ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে পাস হয়েছে। সিনেটে অনুমোদনের পর গতকাল ২৬২-১৫৯ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদেও বিলটি পাস হয়। এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটিতে রাশিয়ার কর্মকর্তা, দেশটির জ্বালানি খাত এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।বিলের একটি সংশোধনীতে ভারত, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ ১০টি দেশের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশের পণ্যে এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ করলেই এমন শুল্ক আরোপ করা সম্ভব হবে।সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি বেড়েছে। ফলে নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা ভারতের অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর শুল্ক এবং এ–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।নতুন আইনে দেওয়া ক্ষমতা ট্রাম্প প্রয়োগ করলে ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কের চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে বিলটি আইনে পরিণত হয় কি না এবং আইনটি কার্যকর হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করেন কি না, তার ওপর। সূত্র: এনডিটিভি

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানি করা ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়েছে। মঙ্গলবার ২১৪-২১১ ভোটে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বিলটি পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়।বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার দায়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণের সুযোগও থাকবে।এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিলটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। এসব দেশের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে।তবে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেবে এই বিল।প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার তেল বাণিজ্য অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে এমন অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাচ্ছেন না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশকে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে ঢাকা সন্তুষ্ট নয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের অষ্টাদশতম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত।গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। আনন্দবাজার পত্রিকা যাই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থের কথা ভাবব।’ বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেওয়ার মতো কিছু নেই।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাচ্ছেন না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়েছে ভারত

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে।ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গসহ আসাম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পূজার আগে সীমিত পরিমাণে হলেও ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চান তাঁরা। এ বিষয়ে সংগঠনটির নেতারা বাংলাদেশ সফর করে বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পাওয়া গেছে। কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা যায়, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে রপ্তানির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন সময়ে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে অনেক কম। সর্বশেষ ১ হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন ইলিশ। পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, এবার বেশি পরিমাণ ইলিশ আমদানির বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। একই সঙ্গে রপ্তানির সময়সীমা তুলে দেওয়া এবং ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়েছে ভারত

'গেরুয়া গুণ্ডামি' শব্দ নিয়ে বিতর্ক, আনন্দবাজার কার্যালয়ে বিক্ষোভ

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনামকে কেন্দ্র করে কলকাতায় সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একদল ব্যক্তি। এ সময় পত্রিকাটির সাদা ভবনের দেয়ালে গেরুয়া রং মাখিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার পত্রিকা ‘গেরুয়া গুণ্ডামি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিল। এর কয়েক দিনের মধ্যেই সংবাদপত্রটির কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া পোশাক পরা একদল ব্যক্তি ভবনের দেয়ালে রং মাখাচ্ছেন। এ সময় তাঁদের ‘গেরুয়ার অপমান হিন্দুস্থান সহ্য করবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের কাছেই কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ ভবনের রং করা অংশগুলো পুনরায় রং করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।দ্য হিন্দু জানিয়েছে, ভবনের দেয়ালে রং লাগানো ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়নি।যাদবপুরের সংঘর্ষ ঘিরেই বিতর্কগত ২০ আগস্ট কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং বামপন্থী সমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলোর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।পরে ওই সংঘর্ষ বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত গড়ায়। সহিংসতার ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বাইরের লোকজন নিয়ে আসার অভিযোগও তোলে দুই পক্ষ। এই সংঘর্ষের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার ব্যবহৃত ‘গেরুয়া গুণ্ডামি’ শব্দবন্ধ নিয়েই পরবর্তী সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিতর্কের জেরেই পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ এবং দেয়ালে গেরুয়া রং মাখানোর ঘটনা ঘটেছে।

'গেরুয়া গুণ্ডামি' শব্দ নিয়ে বিতর্ক, আনন্দবাজার কার্যালয়ে বিক্ষোভ

চীনে ঝুঁকি বাড়ায় ভারতে বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ

চীনে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার মধ্যে ভারতের বাজারে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপানি কোম্পানিগুলো। ভোক্তা পণ্য, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে দেশটিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল গত সপ্তাহে জাপানে দেশটির সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।ভারতের মুম্বাই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর শপিংমল ও প্রধান সড়কে এখন জাপানি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি আগের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান। ইউনিক্লো, মুজি ও অনিতসুকা টাইগারের মতো প্রতিষ্ঠান দেশটিতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।জাপানের আসবাব প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিটোরিও সম্প্রতি ভারতের বাজারে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া জাপানি কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইন লসনও ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটিতে ১০ হাজার দোকান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এর কার্যক্রম মুম্বাই থেকে শুরু হওয়ার কথা।ব্যাংকিং ও প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগভারতের আর্থিক খাতেও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। অন্য বিদেশি ঋণদাতারা ভারতের ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে সরে গেলেও জাপানি ব্যাংকগুলো দেশটির আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।জাপানের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এমইউএফজি গত বছর ভারতের আর্থিক খাতে ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করে শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। এটিকে ভারতের আর্থিক খাতে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।একই বছর সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ভারতের ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারে পরিণত হয়।ভারতের গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার বা জিসিসি ব্যবস্থাতেও জাপানি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ছে। ডেলয়েটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে শতাধিক জাপানি প্রতিষ্ঠান জিসিসি পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে গবেষণা ও উন্নয়ন, করপোরেট কৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হচ্ছে।ভারতের দিকে কেন ঝুঁকছে জাপাননেক্সট ভারত ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা ভিপুল নাথ জিন্দাল বিবিসিকে বলেন, প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকে এখন ভারতের দিকে তাকাতে হচ্ছে। কারণ, জাপানের স্থানীয় জনসংখ্যা গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে কমছে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বাজারের আকারও সংকুচিত হচ্ছে।অন্যদিকে জাপানি ব্যবসার প্রচলিত বাজারগুলোর আকর্ষণও কিছুটা কমেছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীনে বিনিয়োগ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বাজারও ভারতের তুলনায় ছোট।এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির জন্য ভারতের বাজারকে জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছে সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তিভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো হয় প্রায় দেড় দশক আগে বাণিজ্য উদারীকরণের একটি চুক্তির মাধ্যমে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হয়।সে সময় ভারতে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়।তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে জাপানের বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।জুলাইয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রথম দিল্লি সফরের সময় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে জাপানি কোম্পানিগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এসব বিনিয়োগের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ও সবুজ জ্বালানি খাতও রয়েছে।ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, জাপানের ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ হতে পারে।ছোট কোম্পানিরও আগ্রহশুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়, জাপানের ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোও ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছে। সুজুকি, হোন্ডা ও ইয়ামাহার মতো প্রতিষ্ঠানের জন্মস্থান হামামাতসু শহরে সম্প্রতি হামামাতসু ইন্ডিয়া কমিটি গঠন করা হয়েছে। শহরটির ছোট কোম্পানিগুলো কীভাবে ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে, তা নিয়ে কাজ করবে এই কমিটি।ভারতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ার বিপরীতে চীনে জাপানের নিট বিনিয়োগ কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর অর্থ জাপানি কোম্পানিগুলো ব্যাপকভাবে চীন ছেড়ে যাচ্ছে—এমন নয়। বরং কয়েক বছর ধরে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পর বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে চাইছে তারা।সিডনিভিত্তিক লোয়ি ইনস্টিটিউটের ইন্ডিয়া চেয়ার শ্রুতি পান্ডালাইয়ের মতে, চীনসংক্রান্ত ঝুঁকির বিরুদ্ধে ভারত জাপানের জন্য এক ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে টোকিওর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দিল্লির উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জোরালো করছে।সামনে যেসব চ্যালেঞ্জতবে ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চীনের উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে জাপান এখনো গভীরভাবে যুক্ত। ফলে চীন থেকে পুরোপুরি সরে আসা বা সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ব্যয় এবং চীনের পাল্টা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে।ভারতেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনায় করসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জমি ও পরিবেশগত অনুমোদনে বিলম্বের মতো সমস্যা রয়েছে।সম্প্রতি জাপানের এক সাবেক মন্ত্রী দিল্লি সরকারের সমালোচনা করে বুলেট ট্রেন প্রকল্পে বিলম্বের জন্য ভারতকে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভারত নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করেছে। ভারত সরকার অবশ্য ওই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে।ঘটনাটি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়। ভারত ও জাপানের মধ্যে মতপার্থক্যের উদাহরণ হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরে ভারতের চুক্তি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা।সব মিলিয়ে বড় অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগের গতি ধরে রাখতে ভারতকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে অন্য দেশগুলো থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ভারতের প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকায় জাপানি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সূত্র: বিবিসি

চীনে ঝুঁকি বাড়ায় ভারতে বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো ‘জ্যাভেলিন’ ক্ষেপণাস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ‘জ্যাভেলিন’ কিনতে চুক্তি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) প্রক্রিয়ার আওতায় এ চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর চুক্তিটিকে ‘বড় খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত জ্যাভেলিন কেনার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি জানান।ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০টি জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চুক্তিটির মূল্য প্রায় ২৯২ কোটি রুপি। জরুরি ক্রয়ক্ষমতার আওতায় এ কেনাকাটা করা হয়েছে। তবে চুক্তির সঠিক সংখ্যা ও মূল্য মার্কিন দূতাবাস বা যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।যেভাবে কাজ করে জ্যাভেলিনজ্যাভেলিন কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। একজন সেনাসদস্য এটি বহন ও উৎক্ষেপণ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।জ্যাভেলিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তি। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর নিক্ষেপকারীকে আর সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না। ক্ষেপণাস্ত্র নিজেই লক্ষ্য অনুসরণ করে।এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সেনাসদস্য দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন। শত্রুপক্ষ পাল্টা আঘাত করার আগেই নিরাপদ অবস্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।জ্যাভেলিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হলো ট্যাংকের ওপরের তুলনামূলক কম সুরক্ষিত অংশে আঘাত করা। পাশাপাশি সাঁজোয়া যান ও বাংকারের মতো সুরক্ষিত অবস্থানও এর লক্ষ্য হতে পারে। এ কারণে প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।কেন জ্যাভেলিন কিনছে ভারতআধুনিক ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে। একই সঙ্গে দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশীয় ব্যবস্থাটি এখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর্যায়ে থাকায় দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি অস্ত্র কেনার পথে এগিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, গত বছরের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জরুরি ক্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি সরঞ্জামের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি রুপি পর্যন্ত কেনাকাটার সুযোগ রয়েছে। জ্যাভেলিন কেনার চুক্তিও এই সীমার মধ্যে করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ভারতীয় সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষ নাগাদ জ্যাভেলিন সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।এর আগেও অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রভারতকে জ্যাভেলিন বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্র আগেই দিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতকে জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেয়।মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডিএসসিএ) জানিয়েছিল, সম্ভাব্য ওই বিক্রির আনুমানিক মূল্য ছিল ৪৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবে ১০০টি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভেলিন রাউন্ড, একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিটের কথা ছিল। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।তবে সেটি ছিল সম্ভাব্য ফরেন মিলিটারি সেলসের অনুমোদন। তাই ২০২৬ সালের নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে ৪৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার বা ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্রকে চূড়ান্ত চুক্তির মূল্য বা সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাজ্যাভেলিন কেনার চুক্তিকে শুধু অস্ত্র ক্রয় হিসেবে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে যৌথ উৎপাদনের পথও খুলতে পারে এই চুক্তি।গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে ১০ বছরের একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জ্যাভেলিন চুক্তিকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সামরিক ব্যয়ের দিক থেকেও ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় দেশ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক খাতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান পঞ্চম। অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রেও দেশটি বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি।ফলে জ্যাভেলিনের মতো আধুনিক ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র সংগ্রহ ভারতের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ। পাশাপাশি নতুন এই চুক্তি নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকেও আরও দৃশ্যমান করল।সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো ‘জ্যাভেলিন’ ক্ষেপণাস্ত্র

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আলোচনায় ভারতের নজর

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে- এমন যেকোনো আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর তারা সতর্ক নজর রাখছেন।শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্যভাবে ওই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ কথা বলেন।দ্য হিন্দুর সাংবাদিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে জানতে চান, বাংলাদেশ জোটে যোগ দেবে কি না, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং এতে অন্য কারও অস্বস্তির কারণ থাকা উচিত নয়- এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী।জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো আঞ্চলিক পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ভারতের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আলোচনায় ভারতের নজর

ভারতীয় গায়ক অঙ্কিতকে গুলি করে হত্যা

ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলিতে জিম থেকে বের হওয়ার পর প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে হরিয়ানভি গায়ক ও ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ানকে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।৩৫ বছর বয়সী অঙ্কিত গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শামলির একটি জিম থেকে বের হন। হাতে ছিল জিমের কিট ব্যাগ। এরপর নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় চার অস্ত্রধারী তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গাড়ির কাছে পৌঁছানোর আগেই অঙ্কিতকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে হামলাকারীরা। প্রায় ২৫ সেকেন্ড ধরে তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়া হয়। হামলাকারীদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।গুলির শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারী ও স্থানীয় দোকানিরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। কয়েকজন দোকানের ভেতর থেকে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করলেও গুলির শব্দ অব্যাহত থাকায় তারাও আড়ালে চলে যান।পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মোট ১৬টি গুলি ছুড়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গুলি আতঙ্ক সৃষ্টি করতে শূন্যে ছোড়া হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।ঘটনার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অঙ্কিত বালিয়ান হরিয়ানভি গান ও ইউটিউব কনটেন্টের জন্য পরিচিত ছিলেন।সূত্র: এনডিটিভি

ভারতীয় গায়ক অঙ্কিতকে গুলি করে হত্যা

বাংলাদেশে পাঠানো কয়েক বাংলাভাষীকে ভারতে ফেরানো হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া কয়েকজন বাংলাভাষীকে আবার ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে এ তথ্য জানিয়েছে। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করেছেন। তবে নাগরিকত্ব ও বহিষ্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রাখা হয়েছে।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শর্মার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিষয়টি নথিভুক্ত করে আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে ফিরে আসায় আপাতত মামলাগুলো চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।হাইকোর্টের নির্দেশের পর ফেরানোর উদ্যোগএর আগে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সুনালি খাতুন, সুইটি বিবিসহ কয়েকজনকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে বাংলাদেশে পাঠানোর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁদের এক মাসের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।সুনালি খাতুনের পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাঁকে স্বামী ও সন্তানসহ আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগ ওঠে সুইটি বিবি ও তাঁর সন্তানদের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশে পাঠানোর পর তাঁদের কয়েকজনকে স্থানীয় পুলিশ আটক করেছিল।নাগরিকত্ব যাচাই করবে ভারতগত ২২ মে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজনকে ভারতে ফিরিয়ে এনে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবি যাচাই করা হবে। সরকার তখন জানিয়েছিল, এ সিদ্ধান্ত কোনো নজির হিসেবে বিবেচিত হবে না। যাচাই শেষে তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এর আগে গত ডিসেম্বরে মানবিক কারণে সুনালি খাতুন ও তাঁর আট বছর বয়সী সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। অন্তঃসত্ত্বা সুনালির চিকিৎসা ও প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশও দিয়েছিলেন আদালত।সর্বশেষ শুনানিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনজীবী জানান, সলিসিটর জেনারেলের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং সবাই ভারতে ফিরে এসেছেন।তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নাগরিকত্ব এবং কাউকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

বাংলাদেশে পাঠানো কয়েক বাংলাভাষীকে ভারতে ফেরানো হয়েছে

পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে: রামদেব

একদিন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের বিতর্কিত যোগগুরু রামদেব। এ জন্য ভারতীয়দের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন রামদেব।তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা সংবিধান ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত।রামদেব আরও বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ও অবিচার মানবসভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ঘটনা। ভবিষ্যতে ধর্মের কারণে কেউ যেন নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।ভারতে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান- কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ই হুমকির মুখে নেই দাবি করে রামদেব বলেন, ‘হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা।’তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশের কাছ থেকে ভারত সমান সম্মান পাক-এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে: রামদেব

ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা : চিফ প্রসিকিউটর

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কোন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তা বাংলাদেশ জানে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো সম্ভব।সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।এর আগে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিমান দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। ওই দিন সন্ধ্যায় বিমানঘাঁটিতে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানাকে স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।পরদিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশটির পার্লামেন্টে জানান, ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনা ‘সাময়িকভাবে’ ভারতে আসার অনুমোদন চেয়েছিলেন। সেই অনুমোদন পাওয়ার পরই তিনি ভারতের মাটিতে পা রাখেন বলে জানান জয়শঙ্কর।এরপর থেকে শেখ হাসিনা ভারতেই অবস্থান করছেন। তবে তিনি ঠিক কোন ‘ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে’ ভারতে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।তবে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কী ধরনের আইনি বা অভিবাসন মর্যাদায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানান তিনি।

ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা : চিফ প্রসিকিউটর

পশ্চিমবঙ্গ সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে বীরভূমে তাঁর বাড়ির কাছের তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি কথিত সুইসাইড নোটও পাওয়া গেছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃণমূলের কার্যালয়ের ভেতরে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।পুলিশের হাতে পাওয়া কথিত সুইসাইড নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি জীবনে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ঘুষের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনায় তাঁকে মিথ্যাভাবে জড়ানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। রাজনীতিতে আসাকে নিজের ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট বিধানসভা আসন থেকে টানা পাঁচবার নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি ওই আসনের বিধায়ক ছিলেন।পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন আশিস। তিনি রাজ্যের সাবেক স্কুলশিক্ষামন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

পশ্চিমবঙ্গ সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র কেনার পরিকল্পনা ভারতের উত্তর প্রদেশে

ভারতের উত্তর প্রদেশে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের জন্য পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। বুলন্দশহর জেলার ১৫টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে।বর্তমানে এসব গ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সংগ্রহের সুবিধার জন্য গ্রামগুলোতে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্কও স্থাপন করা হয়েছে।সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান এবং দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া গরুর রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করাও প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য।প্রকল্পের সঙ্গে প্রায় ৩০০ নারী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের কৃষক উৎপাদক সংগঠন বা এফপিওর (FPO) শেয়ারহোল্ডার করা হয়েছে। গোমূত্র সংগ্রহে সহযোগিতা করা নারীরা প্রতি লিটারে ২ রুপি করে কমিশন পাচ্ছেন।সংগৃহীত গোমূত্র কৃষিকাজের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে রাসায়নিক সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের বিকল্প তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে পুরো উত্তর প্রদেশে কার্যক্রমটি সম্প্রসারণের জন্য পৃথক নীতি প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) উদ্যোগটিকে ‘কেলেঙ্কারি’ আখ্যা দিয়েছে। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে।অবশ্য এসপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির দাবি, সরকার যেসব উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করে, এসপি সেগুলোর বিরোধিতা করে আসছে। সূত্র: এনডিটিভি

প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র কেনার পরিকল্পনা ভারতের উত্তর প্রদেশে

দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ভারতের প্রতি ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণ সম্পর্কে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা নিন্দনীয়।বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশ আগেই ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তা সত্ত্বেও এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে যখন দেশজুড়ে শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছিল, তখন ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশু-সহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এমন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে বলে উল্লেখ করা হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশের জনগণ ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান নেই।বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় জানায়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। তবে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ–ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের একাধিক অনুরোধের এখনো কোনো সাড়া দেয়নি ভারত সরকার। বরং তাঁকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যও তা সহায়ক নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ভারতের প্রতি ঢাকার তীব্র ক্ষোভ