ঢাকা    সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
১৭ সেপ্টেম্বরের তারেক রহমানের ফেনী সফর স্থগিত, নতুন তারিখ ১ অক্টোবর

১৭ সেপ্টেম্বরের তারেক রহমানের ফেনী সফর স্থগিত, নতুন তারিখ ১ অক্টোবর

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফর স্থগিত করা হয়েছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তিনি ফেনী সফর করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুল করিম। তবে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সী রফিকুল আলম মজনু জানিয়েছেন, নতুন নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরে আসবেন।রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, অবকাঠামো, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অক্টোবরের নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফেনী আসবেন এমন প্রস্তুতি ব্যাপকভাবে নেওয়া হচ্ছিল। তবে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত তারিখে তিনি ফেনী সফর করবেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন। সফর স্থগিত হলেও প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। সফরকালে পরশুরামে সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের’ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে পরশুরাম-সুবা বাজার সড়কের মুহুরী নদীর তীরে মাটি সমতল করে সভাস্থল, মঞ্চ ও উদ্বোধনী ফলক তৈরির কাজ চলছে। শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) নির্মাণাধীন পথসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছে।সম্ভাব্য আকাশপথে সফরের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফেনী-পরশুরাম সড়ক মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।পরশুরামের পাশাপাশি ফুলগাজীতেও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ, সোলার প্যানেল ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ এবং দুস্থ ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। একইদিন প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে তাঁর নানার বাড়িতে যাবেন এবং প্রয়াত স্বজনদের কবর জিয়ারত করবেন।

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণেরা পরিবর্তন এনেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তেও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণেরা চাইলে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব।শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব না হলেও ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সরকার তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। তারেক রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা নিজের আশপাশ পরিষ্কার করি। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা ফেলি না। দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রও ফিরিয়ে এনেছে

বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এই দলের হাত ধরে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুগম করা সম্ভব হয়েছে। তবে গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।সাক্ষাতে আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।‘গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছি’সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছে।তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রও প্রতিষ্ঠা করেছে। সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, মানুষের গণতন্ত্র নিয়ে প্রত্যাশা অনেক। একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।তিনি বলেন, তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।বিএনপির ইশতেহারের প্রশংসা আইপিইউ সেক্রেটারিরআইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ বলেন, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। সেখানে শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।আন্দা ফিলিপ আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউ ও বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বগণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রও ফিরিয়ে এনেছে

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ ও লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার সকালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। পরে তিনি জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ ও লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।বিএনপি নেতারা বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন সামনে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে দল ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হবে: খন্দকার মারুফ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে আগামী দিনে আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।সোমবার (৩১ আগস্ট) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। দেশ দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এর সুফল জনগণের কাছে দৃশ্যমান হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি জরুরি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো অপরাধী বিএনপির পরিচয় দিলেও তাকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধ দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।জনস্বার্থবিরোধী অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ নজরদারি এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সভায় দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিএনপির হাতেই নিরাপদ বলে মন্তব্য করেন ড. খন্দকার মারুফ। তাঁর দাবি, বিএনপি সরকারে থাকলে জনগণের কল্যাণে কাজ করে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবারও বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।কৃষি উৎপাদন বাড়াতে শহীদ জিয়ার ‘নদী-খাল খনন কর্মসূচি’ আবার চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসহায়, দুস্থ ও কৃষক পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।ড. খন্দকার মারুফ বলেন, গত ছয় মাসে তারেক রহমান রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নতুন স্বপ্ন নিয়ে তিনি কাজ করছেন।বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্র ধ্বংস করে পালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সততা ও নতুন সুস্থ ধারার রাজনীতির কারণে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল।’সভায় দাউদকান্দি উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকসেবন ও মাদক কারবার দমন, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, চুরি প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আলোচনায় আসে। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম শামসুল হক, বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, দাউদকান্দির সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ, দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হবে: খন্দকার মারুফ

দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।সোমবার দুপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই নেতাকর্মীদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত থেকে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।বিএনপির জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া জনকল্যাণে কাজ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের আর্থিক উন্নয়নে তাঁদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নতুন কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, যেগুলো জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।রিজভীর দাবি, ‘এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশের মতো রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি- ৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ।’তিনি বলেন, জনগণের পক্ষে, জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের জন্য কাজ করলে সেই দলের সরকার কখনো ব্যর্থ হবে না। সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না বলেও জানান তিনি।রিজভী বলেন, দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পাশে থাকবেন এবং একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবেন।

দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর লাল গোলাপের শুভেচ্ছা

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোট শেষে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তাঁদের মধ্যে তিনজন ভোট দিতে পারেননি। তাঁরা হলেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর লাল গোলাপের শুভেচ্ছা

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলোচনা ও সম্মানজনক আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে।গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাড়াহুড়ো করতে চায় না। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক থাকবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা এবং নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে ভারতকে যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে। সম্মানজনক পরিবেশ ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের সফরের প্রয়োজন নেই।ভারতকে নিয়ে অসন্তোষবাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত ও পলাতক ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপতৎপরতার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিহুমায়ুন কবির বলেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চলছে।তিনি জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও নতুন রপ্তানি বাজার তৈরিতে কাজ করছে সরকার।রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্যের সাক্ষাৎ

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে জায়গা পাওয়া চার সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকারীরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম (ডোনার) ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুর ইসলাম রনি এ তথ্য জানান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মঙ্গলবার সকালে নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্য শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।১৫ আগস্ট স্থায়ী কমিটিতে চারজনগত ১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম (ডোনার) ও ইসমাইল জবিউল্লাহকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন।দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে বিএনপি।স্থায়ী কমিটিতে এখন ১৭ সদস্যবিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ শূন্য হয়। এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হলো।১৯ সদস্যের বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আগে ১৩ জন সদস্য ছিলেন। তাঁরা হলেন—তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন।তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।নতুন চারজন যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্যের সাক্ষাৎ

ছয় মাসে বিএনপি সরকার: সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব

কোনো সরকারের প্রথম কয়েক মাসেই তার অগ্রাধিকার, সক্ষমতা ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশের অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আধুনিক গণতন্ত্রে তাই সরকারের প্রথম ১০০ দিন বা ছয় মাসকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও ছয় মাস পূর্তিতে সেই মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।আজ ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেয়।সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অধিকাংশই ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে এই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কতটা মিল রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নও রয়েছে।১৮০ দিনের হিসাবসরকারের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ১৮০ দিনের একটি সময়সীমা প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের ভাষণে তিনি সরকার ও দলের কাজের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য এই সময়ের কথা তুলে ধরেন।নির্বাচনের আগে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ধানের শীষের বিজয় হলে ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন।’ ফলে ছয় মাস পূর্তির এই মূল্যায়ন কেবল বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরীক্ষা নয়; বরং সরকারের নিজের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতাগণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবায় দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চাইছেন মানুষ।সরকার ইতোমধ্যে নিজেদের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছে। তবে ছয় মাসের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে সরকারকে এখনই পুরোপুরি সফল কিংবা ব্যর্থ—কোনো একটি অভিধায় চিহ্নিত করা কঠিন।সরকারের কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতিতে পরিবর্তন আসেনি। ফলে ছয় মাসের হিসাবের পাল্লা এখনো পুরোপুরি কোনো একদিকে হেলে পড়েনি।সামনে আরও বড় পরীক্ষারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি সরকারের জন্য প্রথম ছয় মাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়নের ওপর। বিশেষ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা।সব মিলিয়ে ছয় মাসের মূল্যায়নে বর্তমান সরকারের অবস্থানকে একেবারে সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার খাতায় ফেলা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক পাল্লা সামান্য হলেও আশার দিকেই ঝুঁকে আছে—এমন মূল্যায়নই সামনে আসছে।

ছয় মাসে বিএনপি সরকার: সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করলাম: হাসনাত

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলকে ছয় মাসের সময় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, তা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।হাসনাত তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্পমেয়াদে ৩০ দিন, মধ্যমেয়াদে ৬ থেকে ১৮ মাস এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য মোট ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।হাসনাত বলেন, ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সমাধানধর্মী বক্তব্য দিয়েছেন। নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকেও এ বিষয়ে মতামত এসেছে, যা জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এবং বিভিন্ন সেমিনারে আলোচিত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের আকার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় পরিসরের টিম থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের এসব প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে না পৌঁছানোকে তিনি ‘লজ্জার’ বিষয় হিসেবে দেখছেন।হাসনাতের অভিযোগ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে সরকারের ৬২ জন সভাসদ থাকলেও তাঁদের কেউ নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করেননি। তিনি এনসিপির স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ১৫ দফা প্রস্তাব বিবেচনার আহ্বান জানান।বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনা করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধেও সরকারের সাড়া দেওয়ার দাবি জানান তিনি।প্রশাসনে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক দলীয় পদায়নের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, এর ফলে ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে ফুয়েল, কন্টিনজেন্সি ও ডিজাস্টার রিকভারি—কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর নেই।মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুনের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করারও সমালোচনা করেন তিনি।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধানে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই কাঠামোয় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।হাসনাত বলেন, এই নীতির বাস্তবায়নে মূলত এসএলএ (সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট) ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করাই বাকি। তাঁর ভাষ্য, এটি কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ, জটিল কোনো বিষয় নয়।প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় মাসের সময়সীমা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই সময়ের মধ্যে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়ন না হলে সেটি সরকারের সক্ষমতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে আলটিমেটাম দেওয়ার পরিবর্তে সরকারের কাজের জন্য জবাবদিহি করবেন। ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে কেন ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সবশেষে হাসনাত বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব বিরোধী দলের হাতে রয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—দেশ অন্ধকারে থাকার কারণ ছিল সমাধানের অভাব, নাকি তা বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাব।

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করলাম: হাসনাত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য এখনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম।রোববার বেলা ১১টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।শহীদুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের পর সফর আয়োজনের প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’এ জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।শহীদুল করিম বলেন, শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দোষী সাব্যস্ত করেছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁর ও অন্যান্য পলাতক ব্যক্তির প্রত্যর্পণকে ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মেয়র থেকে মন্ত্রী, এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী হওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রিজভী জানান, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি।১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে খালেদা জিয়ার সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ২০০৯ সালের বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হলেও পরে শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।ব্যক্তিগত জীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহিত মির্জা ফখরুল। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও সংসদ সদস্য। চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার।রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

মেয়র থেকে মন্ত্রী, এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে ফখরুল

আজ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ ১৩ আগস্ট। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি।এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় আসে। তবে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

আজ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি

জুলাইসহ বিভিন্ন আন্দোলনে আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল উন্নত বাংলাদেশ গড়া: প্রধানমন্ত্রী

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি জানান।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেউ জুলাইয়ের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন, আবার কারও আপনজন ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাংলাদেশের মানুষ আজ একটি মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারছে।‘আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল’১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত দেশের মানুষের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এসব আত্মত্যাগের পেছনে একটি অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ছিল- বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।তিনি বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল; সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’‘দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ’রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাস্তবতার নিরিখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন অব্যাহত থাকবেপ্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

জুলাইসহ বিভিন্ন আন্দোলনে আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল উন্নত বাংলাদেশ গড়া: প্রধানমন্ত্রী

গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী

সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি- দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়নযাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। এই সময়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, ঘটনা ও পরিসংখ্যান বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সব তথ্য একত্র করে সুগ্রন্থিতভাবে উপস্থাপন করায় এটি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং ভবিষ্যতে হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। দিন-রাত কাজ করার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিজেই পর্যবেক্ষণ করছেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলা কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—যেই হোক না কেন, দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে তিনি শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা ভালো কাজ করছেন, তাঁদের উৎসাহিত করছেন।সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, বইটিতে সরকারের কর্মকাণ্ডের তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে ভূমিকা রাখবে।বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন তত্ত্ব ও আবিষ্কারের তথ্য বই আকারে সংরক্ষিত হয়েছে বলেই পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলো পড়তে ও চর্চা করতে পেরেছে।রিজভী আরও বলেন, বই না পড়লে জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। বই মানুষের মনের জগতের অন্ধকার দূর করার পাশাপাশি বহির্বিশ্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে।আলোচনা সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদ আউয়াল।

গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী