ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
লন্ডনে ধ্রুব রাঠীর বিক্ষোভ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি

লন্ডনে ধ্রুব রাঠীর বিক্ষোভ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি

ভারতের নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিক্ষোভ করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অংশ। স্থানীয় সময় লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের কাছে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার কারণে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের যুব শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। যুক্তরাজ্যে থাকা কয়েকটি ভারতীয় ছাত্র ও প্রবাসী সংগঠনও এতে সমর্থন জানায়। সমর্থনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার ব্রিটেন শাখা এবং সাউথ এশিয়া সলিডারিটি গ্রুপ।বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন পোস্টার ও পতাকা দেখা যায়। এ সময় তাঁরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনাও পাঠ করা হয়।লন্ডনে দাঁড়িয়ে অবাধে কথা বলতে পারছিবিক্ষোভে বক্তব্য দিতে গিয়ে ধ্রুব রাঠী বলেন, তাঁরা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চান না। বরং লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ও প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন তাঁরা।ভারতে প্রতিবাদ করার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধ্রুব রাঠী বলেন, সেখানে প্রতিবাদ করতে না পারলেও লন্ডনে দাঁড়িয়ে অবাধে কথা বলা যাচ্ছে।দিল্লিতে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, দিল্লিতে ৩৫ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।বাড়ি থেকে আটকের অভিযোগ ধ্রুব রাঠীরদিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচির আগে গুরুগ্রামে নিজের বাড়ি থেকে আটক হওয়ার ঘটনাও বক্তব্যে তুলে ধরেন ধ্রুব রাঠী। তাঁর দাবি, তাঁকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনাকে তিনি অপহরণ বলে অভিহিত করেছিলেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি পান তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্য ও অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।মোদির সমর্থকদের পাল্টা স্লোগানলন্ডনের বিক্ষোভে শুধু ধ্রুব রাঠীর সমর্থকেরাই উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করে আরেকটি দলও সেখানে জড়ো হয়। ওই দলের সদস্যরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থনে স্লোগান দেন।ফলে একই স্থানে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মোদির পক্ষে পাল্টা স্লোগানের ঘটনা ঘটে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক বিতর্ক যে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে, এ কর্মসূচি তারই একটি উদাহরণ।

ভোট চোর, গদি ছোড় স্লোগানে উত্তাল ভারত, চাপে মোদি সরকার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশটিতে রাজনৈতিক অসন্তোষ ও আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে বিভিন্ন অভিযোগে দাবি করা হচ্ছে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বড় শহরগুলোতে ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’, ‘মোদি হটাও, ভারত বাঁচাও’ এবং ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’ এ ধরনের স্লোগানকে কেন্দ্র করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন, শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয়করণ, বেকারত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক।দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে ছাত্র-তরুণদের পাশাপাশি কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও বামপন্থী দলগুলোসহ বিরোধী জোটের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কআন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয় ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু মুসলমান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বিরোধী দলগুলোর সমর্থকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।এ ঘটনায় ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও সামনে এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। তবে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার সংখ্যা, তার কারণ এবং রাজনৈতিকভাবে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের ইসিআই-নেট (ECINET) নামের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যবস্থার কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের কারণে বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী গত ১০ মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪টি লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা গেলে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের সময় নির্বাচন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার যে উদাহরণ তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।ছাত্র-তরুণদের ক্ষোভের কারণআন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত অসন্তোষ। মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা এনইইটি (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, সিবিএসইর মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির বিরোধিতা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং তরুণদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ। আন্দোলনকারীদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা না হলে তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থেকে যাবে।বামপন্থী ছাত্রসংগঠন এবং কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন এনএসইউআইয়ের মতো সংগঠনগুলো আন্দোলনে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক পরিচয়ও আলোচনায় এসেছে। তরুণদের এই উদ্যোগকে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন আন্দোলনের সমর্থকেরা।বিরোধী জোটের সক্রিয়তাছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, শারদ পাওয়ারসহ বিরোধী নেতাদের নাম আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে।‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ব্যানারে বিরোধী দলগুলো গণতন্ত্র রক্ষা, নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে একসঙ্গে কাজ করছে বলে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে। ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই দাবিগুলো সামনে আনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।রাহুল গান্ধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে সমর্থকেরা মনে করছেন। তবে আন্দোলনের ব্যাপ্তি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রকৃত ভূমিকা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।দমন-পীড়নের অভিযোগ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নআন্দোলন দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান, বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধের মতো পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। কিছু বর্ণনায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ও প্রায় সাত হাজার মানুষকে গ্রেপ্তারের দাবিও করা হয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করা জরুরি।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিরোধী মতের প্রতি কঠোর অবস্থান গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ সংকুচিত করতে পারে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপের যৌক্তিকতা মূল্যায়নেও ঘটনার নিরপেক্ষ তথ্য প্রয়োজন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে’ ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে তুলে ধরেছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে বিরোধী রাজনীতিক ও আন্দোলনের সমর্থকেরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সঙ্গে এ বক্তব্যের তুলনা করছেন।বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে তুলনাভারতের তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের তুলনাও টানা হচ্ছে। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন যেভাবে ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে গিয়েছিল, ভারতের আন্দোলনকারীদের মধ্যেও তেমন প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করছেন।তবে দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের কারণ ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট এক নয়। ফলে দুই আন্দোলনের মধ্যে মিল থাকলেও সেগুলোকে সরাসরি এক করে দেখার সুযোগ নেই।মোদি সরকারের সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জদীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমান আন্দোলনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো সত্য হলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি নির্ভর করে শুধু নিয়মিত নির্বাচন আয়োজনের ওপর নয়; বরং ভোটাধিকার রক্ষা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মুক্ত গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও। তাই ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের জবাব দেওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা বিতর্কের পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করবে আন্দোলনের বাস্তব ব্যাপ্তি, বিরোধী দলগুলোর ঐক্য, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের ওপর।

ভোট চোর, গদি ছোড় স্লোগানে উত্তাল ভারত, চাপে মোদি সরকার

দিল্লিতে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, নোটিশ পুলিশের

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি বন্ধ করতে দলটির নেতা দীপকের কাছে নোটিশও পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ।শুক্রবার নোটিশ পৌঁছে দিতে পুলিশের একটি প্রতিনিধিদল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি-শরদচন্দ্র পাওয়ারের (এনসিপি-এসসিপি) মুখপাত্র অনিশের বাসভবনে যায়। সেখানে দীপক অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি।চলতি সপ্তাহের শুরুতে দলটির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি। শুক্রবারের এ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’, যার অর্থ ‘জাতীয় পতাকা ওড়াও’।কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

দিল্লিতে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, নোটিশ পুলিশের

ভোট গণনার ভিডিও নেই, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

ভারতের কর্নাটকের একটি বিধানসভা আসনে ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ দেখাতে না পারায় দেশটির নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, কমিশনের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণ পরবর্তী শুনানিতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে আদালত।২০২৩ সালের কর্নাটকের শ্রীনগেরি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে এ নির্দেশনা আসে। ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান। তবে কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি বিচারপতিরা।আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জিব সচদেবের বেঞ্চ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।পুনর্গণনায় বদলে যায় ফল২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে শ্রীনগেরি আসনে প্রথমে কংগ্রেস প্রার্থী টিডি রাজেগৌড়াকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এ ফল চ্যালেঞ্জ করে আইনি পদক্ষেপ নেন বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবারাজ। পরে ওই আসনে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনর্গণনায় পোস্টাল ব্যালটের হিসাবে ২০১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী।এ ফলাফল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন কংগ্রেস প্রার্থী। তিনি ভোট গণনা ও পুনর্গণনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের আবেদন জানান।বাজে অজুহাত শুনব নাশুনানিতে বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ দেন, ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি প্রকাশ্যে আনা উচিত নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের আইনজীবী শেষাদ্রী নায়ডু আদালতকে জানান, গণনার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, কমিশন কীভাবে বলতে পারে যে তারা ভিডিও রেকর্ডিং খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে?আদালত নির্দেশনা দিয়ে বলে, কমিশনের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণ পরবর্তী শুনানিতে জমা দিতে হবে। তা না হলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। বিচারপতিরা বলেন, আমরা এই ধরনের বাজে অজুহাত শুনব না।মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ ঘিরে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান সামনে এল।

ভোট গণনার ভিডিও নেই, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

রাজসাক্ষী হয়ে পদত্যাগ করুন, ভারতের সিইসিকে রাহুল গান্ধী

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ‘রাজসাক্ষী’ হয়ে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে করা মামলার প্রসঙ্গ টেনে সোমবার দিল্লিতে কংগ্রেসের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ভয়ের কারণে জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না।ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে রাহুল বলেন, ‘রাজসাক্ষী হয়ে যান। পদত্যাগ করুন। সেটাই হবে আপনার দেশসেবা।জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, ‘আপনি অপরাধ করেছেন। কিন্তু সত্যি বলতে, আপনি মূল অপরাধী নন। আপনি ভুল করছেন। কিন্তু এই ভুলের নেপথ্যে আপনার মস্তিষ্ক নেই। আমরা জানি, আপনি কী পরিমাণ চাপের মধ্যে রয়েছেন।’রাহুল গান্ধীর এসব বক্তব্য ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামনে এল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

রাজসাক্ষী হয়ে পদত্যাগ করুন, ভারতের সিইসিকে রাহুল গান্ধী

পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি ২০২৭

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়।সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি দেশের ৮১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি ৭২৭টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ করা হবে।নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপের ভোট হবে ২০২৭ সালের ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।এর আগে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।বৈঠকে অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি ২০২৭

জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি, প্রস্তাব আনছে কেরলম

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিধানসভায় প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে কেরলমের কংগ্রেস সরকার। সোমবার (১২ অক্টোবর) মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন প্রস্তাবটি পেশ করতে পারেন। দেশটির কোনো রাজ্য বিধানসভায় জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে এমন প্রস্তাব আনার ঘটনা এটিই প্রথম।আনন্দবাজার ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবে তিনটি দাবি রয়েছে—জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণে কেন্দ্রের কাছে আবেদন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন সংশোধন।নিয়োগ আইন সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী ও লোকসভার বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ প্যানেলে রাখার দাবি জানানো হবে। ২০২৩ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই প্যানেল থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব বেশি।১৪০ আসনের কেরলম বিধানসভায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের ১০২, বামজোট এলডিএফের ৩৫ এবং বিজেপির তিনজন বিধায়ক রয়েছেন। প্রস্তাবে বামজোটের সমর্থন পাওয়ার আশা করছে কংগ্রেস সরকার।এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসআইআরের বিরুদ্ধে কেরলের তৎকালীন বাম সরকার বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করেছিল। সে সময় কংগ্রেসও প্রস্তাবটিকে সমর্থন দিয়েছিল।সূত্র: আনন্দবাজার 

জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি, প্রস্তাব আনছে কেরলম

দিল্লি বিক্ষোভে মমতা-কেজরিওয়ালসহ ৪ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার দিনভর চলা অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ বিরোধী দলের বহু নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার।ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও স্থগিত করা হয়।বিমানবন্দর থেকেই আটক সিজেপির নেতারাসিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করা হয়।বিমান থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকেকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছেন। অথচ তাঁদের অপরাধীর মতো আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এর আগে সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়। দলটির অভিযোগ, রাস্তায় গাড়ির ভেতর থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।মমতা-কেজরিওয়ালসহ বিরোধী নেতারা আটকদুপুরে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।একই দিন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আটক করা হয়। তিনি দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন রয়েছেন।পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থী নেতারাও আটকবিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ একাধিক বামপন্থী নেতা আটক হন। তাঁদের মধ্যে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বাম নেত্রী বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন ও পি কে শ্রীমতীর নামও রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের কয়েকজনকে দীর্ঘ সময় দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর আবার অন্যত্র নেওয়া হয়। তবে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। আটকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের যেখানে বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।গুরুদোয়ারা থেকে মিছিলে বাধা, লাঠিচার্জের অভিযোগগত রাত থেকে দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদোয়ারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েক শ বিক্ষোভকারী। শনিবার সকালে তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে।বিক্ষোভকারীদের দাবি, গুরুদোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ জন জমায়েত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।হায়দরাবাদের সফটওয়্যার প্রকৌশলী অজয় জিঙ্গাদের অভিযোগ, সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিপুলসংখ্যক পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। পরে লাঠিচার্জ করে অনেককে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।দিল্লির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া যায়। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হন। সিজেপি নেতা আজিঙ্ক্যা শিন্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানান, যেখানে আন্দোলনকারীদের থামানো হবে, সেখানেই যেন তাঁরা প্রতিবাদ চালিয়ে যান।সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আটকের অভিযোগবিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রতিবাদ করা কয়েকজন আইনজীবীকে আটকের খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়।সিজেপির অভিযোগ, দলটির কয়েকজন সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার তথ্যভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের স্থানান্তর, ৩ কোটি মানুষের খোঁজ না পাওয়া এবং ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যুর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।কমিশনের বক্তব্য, যাচাইয়ে চিহ্নিত নামগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো যোগ্য ভোটারের নাম ভুল করে বাদ পড়লে তিনি পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়নি। বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নির্বাচনে তাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।শনিবারের ধরপাকড় ও বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা এবং বিরোধীদের প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।সূত্র: বিবিসি

দিল্লি বিক্ষোভে মমতা-কেজরিওয়ালসহ ৪ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক

দিল্লিতে কড়াকড়ি, হোটেল-ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তরে শনিবারের কর্মসূচির আগে হোটেল, গেস্ট হাউস ও ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে দিল্লির বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের বড় দল একসঙ্গে অবস্থান করলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে ৪১ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। যন্তর মন্তরের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। পাশাপাশি মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।যেসব দাবিতে বিক্ষোভদেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামের এই কর্মসূচিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণেরা যোগ দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এ কারণে দিল্লির প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।৪১ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনদিল্লি পুলিশের ১৫ হাজারের বেশি সদস্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী আনা হচ্ছে।এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করতে নয়াদিল্লিকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের মিছিল আসতে পারে—এমন ৩৭টি স্থানে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।শুক্রবার রাত থেকেই যন্তর মন্তরের আশপাশে মাইকিং করছে পুলিশ। বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় বড় জমায়েতসহ নির্দিষ্ট কিছু কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লাউডস্পিকারে বারবার নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হচ্ছে।চার কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধনিরাপত্তার অংশ হিসেবে জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধবিক্ষোভের কারণে দিল্লির গণপরিবহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আন্দোলন ঠেকাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।এরপর দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানায়।বাতিল ট্রেন, যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণবিক্ষোভ ঘিরে রেল চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। শনিবার ভোর চারটা থেকে দুপুর দুইটার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো বাতিল করা হয়েছে।দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ছয়টা থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। যাঁদের বাইরে যেতে হবে, তাঁদের হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বানএদিকে সিজেপি ও অন্য আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক শুক্রবার রাতে মুম্বাই থেকে বলেছেন, শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ থাকার বার্তা দিয়েছেন।বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাও প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিল্লিতে কড়াকড়ি, হোটেল-ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

ইসির ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পরিবর্তন হতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ট্রাটেজি ও তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। প্রয়োজনে ইসির ঘোষিত সময় পেছানো বা এগিয়ে দেওয়া হতে পারে।আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন দুটি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন। এর বাইরে অন্যান্য নির্বাচন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিশনকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন নিজেদের মতো করে সময় ঘোষণা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যকেই বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।আজ সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই। এর আগে নির্বাচন কমিশন নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এ নিয়ে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টিকে ‘গ্যাপ’ হিসেবে দেখার কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে থেকেই কাজ করবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার কবে নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে। একটা টাইমলাইন তো আপনাদের কাছে জানানো হয়েছে। এটাকে ফলো করে সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোলাবোরেট করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন তো করবেই, নির্বাচন তো হবেই এটা নিয়ে কোনো কনফিউশনের কিছু নেই।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়কে সরকারের সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট টাইমলাইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকার চাইলে ওই সময়ে নির্বাচন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবার আলোচনার মাধ্যমে সময় পেছানো বা এগিয়ে নেওয়াও হতে পারে। ফলে ইসি যে তারিখ ঘোষণা করেছে, ঠিক সেই তারিখেই নির্বাচন হবে এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে কি না, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন করে কোনো কোনো নির্বাচন সরকারের মাধ্যমে আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া সম্ভব। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দুটি নির্বাচন স্বতন্ত্রভাবে পায়, আর অন্যান্য নির্বাচন আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়।ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সময় উল্লেখ করে আইন ভঙ্গ করেছে কি না এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিষয়টিকে এভাবে বলতে চান না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়াই ভালো হবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে কি না জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার এই অবস্থানেই থাকবে। বিষয়টিকে সংঘাত হিসেবে দেখার চেষ্টা করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসির ঘোষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পরিবর্তন হতে পারে:  তথ্য উপদেষ্টা

স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সিইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।বুধবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।সিইসি বলেন, আমরা অতীতে একটি সফল নির্বাচন করতে পেরেছি। স্থানীয় নির্বাচনও সফলভাবে করতে পারব। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইন মেনে সবাই অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হাসান ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সিইসি

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারে শাস্তির বিধান

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ নামে নতুন এই বিধিমালা গত ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার, মিছিল-শোডাউন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ নতুন বিধিমালায় স্বাক্ষর করেছেন।পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধনতুন আচরণবিধির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণার কাজে পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় তথ্য দিতে হবেনতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য জানাতে হবে।ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার জন্য যে অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।এআই দিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে বিশেষ বিধাননির্বাচনী প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন বিধিমালায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এআই ব্যবহার করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।এ ছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাবার, পানীয় বা উপহার দেওয়াও নিষিদ্ধ থাকবে।ধর্মীয় ও সরকারি স্থাপনায় প্রচারণা নয়ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্রসহ অন্যান্য সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকছে।ভোটের দিন ভোটার আনা-নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞানির্বাচনের দিন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া করা বা ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসিনতুন বিধিমালায় আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।প্রচারণায় আসছে বড় পরিবর্তননির্বাচন কমিশনের নতুন আচরণবিধির লক্ষ্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউনের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারে শাস্তির বিধান

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে ধাপে ধাপে

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যয় সংকোচন নীতি এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট না করে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব তথ্য জানান।নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের যে আবহ তৈরি হয়েছে, তার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে দেশের সব ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষকেরা প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। পরীক্ষার আগে অথবা পরে ভোট আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, রাজনীতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে সরাসরি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে ধাপে ধাপে

ইউপি নির্বাচনে ব্যয় বাড়ছে ২৪৩ শতাংশ, মোট খরচ হতে পারে ৩ হাজার কোটি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৫৭টি খাতে ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও এবার একই খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে এ খাতে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ২৪৩ শতাংশ।এর বাইরে ১২টি কোডভিত্তিক খাতে পরিচালন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৪৪ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সব মিলিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ব্যয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।৩,৯৮১ ইউপিতে ভোটদেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৮১টির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হলে অক্টোবরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন হতে পারে।ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংলাপ না হলে চলতি মাসেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গত সোমবার বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে এবং যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।এক ধাপে প্রায় ১,২০০ ইউপিআগের ইউপি নির্বাচন সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে বিশেষ ধাপসহ মোট ৪ হাজার ১১৪টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল ১৯৬ দিন।এবার প্রথম ধাপে প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউপির তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধানও আগের তুলনায় বাড়ানোর কথা ভাবছে ইসি। এতে মনোনয়ন, বাছাই, আপিল, প্রতীক বরাদ্দ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।বাড়ছে বিভিন্ন খাতের ব্যয়নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন খাতেও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ প্রস্তুত, মেরামত ও অস্থায়ী কেন্দ্র নির্মাণে ২০২১ সালে ১৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এবার এ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য চার কোটি ৪০ লাখ টাকা, সম্মানী ভাতা ৪৪৬ কোটি ৯৪ লাখ, যাতায়াত ভাতা ৯৬ কোটি, আপ্যায়ন ৯৬ কোটি ৭৪ লাখ, মুদ্রণ ও বাঁধাই ৫০ কোটি এবং জ্বালানি বাবদ ৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।সব মিলিয়ে কোডভিত্তিক পরিচালন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৮৪৪ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।আইন ও ভোটার তালিকার প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়েইউপি নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ও সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি সংস্কারের কাজও এগিয়েছে। পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পৃথক আচরণবিধির খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর এবং তা নিষ্পত্তির সময় ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।

ইউপি নির্বাচনে ব্যয় বাড়ছে ২৪৩ শতাংশ, মোট খরচ হতে পারে ৩ হাজার কোটি

আজ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে ইসি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আজ সোমবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল রোববার ইসি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।এর আগে গত ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদে নতুন করে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন।হালনাগাদ শেষে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন।ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি পেছানো হলে নতুন ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধিত নতুন ভোটারদের সম্পূরক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।ইসির সর্বশেষ চূড়ান্ত হালনাগাদ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।

আজ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে ইসি

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আজ ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট দেবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম।সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। স্পিকারের দায়িত্বে থাকা জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন।শপথের পরপরই রেওয়াজ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ননির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ভোটের সময় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না।ভোট দেওয়ার সময় কোনো তাৎক্ষণিক সমস্যা দেখা দিলে চিফ হুইপ ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।যেভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরানির্বাচনের দিন সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নিজ নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নাম ও বিভক্তি নম্বরসংবলিত ব্যালট পেপার সংগ্রহ করবেন ভোটাররা।ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে। কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ব্যালট বাক্সে দেওয়ার আগে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর নির্বাচন কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।বিকেল ৫টায় ভোট গণনাবিকেল পাঁচটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচন কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।সিইসি এএমএম নাসিরউদ্দিন বলেন, ঐতিহাসিক এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি পদে এ ধরনের ভোট গ্রহণ হচ্ছে।

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আজ ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য