দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে এ খাতের উন্নয়নে একটি একক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় বেসামরিক
বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম
রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানান।
সভায় মন্ত্রী
বলেন, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে
একটি যৌথ কমিটি গঠন
করা হবে। এই কমিটির
মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্যটনের জন্য একটি একক
নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।
শিগগিরই দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে
এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক
(এমওইউ) সই হবে বলেও
জানান তিনি।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া
সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পর্যটনমন্ত্রী
বলেন, দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে
তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। মালয়েশিয়া
ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি সেগুলোকে পর্যটন ও সংস্কৃতির সঙ্গে
যুক্ত করে যেভাবে কাজ
করছে, বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ
নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পর্যটন খাতের
অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ২ থেকে ৩
শতাংশ। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে
এই অবদান ৭ থেকে ৮
শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিকল্পনার প্রথম
ধাপে দেশের ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িগুলোকে পর্যটনের আওতায় আনার কথা ভাবা
হচ্ছে। পাশাপাশি কক্সবাজার থেকে ময়নামতী পর্যন্ত
বিস্তৃত বৌদ্ধ নিদর্শনগুলোও এ উদ্যোগের আওতায়
নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের
অন্যান্য পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে
যুক্ত করা হবে।
সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন,
বিশ্বের অনেক ছোট দেশ
পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে
সমৃদ্ধ হয়েছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও মালদ্বীপ এর
উদাহরণ।
তিনি বলেন, পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাজ একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। দেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।