ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কিছু করার পরিকল্পনা নেই

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সব বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই।বুধবার চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবটি অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। কারণ, এসব বিভাগ একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমন করতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। অপরাধীদের দমনে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে গেলে কোনো ব্যক্তি আসামিকে সহায়তা করলে, সে ক্ষেত্রেও তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আট বিভাগে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবদেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন বদলে যাচ্ছে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ ও প্রতারণা সংঘটিত হচ্ছে। এমনকি শেয়ারবাজারে কারসাজির ক্ষেত্রেও সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অপরাধ শনাক্ত ও দমনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের বিকল্প নেই।এ লক্ষ্যেই সাইবার পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাইবার পুলিশ ইউনিটের নিজস্ব ল্যাবরেটরি সুবিধা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।আধুনিকায়ন করা হবে সিআইডির ল্যাবস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি পরিচালনা করে আসছে। ভিসেরা প্রতিবেদন তৈরিতে এ ল্যাব ব্যবহার করা হয়। তবে সময়ের প্রয়োজনে এর সক্ষমতা সম্প্রসারণ করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর যথাযথ প্রত্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব সক্ষমতা বাড়াতে হবে।সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আধুনিক ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে উন্নত সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে যারা ছিলেনসাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন।কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কেওআইসিএ) সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কিছু করার পরিকল্পনা নেই

কুমিল্লায় এক রাতে ৩৫৩ জন আটক, ২০ দিনে ২ হাজার ৬৪৫

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের অপতৎপরতা বন্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক রাতেই ৩৫৩ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, এমন এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি নেতৃত্ব দেন।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ দিনে সাত দফায় পরিচালিত অভিযানে মোট ২ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।অভিযানে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কিশোর অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

কুমিল্লায় এক রাতে ৩৫৩ জন আটক, ২০ দিনে ২ হাজার ৬৪৫

চাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও নির্মাণশ্রমিকদের মারধর, কোথাও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কেরানীগঞ্জে কার্যালয়ে হামলা, লুটের অভিযোগকেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে গত রোববার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন যুবক দেশি অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তাঁরা প্রথমে দরজা ভাঙচুর করেন। পরে আসবাব, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভেঙে একটি ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যান।প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নাসিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।এ ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিব ব্যাপারী ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় একটি যুবক দলের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরাও।রূপনগরে চাঁদা দাবিতে থমকে নির্মাণকাজরাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে জমি ও ভবন নির্মাণ ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবিমতো টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে।এলাকাটিতে একাধিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এর মধ্যে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার স্টুডিও এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলার ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।রূপনগরের একটি প্লটের মালিক মোদাসসের হোসেন জানান, চার কাঠা জমিতে নিজের বাড়ি নির্মাণের জন্য চার মাস আগে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এ সময় একটি দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।গ্রামে থাকা জমি বিক্রি করে ঢাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোদাসসের। কিন্তু চাঁদা দাবির ঘটনায় সেই উদ্যোগ এখন থমকে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি তিনি।মোদাসসেরের ধারণা, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না।১০ তলা ভবনের কাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধরূপনগরের সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় চাঁদা দাবির আরেকটি অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তিনি জানান, তাঁদের একটি ১০ তলা ভবনের চার তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খননকাজ শুরুর সময় থেকেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আবদুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্তত চারবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।এ ঘটনায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে।৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগসম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকদের কল্যাণ সমিতি গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে।সমিতির দাবি, এলাকায় প্রায় ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।সমিতির নেতাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোথাও কোথাও পুলিশ উপস্থিত থাকলেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা যাচ্ছে না।সমিতির সহসভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা বেড়েছে।এ বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশের দাবি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থাপুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে।তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা করার পরও সব ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে।রাজনৈতিক পরিচয় কি অপরাধ দমনে বাধা?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল হকের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রশ্রয় অপরাধ দমনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তাঁর ভাষ্য, কোনো দল ক্ষমতায় এলে সেই দলের কিছু সদস্য অতীতে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দখল ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিতে পারেন।অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে মানুষ নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার সচেতন বলেও জানান তিনি।কেরানীগঞ্জে আবাসন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটের অভিযোগ এবং রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার ঘটনা নগর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার চাইছেন। পুলিশ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও অভিযোগের পরও কেন কোথাও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকছে, কেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা ঘটছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রস্তাবিত হ্যাশট্যাগ: #চাঁদাবাজি #জমিদখল #কেরানীগঞ্জ #মিরপুর #রূপনগর #রাজধানী #আইনশৃঙ্খলা #বাংলাদেশচাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ টপিক: চাঁদাবাজি, জমি দখল, নির্মাণকাজ বন্ধ, কেরানীগঞ্জ, মিরপুর, আইনশৃঙ্খলা ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও নির্মাণশ্রমিকদের মারধর, কোথাও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেরানীগঞ্জে কার্যালয়ে হামলা, লুটের অভিযোগ কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে গত রোববার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন যুবক দেশি অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তাঁরা প্রথমে দরজা ভাঙচুর করেন। পরে আসবাব, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভেঙে একটি ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নাসিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিব ব্যাপারী ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় একটি যুবক দলের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরাও। রূপনগরে চাঁদা দাবিতে থমকে নির্মাণকাজ রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে জমি ও ভবন নির্মাণ ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবিমতো টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে। এলাকাটিতে একাধিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এর মধ্যে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার স্টুডিও এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলার ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রূপনগরের একটি প্লটের মালিক মোদাসসের হোসেন জানান, চার কাঠা জমিতে নিজের বাড়ি নির্মাণের জন্য চার মাস আগে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এ সময় একটি দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। গ্রামে থাকা জমি বিক্রি করে ঢাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোদাসসের। কিন্তু চাঁদা দাবির ঘটনায় সেই উদ্যোগ এখন থমকে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি তিনি। মোদাসসেরের ধারণা, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না। ১০ তলা ভবনের কাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রূপনগরের সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় চাঁদা দাবির আরেকটি অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তিনি জানান, তাঁদের একটি ১০ তলা ভবনের চার তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খননকাজ শুরুর সময় থেকেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আবদুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্তত চারবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এ ঘটনায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকদের কল্যাণ সমিতি গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে। সমিতির দাবি, এলাকায় প্রায় ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। সমিতির নেতাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোথাও কোথাও পুলিশ উপস্থিত থাকলেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা যাচ্ছে না। সমিতির সহসভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা বেড়েছে। এ বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা করার পরও সব ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে। রাজনৈতিক পরিচয় কি অপরাধ দমনে বাধা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল হকের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রশ্রয় অপরাধ দমনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাঁর ভাষ্য, কোনো দল ক্ষমতায় এলে সেই দলের কিছু সদস্য অতীতে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দখল ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিতে পারেন। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে মানুষ নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার সচেতন বলেও জানান তিনি। কেরানীগঞ্জে আবাসন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটের অভিযোগ এবং রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার ঘটনা নগর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার চাইছেন। পুলিশ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও অভিযোগের পরও কেন কোথাও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকছে, কেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা ঘটছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

চাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ

বরিশালে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, অস্ত্র নিয়ে মহড়া-শোডাউন

বরিশাল নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মোটরসাইকেলে দলবেঁধে চলাচল, প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন, শোডাউন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। নগরীর পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে পড়া এসব গ্রুপের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গ্রুপের একটি অংশ মাদক, ছিনতাই, চুরি, ইভটিজিং, মারামারি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কখনো ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে বড় বহর নিয়ে সড়কে মহড়া দিতে দেখা যায় তাদের। কেউ বাধা দিলে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।সম্প্রতি নগরীর পলাশপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী বাবু শিকদার নিহত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানা পুলিশ টোকাই মধু, শহীদ ওরফে কালা শহীদ ও মন্টু সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, আলোচিত ‘ডেঞ্জার বয়েজ’ চক্রের নেতা রিদওয়ান এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বরিশাল মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৫০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্য সংখ্যা কয়েক হাজার বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে পুলিশ বলছে, তাদের কাছে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা রয়েছে এবং তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।অস্ত্রের ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্কসম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে মোটরসাইকেলে করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। পরে নদীর পাড়ে গিয়ে তাদের মধ্যে অস্ত্র হস্তান্তরের দৃশ্যও রয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের এমন ঘটনা কীভাবে ঘটছে। তাঁদের অভিযোগ, বেলস পার্ক ও আশপাশের সড়ক, কালিজিরা নদীর পাড় থেকে চরবাড়িয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের মোটরসাইকেল শোডাউন এবং অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে।বরিশাল নগরের গরিয়ারপাড়, চৌমাথা, নিউ সার্কুলার রোড, বাংলাবাজার, কালুশাহ সড়ক, বটতলা, পলিটেকনিক রোড, আমিরকুটির, কেডিসি, চাঁদমারী, মতাসার, কাকাশুরা, সাধুর বটতলা, কাউনিয়া হাউজিং, জানুকিসিংহ রোড, বিসিক, বাগানবাড়ি, হাওলাদার সড়ক, কাশিপুর, সাগরদি, রূপাতলী, কালীবাড়ী রোড, বিএম স্কুল, নতুন বাজার ও বিএম কলেজ এলাকায় বিভিন্ন কিশোর গ্রুপের তৎপরতার কথা স্থানীয়ভাবে জানা যায়।স্থানীয়ভাবে রিফাদ-রিয়াদ, সাগর-শাহরুখ, জিহাদ, মুন্না-সামির, হিরা ও স্টেলিনসহ বিভিন্ন গ্রুপের নাম আলোচনায় রয়েছে। পলাশপুরেও একাধিক গ্রুপ সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিশোরেরাস্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এখন শুধু পাড়া-মহল্লায় সীমাবদ্ধ নেই। নগরের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রেও দলবদ্ধভাবে তাদের অবস্থান ও আড্ডার অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, ত্রিশ গোডাউন, বেলস পার্ক ও জিলা স্কুল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।নারীদের উত্ত্যক্ত করা, মোটরসাইকেলে বিকট শব্দ সৃষ্টি, পথচারীদের বিরক্ত করা, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগও রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর করে তাঁর মুঠোফোন বা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।শুধু ছিনতাই বা অস্ত্র প্রদর্শন নয়, মাদক ও জুয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই জুয়ার কারবার চলছে। জুয়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারি, গুরুতর আহত হওয়া এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।সম্প্রতি সদর রোডে প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনাতেও জুয়া-সংক্রান্ত বিরোধের কথা স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।গ্রুপে ঢোকার পর অপরাধে জড়ানোর অভিযোগস্থানীয়দের মতে, কিশোরদের একটি অংশ প্রথমে বন্ধুত্ব, আড্ডা কিংবা মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে এসব গ্রুপে যুক্ত হচ্ছে। পরে ধীরে ধীরে তাদের কেউ কেউ মাদক, মারামারি, ছিনতাই ও অস্ত্র প্রদর্শনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।পলাশপুরের ‘ফকির গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি কিশোর চক্রের নেতৃত্বে ফকির রাজু রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় একাধিক মামলা থাকার কথাও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।এ ছাড়া স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে কিছুদিন আগে রিদওয়ানের একটি হাত কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নগরের বেলতলা এলাকার মামুন ওরফে বাবা মামুন জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।এসব গ্রুপের পেছনে মাদক কারবারি, অপরাধী চক্র কিংবা কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।পুলিশের অভিযানকিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে বরিশাল মহানগর পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। গত শনিবার দুপুরে নগরের বটতলা এলাকা থেকে ‘স্টেলিন গ্রুপের’ প্রধান স্টেলিনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সে একই এলাকার সোহেল মিঞার ছেলে।বরিশাল নগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা আছে। তালিকায় থাকা নাম ধরে ধরে তাদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত শনিবার বিকেলে দেশি অস্ত্রসহ এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’তিনি বলেন, নতুন করে যারা গ্রুপ করার চেষ্টা করছে, তাদেরও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বরিশালে নতুন কোনো গ্যাং তৈরি করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কেউ রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কাজে আসবে না।

বরিশালে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, অস্ত্র নিয়ে মহড়া-শোডাউন

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

পুলিশের কিছু সদস্য এখনো ‘ফ্যাসিবাদীদের’ সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শৃঙ্খলা না মানলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নানা ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে আগামী সপ্তাহে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই ইউনিটের শাখা মেট্রো, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে থাকবে। থানা ও জেলা পর্যায়ের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটে আধুনিক যন্ত্রপাতিও থাকবে।তিনি বলেন, বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সাপোর্ট হেডকোয়ার্টার ও বিভাগীয় পর্যায়ে রাখা হবে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে যেসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা আধুনিক অপরাধপ্রবণতার একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো রাষ্ট্রে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত সাইবার বা স্ক্যামভিত্তিক হয়ে থাকে। এ কারণে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৪২

রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ১৯টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে একটি দেশীয় রিভলবার, চার রাউন্ড গুলি, ৬ হাজার ৩২৪টি ইয়াবা, ৩৩ পুরিয়া গাঁজা ও নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।বুধবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩২ জন, লালবাগে ৩৬ জন, ওয়ারীতে ৫০ জন, মতিঝিলে ৫৬ জন, তেজগাঁওয়ে ৫৯ জন, মিরপুরে ১৩৩ জন, গুলশানে ২৩ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৫০ জন রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।অভিযানে অস্ত্র ও গুলির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৩২৪টি ইয়াবা ও ৩৩ পুরিয়া গাঁজা। এ ছাড়া নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৪২

আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নেই, বললেন সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের ফিরে আসার আলোচনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতে দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সারজিস আলম।তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফেরার বাতাস শুধু দুই জায়গায় দেখা যায়। একটা সোশ্যাল মিডিয়া, আরেকটা হলো ভারতে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফেরার কোনো সুযোগ নেই। স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ডে গণহত্যাকারী, খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফিরতে পারবে না।’জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, অর্থমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী যদি বলেন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করা উচিত। শুধু একজন মন্ত্রীকে দায়ী করলে হবে না।তিনি বলেন, এ দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এড়াতে পারেন না। কোনো মন্ত্রী সঠিকভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁকে অপসারণ করতে হবে। ব্যর্থতার পরও কাউকে দায়িত্বে রাখলে এর দায় সরকারপ্রধানকেও নিতে হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। সারজিস বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রক্সি হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এ কারণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি যথাযথভাবে নজর দিতে পারছেন না। মন্ত্রণালয়ের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নেই, বললেন সারজিস আলম

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে। জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, রামিসা মামলা থেকে শুরু করে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় স্বল্পতম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের বিচার করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো অপরাধ তদন্ত করা, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্ট ঘটনা ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে করা উচিত।সংসদ সদস্যের উদ্ধৃত অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদে কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপনের সময় এর উৎস ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি উল্লেখ করা প্রয়োজন।পুলিশ সদস্যদের নৈতিক প্রশিক্ষণ নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ জন্য বর্তমানে পৃথক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। তবে পুলিশ একাডেমিগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।একজন সংসদ সদস্য বলেন, কয়েকজন বিপথগামী পুলিশ সদস্যের অসদাচরণের দায় পুরো বাহিনীর ওপর দেওয়া উচিত নয়। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিরোধে বারবার সংঘর্ষ, গুলিবিনিময় ও অস্ত্রের মহড়া

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। গত দুই বছরে সংঘর্ষ, গুলিবিনিময়, হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্রের মহড়ার একাধিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধের জেরে এসব ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালুমহাল, ঝুট ব্যবসা, টেন্ডার, পরিবহন স্ট্যান্ড ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত শরিফ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তবে হাবিব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।এর আগে ১৭ আগস্ট আগ্নেয়াস্ত্র হাতে শহরে মহড়ার অভিযোগ ওঠে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান ও পরে থানা ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটে।গত দুই বছরে শচীন বিশ্বাস হত্যা, ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন। বালুমহাল, ইপিজেডের ঝুট ব্যবসা ও টেন্ডার নিয়েও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।জাকারিয়া পিন্টুর ভাই মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। হাবিবুর রহমান হাবিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও পুরো উপজেলার পরিস্থিতি ভেঙে পড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিরোধে বারবার সংঘর্ষ, গুলিবিনিময় ও অস্ত্রের মহড়া

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।শনিবার রাতে নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।একটি পুরো পরিবারকে এভাবে হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।ঢাকায় এক চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি ও তাঁকে হামলার ঘটনা এবং ময়মনসিংহে এক পশুচিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাহিনীর নির্লিপ্ততা সাধারণ মানুষকে শঙ্কিত করে তুলেছে। রংপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন না- এতে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশবাসীর নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই ছাত্রলীগের নেতা গ্রেপ্তার

নরসিংদীর বেলাবোয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার বিন্নাবাইদ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বেলাবো উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম (৩৬) এবং পাটুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম টুটুল। সাইফুল ইসলাম বিন্নাবাইদ এলাকার মৃত আবদুল মজিদ মিয়ার ছেলে। রফিকুল ইসলাম টুটুল একই এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলাবো থানায় দায়ের করা ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির ১৬ নম্বর মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় তাঁদের আসামি করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলাবো থানার একটি দল শুক্রবার বিন্নাবাইদ গ্রামে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সাইফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম টুটুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বেলাবো থানা পুলিশ।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই ছাত্রলীগের নেতা গ্রেপ্তার

গুলশানের দুই স্পা সেন্টারে অভিযান, ৫৩ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা-পুলিশ।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গুলশান থানা-পুলিশ পৃথকভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠান দুটি হলো গুলশান থানার ২৪ নম্বর সড়কের ‘গুলশান ওয়ান সেলুন’ এবং ৯৯ নম্বর সড়কের ‘হট স্টোন স্পা’।পুলিশ জানায়, অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৪ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গুলশান থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।পুলিশ জানিয়েছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গুলশানের দুই স্পা সেন্টারে অভিযান, ৫৩ জন গ্রেপ্তার

বংশাল ও বাঞ্ছারামপুরে অভিযান, ১৬ চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

ঢাকার বংশাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। এ সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৬টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সজিব (২৮), মো. নিশান আহমেদ (২৫), রুবেল আহমেদ (৩৮) ও নিত্য সরকার (১৯)। তাঁদের মধ্যে সজিবের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে, নিশান আহমেদের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়ায়, রুবেল আহমেদের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর এবং নিত্য সরকারের বাড়িও একই উপজেলার বটতলী এলাকায়।ডিএমপি জানায়, গত ১৮ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম বংশাল থানার মোকিম বাজার রোডে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সজিব ও নিশান আহমেদকে আটক করা হয়।পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেল আহমেদ ও নিত্য সরকারসহ চোরচক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযানে উদ্ধার করা ১৬টি মোটরসাইকেলের মধ্যে রয়েছে সুজুকি জিক্সার, হোন্ডা এক্স-ব্লেড, ইয়ামাহা এফজেডএস, টিভিএস রাইডার, রয়্যাল এনফিল্ড, হোন্ডা সিবিআর ও ইয়ামাহা আর১৫সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল।ডিবি ওয়ারী বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মোটরসাইকেল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় মামলা করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বংশাল ও বাঞ্ছারামপুরে অভিযান, ১৬ চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৬

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৫৫টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।কোন বিভাগে কতজন গ্রেপ্তারডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৫ জন, লালবাগে ৪৫, ওয়ারীতে ৬৫, মতিঝিলে ৪৭, তেজগাঁওয়ে ৪১, মিরপুরে ১২০, গুলশানে ৯৩ এবং উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।যা উদ্ধার হয়েছেঅভিযানে দুটি সুইচ গিয়ার, ২৭ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ২৩১টি ইয়াবা ও ৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ছাড়া একটি এনা বাস, একটি ট্রাক, ১৭টি মোটরসাইকেল ও আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।পুলিশের অভিযানে ৫৯৭ দশমিক ৭৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা চোরাই টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ ভরি ১৫ আনা ৫ রতি চোরাই স্বর্ণালংকার এবং দুজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।ডিএমপির কর্মকর্তা নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৬