ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

দিল্লিতে কড়াকড়ি, হোটেল-ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দিল্লিতে কড়াকড়ি, হোটেল-ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি
ছবি: সংগ্রহ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তরে শনিবারের কর্মসূচির আগে হোটেল, গেস্ট হাউস ও ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে দিল্লির বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের বড় দল একসঙ্গে অবস্থান করলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে ৪১ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। যন্তর মন্তরের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। পাশাপাশি মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

যেসব দাবিতে বিক্ষোভ

দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।

‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামের এই কর্মসূচিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণেরা যোগ দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এ কারণে দিল্লির প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

৪১ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

দিল্লি পুলিশের ১৫ হাজারের বেশি সদস্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী আনা হচ্ছে।

এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করতে নয়াদিল্লিকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের মিছিল আসতে পারে—এমন ৩৭টি স্থানে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।

শুক্রবার রাত থেকেই যন্তর মন্তরের আশপাশে মাইকিং করছে পুলিশ। বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় বড় জমায়েতসহ নির্দিষ্ট কিছু কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লাউডস্পিকারে বারবার নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হচ্ছে।

চার কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধ

বিক্ষোভের কারণে দিল্লির গণপরিবহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আন্দোলন ঠেকাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।

এরপর দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানায়।

বাতিল ট্রেন, যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ

বিক্ষোভ ঘিরে রেল চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। শনিবার ভোর চারটা থেকে দুপুর দুইটার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো বাতিল করা হয়েছে।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ছয়টা থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। যাঁদের বাইরে যেতে হবে, তাঁদের হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান

এদিকে সিজেপি ও অন্য আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক শুক্রবার রাতে মুম্বাই থেকে বলেছেন, শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ থাকার বার্তা দিয়েছেন।

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাও প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয় : ভারত দিল্লি নির্বাচন কমিশন সিজেপি বিক্ষোভ নিরাপত্তাব্যবস্থা

দৈনিক নবকাল

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


দিল্লিতে কড়াকড়ি, হোটেল-ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তরে শনিবারের কর্মসূচির আগে হোটেল, গেস্ট হাউস ও ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে দিল্লির বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের বড় দল একসঙ্গে অবস্থান করলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে ৪১ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। যন্তর মন্তরের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। পাশাপাশি মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

যেসব দাবিতে বিক্ষোভ

দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।

‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামের এই কর্মসূচিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণেরা যোগ দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এ কারণে দিল্লির প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

৪১ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

দিল্লি পুলিশের ১৫ হাজারের বেশি সদস্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী আনা হচ্ছে।

এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করতে নয়াদিল্লিকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের মিছিল আসতে পারে—এমন ৩৭টি স্থানে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।

শুক্রবার রাত থেকেই যন্তর মন্তরের আশপাশে মাইকিং করছে পুলিশ। বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় বড় জমায়েতসহ নির্দিষ্ট কিছু কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লাউডস্পিকারে বারবার নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হচ্ছে।

চার কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধ

বিক্ষোভের কারণে দিল্লির গণপরিবহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আন্দোলন ঠেকাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।

এরপর দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানায়।

বাতিল ট্রেন, যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ

বিক্ষোভ ঘিরে রেল চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। শনিবার ভোর চারটা থেকে দুপুর দুইটার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো বাতিল করা হয়েছে।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ছয়টা থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। যাঁদের বাইরে যেতে হবে, তাঁদের হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান

এদিকে সিজেপি ও অন্য আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক শুক্রবার রাতে মুম্বাই থেকে বলেছেন, শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ থাকার বার্তা দিয়েছেন।

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাও প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
দিল্লিতে কড়াকড়ি, হোটেল-ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি
0:00 0:00
1.0x