ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কার্সন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কার্সন
নোবেল পুরস্কারজয়ী কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ক্লাসিসিস্ট অ্যান কার্সন।

কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ক্লাসিসিস্ট অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর ‘সাহসী ও উদ্ভাবনী’ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে স্টকহোমে এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে সুইডিশ একাডেমি। নোবেল কমিটির মতে, ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে কার্সনের সৃজনশীল সংলাপ সমকালীন সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া কার্সনের বয়স এখন ৭৬ বছর। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। কবিতা, গদ্য ও অনুবাদের প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই ইরস দ্য বিটারসুইট। বইটিতে সাহিত্য-সমালোচনার সঙ্গে গ্রিক ঐতিহ্যের অনুসন্ধানকে যুক্ত করেন কার্সন। তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাচীন সাহিত্য ও দর্শনের উপাদানকে নতুন ভাষা, কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসনের ভাষ্য, কার্সনের প্রায় সব সাহিত্যকর্মেই শব্দের প্রতি একজন ফিলোলজিস্টের গভীর অনুরাগ এবং নতুন অর্থ আবিষ্কারে একজন কবির আকাঙ্ক্ষা এক বিন্দুতে মিলেছে।

‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ সবচেয়ে আলোচিত

কার্সনের সবচেয়ে পরিচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি অটোবায়োগ্রাফি অব রেড, প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাসের একটি খণ্ডাংশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা বইটিতে দীর্ঘ আখ্যানকবিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্টেসিকোরাসকে ঘিরে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও রহস্যময় আলোচনা।

গ্রিক পুরাণে হেরাক্লিস—যিনি লাতিন নাম হারকিউলিসে বেশি পরিচিত—ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নকে হত্যা করে তার লাল গরু নিয়ে যান। এটি ছিল হেরাক্লিসের বারোটি কীর্তির একটি।

কার্সন এই পুরাণের গেরিয়ন চরিত্রকে নতুনভাবে নির্মাণ করেছেন। নোবেল কমিটির বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর গেরিয়ন মায়ের প্রতি অনুগত ও কোমল এক ‘নায়ক’, যে অতীতে ভাইয়ের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পরে সে প্রেমে পড়ে দাম্ভিক ও রূঢ় হেরাক্লিসের।

প্রাচীন পুরাণের এই পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে কার্সন আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, সহিংসতা ও হৃদয়ভাঙার মতো বিষয়কে সামনে এনেছেন। বইটি আধুনিক এক কিশোরের প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক টানাপোড়েনের গল্প হিসেবেও পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

২০০১ সালে দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড কাব্যগ্রন্থের জন্য টি এস এলিয়ট পুরস্কার পান কার্সন। এ পুরস্কারজয়ী প্রথম নারী তিনি। এ ছাড়া তিনি গুগেনহাইম ও ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ অর্জন করেছেন।

কার্সনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রশংসা করেছেন প্রাবন্ধিক ও লেখক সুসান সন্ট্যাগও। তাঁর ভাষায়, ইংরেজিতে লেখা যেসব লেখকের যেকোনো রচনা তিনি পড়তে আগ্রহী, কার্সন তাঁদের একজন।

ডিসেম্বরে স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পদক ও সনদ গ্রহণ করবেন অ্যান কার্সন। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।

বিষয় : নোবেল পুরস্কার বিশ্বসাহিত্য অ্যান কার্সন সাহিত্য

দৈনিক নবকাল

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কার্সন

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ক্লাসিসিস্ট অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর ‘সাহসী ও উদ্ভাবনী’ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে স্টকহোমে এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে সুইডিশ একাডেমি। নোবেল কমিটির মতে, ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে কার্সনের সৃজনশীল সংলাপ সমকালীন সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া কার্সনের বয়স এখন ৭৬ বছর। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। কবিতা, গদ্য ও অনুবাদের প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই ইরস দ্য বিটারসুইট। বইটিতে সাহিত্য-সমালোচনার সঙ্গে গ্রিক ঐতিহ্যের অনুসন্ধানকে যুক্ত করেন কার্সন। তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাচীন সাহিত্য ও দর্শনের উপাদানকে নতুন ভাষা, কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসনের ভাষ্য, কার্সনের প্রায় সব সাহিত্যকর্মেই শব্দের প্রতি একজন ফিলোলজিস্টের গভীর অনুরাগ এবং নতুন অর্থ আবিষ্কারে একজন কবির আকাঙ্ক্ষা এক বিন্দুতে মিলেছে।

‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ সবচেয়ে আলোচিত

কার্সনের সবচেয়ে পরিচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি অটোবায়োগ্রাফি অব রেড, প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাসের একটি খণ্ডাংশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা বইটিতে দীর্ঘ আখ্যানকবিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্টেসিকোরাসকে ঘিরে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও রহস্যময় আলোচনা।

গ্রিক পুরাণে হেরাক্লিস—যিনি লাতিন নাম হারকিউলিসে বেশি পরিচিত—ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নকে হত্যা করে তার লাল গরু নিয়ে যান। এটি ছিল হেরাক্লিসের বারোটি কীর্তির একটি।

কার্সন এই পুরাণের গেরিয়ন চরিত্রকে নতুনভাবে নির্মাণ করেছেন। নোবেল কমিটির বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর গেরিয়ন মায়ের প্রতি অনুগত ও কোমল এক ‘নায়ক’, যে অতীতে ভাইয়ের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পরে সে প্রেমে পড়ে দাম্ভিক ও রূঢ় হেরাক্লিসের।

প্রাচীন পুরাণের এই পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে কার্সন আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, সহিংসতা ও হৃদয়ভাঙার মতো বিষয়কে সামনে এনেছেন। বইটি আধুনিক এক কিশোরের প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক টানাপোড়েনের গল্প হিসেবেও পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

২০০১ সালে দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড কাব্যগ্রন্থের জন্য টি এস এলিয়ট পুরস্কার পান কার্সন। এ পুরস্কারজয়ী প্রথম নারী তিনি। এ ছাড়া তিনি গুগেনহাইম ও ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ অর্জন করেছেন।

কার্সনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রশংসা করেছেন প্রাবন্ধিক ও লেখক সুসান সন্ট্যাগও। তাঁর ভাষায়, ইংরেজিতে লেখা যেসব লেখকের যেকোনো রচনা তিনি পড়তে আগ্রহী, কার্সন তাঁদের একজন।

ডিসেম্বরে স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পদক ও সনদ গ্রহণ করবেন অ্যান কার্সন। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কার্সন
0:00 0:00
1.0x