ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগের সুযোগ পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।নির্বাচনের পর সরকারপ্রধানের এ সফর ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে নৌপথে মোংলা নৌঘাঁটিতে যাবেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অন্যদিকে মোংলা বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার। এই দুই সম্ভাবনার সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।সফর উপলক্ষে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর প্রত্যাশাপ্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।স্থানীয়দের আশা, সুন্দরবনের পর্যটন উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে।

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের একটি অংশ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। আর দেশের ভেতরে থাকা আরেকটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল এবং টিকিট বিক্রির রাজনীতি করেছিল, জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলো আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।‘নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে’দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই বদলাতে হবে।তিস্তা-পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিউত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে উন্নয়ন ও দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

ঢাকা ডিসি ফরিদা খানমের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।রোববার আমিনবাজারে নিমগাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে কীভাবে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, আমিনবাজারের উদ্যোগ তার বড় প্রমাণ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা এলাকাবাসী, তারা জানেন দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল। আর আজকে প্রায় দুই মাস পরে এই জায়গাটির কী পরিবর্তন হয়েছে! এই চার কিলোমিটার এলাকার মানুষের কাছে জায়গাটি দেখতে ভালো লাগার পাশাপাশি ভালো পরিবেশে শ্বাস নেওয়াও এখন সহজ হয়েছে।সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীরওপ্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার উদ্যোগ নিয়ে এলাকাটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছে। এখন এই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীকেও নিতে হবে। জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে।আমিনবাজারের এই উদ্যোগ চার কিলোমিটার এলাকার বাইরেও সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন তারেক রহমান। মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল-কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভাগ করে সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।স্থানীয় সংসদ সদস্যদের এ কাজে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে এলাকাটিকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অন্য ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।অন্য জেলার প্রশাসকেরাও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।দুই দশকের ভাগাড় থেকে সবুজ বাগানপ্রায় দুই দশক ধরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে বড় বড় স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল। কোনো কোনো জায়গায় এসব বর্জ্যের স্তূপ ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে উঠেছিল।গত ৭ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে আমিনবাজারের এই ভাগাড় ও দুর্গন্ধ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বর্জ্য অপসারণ ও এলাকাটির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়।বর্জ্য সরানোর পর জমি প্রস্তুত করা হয়। মাটি সুরক্ষায় প্যালিসেডিং করা হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় ২০টি সারফেস ড্রেন ও একটি সার্ভিস শেড। মাটির ক্ষয়রোধে লাগানো হয় নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ বিভিন্ন ধরনের ঘাস।চার কিলোমিটারজুড়ে ৬ হাজার ৫৮৫টি গাছপ্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ৬ হাজার ৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৫০টি নিমগাছ, ৩ হাজার ৮১৫টি সুপারি, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম ও ৭০০টি রঙ্গনগাছ।পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল ও ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার বায়ু টারবাইন। রাতের আলোকসজ্জার জন্য বসানো হয়েছে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি।দীর্ঘদিনের বর্জ্যের ভাগাড় সরিয়ে গড়ে তোলা এই বাগানের ফলে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ আমিনবাজার এলাকায় নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন ধরে রাখতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরিচর্যা ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ঢাকা ডিসি ফরিদা খানমের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে স্বৈরাচারের পথ খুলবে: তারেক রহমান

সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই দেশের জনগণ দায়িত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিরোধী দল বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ তৈরি করা হলে তা জুলাইয়ের শহীদ ও একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গাদ্দারির শামিল হবে।সোমবার ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা খেয়াল করছি, দেশের মানুষ খেয়াল করছে যে, বিরোধী দল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করে যাচ্ছে। ঠিক আছে, বিরোধিতা আপনারা করেন, কিন্তু আজকে বিরোধিতা করতে গিয়ে আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন, তাহলে অবশ্যই সেটি দেশের জন্য কোনো ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে, একইভাবে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি করা হবে।’বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নজুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের উপস্থিত না থাকার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের নেতারা সরকারের মঞ্চে না বসলেও জুলাইয়ের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে এসে বসতে পারতেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে তাঁদের দেখা যায়নি।তিনি বলেন, ‘এই মঞ্চে বসার দরকার নেই। ঠিক আছে, সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব আছে, থাকুক দূরত্ব। যদি আপনারা দূরত্ব রাখতে চান, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু যে মানুষগুলোর জন্য আজকে আপনারা বিরোধী দলের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, যে মানুষগুলোর জীবন উৎসর্গের কারণে, আহত হওয়ার কারণে, চোখ হারানোর কারণে আজ আপনারা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন; সেই মানুষগুলোর মাঝেও তো আমরা আপনাদের দেখতে পাচ্ছি না।’প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের নেতারা জুলাইয়ের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে বোঝা যেত, তাঁরাও বিএনপির মতো জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন।মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে সরকারপ্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। জনগণের ভোট নিয়ে বিরোধী দল যেমন সংসদে বসেছে, তেমনি জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সরকারি দল।তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল মানেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব আর সরকারি দল মানে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নয়, সরকারি দল মানেই মনে করা হবে যে তারা মানুষের স্বার্থ দেখছে না’—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।তারেক রহমান বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এক পক্ষকে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করে অন্য পক্ষকে মানুষের স্বার্থবিরোধী হিসেবে তুলে ধরা ঠিক নয়। দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে স্বৈরাচারের পথ খুলবে: তারেক রহমান

দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।আজ সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন এ কথা জানান। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার পর গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লেখেন, কিছু মানুষকে তাঁর পদত্যাগের খবরে উল্লাস করতে দেখেছেন। ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা যেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে তাতে অংশ নেন, সেই আশা করেন তিনি।ইশরাক আরও লেখেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফর করার সুযোগও থাকবে তাঁর। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’যেভাবে পদত্যাগের নির্দেশসরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র গতকাল রোববার জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পাঠান। সেখানেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলো জানায়।এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও নিয়ে সমালোচনাশনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়। ইশরাকের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ এ সময় তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াচ্ছেন। তাঁদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। এ সময় কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ইশরাকের নিজের নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। ইশরাকের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তবে গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।তদন্ত করছে ডিএমপিইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতিও দেন ইশরাক হোসেন। এতে তিনি দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে পদত্যাগ করেন সংসদ সদস্য মিষ্টিইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম সামনে আসে। ঘটনাটি নিয়ে সরকার ও দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। মিষ্টির রাজনৈতিক দায় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে।মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি ঘটনাতেই দল ও সরকারকে বিব্রত করা কর্মকাণ্ডের পর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।

দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার সকাল ১০টার দিকে সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি হলো শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং জনগণের আস্থা অর্জন।এর আগে অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে জাতীয় পতাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান তিনি। এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।সেনানিবাসে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। পরে উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এদিকে, সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহ সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরো এলাকা পরিষ্কার করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছেন তিনি।শনিবার আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।পরিদর্শনকালে কোয়ার্টারের বিভিন্ন এলাকা, চলাচলের পথ ও আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখেন তারেক রহমান। পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এর কারণ জানতে চান তিনি। একই সঙ্গে কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোয়ার্টারের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।এ সময় কোয়ার্টারের বাসিন্দারা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। আবাসিক এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তাঁরা।প্রধানমন্ত্রী বাসিন্দাদের অভিযোগ শোনেন এবং দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে কোয়ার্টারে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন তিনি।এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহ সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।শনিবার সকালে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।এর আগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতে তিনি কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।পরে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।‘ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় সচেতনতা’প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। প্রতিবছর এ রোগে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বড় শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না, নাগরিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।তিনি বলেন, ‘তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধের আহ্বানযত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাঁকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন।প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।জন্মদিনে গাছ লাগানোর পরামর্শপরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়ন বাড়াতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন তারেক রহমান।তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা দাদা-দাদি, নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’রাজধানীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেসব জায়গায় বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।তারেক রহমান বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ সময় নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে চান তিনি। শিক্ষার্থীরা তাঁর আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’শুক্রবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ শুভেচ্ছা জানান। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের আহ্বান জানান।বাণীতে তারেক রহমান বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল শিক্ষা। মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, শত্রুর বিনাশ এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। এসব উৎসব দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে দেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাঁদের অঙ্গীকার।বাণীতে তিনি প্রত্যাশা করেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যেন সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজার উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু ঠেকাতে সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।বার্তায় তারেক রহমান বলেন, ঘরের আনাচকানাচ, রাস্তাঘাট, জনসমাগমস্থল এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব জায়গায় ডেঙ্গুর মশা বংশবিস্তার করতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব স্থানে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার করি।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। সবাই সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে বহু পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোরবাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অতীতে অনেক বড় অর্জন করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করা, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল হওয়া এবং ২০২৪ সালে সর্বস্তরের মানুষের প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করার পেছনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভূমিকা ছিল।তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমরা যদি সবাই মিলে এসব অর্জন করতে পারি, তাহলে দেশের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কেন সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে পারব না?’প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের চেষ্টা করছেন।টিকার চেয়ে প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্বডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা বেশি কার্যকর। বিভিন্ন পরীক্ষায় ডেঙ্গুর টিকার কার্যকারিতা সীমিত বলে দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারলেই একটি সরকার সফল হয়। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে চায় তাঁর সরকার।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রাণহানি কমানো সম্ভব। সবাই উদ্যোগী হলে আগামী দিনে ডেঙ্গুর কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি রোধ করা যাবে। 

ডেঙ্গু ঠেকাতে সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দিল্লির বার্তা নিয়ে ঢাকায় দীনেশ ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ, নজরে তারেক রহমানের ভারত সফর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যখন নানা অস্বস্তি ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর তৎপরতা কূটনৈতিক মহলে আলাদা করে নজর কেড়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসে তিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ অন্তত ২৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।এসব বৈঠকে একদিকে যেমন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় উঠে এসেছে, অন্যদিকে ভারতীয় প্রকল্প পুনরায় চালু, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আমলাদের প্রশিক্ষণ এবং সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারের মতো বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর। বিভিন্ন বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার এ সফরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসলে অনেক জটিলতার সমাধান হতে পারে।দীনেশ ত্রিবেদী গত ১২ জুন কলকাতা থেকে সড়কপথে ঢাকায় আসেন। ২৫ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য বৈঠকের জন্য তাঁকে এক মাসের বেশি অপেক্ষা করতে হয়। ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক হয়। একই দিনে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে নতুন যাত্রায় নিতে হবে। একই সঙ্গে সম্পর্কের অস্বস্তির জায়গাগুলো দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর অবস্থান ছিল—সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে।এরপর ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সেখানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতার জন্য ভারতের মাটি ব্যবহার না করার বিষয়টি দিল্লিকে নিশ্চিত করতে হবে। ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশ তখন পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভারতের সহযোগিতা চায়। ৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও বৈঠক করেন তিনি। এর পরদিন, ১০ আগস্ট, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে পরিবারসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গ্র্যান্ড ভিজিটের’ আমন্ত্রণ জানান।তবে ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আগে একটি অনুকূল ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এ পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব ভারতের বলেও বার্তা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের হস্তান্তরের বিষয়টি ওঠে আসে। এরপর ১১ আগস্ট দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।ঢাকায় ফিরে তাঁর বৈঠকের পরিধি আরও বাড়ে। ২০ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বন্ধ থাকা ভারতীয় প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। ২৪ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত হাট চালু, স্থলবন্দর কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। তিনি ভারত-বাংলাদেশকে নতুন প্রজন্মের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এরপর সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারেও উদ্যোগী হন তিনি। ২ সেপ্টেম্বর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন।তবে এসব বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সামনে এসেছে। চিফ হুইপ সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড, বেড়া নির্মাণ এবং অতীতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের নীরবতার বিষয়ে ক্ষোভের কথা জানান। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যান দীনেশ ত্রিবেদী। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে দুই দেশের তরুণদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির প্রস্তাব দেন। জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশি আমলাদের প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে পাঠানোর বিষয়টি তোলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ও উত্থাপন করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। পরদিন প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, কর্মকর্তা বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।১৩ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ভারতের সহযোগিতার আগ্রহের কথা জানান। পরদিন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বৈঠকগুলোর আরেকটি পর্ব শেষ হয়। বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক, তবে সবকিছু সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা, সময়মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে বারবার একটি বিষয়ই ফিরে এসেছে—ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়া। তাঁর ভাষায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে একটি দায়িত্ব দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছেন এবং তাঁর কাজ হলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া। এই ধারাবাহিক তৎপরতায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের জন্য ঢাকা-দিল্লির মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ কত দ্রুত তৈরি হয় এবং সেই সফর হলে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে কতটা অগ্রগতি আসে।

দিল্লির বার্তা নিয়ে ঢাকায় দীনেশ ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ, নজরে তারেক রহমানের ভারত সফর

আবার একজোট হয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর ফুলগাজীতে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিতাড়িত স্বৈরাচারী শক্তি ও নেপথ্যে সক্রিয় থাকা গুপ্ত মহল আবারও একজোট হয়ে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া স্বৈরাচার ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর দাবি, সেই শক্তি ও নেপথ্যে থাকা গুপ্ত বাহিনী আবারও একত্র হয়েছে। ১৯৯১, ১৯৮৬ সালসহ বিগত বিভিন্ন নির্বাচনেও তারা গোপনে একসঙ্গে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে একটি মহল মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির মতো বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিরকের শামিল ও মুনাফেকি আচরণ। এখন ওই মহল তথাকথিত ‘এক দফা’র স্লোগান তুলে দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় গুরুদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচসুবিধা সম্প্রসারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল ও নদী খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জনসেবা সম্প্রসারণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আবার একজোট হয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সফরে কতটুকু অর্জন বাংলাদেশের?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর ঘিরে এখন আলোচনায় উঠছে সরকার গঠনের পর তাঁর প্রথম এই আন্তর্জাতিক সফর থেকে বাংলাদেশ কী পেল। সফরের সময় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।সফরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। সফরের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নিজে এই দুই চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে সফরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণের পাশাপাশি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন তিনি।মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।রোহিঙ্গা ও জলবায়ু আলোচনায়কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সফরের প্রতি বিশেষ নজর ছিল। বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন সরকারের অবস্থান ও প্রত্যাশাও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পেয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা এবং জলবায়ু ইস্যু বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—দুই ধরনের শ্রোতাকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি ক্লাইমেট জাস্টিসের বিষয়ও এসেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব ও তাদের করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা সংকট: দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির অবসানে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিসহ টেকসই সমাধানের আহ্বান’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন।সেখানে তিনি সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।সাত বক্তব্য, একাধিক বৈঠকসফরে প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি বক্তব্য দিয়েছেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের পাশাপাশি সাইডলাইনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চারটি বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে একটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনি।সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।আলোচনায় বোয়িংয়ের ১১ উড়োজাহাজপ্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াই সফরের শুরুতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে বলা হয়, আরও ১১টি বিশ্বসেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোয় বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন। পোস্টে এটিকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য আরেকটি অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।চুক্তির পর মাহদী আমিন বলেন, বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তবে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নতুন করে বিপুল অর্থ ব্যয়ে উড়োজাহাজ কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।এর আগে ৩০ এপ্রিল ঢাকায় বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের একটি চুক্তি হয়েছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার কথা জানানো হয়।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতার সমঝোতাপ্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ সমঝোতায় সই করেন।বাংলাদেশে রাশিয়ার সহযোগিতায় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে নির্মাণাধীন থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ সমঝোতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও উঠেছেপ্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গও উঠে আসে।‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ওই ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকেরা ছিলেন বলে বাংলাদেশের দুটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।শেখ হাসিনাকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের বৈরিতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। শেখ হাসিনার বিষয়ে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানায়নি বলেও তিনি বলেন।‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বেড়েছে’সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছেন।তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, সাইডলাইন ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও ক্লাইমেট জাস্টিসসহ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এসেছে। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের লক্ষ্য করে বক্তব্য দিয়েছেন।হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের প্রথম সফর হওয়ায় বিভিন্ন ইস্যু একসঙ্গে তুলে ধরার সুযোগ ছিল। সফরের লক্ষ্য, ইস্যু এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করার যে চেষ্টা ছিল, তা ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো এসেছে। তিনি পরিবর্তনগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি কী ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন, সেটিও বলেছেন। তাঁর ভাষ্য, দ্বিপক্ষীয় পর্যায়েও বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। মাত্র কয়েক মাস বয়সী সরকারের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক্সপোজার গুরুত্বপূর্ণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হতে পারে।

জাতিসংঘ সফরে কতটুকু অর্জন বাংলাদেশের?

চার দিনে ৩০ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, ১১ দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদসংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, জাতিসংঘের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।গুরুত্ব পেয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনশক্তিমাহদী আমিন বলেন, বিভিন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।এরপর ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের সঙ্গে বৈঠকমাহদী আমিন জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।তিনি বলেন, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে চায় সরকার।জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসাধারণ পরিষদসংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।রোহিঙ্গা ও জলবায়ুতে গুরুত্ববাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।আট কর্মসূচিতে অংশ নেন ডা. জুবাইদাপ্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং চারটিতে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।মাহদী আমিন বলেন, এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন।চার দিনে প্রায় ৮০ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বপ্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা চার দিনে প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।তিনি বলেন, ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে। সূত্র: বাসস

চার দিনে ৩০ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, ১১ দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা।ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।বাংলায় ভাষণ, গুরুত্ব পেল রোহিঙ্গা সংকটসফরকালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা থ্রি-আর কৌশলের কথাও তুলে ধরেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান। প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা চান তিনি।একাধিক রাষ্ট্র ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠকসফরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।বিশ্বব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনাবিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সেখানে জনস্বাস্থ্য, শিশুসেবা, টিকাদান, সাশ্রয়ী মূল্যের টিকা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।এ ছাড়া গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকেফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মানবিক চ্যালেঞ্জ, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।জলবায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানান।সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকেও বক্তব্য দেন তিনি। জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার, অভিযোজন অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।বাংলাদেশ-সুইডেন-ইউএনএফপিএ আয়োজিত ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি ‘সুস্থ বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য খাতে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী ও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ বা ধাত্রী থাকার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজের চুক্তিসফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে ম্যানহাটনে জেপিমরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।পাঁচ দিনের সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: বাসস

জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান