ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে সিঙ্গাপুর সরকারের ‘ফার্স্টডেট’


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে সিঙ্গাপুর সরকারের ‘ফার্স্টডেট’
ছবি: সংগ্রহ

সিঙ্গাপুরে জন্মহার নেমে গেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগের পর এবার অবিবাহিতদের জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে ‘ফার্স্টডেট’ নামে একটি ডেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে দেশটির সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী অবিবাহিত সরকারি কর্মীদের জন্য এটি চালু করা হয়েছে।

সরকারের প্রযুক্তিবিষয়ক সংস্থা গভটেক পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। এরপর আগ্রহ, অভ্যাস ও মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্নপত্রের উত্তর দিতে হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে একবারে একজন সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে ব্যবহারকারীর মিল করানো হয়।

‘ফার্স্টডেট’-এ ব্যবহার করা হচ্ছে ১৯৬২ সালে গণিতবিদ ডেভিড গেইল ও লয়েড শ্যাপলির তৈরি অ্যালগরিদম। দুই পক্ষের পছন্দের ক্রম বিবেচনা করে জুটি নির্ধারণের এই পদ্ধতির জন্য শ্যাপলি ২০১২ সালে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে দুজন মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

সিঙ্গাপুরে ২০২৫ সালে ৩০ হাজারেরও কম শিশু জন্মেছে। এতে দেশটির প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ০ দশমিক ৮৭-এ নেমেছে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও দ্রুত বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় সরকার উদ্বিগ্ন। পরিবারকে উৎসাহ দিতে গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং নতুন সহায়তা ঘোষণা করেন। জন্মের পর থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর জন্য প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার সমপরিমাণ সুবিধাও রয়েছে এর মধ্যে।

জন্মহার বাড়াতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ সিঙ্গাপুরে নতুন নয়। ১৯৮০-এর দশকে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান জন্মের হার বাড়াতে সরকার ম্যাচমেকিং উদ্যোগ নেয়। এবার প্রযুক্তির সহায়তায় সেই প্রচেষ্টাকেই নতুনভাবে সামনে আনা হয়েছে।

তবে ‘ফার্স্টডেট’ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। কেউ এটিকে সরকারি অর্থের অপচয় বলছেন, কেউ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকার বলছে, ব্যবহারকারীর প্রোফাইল শুধু সম্ভাব্য সঙ্গী দেখতে পারবেন এবং দুজন সম্মত হলেই যোগাযোগের তথ্য দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, জীবনসঙ্গী খোঁজার সমস্যার সমাধান শুধু অ্যালগরিদম দিয়ে সম্ভব নয়। আবাসন ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, কর্মব্যস্ততা এবং সামাজিকভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগের ঘাটতিও সিঙ্গাপুরে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার পথে বড় বাধা। তাই মানুষের স্বাভাবিকভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি এসব কাঠামোগত সমস্যার সমাধানও জরুরি।

বিষয় : সিঙ্গাপুর জন্মহার ডেটিং প্ল্যাটফর্ম গেইল-শ্যাপলি অ্যালগরিদম জনসংখ্যা সংকট

দৈনিক নবকাল

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে সিঙ্গাপুর সরকারের ‘ফার্স্টডেট’

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সিঙ্গাপুরে জন্মহার নেমে গেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগের পর এবার অবিবাহিতদের জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে ‘ফার্স্টডেট’ নামে একটি ডেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে দেশটির সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী অবিবাহিত সরকারি কর্মীদের জন্য এটি চালু করা হয়েছে।

সরকারের প্রযুক্তিবিষয়ক সংস্থা গভটেক পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। এরপর আগ্রহ, অভ্যাস ও মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্নপত্রের উত্তর দিতে হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে একবারে একজন সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে ব্যবহারকারীর মিল করানো হয়।

‘ফার্স্টডেট’-এ ব্যবহার করা হচ্ছে ১৯৬২ সালে গণিতবিদ ডেভিড গেইল ও লয়েড শ্যাপলির তৈরি অ্যালগরিদম। দুই পক্ষের পছন্দের ক্রম বিবেচনা করে জুটি নির্ধারণের এই পদ্ধতির জন্য শ্যাপলি ২০১২ সালে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে দুজন মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

সিঙ্গাপুরে ২০২৫ সালে ৩০ হাজারেরও কম শিশু জন্মেছে। এতে দেশটির প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ০ দশমিক ৮৭-এ নেমেছে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও দ্রুত বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় সরকার উদ্বিগ্ন। পরিবারকে উৎসাহ দিতে গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং নতুন সহায়তা ঘোষণা করেন। জন্মের পর থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর জন্য প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার সমপরিমাণ সুবিধাও রয়েছে এর মধ্যে।

জন্মহার বাড়াতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ সিঙ্গাপুরে নতুন নয়। ১৯৮০-এর দশকে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান জন্মের হার বাড়াতে সরকার ম্যাচমেকিং উদ্যোগ নেয়। এবার প্রযুক্তির সহায়তায় সেই প্রচেষ্টাকেই নতুনভাবে সামনে আনা হয়েছে।

তবে ‘ফার্স্টডেট’ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। কেউ এটিকে সরকারি অর্থের অপচয় বলছেন, কেউ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকার বলছে, ব্যবহারকারীর প্রোফাইল শুধু সম্ভাব্য সঙ্গী দেখতে পারবেন এবং দুজন সম্মত হলেই যোগাযোগের তথ্য দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, জীবনসঙ্গী খোঁজার সমস্যার সমাধান শুধু অ্যালগরিদম দিয়ে সম্ভব নয়। আবাসন ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, কর্মব্যস্ততা এবং সামাজিকভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগের ঘাটতিও সিঙ্গাপুরে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার পথে বড় বাধা। তাই মানুষের স্বাভাবিকভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি এসব কাঠামোগত সমস্যার সমাধানও জরুরি।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে সিঙ্গাপুর সরকারের ‘ফার্স্টডেট’
0:00 0:00
1.0x