যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখার ঘটনায় পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। নেটওয়ার্কগুলো ফেডারেল অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের
আওতায় রয়েছে এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজ।
বিচার বিভাগের মুখপাত্র এমিলি কনভিংটন গত শনিবার তদন্ত
শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কনভিংটন
বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিযোগীরা সম্মিলিতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বর্জন
করলে তা শেরম্যান অ্যাক্টের
লঙ্ঘন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের
এই আইন প্রতিযোগিতা-বিরোধী
কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। পাঁচটি টেলিভিশন
নেটওয়ার্ক আইন লঙ্ঘন করেছে
কি না, তা নির্ধারণে
বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ তদন্ত করছে।
ট্রাম্প
প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর চলমান বিরোধের মধ্যে এ তদন্ত নতুন
মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাম্প
নিয়মিত মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ বলে
সমালোচনা করেন। বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সরাসরি আলাপেও
সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁকে বিরোধে জড়াতে দেখা যায়।
তদন্তের
ফলে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও প্রেসিডেন্টের সংবাদ প্রচার চালিয়ে যেতে সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর
আইনি চাপ তৈরি হতে
পারে। পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকিও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা
রয়েছে। তবে তদন্তের বিষয়ে
সংশ্লিষ্ট পাঁচটি নেটওয়ার্ক তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
যেভাবে শুরু
হয়
বিরোধ
গত
মাসে হোয়াইট হাউস সিএনএন, এমএস
নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের
প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ বাতিল করে। এর প্রতিবাদে
পাঁচটি সম্প্রচারমাধ্যমের সমন্বয়ে গঠিত টেলিভিশন পুল
ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ করে দেয়।
১৯
সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা
হয়, প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ কোনো অধিকার নয়,
বরং একটি ‘সুযোগ’। এ সিদ্ধান্তের
বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
তাদের
অভিযোগ, সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে হোয়াইট
হাউস যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা
লঙ্ঘন করেছে। প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের
কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে
তারা।
আদালতের নির্দেশে ফিরেছিল প্রবেশাধিকার
এবিসি,
সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজ
হোয়াইট হাউসের প্রধান টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহকারী দলের অংশ। নেটওয়ার্কগুলো
প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের ব্যয় ভাগাভাগি করে।
তারা পালাক্রমে সংবাদ সংগ্রহের আয়োজন করে এবং সংগৃহীত
ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নেয়।
হোয়াইট
হাউসে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ বাতিলের প্রতিবাদে পাঁচটি নেটওয়ার্কই ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার স্থগিত করে। এমনকি অন্য
সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিকল্প ফুটেজ সরবরাহ করতেও তারা অস্বীকৃতি জানায়।
নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি তুলনামূলকভাবে অনুকূল অবস্থানের জন্য পরিচিত ফক্স
নিউজও ছিল।
পরে
যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক
টিমোথি কেলি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের
ওপর নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রায় দেন।
তিনি প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট
হাউস সাংবাদিকদের সেই প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে
দেয়।
তবে
প্রেসিডেন্টের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ এবং সংবাদ সংগ্রহের
দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিরোধ পুরোপুরি
মেটেনি।
তদন্তের সমালোচনা সিপিজের
সাংবাদিকদের
অধিকার নিয়ে কাজ করা
আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের
(সিপিজে) আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক হোসে জামোরা শনিবার
বিচার বিভাগের তদন্তের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ রক্ষায় অবস্থান নিলে তাদের ভয় দেখানোর জন্য সরকারের অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। জনগণের জানার অধিকার এই প্রবেশাধিকারের ওপর নির্ভর করে।