ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

৫ মিনিট আগে পরীক্ষা ক্যান্সেল- কী নির্মম রসিকতা: হাসনাত


শেখ মো: বেলায়েত হোসেন
শেখ মো: বেলায়েত হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

৫ মিনিট আগে পরীক্ষা ক্যান্সেল- কী নির্মম রসিকতা: হাসনাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগ্রহ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

শনিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় রাজধানীতে এসেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ছিল। অথচ প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী যখন ১০০টি কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তখন পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তিন লাখ মানুষকে ৫ মিনিট আগে জানানো হলো, পরীক্ষা ক্যান্সেল—কী নির্মম রসিকতা!’

এত বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অর্থ জনগণের। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে চাকরিপ্রার্থীদের আবারও ধারদেনা করে ঢাকায় আসতে হবে। এতে তাঁদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তাঁর আহ্বান, যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে, গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার শেষে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রী নিজেই যদি এই চক্রের প্রধান হন, তাহলে সেটি নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হবে।

বিষয় : এনসিপি হাসনাত আবদুল্লাহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়োগ পরীক্ষা

দৈনিক নবকাল

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


৫ মিনিট আগে পরীক্ষা ক্যান্সেল- কী নির্মম রসিকতা: হাসনাত

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

শনিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় রাজধানীতে এসেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ছিল। অথচ প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী যখন ১০০টি কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তখন পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তিন লাখ মানুষকে ৫ মিনিট আগে জানানো হলো, পরীক্ষা ক্যান্সেল—কী নির্মম রসিকতা!’

এত বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অর্থ জনগণের। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে চাকরিপ্রার্থীদের আবারও ধারদেনা করে ঢাকায় আসতে হবে। এতে তাঁদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তাঁর আহ্বান, যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে, গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার শেষে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রী নিজেই যদি এই চক্রের প্রধান হন, তাহলে সেটি নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হবে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
৫ মিনিট আগে পরীক্ষা ক্যান্সেল- কী নির্মম রসিকতা: হাসনাত
0:00 0:00
1.0x