প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আবার কমে যায়।এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়। শুক্রবার দাম সাময়িকভাবে ১১০ ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ। পরে সোমবার দাম কিছুটা কমে আসে।হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবগত মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি চালুর প্রস্তাবের সঙ্গে ইরান সাতটি শর্ত দেয়। এর মধ্যে ছিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তবে শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।রোববার ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। এরপরের দিন থেকেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।তবে একই দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে আবার হামলা চালাতে চান।আরাগচি লেখেন, ‘গতবার যখন আপনারা কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু নিজের কারাবাস এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। এর পরিণতি ইসরায়েলের জন্য কী হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য কী হবে, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন না।সামরিক চাপ, নাকি কূটনীতির পথ?কিংস কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।ক্রিগের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে যথেষ্ট চাপে ফেলছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় কোনো ছাড় দিতে না হলেও একপর্যায়ে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হবে।নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এই কৌশলের পেছনে থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করেছে। তবে কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন বলে মনে করেন ক্রিগ।তবে এই কৌশলে ঝুঁকিও রয়েছে। আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তেহরান সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে।চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই অবস্থান ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পক্ষ হিসেবে তুলে ধরা কঠিন করে তুলবে।ভাকিলের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে দুই নেতা ইরানে আরেকটি অভিযান চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রথমে কে সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও এখনো মীমাংসা হয়নি।তেহরানের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কার্যকর কোনো পার্থক্য নেই—এমন ধারণাকে আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করেন ভাকিল। তবে নেতানিয়াহু ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেতে ট্রাম্পের অনাগ্রহকে ওয়াশিংটনের আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার সীমিত আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করতে পারে ইরান।মার্কিন নির্বাচনের পর বাড়তে পারে ঝুঁকিট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। তবে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন।গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, দুই দেশের নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।তবে ইরান এমন কোনো হামলা না চালালে, যার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম বলে মনে করেন ক্রিগ।তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় শুরু হতে পারে ৩ নভেম্বরের পর, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বাধাগুলো আর থাকবে না। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ক্রিগের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে এই সমর্থন থেকেই দুই নেতা নতুন সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী হিসাব এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিই আগামী দিনে সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ঐতিহাসিক মুহূর্ত বললেন পুতিনের দূত

রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের মার্কিন পরিকল্পনা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাজারকে বড় ধরনের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দিন পর এসব পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দিমিত্রিয়েভ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গ্রাহাম আইন’ স্থগিতের সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক ঘটনা। তাঁর ভাষ্য, আইনটি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাজার।এমন এক সময়ে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিষয়ে মার্কিন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিষয়ে পুতিন কিংবা ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। শুক্রবার সামরিক পোশাক পরা অবস্থায় পুতিন বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশ দখলের পরিকল্পনা করছে মস্কো।যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রস্তাবিত আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি পুতিন এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল।২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর ওপর ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ঐতিহাসিক মুহূর্ত বললেন পুতিনের দূত

চুক্তি করতে চায় ইরান, কিন্তু জানে না কীভাবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী, তবে কীভাবে সেই চুক্তি করতে হবে, তা দেশটি জানে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইয়ংস্টাউনে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়, কিন্তু কীভাবে করতে হয়, তা জানে না। তারা জানে না কীভাবে করতে হয়।’ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দিতে পারে না।ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, বর্তমানে ইরানের কোনো নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী কিংবা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই। বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় দেশটির মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিও সবচেয়ে খারাপ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া ইরানের হাতে অর্থ নেই বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।সমাবেশে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার পূর্বাভাসও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাবে।’আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।

চুক্তি করতে চায় ইরান, কিন্তু জানে না কীভাবে: ট্রাম্প

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তেই কি সিনেট হারানোর ঝুঁকিতে রিপাবলিকানরা?

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রার্থী বাছাই, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং দলীয় কৌশল নিয়ে অসন্তোষ এ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর আগে ২০২০ ও ২০২২ সালের নির্বাচনেও ট্রাম্পের ভূমিকা রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আশঙ্কা বাড়িয়েছিল।টেক্সাসে কঠিন লড়াইয়ের আশঙ্কাটেক্সাসে বর্তমান সিনেটর জন কর্নিনের পরিবর্তে অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ট্রাম্প। প্যাক্সটনকে ঘিরে অভিশংসন ও ফৌজদারি অভিযোগসহ নানা বিতর্ক রয়েছে।সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর কাছে প্যাক্সটন পিছিয়ে রয়েছেন বলে দেখা গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসের সিনেট আসন ধরে রাখা দলটির জন্য কঠিন হতে পারে।নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ায় উদ্বেগনর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। এতে ডেমোক্র্যাটদের সাবেক গভর্নর রয় কুপারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কুপার প্রার্থী হওয়ায় আসনটি নিয়ে রিপাবলিকানদের উদ্বেগ বাড়তে পারে।জর্জিয়াতেও চাপের মুখে পড়েছে দলটি। ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রার্থী মাইক কলিন্সের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষসাউথ ক্যারোলাইনায় সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে প্রার্থী করার পক্ষে ট্রাম্পের অবস্থান দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি করেছে। রাজ্যটিতে রিপাবলিকানদের জয় নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা না থাকলেও প্রার্থী নির্বাচন ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে দলটিকে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।আসনটি ধরে রাখতে রিপাবলিকানরা ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে নির্বাচনী লড়াইয়ে আসনটির গুরুত্ব এবং দলীয় কৌশল নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে।আগের নির্বাচনেও বিতর্কিত ভূমিকা ট্রাম্পের২০২০ সালের জর্জিয়ার সিনেট নির্বাচনেও ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে তাঁর প্রচার রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশকে নিরুৎসাহিত করেছিল বলে তিনি পরে স্বীকার করেন।২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া কয়েকজন বিতর্কিত প্রার্থী পরাজিত হন। ফলে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে রিপাবলিকান পার্টি। এমনটি হলে আইন প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরও বেশি বাধার মুখে পড়তে হবে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তেই কি সিনেট হারানোর ঝুঁকিতে রিপাবলিকানরা?

বিভাজন ও মতপার্থক্যে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সম্মেলন

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক বিরোধ ও সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বে ২০২৬ সালের সম্মেলন সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি এক মতামত নিবন্ধে এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসই আইডিয়াসের সহযোগী অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড।জি-২০-এর এবারের আয়োজন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার, দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক এবং রাশিয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর ভূমিকা১৯৯৮ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের পর ১৯৯৯ সালে জি-২০ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো ছিল এই ফোরাম গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় জি-২০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০০৯ সালের এপ্রিলে লন্ডন সম্মেলনে চাহিদা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজে সম্মত হন বিশ্বনেতারা। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ওই সমঝোতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।সেই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছিল, বড় অর্থনীতিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব কমানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন করে তুলছে।দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে বিরোধযুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ আয়োজন নিয়ে বিতর্কের অন্যতম বিষয় দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ কার্যক্রম বর্জন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে হত্যা ও জমি কেড়ে নেওয়ার শিকার হিসেবে তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অভিযোগ করেছিলেন, তা এই বিরোধের পটভূমির অংশ। তবে তাঁর এসব অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।এবার যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে জি-২০-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে পোল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইউরোপের কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণ হয়েছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের উদ্বেগ, জি-২০-এর পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে আয়োজনের বাইরে রাখলে ফোরামটির অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র প্রশ্নের মুখে পড়বে।এ বিরোধ কেবল দুটি দেশের সম্পর্কের বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক ফোরামে সদস্যদের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ, আয়োজক দেশের দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক আলোচনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও এটি প্রশ্ন তুলেছে।‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডায় জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগমার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বর্ণিত ‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডা নিয়েও সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এজেন্ডায় জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, অভিবাসন, নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিবিধান কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ অগ্রাধিকার ডিসেম্বরের যৌথ ঘোষণার খসড়াতেও প্রভাব ফেলছে।ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তবে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। যৌথ ঘোষণায় কোন বিষয়গুলো স্থান পাবে, তা নিয়ে দর-কষাকষি এবারের সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।রাশিয়ার অভিযোগ, যৌথ বিবৃতি ছাড়াই বৈঠকজি-২০-এর আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে রাশিয়াও অসন্তোষ জানিয়েছে। জি-২০ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মারাত বেরদিয়েভের অভিযোগ, ভিসা প্রত্যাখ্যান ও স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত আর্থিক বৈঠকগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে পারেননি।এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সেখানে সংবাদ সম্মেলনও হয়নি।রাশিয়ার অভিযোগগুলো মস্কোর বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের সত্যতা ও পরিসর নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ, প্রতিনিধিদের স্বীকৃতি এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বহুপক্ষীয় কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।জি-২০-এর কার্যকারিতা শুধু বৈঠক আয়োজনের ওপর নির্ভর করে না। সদস্যদের মধ্যে আলোচনা, মতবিনিময় ও গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর সক্ষমতাও এ ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।ভূরাজনৈতিক বিভাজনে দুর্বল বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকোভিড-১৯ মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা, রাশিয়াকে ঘিরে বিরোধ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে কূটনৈতিক সংঘাত জি-২০-এর কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে।এ পরিস্থিতিতে এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। জি-২০ ও জি-৭-এর মতো বহুপক্ষীয় ফোরাম ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর জি-৭-এরও আয়োজন করবে। ফলে এবারের জি-২০ সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, আলোচনার পদ্ধতি এবং যৌথ অবস্থান তৈরির অভিজ্ঞতা পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোর জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।বৈশ্বিক সংকটে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেইমহামারি, আর্থিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো সমস্যা কোনো একক দেশের পক্ষে পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময়, অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয়, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।জি-২০-এর মতো ফোরাম এসব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সদস্যদেশগুলোর মতপার্থক্যের কারণে সব সময় অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, তবু সহযোগিতার কাঠামো সচল রাখা জরুরি।যুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ সভাপতিত্ব তাই ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ হওয়ার পাশাপাশি বহুপক্ষীয় কূটনীতির কার্যকারিতা ধরে রাখার পরীক্ষাও। সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মতপার্থক্য গ্রহণযোগ্যভাবে সামাল দেওয়া এবং যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জি-২০ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিভাজন ও মতপার্থক্যে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সম্মেলন

ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখার ঘটনায় পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। নেটওয়ার্কগুলো ফেডারেল অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তের আওতায় রয়েছে এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজ। বিচার বিভাগের মুখপাত্র এমিলি কনভিংটন গত শনিবার তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।কনভিংটন বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিযোগীরা সম্মিলিতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বর্জন করলে তা শেরম্যান অ্যাক্টের লঙ্ঘন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আইন প্রতিযোগিতা-বিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণে বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ তদন্ত করছে।ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর চলমান বিরোধের মধ্যে এ তদন্ত নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাম্প নিয়মিত মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ বলে সমালোচনা করেন। বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সরাসরি আলাপেও সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁকে বিরোধে জড়াতে দেখা যায়।তদন্তের ফলে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও প্রেসিডেন্টের সংবাদ প্রচার চালিয়ে যেতে সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর আইনি চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকিও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি নেটওয়ার্ক তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।যেভাবে শুরু হয় বিরোধগত মাসে হোয়াইট হাউস সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ বাতিল করে। এর প্রতিবাদে পাঁচটি সম্প্রচারমাধ্যমের সমন্বয়ে গঠিত টেলিভিশন পুল ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ করে দেয়।১৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ কোনো অধিকার নয়, বরং একটি ‘সুযোগ’। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে।তাদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে হোয়াইট হাউস যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করেছে। প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে তারা।আদালতের নির্দেশে ফিরেছিল প্রবেশাধিকারএবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজ হোয়াইট হাউসের প্রধান টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহকারী দলের অংশ। নেটওয়ার্কগুলো প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের ব্যয় ভাগাভাগি করে। তারা পালাক্রমে সংবাদ সংগ্রহের আয়োজন করে এবং সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নেয়।হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ বাতিলের প্রতিবাদে পাঁচটি নেটওয়ার্কই ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার স্থগিত করে। এমনকি অন্য সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিকল্প ফুটেজ সরবরাহ করতেও তারা অস্বীকৃতি জানায়। নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি তুলনামূলকভাবে অনুকূল অবস্থানের জন্য পরিচিত ফক্স নিউজও ছিল।পরে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক টিমোথি কেলি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রায় দেন। তিনি প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদের সেই প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেয়।তবে প্রেসিডেন্টের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ এবং সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি।তদন্তের সমালোচনা সিপিজেরসাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক হোসে জামোরা শনিবার বিচার বিভাগের তদন্তের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ রক্ষায় অবস্থান নিলে তাদের ভয় দেখানোর জন্য সরকারের অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। জনগণের জানার অধিকার এই প্রবেশাধিকারের ওপর নির্ভর করে।

ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান ট্রাম্পের

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম এমন একজন নেতার প্রয়োজন ইউক্রেনের।শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, এসব হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ছে। দেশটিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন।ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পরামর্শ দেব, তারা যেন এমন একজন নতুন নেতা বেছে নেয়, যিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন।’ জেলেনস্কির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কোনো এক কারণে জেলেনস্কি কখনোই তা করেন না।’ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, জেলেনস্কির নেতৃত্বে দেশটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং ৩০ শতাংশ ভূখণ্ড হারিয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন মিলিয়ে এ যুদ্ধে ২০ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, যুদ্ধটি কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না। এখন ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।জেলেনস্কির পক্ষে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্রতা এড়িয়েও জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি বলেন, জেলেনস্কির প্রতি ইউক্রেনের জনগণের সমর্থন রয়েছে। দেশটির নেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইউক্রেনের জনগণের।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিবিহা বলেন, বিদেশ থেকে আসা এ ধরনের বক্তব্য বরং প্রমাণ করে, জেলেনস্কি তাঁর দায়িত্ব ঠিকভাবেই পালন করছেন। তাঁর সমর্থন পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণা ট্রাম্পেরশুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। এর অল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলেনস্কিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্যও তিনি ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন।তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সেই প্রভাবের চেয়ে ইউক্রেনের হামলার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।শনিবার ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুই হতো না। তাঁর দাবি, অযোগ্যতার কারণে এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং যুদ্ধটি শুরু হওয়ার কোনো কারণ ছিল না।জাপোরিঝঝিয়ায় হামলায় নিহত অন্তত ২০ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন।ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। মস্কোর পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পরও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দূরপাল্লার বিমান হামলা অব্যাহত থাকলেও স্থলযুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় ধরনের অগ্রগতি নেই।রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলেনস্কি। শনিবার জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে হামলার পর এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে জাপোরিঝঝিয়ায় আবাসিক ভবনে পাঁচটি গ্লাইড বোমা ফেলে।’জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানো হলে মস্কো সেটিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং ইউক্রেনের শহরগুলোতে বোমা হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ হিসেবে দেখবে।তিনি বলেন, জ্বালানি রপ্তানি থেকে রাশিয়ার আয় বাড়লে সেই অর্থ অস্ত্রের যন্ত্রাংশ কেনা, ড্রোনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং ভাড়াটে যোদ্ধা নিয়োগে ব্যয় করা হবে। রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা কমানো না গেলে মস্কো যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে তৎপরতারাশিয়ার বাড়তি আয় মোকাবিলায় ইউক্রেন বিভিন্ন পদক্ষেপ সমন্বয় করছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আগামী কয়েক দিনে আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গোলাবারুদ পাবে ইউক্রেন।এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তিতে ইউরোপের মিত্ররা হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতে তারা অটল রয়েছে।ট্রাম্পের এ ঘোষণা তাঁর আগের নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। গত মাসেই তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে মস্কো তেল ও গ্যাস থেকে যে আয় করে, তা কমানোই ছিল ওই আইনের লক্ষ্য।যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহতশুক্রবার ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার মিয়ামিতে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।একই দিনে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার উদ্যোগ এবং জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনা সব মিলিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান ট্রাম্পের

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাইকে কটাক্ষ ট্রাম্পের

এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাইকে কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পিল্লাইকে জাতিসংঘে কাজ করা একজন উদারপন্থী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তাঁর নাম আগে কখনো শোনেননি। নাভি পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছিল।যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রিপাবলিকানদের এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত ওই সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আজ নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে, যার নাম আমি কখনো শুনিনি। কেউই তাঁকে চেনে না। বিষয়টি রহস্যজনক।’ তবে এরপরই তিনি যোগ করেন, ‘তবু তাঁকে অভিনন্দন।’আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি ট্রাম্পেরসমাবেশে আবারও আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটানোর দাবি করেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব যুদ্ধের যেকোনো একটির অবসান ঘটানোর জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া যেতে পারে।ট্রাম্প বলেন, ‘এই আটটি যুদ্ধের যেকোনো একটির জন্যই নোবেল পুরস্কার পাওয়া যায়। আমি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি। কোনো প্রেসিডেন্টই এমনটা করেননি।’নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। এবারও পুরস্কার কমিটির পাশাপাশি নরওয়ের সমালোচনা করেন তিনি।নরওয়েকে ভুলে যাবেন না, বললেন ট্রাম্পট্রাম্পের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রতিনিধিত্বে যুক্তরাষ্ট্রেরই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না হওয়াকে নরওয়ের জন্য ‘অমোচনীয় কলঙ্ক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।তাঁর ভাষায়, ‘গণতন্ত্রবিরোধী ও সভ্যতার শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত একদল উগ্র মতাদর্শীর কারণে পুরস্কারটি চিরতরে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নরওয়েকে ভুলব না।’ নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নরওয়ে ও অন্যান্য দেশের শোষণমূলক আচরণের আরেকটি নিদর্শন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভসমাবেশের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও নাভি পিল্লাইকে নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই নারী সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, অন্য কেউও জানে না! আমার জানামতে, ইসরাইলকে ঘৃণা করার বিষয়টি ছাড়া আর কেউ কখনো তাঁর নামও শোনেনি।’নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘নোবেল “শান্তি” পুরস্কারটি একদল উগ্র মতাদর্শীর কারণে চিরতরে কলঙ্কিত হয়েছে। তারা গণতন্ত্রবিরোধী এবং সভ্যতার শত্রু।’নাভি পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শেষে গণহত্যার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই পিল্লাইকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।সূত্র: আনাদোলু

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাইকে কটাক্ষ ট্রাম্পের

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে না নিলে ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের সিরাকিউসে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।ট্রাম্প বলেন, ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের দ্রুত মীমাংসা করবেন তিনি এবং এসব সংঘাতে জয়ী হবেন। ইরান যুদ্ধের অবসানও খুব শিগগির ঘটবে বলে আবারও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘হয় তারা আমাদের সব দাবি মেনে নেবে, নতুবা তাদের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।’তিনি আরও বলেন, ইরান ও ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে।সূত্র: আল জাজিরা

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের আবেদন আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে মাইক্রোসফটসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও বিচারাধীন স্থায়ী নিয়োগসংক্রান্ত আবেদন অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার করে আমেরিকান কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। এ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মাইক্রোসফট।ভ্যান্সের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি একই সময়ে প্রায় ছয় হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং ৬ হাজার ৮০০টি এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছে। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন কর্মীদের বাদ দিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের মজুরি কমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ‘আমেরিকার অন্য কোনো কোম্পানি মাইক্রোসফটের চেয়ে বেশি এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেনি।’মাইক্রোসফট ছাড়াও অ্যাডোবি, কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেননি ভ্যান্স।আট প্রতিষ্ঠানের পার্ম আবেদন অনুমোদন নয়শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানান, মাইক্রোসফটসহ আটটি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও বিচারাধীন পার্ম (PERM) আবেদন অনুমোদন করবে না সরকার।তাঁর অভিযোগ, মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘ভিসা তৈরির কারখানায়’ পরিণত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভাসিয়ে’ দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিষয়টি নিয়ে বিবিসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।যা বলছে মাইক্রোসফটএইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির অধিকাংশ কর্মীই আমেরিকান।মুখপাত্রের ভাষ্য, গত অর্থবছরে মাইক্রোসফটের দাখিল করা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ৮০ শতাংশ ছিল আগে থেকে কর্মরত কর্মীদের জন্য। সেগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের আবেদন ছিল না। এ ছাড়া এই কর্মসূচির আওতায় নিয়োগ পাওয়া আন্তর্জাতিক কর্মীদের একই পর্যায়ের মার্কিন কর্মীদের সমান বেতন দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করে এলিস নামের একটি কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফটে এইচ-১বি ভিসাধারী একজন কর্মীর গড় বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার।মাইক্রোসফটের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তথ্য দিতে তারা আগ্রহী। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা দুই লাখের বেশি।এইচ-১বি ও পার্ম কর্মসূচি কীএইচ-১বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি ভিসা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন হয়—এমন পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা যায়। কয়েক দশক ধরে প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ করে আসছে। বছরে এ ধরনের ভিসার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ।অন্যদিকে, পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীর স্থায়ী নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সনদ পাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। এ সনদের ভিত্তিতে নিয়োগকর্তা পরবর্তী সময়ে ওই কর্মীর জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তর ১০টি ব্যবসায়িক বিভাগে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পার্ম আবেদন অনুমোদন করেছে।নাদেলাকে পুরস্কার, ভ্যান্সের সমালোচনামাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য একটি পদক গ্রহণ করেন। তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, নাদেলাকে পদক দিতে পেরে হোয়াইট হাউস ‘সম্মানিত’। এটি তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।নাদেলা ছাড়াও ইলন মাস্ক, জেনসেন হুয়াং, লিসা সু, সের্গেই ব্রিন ও মাইকেল ডেলসহ প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন ব্যক্তিত্ব ট্রাম্পের কাছ থেকে পদক পেয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক মধ্যাহ্নভোজ এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন।তবে একই দিন ভ্যান্সের সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল মাইক্রোসফট। তিনি বলেন, ‘মাইক্রোসফটের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই সহজ: আপনারা একটি মহান আমেরিকান কোম্পানি। আপনাদের অবশ্যই আমেরিকান কর্মী নিয়োগ করতে হবে। আপনারা আমেরিকান কর্মীদের ছাঁটাই করে তাঁদের জায়গায় বিদেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করতে পারেন না।’চাকরি হারালে ৬০ দিনের সময়ভ্যান্সের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা কোনো কর্মী তাঁর ভিসার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারালে দেশটিতে অবস্থান নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। সাধারণত এ ধরনের কর্মীরা নতুন চাকরি খোঁজার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের অতিরিক্ত সময় পান।গত মাসে মার্কিন সরকার এই সময়সীমা পুরোপুরি বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল।যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সবই এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে। অ্যামাজন, গুগল, মেটা, অ্যাপল ও এনভিডিয়াও এ কর্মসূচি ব্যবহার করে আসছে। তবে বৃহস্পতিবার ভ্যান্সের অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল না। বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষার প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের আবেদন আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে, এমনকি তা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আলাবামার মোবাইলে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি ‘কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না’। তাঁর ভাষায়, ‘আমি জানি না কার সঙ্গে কথা বলব। কথা বলার মতো কেউ নেই। কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি কয়েক বছর আগেই অন্য প্রেসিডেন্টদের করা উচিত ছিল। আমাদের সব সময় কঠিন কাজটি করতে হয়।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, দেশটির কোনো নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার বা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই।ইরানের অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, দেশটির অর্থনীতি ‘ধ্বংসের পথে’ এবং সেখানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩১০ শতাংশ।যুদ্ধ শেষ হলে কমবে তেলের দামইরানকে ঘিরে অবরোধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘অবরোধের কথা কী? আমরা এটিকে ইস্পাতের প্রাচীর বলি।’যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) আবার পূরণ করার কথাও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই আমাদের কৌশলগত মজুত আবার পূরণ করব, বিনা মূল্যে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

ইরানকে সহায়তা না করতে চীনকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা না করতে চীনকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরানকে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে সহায়তা না করার বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ এ তথ্য জানিয়েছেন।পারডিউ বলেন, ইরানকে চীনের যেকোনো ধরনের সহায়তাকে ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার বেইজিং ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা ইরানকে এ ধরনের সহায়তা দিচ্ছে না। এ বিষয়ে চীন ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে বলে জানান তিনি।তবে ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ট্রাম্পের চাপের পরও চীন তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক সীমিত করবে না বলে ইরানকে আশ্বস্ত করেছে।রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চীনে তেল বিক্রির ক্ষেত্রেও তেহরানকে সহায়তা করছে বেইজিং—এমন অভিযোগও রয়েছে।এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধ বন্ধে আবারও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরানকে চীনের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি শি। সূত্র: রয়টার্স

ইরানকে সহায়তা না করতে চীনকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকালেন মার্কিন দুই ডেমোক্র্যাট

ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। একই অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবিত অস্ত্র সরবরাহে বাধা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস।এর ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরের বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল ও সেমাফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে প্রায় ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় এক টন বা ২ হাজার পাউন্ড। গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এসব ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল।সিনেটর জিন শ্যাহিনের অভিযোগ, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বন্ধে এবং মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। সিরিয়ায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটি এবং প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ সদস্যরা অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বা ভেটো দিতে পারেন। অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সাধারণত পররাষ্ট্র দপ্তরকে সংশ্লিষ্ট কমিটির আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের বিষয়টি সমাধান করে সম্মতি নিতে হয়।প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকসও সম্প্রতি এক বিরল প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মার্কিন বিধি মেনে ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিন শ্যাহিন বলেন, ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং সিরিয়ায় যেভাবে বোমাবর্ষণ করছে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্যাহিন বলেন, নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে পরিষ্কার শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না।তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন এবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার এসব ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। নিহতদের বড় অংশ নারী ও শিশু।এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আবারও ভারী মারণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন উদ্যোগ ওয়াশিংটনেই কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের আপত্তির মুখে পড়েছে।

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকালেন মার্কিন দুই ডেমোক্র্যাট

নিরাপত্তার বলয়ে গুটিয়ে আছেন ট্রাম্পপুত্র ব্যারন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে একের পর এক হত্যাচেষ্টা ও দেশটির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে অনেকটা অন্তর্মুখী জীবন কাটাচ্ছেন তাঁর কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্প। ২০ বছর বয়সী ব্যারনের বাইরে চলাফেরাও এখন বেশ সীমিত।ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পোস্ট’কে বলেছেন, ব্যারন খুব একটা বাইরে বের হন না। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ করা ব্যারন গ্রীষ্মের বড় একটি সময় তাঁর মা, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টারে কাটিয়েছেন। আরেকটি সূত্রও জানিয়েছে, ব্যারনের স্বভাব বেশ গুটিয়ে থাকা।ট্রাম্পকে ঘিরে একাধিক হামলার ঘটনা২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত তিনটি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তাঁর গলফ কোর্সে হামলার চেষ্টা করা হয়।এ ছাড়া গত ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করসপন্ডেন্টস ডিনারকে ঘিরেও বন্দুকধারীর হামলার ঘটনা ঘটে।এসব ঘটনার পাশাপাশি ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যদের নিয়েও বিভিন্ন ধরনের হুমকির খবর সামনে এসেছে। সম্প্রতি ইরানের কট্টরপন্থীদের পক্ষ থেকে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।একটি ভিডিওতে ‘কোথায় ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যা করা হবে’—এমন শিরোনাম ব্যবহার করা হয়। সেখানে ব্যারনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের দাবি করা হয় এবং তাঁর মাথার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে। তাঁর মা মেলানিয়া ট্রাম্পও ওই কট্টরপন্থীদের টার্গেটে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।চার্লি কার্কের মৃত্যুতে ব্যারন মর্মাহতরক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের সঙ্গেও ব্যারনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কার্ক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর ব্যারন গভীরভাবে মর্মাহত হন বলে জানা গেছে।লেখক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের সাম্প্রতিক বই ‘রিজিম চেঞ্জ’-এ প্রকাশিত তথ্য এবং ‘দ্য পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবাকে কার্কের মৃত্যুর খবর জানানোর সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘বাইরে বের হলেই এই ধরনের পরিণতি হয়।’ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সতর্ক মেলানিয়াব্যারনের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্প বরাবরই সতর্ক। সাম্প্রতিক হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত কোনো তথ্য সংবাদে প্রকাশ না করার জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়।২০২২ সালে ব্যারনের বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাঁর সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কথা ছিল। সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। তবে মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁর কার্যালয়ের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যারনের নিরাপত্তার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। সাবেক এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসন সেই অনুরোধ অনুমোদন করেছিল।বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্তেও নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণগত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেকের প্রস্তুতি নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ব্যারনের স্বভাব নিয়ে কথা বলেন মেলানিয়া।তীব্র ঠান্ডার কারণে অভিষেক অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত ঘরের ভেতরে আয়োজন করা হয়। তবে এর আগে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের হেঁটে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন মেলানিয়া। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জানি ব্যারন বাইরে যাবে না। আর আমি সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই।’বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যারনকে সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষা দিলেও একই সঙ্গে তাঁর মধ্যে বাইরের জগতকে ঘিরে ঝুঁকির সচেতনতা বাড়িয়ে দিতে পারে। নিরাপত্তাকর্মীদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে আলোচনা শোনা কিংবা শেষ মুহূর্তে ভ্রমণসূচি পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও তাঁর ওপর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ব্যারনের বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফার্স্ট লেডির কার্যালয়ও তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

নিরাপত্তার বলয়ে গুটিয়ে আছেন ট্রাম্পপুত্র ব্যারন ট্রাম্প

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেলেন: ট্রাম্প

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন চলাকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য হতে পারে।এ কারণে প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পরও ট্রাম্পকে বিকল্প কৌশলে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।ইরানের কাছে ট্রাম্পের অবস্থানের তথ্য ছিলনাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, একাধিক গোয়েন্দা সূত্র থেকে তথ্য পাওয়ার পর কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার আশঙ্কা বাস্তব ছিল। ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।এ ছাড়া ন্যাটো সম্মেলনস্থলের আশপাশে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ একজনকে দেখা গিয়েছিল বলেও কর্মকর্তারা জানান।তাদের দাবি, ইরানের পক্ষ ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানত। এমনকি তিনি আঙ্কারায় যে ভবনে অবস্থান করছিলেন, সেটির কোন তলায় ছিলেন, সেই তথ্যও তাদের জানা ছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন।বিকল্প পথে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্পগোয়েন্দা তথ্যকে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে করে ট্রাম্পকে দ্রুত তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে পুরো বিষয়টি গোপন রাখতে নেওয়া হয় বিশেষ কৌশল।ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। এর আগে তিনি ‘পুরোনো দিনের কথা ভেবে’ ওই বিমানটিতে উঠবেন বলে জানিয়েছিলেন।তবে পরে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং কনটেইনারে লুকিয়ে তাকে অন্যত্র নেওয়া হয়। সেখান থেকে একটি সামরিক বিমানে করে তিনি তুরস্ক ত্যাগ করেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান।আগেও হত্যার হুমকিতে ট্রাম্পইরানের হুমকি এর আগেও ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে পেনসিলভেনিয়ার বাটলারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক বন্দুকধারীর গুলি ট্রাম্পের গা ঘেঁষে যায়। একই বছরের শেষ দিকে ফ্লোরিডায় তাঁর গলফ কোর্সেও একজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করেন। তবে এসব ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।এ ছাড়া বাইডেন প্রশাসনের সময় ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগের একটি ষড়যন্ত্রের ঘটনায় একজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, ইরানি কর্মকর্তারা একটি প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে ওই ষড়যন্ত্র পরিচালনা করেছিলেন।তবে ন্যাটো সম্মেলন চলাকালে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কথিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেলেন: ট্রাম্প