চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা। অনুমোদিত ১১৯টি পদের মধ্যে ৩০টিই শূন্য। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের ২২টি খালি রয়েছে। জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য
বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে
স্বাস্থ্য সহকারীর ৫৫টি পদের বিপরীতে
কর্মরত আছেন ৪৭ জন।
শূন্য রয়েছে আটটি পদ। অন্যদিকে,
পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের বিপরীতে
কর্মরত ৪২ জন, শূন্য
২২টি। দুই বিভাগ মিলিয়ে
অনুমোদিত ১১৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত
আছেন ৮৯ জন।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বেশি ঘাটতি
অনুমোদিত
পদের তুলনায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর প্রায় ৩৪ শতাংশ পদ
শূন্য। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার
পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত এলাকার
মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে
দেওয়া নিয়ে চাপ তৈরি
হয়েছে।
শুধু
শূন্য পদের কারণে নয়,
কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্তিতে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় কোনো
কোনো এলাকায় কার্যকর জনবল আরও কমে
যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নির্ধারিত এলাকার
দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য কর্মীদের ওপরও
অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে বলে
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা
গেছে।
২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও
জনবল ঘাটতি
প্রান্তিক
মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা
পৌঁছে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলায়
রয়েছে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক।
প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি
হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা। বর্তমানে ২২টি
ক্লিনিকে সিএইচসিপি কর্মরত আছেন। একটি ক্লিনিকে এ
পদ শূন্য রয়েছে।
জনবল
সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভিড় থাকলেও চিকিৎসক
ও ওষুধের সংকটে অনেকে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না
বলে অভিযোগ রয়েছে।
শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ
চলছে
সীতাকুণ্ড
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ
প্রিন্স বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা
সহকারীর শূন্য পদ পূরণ এবং
সংযুক্তিতে থাকা কর্মীদের বিষয়ে
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার
বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে
রাব্বী বলেন, শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। ১১ থেকে ২০
গ্রেডের পদে চট্টগ্রাম সিভিল
সার্জনের অধীনে ইতিমধ্যে দুই দফা নিয়োগপ্রক্রিয়া
সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর আবার
নিয়োগের সুযোগ না-ও হতে
পারে; আগামী বছর পুনরায় প্রক্রিয়া
শুরু হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে জনবল পদায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার মাধ্যমেও সীতাকুণ্ডের কিছু শূন্য পদ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।