ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ভোট গণনার ভিডিও নেই, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

ভোট গণনার ভিডিও নেই, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

ভারতের কর্নাটকের একটি বিধানসভা আসনে ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ দেখাতে না পারায় দেশটির নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, কমিশনের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণ পরবর্তী শুনানিতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে আদালত।২০২৩ সালের কর্নাটকের শ্রীনগেরি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে এ নির্দেশনা আসে। ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান। তবে কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি বিচারপতিরা।আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জিব সচদেবের বেঞ্চ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।পুনর্গণনায় বদলে যায় ফল২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে শ্রীনগেরি আসনে প্রথমে কংগ্রেস প্রার্থী টিডি রাজেগৌড়াকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এ ফল চ্যালেঞ্জ করে আইনি পদক্ষেপ নেন বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবারাজ। পরে ওই আসনে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনর্গণনায় পোস্টাল ব্যালটের হিসাবে ২০১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী।এ ফলাফল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন কংগ্রেস প্রার্থী। তিনি ভোট গণনা ও পুনর্গণনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের আবেদন জানান।বাজে অজুহাত শুনব নাশুনানিতে বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ দেন, ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি প্রকাশ্যে আনা উচিত নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের আইনজীবী শেষাদ্রী নায়ডু আদালতকে জানান, গণনার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, কমিশন কীভাবে বলতে পারে যে তারা ভিডিও রেকর্ডিং খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে?আদালত নির্দেশনা দিয়ে বলে, কমিশনের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণ পরবর্তী শুনানিতে জমা দিতে হবে। তা না হলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। বিচারপতিরা বলেন, আমরা এই ধরনের বাজে অজুহাত শুনব না।মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ ঘিরে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান সামনে এল।

ছিনতাই ও বোমার আশঙ্কায় জয়পুরে জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের

মাঝ আকাশে বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা ও বোমা থাকার আশঙ্কায় ভারতের জয়পুরে জরুরি অবতরণ করেছে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। বুধবার সকালে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী এআই-২০৩০ ফ্লাইটটি গন্তব্যে না গিয়ে জয়পুরের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিমানটির সব যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় আকাশসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় বিমানটিতে ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা জারি করা হয়। একই সঙ্গে বোমা থাকার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।সতর্কবার্তা পাওয়ার পরপরই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমানটিকে দিল্লির পরিবর্তে জয়পুরে অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।বিমানটি অবতরণের পরপরই শুরু হয় তল্লাশি। তবে বিমানে সত্যিই কোনো বিস্ফোরক ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ছিনতাই ও বোমার আশঙ্কায় জয়পুরে জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের

সিপিজে নেতাদের কারাগারে পাঠানোয় রাহুল-কেজরিওয়ালের নিন্দা

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘটনায় করোচ জনতা পার্টির (সিপিজে) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় যন্তর মন্তরে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষোচিত কাজ।রাহুল আরও বলেন, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক কিংবা ইন্ডিয়া জোটের পতাকা পতাকা আলাদা হলেও দাবি এক। সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার আদায়ের দাবিতে নাগরিকদের সব প্রতিবাদ একই সূত্রে গাঁথা। যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা জায়গাটি ফিরিয়ে নেবেন।সিপিজে নেতাদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিজের দেশে নিজের জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি অপরাধ? বিষয়টিকে তিনি একেবারেই হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।যেভাবে আটক হন তিন নেতাশান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং সম্প্রতি নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের মর্যাদা হারানো যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে বুধবার সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের তিহার জেলে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, তৃতীয় নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।বুধবার সকালে সিপিজের তিন নেতাকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের ব্যারিকেড ভেঙে অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। এ সময় তাঁরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।পুলিশ সূত্রের দাবি, অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ অমান্য, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সিপিজে নেতাদের কারাগারে পাঠানোয় রাহুল-কেজরিওয়ালের নিন্দা

তরুণদের আন্দোলনে চাপে মোদি সরকার, পদত্যাগের দাবি নির্বাচন কমিশনপ্রধানের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বেকারত্ব, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন নতুন গতি পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এ প্রকাশিত জাভেদ নাকভির এক মতামতধর্মী নিবন্ধে ভারতের চলমান পরিস্থিতিকে মোদি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থেকে আন্দোলনের বিস্তারনিবন্ধে বলা হয়েছে, ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ শুরু হয়। হতাশার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।এরপর বেকার তরুণদের নিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির অবমাননাকর মন্তব্য নতুন করে ক্ষোভ উসকে দেয় বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনের ভেতর থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার বিষয়টি আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।নিবন্ধের দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। লেখক মনে করেন, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফলে এসব পদক্ষেপ বিজেপির পক্ষে প্রভাব ফেলেছিল।দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদারআন্দোলন মোকাবিলায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিরাপত্তা সদস্যদের আনা হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী কিছু বাহিনীকেও মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।আন্দোলনকারীদের একটি অংশ নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচয় দিচ্ছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে প্রধানত হিন্দু মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণেরা অংশ নেওয়ায় সরকার বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক জটিলতার মুখে পড়েছে।এর আগে ২০২০ সালে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী শাহিনবাগ আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ ও কোভিড-১৯ মহামারির ভূমিকা ছিল বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।বিরোধীদের সামনে রাজনৈতিক সুযোগতরুণদের আন্দোলনে বিভিন্ন বিরোধী দলের সমর্থন বাড়ছে। তবে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা রয়েছে। বিশেষ করে আগামী বছরের পাঞ্জাব নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়তে পারে।ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৩ সালে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে যে রাজনৈতিক প্রচার শুরু হয়েছিল, বর্তমান আন্দোলনের সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে বলে নিবন্ধে বলা হয়েছে।ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব পরিবর্তনের ফলে নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।আন্দোলনকারীদের পাঁচ দাবিনিবন্ধে আন্দোলনকারীদের কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—·        ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা।·        মন্ত্রিসভায় নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ এবং সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো।·        মোদির ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা।·        দলবদলকারী সংসদ সদস্য ও বিধায়কদের দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সরকারি পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করা।·        রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।মোদি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণজাভেদ নাকভির বিশ্লেষণে, তরুণদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন ভারতের ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী—উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আন্দোলনকারীরা নির্বাচনী স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো বিষয় সামনে এনেছেন।তবে বিরোধী দলগুলো নিজেদের মধ্যে বিভক্ত থাকলে আন্দোলনের রাজনৈতিক সম্ভাবনা দুর্বল হতে পারে। গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রশ্নে বিরোধীদের পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটিয়ে ওঠা এবং অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা জরুরি বলে নিবন্ধে মত দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের আন্দোলনে চাপে মোদি সরকার, পদত্যাগের দাবি নির্বাচন কমিশনপ্রধানের

ভোটার তালিকা সংশোধন স্থগিতের দাবিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পথে বিরোধীদের মিছিল

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেছেন হাজারো বিরোধী নেতা-কর্মী ও সমর্থক। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানী নয়াদিল্লিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাচ্ছে। এ নিয়ে চলতি মাসের শুরু থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মী এবং ‘ককরোচ’ যুব আন্দোলনের সমর্থকেরা।গত বছর শুরু হওয়া এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা জাপানের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বাদ পড়া নামের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত ব্যক্তি, ৬ কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তি এবং ৩ কোটি এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।সোমবারের মিছিলটি নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন দলের পতাকা দেখা যায়। তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।এর আগে সপ্তাহান্তে বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাসহ হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায়ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সম্ভাবনাভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের করা আবেদনটি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে। আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী।আবেদনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলোর নিরীক্ষা, আগাম নোটিশ ও শুনানি ছাড়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া বন্ধে সুরক্ষাব্যবস্থা এবং দেশজুড়ে সংশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে।তবে নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ভুল করে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা পুনরায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন।অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, বিরোধীরা বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।সোমবারের মিছিলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন। পিএইচডির শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ সিয়াগ বলেন, ‘দেশের মৌলিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত আসছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বাধীনতা হারাচ্ছে। এই আঘাতের প্রতিবাদ জানাতেই আমি এখানে এসেছি।’১১ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ছয়টি মেট্রো স্টেশনবিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে দিল্লি পুলিশ। সোমবার ছয়টি মেট্রো স্টেশন ১১ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।এদিকে দিল্লির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরকে আর আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারিত না রাখার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য নতুন তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।চলতি বছরের শুরুর দিকে জন্তর মন্তরে কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন সিজেপির সমর্থকেরা। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা ওই কর্মসূচি পালন করেন।আলাদাভাবে সিজেপির নেতারা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারিখ জানানো না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।বিরোধীদের আন্দোলনকে ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা বলছে বিজেপিবিজেপি বলছে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যেই এই বিক্ষোভ করছে।ভারতের কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সাংবাদিকদের বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং রাজনীতির নামে মানুষকে আক্রমণ করার মাধ্যমে বিরোধীরা ক্ষমতায় ফিরতে চায়।গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দলের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে এই যুব আন্দোলন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারি স্কুলের অবকাঠামো থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করেছেন এর সমর্থকেরা।গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপপ্রধান অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়।বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এসব জনগোষ্ঠীর ভোটারদের ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি—উভয় পক্ষই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।সূত্র: রয়টার্স

ভোটার তালিকা সংশোধন স্থগিতের দাবিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পথে বিরোধীদের মিছিল

রাজসাক্ষী হয়ে পদত্যাগ করুন, ভারতের সিইসিকে রাহুল গান্ধী

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ‘রাজসাক্ষী’ হয়ে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ‘ভোট চুরির’ অভিযোগে করা মামলার প্রসঙ্গ টেনে সোমবার দিল্লিতে কংগ্রেসের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ভয়ের কারণে জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না।ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে রাহুল বলেন, ‘রাজসাক্ষী হয়ে যান। পদত্যাগ করুন। সেটাই হবে আপনার দেশসেবা।জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, ‘আপনি অপরাধ করেছেন। কিন্তু সত্যি বলতে, আপনি মূল অপরাধী নন। আপনি ভুল করছেন। কিন্তু এই ভুলের নেপথ্যে আপনার মস্তিষ্ক নেই। আমরা জানি, আপনি কী পরিমাণ চাপের মধ্যে রয়েছেন।’রাহুল গান্ধীর এসব বক্তব্য ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামনে এল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

রাজসাক্ষী হয়ে পদত্যাগ করুন, ভারতের সিইসিকে রাহুল গান্ধী

থানায় হাজিরা দিলেন না অভিষেক, চাইলেন ৪৮ ঘণ্টা সময়

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও সোমবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হননি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইমেল করে তিনি জানিয়েছেন, হাজিরার আগে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন।আনন্দবাজার ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার কলকাতার কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে তলবের নোটিস দিয়ে আসে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। সোমবার সকালে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি হাজির না হয়ে ইমেলের মাধ্যমে সময় চেয়েছেন।গত ২৭ আগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দপ্তরের একটি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ, কলকাতা পুরসভার কর্মকর্তা ও তৃণমূল নেতার অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ভবনের ছাদে উঠে পুলিশ বিলবোর্ডটি খুলে দেয়। পুলিশের বক্তব্য ছিল, বিলবোর্ডটি বেআইনিভাবে ও বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল, যা এলাকাবাসীর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।ওই ঘটনায় তিনটি এফআইআর করে তদন্ত করছে পুলিশ। এর আগে একবার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলে তিনি হাজির হয়েছিলেন। এবারও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্তকারীরা।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার পুলিশ তাঁকে তলবের নোটিস দিতে বাড়িতে গেলেও তিনি দিল্লিতে থাকায় নোটিস দেওয়া সম্ভব হয়নি। শনিবার কলকাতায় ফেরার পর রোববার তাঁর বাড়িতে নোটিস পৌঁছে দেয় পুলিশ। তবে সোমবার তিনি হাজির হননি।সূত্র: আনন্দবাজার 

থানায় হাজিরা দিলেন না অভিষেক, চাইলেন ৪৮ ঘণ্টা সময়

জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি, প্রস্তাব আনছে কেরলম

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিধানসভায় প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে কেরলমের কংগ্রেস সরকার। সোমবার (১২ অক্টোবর) মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন প্রস্তাবটি পেশ করতে পারেন। দেশটির কোনো রাজ্য বিধানসভায় জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে এমন প্রস্তাব আনার ঘটনা এটিই প্রথম।আনন্দবাজার ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবে তিনটি দাবি রয়েছে—জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণে কেন্দ্রের কাছে আবেদন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন সংশোধন।নিয়োগ আইন সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী ও লোকসভার বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ প্যানেলে রাখার দাবি জানানো হবে। ২০২৩ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই প্যানেল থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব বেশি।১৪০ আসনের কেরলম বিধানসভায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের ১০২, বামজোট এলডিএফের ৩৫ এবং বিজেপির তিনজন বিধায়ক রয়েছেন। প্রস্তাবে বামজোটের সমর্থন পাওয়ার আশা করছে কংগ্রেস সরকার।এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসআইআরের বিরুদ্ধে কেরলের তৎকালীন বাম সরকার বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করেছিল। সে সময় কংগ্রেসও প্রস্তাবটিকে সমর্থন দিয়েছিল।সূত্র: আনন্দবাজার 

জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি, প্রস্তাব আনছে কেরলম

রাষ্ট্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে: সৌরভ দাস

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নিতে ভারতের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র নিজ নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সৌরভ দাসের অভিযোগ, মোদি সরকার বিক্ষোভকারীদের দমনে বলপ্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের আশ্রয় নিচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে চাওয়া নাগরিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।সংবাদ সম্মেলনে নিজের ফোন জব্দ করার অভিযোগ তুলে সৌরভ বলেন, ‘তারা ২৪ ঘণ্টা আমাদের ফোন নিজেদের কাছে রেখেছিল। আমাদের আশঙ্কা, তারা ফোন হ্যাক ও ক্লোন করেছে এবং (ভুয়া) প্রমাণ ঢুকিয়ে দিয়েছে।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার পুলিশ বিমান থেকে তাঁদের অপহরণ করে নিয়ে যায়, যার উদ্দেশ্য ছিল শুধু একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন সৌরভ। তিনি লেখেন, ‘মোদি-শাহ দিল্লিকে দুর্গে পরিণত করেছেন এবং নিজেদের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।’পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে একটি বিষয় স্পষ্ট—জ্ঞানেশ কুমারই এই সরকারের টিকে থাকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন।’সৌরভ দাসের বক্তব্য ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর তোলা অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।

রাষ্ট্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে: সৌরভ দাস

যে শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন নেতা

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রেপ্তারের পর রোববার সকালে তাঁদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। পরে নির্দিষ্ট শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিংহ জানিয়েছেন, মুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দীপকে, সৌরভ ও আশুতোষ আগামী এক বছর কোথাও ‘শান্তি ভঙ্গ’ করতে পারবেন না।মুক্তি পাওয়ার পর আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করবেন।তিন নেতার মুক্তির পর এক বিবৃতিতে সিজেপি বলেছে, ‘ককরোচরা কখনো মরে না। অবশেষে দীপকে, সৌরভ ও রাঙ্কাকে ছাড়তে বাধ্য হলো দিল্লি পুলিশ।ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় সতর্কতামূলকভাবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।দিল্লিতে একটি আন্দোলনে যোগ দিতে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে রাজধানীতে পৌঁছান সিজেপির এই তিন নেতা। বিমান থেকে নামার আগেই পুলিশ তাঁদের আটক করে।সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

যে শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন নেতা

মুক্তি পেলেন সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে

ভারতের দিল্লিতে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানের ভেতর থেকেই তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে আজ সকালে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।এরপর দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে তিন নেতাকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।নেতাদের মুক্তির খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি বলেছে, ‘অবশেষে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে।’ পোস্টে আরও বলা হয়, ‘ককরোচরা কখনো মরে না।’ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার থেকে মধ্য দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। ওই কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের অভিযানে সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়।আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিরোধী দলের নেতা, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাতাও ছিলেন।

 মুক্তি পেলেন সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে

ভোট চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ, দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভোট চুরির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সাউথ অ্যাভিনিউয়ে ধর্নায় বসার পর তাঁকে আটক করা হয়। শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দলের নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ দলটির নেতাদের আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি—শরদচন্দ্র পাওয়ার (এনসিপি-এসসিপি) দলের সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে।এদিকে সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতির (এআইএসএ) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এআইএসএর ভাষ্য অনুযায়ী, নেহা বোরাকে একটি পুলিশ বাসে রাখা হয়েছিল। পরে বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে ফেলেন।এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এআইএসএ জানায়, দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে জ্ঞানেশ কুমার ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তাদের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লি হাটে বিক্ষোভের স্থান নির্ধারণ করা হয়।অন্যদিকে আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা মানিশ সিসোদিয়াকে চণ্ডীগড়ে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। শনিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে এ দাবি জানিয়ে আটকের দৃশ্যের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে আপ।দলটির পোস্টে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর দমন করতে পারবেন না। পোস্টে জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ করে আরও বলা হয়, ‘ভোটচোর জ্ঞানেশ কুমার, আপনার সময় শেষ। সব শেষ, ভাই!’তবে মানিশ সিসোদিয়াকে আটকের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যেই দিল্লি ও চণ্ডীগড়ে এসব আটকের ঘটনা ঘটল।

ভোট চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ, দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দিল্লিতে বিক্ষোভে থাকছেন কেজরিওয়াল

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এ কর্মসূচিতে সব বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। তবে এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে বাম দলগুলো ও আম আদমি পার্টি (আপ)। তৃণমূল কংগ্রেসের অংশগ্রহণ নিয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাম দল ও আপ ইতিমধ্যে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট হয়নি।দিল্লি যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, শনিবার যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।মমতা বলেন, ‘ওদের (সিজেপি) সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা সমর্থন জানিয়েছি। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।’এর আগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সিজেপির নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিল বাম দল, তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি। ওই আন্দোলনের পর পদত্যাগ করেছিলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।এদিকে আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেবেন।অন্যদিকে, সিজেপির এই কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে কংগ্রেস। শনিবার চেন্নাইয়ে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির পরবর্তী পর্বে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

দিল্লিতে বিক্ষোভে থাকছেন কেজরিওয়াল

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল দিল্লি পুলিশ

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে পুলিশের সূত্র জানিয়েছে।সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে ধ্রুব রাঠির পরিবারের বাসা। শনিবার সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে দিল্লি পুলিশের সদস্যরা ওই বাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর মা দরজা খুলে দেন। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে বাসাটির বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য জড়ো হয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সিজেপির পরিকল্পিত বিক্ষোভে অংশ নিতে ধ্রুব রাঠি দিল্লিতে এসেছিলেন বলে সূত্রের দাবি। শনিবার রাজধানীর যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল।তবে ধ্রুব রাঠিকে আটকের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সূত্র: নিউজ১৮

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল দিল্লি পুলিশ

দিল্লিতে কড়াকড়ি, হোটেল-ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তরে শনিবারের কর্মসূচির আগে হোটেল, গেস্ট হাউস ও ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে দিল্লির বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের বড় দল একসঙ্গে অবস্থান করলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে ৪১ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। যন্তর মন্তরের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। পাশাপাশি মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।যেসব দাবিতে বিক্ষোভদেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামের এই কর্মসূচিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণেরা যোগ দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এ কারণে দিল্লির প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।৪১ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনদিল্লি পুলিশের ১৫ হাজারের বেশি সদস্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী আনা হচ্ছে।এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করতে নয়াদিল্লিকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের মিছিল আসতে পারে—এমন ৩৭টি স্থানে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।শুক্রবার রাত থেকেই যন্তর মন্তরের আশপাশে মাইকিং করছে পুলিশ। বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় বড় জমায়েতসহ নির্দিষ্ট কিছু কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লাউডস্পিকারে বারবার নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হচ্ছে।চার কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধনিরাপত্তার অংশ হিসেবে জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধবিক্ষোভের কারণে দিল্লির গণপরিবহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আন্দোলন ঠেকাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।এরপর দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানায়।বাতিল ট্রেন, যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণবিক্ষোভ ঘিরে রেল চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। শনিবার ভোর চারটা থেকে দুপুর দুইটার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো বাতিল করা হয়েছে।দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ছয়টা থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। যাঁদের বাইরে যেতে হবে, তাঁদের হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বানএদিকে সিজেপি ও অন্য আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক শুক্রবার রাতে মুম্বাই থেকে বলেছেন, শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ থাকার বার্তা দিয়েছেন।বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাও প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিল্লিতে কড়াকড়ি, হোটেল-ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

দিল্লিতে ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, বন্ধ ৪৫ মেট্রো স্টেশন

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ৪১ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ। মধ্য দিল্লির একটি বড় এলাকায় বন্ধ রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাতিল করা হয়েছে ২৫৪টি ট্রেন।বিক্ষোভের অনুমতি না দিলেও সিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা দিল্লিতে প্রবেশ করে জমায়েতের চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এ কারণে রাজধানীর প্রবেশপথ, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেশী উত্তর প্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তরের চারপাশে বসানো হয়েছে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি চালানো হয়েছে মহড়া।৪১ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনদিল্লি পুলিশের ১৫ হাজারের বেশি সদস্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করতে নয়াদিল্লিকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে রয়েছেন উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।আন্দোলনকারীদের মিছিল আসতে পারে—এমন ৩৭টি স্থান চিহ্নিত করে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকেও পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী আনা হচ্ছে।যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তর ঘিরে প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকাকে বিশেষভাবে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ছয় হাজার ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রাখার কথা রয়েছে। যন্তর মন্তরমুখী সড়কগুলোতে তৈরি করা হয়েছে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড।এ ছাড়া বিক্ষোভের সময় আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য ১২টি আটককেন্দ্র প্রস্তুত করেছে দিল্লি পুলিশ। নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির হোটেল, লজ ও অতিথিশালাগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।৪৫ মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধনিরাপত্তার কারণে দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) প্রথমে ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করলেও পরে তা কমিয়ে ৪৫টিতে আনে।৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা। সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, নয়াদিল্লি, মান্ডি হাউস, আইটিও, খান মার্কেট, হাউজ খাস, লাজপত নগর, কাশ্মীরি গেট, সিলামপুর, শাহদরা ও রিঠালা।তবে অধিকাংশ স্টেশনে এক মেট্রো লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার সুবিধা চালু থাকবে। শুধু নয়াদিল্লি স্টেশনে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না।এ বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তিসংগত ও আনুপাতিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত যেন অযথা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।চার কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধনিরাপত্তার অংশ হিসেবে জনপথ ও কর্তব্য পথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার কথা।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা এ নির্দেশ জারি করেছে। এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন আইডিয়া ও এমটিএনএলকে নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।বিক্ষোভের জন্য লোকজন জড়ো করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। বিভিন্ন অনলাইন পোস্ট ও বার্তা পর্যালোচনার জন্য ২০০-এর বেশি কনটেন্ট নির্মাতাকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অডিও ও ভিডিও ধারণের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশের পদক্ষেপ নথিবদ্ধ করতে প্রায় ১০০ জন আলোকচিত্রী ও ভিডিও ধারণকারীকে কাজে লাগানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।বাতিল ২৫৪ ট্রেন, ভোগান্তিতে যাত্রীরানিরাপত্তাব্যবস্থার প্রভাব পড়েছে রেল চলাচলেও। ১০ অক্টোবর সকাল চারটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত মোট ২৫৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এবং ১৭৯টি লোকাল ট্রেন রয়েছে।এতে দিল্লির সঙ্গে গাজিয়াবাদ, মিরাট, পানিপথ ও কুরুক্ষেত্রের মতো এলাকার রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন থেকে যাত্রার আগে ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নিতে যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে পুরোনো দিল্লি, আনন্দ বিহার ও দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন চালু রয়েছে। অন্যদিকে, নমো ভারত রেলের সরাই কালে খান ও নিউ অশোক নগর স্টেশন ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা।দিল্লি-লখনউ রেলপথেও প্রভাব পড়েছে। ১০ অক্টোবর এ পথে চলাচলকারী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লখনউ মেল ও নয়াদিল্লি-লখনউ এসি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। এ ছাড়া ১১ অক্টোবরের লখনউ-নয়াদিল্লি গোমতী এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছে।৩০ সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধের আশঙ্কাদিল্লি ট্রাফিক পুলিশ প্রায় ৩০টি সড়ক চিহ্নিত করেছে, যেখানে ১০ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে যান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্যাটেল চক, অশোকা রোড, জনপথ, লোধি রোড ও ধৌলা কুয়ো।ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দীনেশ কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী যান চলাচলের পথ পরিবর্তন করা হবে। তবে কোনো সড়ক পুরোপুরি বন্ধ করা বা যান চলাচল সম্পূর্ণ আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বাইরে বের হলে হাতে অতিরিক্ত সময় রাখা এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রেলস্টেশন, আন্তরাজ্য বাস টার্মিনাল ও বিমানবন্দরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।নিরাপত্তার কারণে ৯ ও ১০ অক্টোবর দিল্লির সব খুচরা মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কনট প্লেসের নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনও শনিবার দোকান, কার্যালয়, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ভাগীরথ প্যালেস ও চাঁদনি চক বাজার কর্তৃপক্ষও বাজার বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।উত্তর প্রদেশেও বাড়তি সতর্কতাসিজেপির কর্মসূচি ঘিরে উত্তর প্রদেশেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিল্লিসংলগ্ন মিরাট ও বেরেলি অঞ্চলের জেলাগুলোকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রাজধানীমুখী সড়কে যানবাহনে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।লখনউ, আগ্রা, মিরাট, বেরেলি, গাজিয়াবাদ, নয়ডা, প্রয়াগরাজ ও বারাণসীতে সম্ভাব্য বিক্ষোভ কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। গৌতম বুদ্ধ নগর জেলায় ১০ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভ, উৎসব ও বিভিন্ন জনসমাবেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন ৯ অক্টোবর দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশপ্রধানদের চিঠি দিয়েছেন। এতে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বানসিজেপি ও অন্যান্য আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক শুক্রবার রাতে মুম্বাই থেকে জানান, শনিবার সকালে তিনি দিল্লি পৌঁছাবেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলন যেন থেমে না যায়, সে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের বার্তা দিয়েছেন।বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া এবং সম্ভাব্য জমায়েত ঠেকাতে নেওয়া ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যে দিল্লির গণপরিবহন, রেল যোগাযোগ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছে। এখন প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও যাতায়াত যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা।

দিল্লিতে ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, বন্ধ ৪৫ মেট্রো স্টেশন